“জাদুর বাঁশি”
লিখেছেন যোদ্ধা, মার্চ ৯, ২০১৪ ৪:৪৭ অপরাহ্ণ

এ যেন এক জাদুর বাঁশি, তথ্য-প্রযুক্তির বাঁশি।  যার সুরে মাতাল হয়ে আমরা ছুটে চলেছি মন্ত্র মুগ্ধের মত। আজ এমন কেউ নেই  যার জীবনের একটা অংশ, এই সুরের বীণায় বাজেনা। তবে এখন সময় এসেছে ভেবে দেখার, কার বাঁশির সুরের টানে আমরা ছুটছি, কোন পথে ছুটছি।
মানুষ বুদ্ধিমান প্রাণী, সমগ্র সৃষ্টি জগতের মধ্যে। কারন মানুষ প্রতিনিয়ত নতুন কিছু ভাবতে পারে, শিখতে পারে আর সেই শিক্ষা প্রবাহিত করে যেতে পারে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। মহান আল্লাহ্‌ বলেছেন “যিনি কলমের সাহায্যে জ্ঞান শিখিয়েছেন” (সূরা আলাকঃ8)। কলমের কাজ হল তথ্যকে সংরক্ষণ করা। আমরা যদি আমাদের জ্ঞান আর কাজকে সংরক্ষণ করতে না পারতাম, তাহলে কখনোই এই সভ্যতা পেতাম না, টিকে থাকতে পারতাম না সমস্ত সৃষ্টি জগতের উপর ছড়ি ঘুরিয়ে। একটা কুকুর বা বেড়ালকেও প্রশিক্ষণ দিয়ে নতুন অনেক কিছু শেখানো যায়, তাই বলে তাদের পরবর্তী প্রজন্মে তারা তাদের নতুন শিক্ষার বীজ বুনে দিয়ে যেতে পারেনা। তাদের অনুভূতি, উপলব্ধি সঞ্চারিত হয় না যুগে যুগে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। কারন আল্লাহ্‌ তাদেরকে কলম দেননি, অর্থাৎ তথ্য সংরক্ষণের ক্ষমতা তাদের দেয়া হয়নি।
বর্তমান যুগের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পায়, তথ্য-প্রযুক্তি এত বড় ধরনের মিডিয়া, এত বড় এক শক্তি যা আজ পারমাণবিক শক্তিকেও হার মানিয়েছে। তাই আমাদের যুগের নাম পারমাণবিক যুগ না হয়ে নাম হয়েছে তথ্য-প্রযুক্তির যুগ। কারন পুরো মহাবিশ্বের উপর আজ তাদেরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত যারা তথ্য-প্রযুক্তিতে এগিয়ে। প্রযুক্তির নিত্য নতুন আবিষ্কার আর তার মাধ্যমে তথ্যের সংরক্ষণ ও বিতরণ বর্তমান যুগকে মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক জাদুকরি পরিবর্তন এনে দিয়েছে।
আমরা কি কখনো ভাবতে পেরেছিলাম, চোখের পলকে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে আমাদের কণ্ঠ আমাদের চিন্তা-চেতনা, আমাদের উপলব্ধি পৌঁছে দিতে পারবো? ভেবেছিলাম নিজের প্রতিটা মুহূর্তোকে সাজিয়ে রেখে দিতে পারবো বাস্তবতার ফ্রেমে? কিন্তু আজ তাই করতে পারছি! এ যেন কল্পনাকেও হার মানিয়ছে।
চলচিত্র তথ্য প্রযুক্তির সবথেকে নজরকাড়া আর প্রভাবশালী মিডিয়া। কারন এখানে আমরা আমাদের কল্পনাকে চোখে দেখতে পায়। ন্যাচারালি মানুষ কোন কিছু পড়ে বা শুনে শেখার থেকে দেখে অনেক বেশি শিখতে এবং মনে রাখতে পারে। তাই চলচিত্রের প্রভাব আমাদের উপর অপিরিসিম।
আমরা প্রতিদিনই কোন না কোন ভিডিও দেকছি। হতে পারে সেটা টিভিতে, মোবাইলে, কম্পিউটারে বা অন্য কোন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে। দেকছি মুভি, থিয়েটার, ডকুমেনট্রি, অ্যাডভারটাইজমেন্ট আরও অনেক কিছু। আর আমাদের মন মস্তিস্কে তার প্রভাব পড়ছে। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করছে এগুলো।
এই সব ভিডিও মিডিয়ার সিংহভাগ জুড়ে রয়েছে অশ্লীলতা। এই মিডিয়া গুলোতে মিথ্যে আর অশ্লীলতা বাড়ার সাথে সাথে আমাদের সমাজেও সেগুল পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। পুরো মানব সমাজকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাচ্ছে এই ভিডিও মিডিয়া।

Comments

comments

পোস্টটি ৩১৪ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
০ টি মন্তব্য