হারিয়ে ফেলেছি সেই স্মৃতিময় বৈশাখ
লিখেছেন কুয়াশা, এপ্রিল ১৪, ২০১৭ ৫:১৩ অপরাহ্ণ
Image result for বৈশাখ
ছোটবেলায় যখন গ্রামে থাকতাম। পহেলা বৈশাখ একটা উৎসবের আমেজ নিয়ে আসতো। পুরো মাস জুড়ে হালখাতা চলতো দোকানে দোকানে। তখন পোশাকের ব্যাপার ততটা মাথায় খেলেনি। মুড়ি, মুড়কি, লাড্ডু, মিষ্টি আরো কত খাবারের আশায় অপেক্ষা করতাম। কেউ কেউ খিচুড়ী দিত প্যাকেট ভর্তি, আর একটু বড় দোকান হলে মাংস দিয়ে পোলাও। আহা স্বাদ! বাড়ির সবাই মিলে একসাথে ভাগ করে খাওয়া। তখন মাস জুড়ে প্রায় দিনই রাতভর মাইকে বাজতো গান। গানপাগল আমি তখন মন দিয়ে গান শুনতাম। গ্রামের সব বাবা-মা রক্ষণশীল ছিলেন ! গান শুনতে দিতে চাইতেন না,তাই ঐ গানগুলোই মন ভরে শুনতাম। বৈশাখ জুড়ে অপেক্ষা ঝড়ের। ঝড়ের দিনে শুধু জসীম উদ্দিনই মামার বাড়ীতে আম কুড়াননি আমরাও কুড়িয়েছি বৈকী! কাচাঁ আমের ঝুড়ি মাখা, পাটায় আম বেটে (টক ঝাল মিষ্টি) মাখানো। নানা বাড়ীর বারান্দায় বসে সবাই মিলে গান গল্প হাসাহাসি আর খাওয়া-দাওয়ার ধুম পড়ে যেত। আমের আচার বানানোর গন্ধে পুরো বাড়ি ভরে যেত!
 
সেই সময় পেরিয়ে এসেছি। ঢাকায় এসে বৈশাখের মানে বদলে গেল। পহেলা বৈশাখ এখন পোশাকের বাহার নিয়ে আসে। রুপের জৌলুস ফুটাতে আসে বুঝি! আর তখন আমি আমার গ্রামের হালখাতা মিস করি। গ্রামে থাকাকালীন প্রায় দিন সকালেই পান্তা খেয়েছি, এখন দেখি অনেক দামে পান্তা কিনে খায় মানুষ। আমি আমার গ্রামে খাওয়া ঙ্সকালের পান্তা মিস করি! পোশাকের বাহার দেখে তব্দা লেগে যায় আমার ভেতরটা। সাদা আর লালে যেন সব পরিদের দল। ভাবি আজ আমি না পরলে কেমন হয়! আমার বরটা সব রুপসীদের দেখে এসে আমাকে কি সাধারণ দেখতে পছন্দ করবে? আহা জীবন! প্রথম আর নতুন সংসারে নারী তার স্বামীকে খুশি রাখতে কত কিছুই না করে! আমিও পরেছি বেশ কয়েক বছর সাদা আর লাল। এখন দিনে দিনে আরো জাকজমক হচ্ছে বৈশাখ! আর পারিনা তাল মিলাতে! পারি না বললে হয়তো ভুল হয়ে যাবে ইচ্ছে করে না আর।
 
এখন বৈশাখ দিনে দিনে আমার বোনদেরকে উজাড় করে দেয়ার চিন্তা শেখায়! রুপ দেখিয়ে সুনাম কুড়াতে শেখায়। আমি গালে হাত দিয়ে ভাবি, এতো সস্তা বুঝি হয় কারো শরীর মন! আর ভাইদের তখন মনের কোণে লুকিয়ে রাখা পশুত্ব প্রকাশ্যে বেরিয়ে এসে চকচকে চোখে ফুটে তোলে লোভাতুর চাহনী। আমারই ভাইয়েরা বলে ওরা যদি অতো খোলামেলা আসলে দোষ না হয়, তবে ওদেরকে ধর্ষন করলে আমরা কেন দোষী হব! অতঃপর পুরো নারী জাতি সেই শ্লীলতাহানী, ধর্ষনের খবর শুনে মানসিক ভাবে লাঞ্চিত হয়, ধর্ষিত হয়। ঘরের কোণে চিৎকার করে কেউ কেউ! সেদিন আর কোন ভাই বলে না “সে যদি তোমার প্রিয় মা হতো!” আর বলে না “সে যদি তোমার প্রিয় বোন হতো!” আমার ভেতরটাও আজ চিৎকার করছে, খুব জানতে চাইছি “সে যদি তোমার প্রিয় মেয়ে হত”! কোথায় হারিয়ে যাচ্ছ তোমরা? কোন ঐতিহ্যের টানে আজ তোমরা বেসামাল? ভয় হয় খুব, ফিরে এসো আর বেশী যেও না এ পথে!
পোস্টটি ৩২১ বার পঠিত
 ১ টি লাইক
৩ টি মন্তব্য
৩ টি মন্তব্য করা হয়েছে
  1. চমৎকার লেখা।
    আধুনিকতার যাঁতাকলে প্রতিটি বিষয় আজ আসল রুপ হারিয়ে ফেলেছে। স্থান করে নিয়েছে কূপমণ্ডূক কিছু রুচি আর চাহিদা।

  2. মাশায়াল্লাহ।

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.