বিবিধ
লিখেছেন কুয়াশা, এপ্রিল ১, ২০১৪ ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ

 

অজান্তেই মনের কোণে জমে থাকে অসংখ্য জীবাণুর স্তুপ,

শব্দের মালাখানি দিন দিন সে ময়লাতেই বুদ হয়ে থাকে যেন!

আক্ষরিক অর্থে তখন প্রেমের কাছে বিক্রি হয় দেহের প্রতিটি ভাজ!

আমাদের সমাজ সভ্যতার কথা বলছি, যখন অনেকটা এগিয়ে যাচ্ছি আমরা, সাথে সাথে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার সাথে তালে তাল রেখে যোগ হচ্ছে ভ্রান্তির বেড়াজাল! এ থেকে বেরিয়ে আসা খুব সহজ নয়। আমরা এই এগিয়ে যাওয়ার পথ ধরে, পালন করি জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকী, ভ্যালেন্টাইনস ডে,  এমনকী পহেলা এপ্রিলের  মতো মারাত্মক দিনটিকেও।

কী প্রয়োজন এইসবের? কখনো কখনো নিজের সন্তানের জন্মদিনের ক্ষেত্রে বলা হয় বেশি কিছু করিনা, ওগুলো করা ঠিকনাতো! এই বাসায় সবাই মিলে একটু ভালো রান্নার আয়োজন করা হয় এই আর কী! আপনি কী জানেন  আপনার সন্তানতো তিনবেলা পেটভরে খায়, প্রয়োজন ছাড়াও বেশী কিছু! আর রাস্তায় ফুটপাতে কতো শিশু না খেয়ে থাকে? আপনি কী একটা দিনের জন্য তার কথা ভেবেছেন? আপনার সন্তান যদি কখনো কোনভাবে সেই শিশুদের সাথে কথা বলে আপনি তখন ফুটপাতের ঐ শিশুদেরকে তাদের তার অবস্থানটা খুব কঠোরভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন!

ম্যারেজ ডে, না না কাউকেই আসতে বলিনা আপনার ভাই একটু উইশ করে, কিছু গিফট দেয়,  ভালো একটা শাড়ি পরি, আর বাইরে গিয়ে খাই।

ভ্যালেন্টাইনস ডে! এইদিনে প্রেমের উন্মাদনায় নিজেদের অস্তিত্বকে ভুলে যাই, চলে নারী পুরুষের প্রেমের উপাখ্যান তৈরীর প্রস্তুতি! একে অপরের জন্য নিষিদ্ধ শরীরটাকে যেন শুদ্ধ করে নেয়ার আগেই একবার পরখ করার চেতনা! অহ কী রোমান্স! আদর্শিক ভাবে যারা পথ চলে তাদেরও এ থেকে অব্যাহতির জো নেই যেন!  স্বামী স্ত্রী চুপিচুপি ফুল দেয়া নেয়া করে এই দিনটিকে বৈধতা দান করি ।

আর এপ্রিল ফুলের কথা নাইবা বললাম, শুধু এই দিন কেন প্রায় প্রতিদিনই আপনি মানুষকে ঠকাচ্ছেন, সিম্পল একটা মিথ্যা কথা বলে আপনি হয়তো নিজের সমূহ বিপদকে দূরে ঠেলে দিয়ে ভাবছেন, একখানা কাজের কাজ করেছি! এটাও কী একধরণের প্রতারণা নয়! যখন কোন কারণ ছাড়াই অবলীলায় নিজের বড়ত্ব তুলে ধরার জন্য মিথ্যা বলে যাচ্ছেন, সেটা কী এক ধরণের প্রতারণা নয়! আপনি যদি স্বামী হয়ে থাকেন আপনি কী আপনার স্ত্রীর জানতে চাওয়া সবটার যথাযথ উত্তর দিয়েছেন? নাকী আপনিও ঐ একই কথা বলেন পরিবারে অশান্তি না বাড়াতে এটা করি, এটাতো জায়েজ! এজন্য আপনার স্ত্রী আপনার মাসিক বেতন কতো সেটা পর্যন্ত জানেনা, আপনি কলিগের বাড়ি যাওয়ার আগে কলিগকে বলে রাখেন, ভাই ভাবী যেন আপনার ভাবীকে বেতনের পরিমাণ এই বলে……… ইস সে কী প্রতারণা! এজন্য আপনার  স্ত্রীও আপনাকে নানাভাবে প্রতারণা করে যাচ্ছে! আপনি বাবা মাকে মিথ্যা বলে ঠকাচ্ছেন, আপনার সন্তানকেও ঠকাচ্ছেন।

নিজেকে জাহির করতে নিজের অবস্থানকে উচ্চে তুলে আপনি ব্যাবহার করছেন আপনার মা বাবা বা ভাই বোনকে, যেন আপনার পরিবারে আপনার মতামতেই সবটা হবে।  কিছু খারাপ পরিণাম থেকে মুক্ত করতে ধূর্তের মতো নিজেকে    এসব থেকে আড়ালও করছেন!

আপনি একজন সরল ব্যাক্তির মাথা জিলাপির একটা প্যাচ ঢুকিয়ে দিয়ে অন্যকে অপমানিত করার জন্য উন্মুখ হয়ে চেয়ে আছেন! ইস কী সব সভ্যতার মারপ্যাচ!

আপনি ভয়ানক ভালো লিখেন, সেটা জাহির করতেও আপনার প্রচেষ্টার অন্ত নেই আপনার লিখা দেখে কে কী মন্তব্য করলো, কে আপনার ফ্যান, আপনার ইনবক্স জুড়ে কতো মানুষের দোয়া, উইশ! আপনি ভূলে যাবেননা, আপনি একজন মানুষ, যে কারণে আপনার অহংবোধ আপনাকে তাড়া করে বেড়ায় প্রতিনিয়ত! আর এই অহংবোধ, কিন্তু আল্লাহ’র চাদর ধরে টানাটানি করার মতো!

আজ যখন বিষয়গুলো খুব করে ভাবায় তখন স্থীর আমি নিজেকেই প্রশ্ন করি, জীবনের অর্থ কী?  যখন আমার মাথার ঘিলুগুলা অস্থির ভাবে আমার রুহ্ এর বিপরীতে কাজ করার প্লাণ করে, তখন কী আমি মনে রাখি আমি কারো দাস, কেউ আমার এমনই একজন মালিক যার সাহায্য ছাড়া আমার প্রতিটি পথচলা অসম্ভব!

 

 

পোস্টটি ৩৩৪ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
০ টি মন্তব্য

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.