নামহীন
লিখেছেন কুয়াশা, অক্টোবর ১৭, ২০১৭ ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ

সেদিন ঝুম বৃষ্টিতে বারান্দায় বসে বড় এক মগ চা পান করছিলাম। রাত প্রায় তিনটে।রাত তিনটেতে চা পান করা মেয়েকে স্বামী সন্তান কিছু না বললেও শাশুড়ী ননদ জা এরা নির্ঘাত আহ্লাদ বা ঢং বলতে একটুও দ্বিধা বোধ করবে না।যাই হোক সেসব ভেবে লাভ নাই। আমার চিন্তার দরকারই বা কি তারা তো আর সাথে থাকে না।আমি যে রোডের বারান্দায় বসে ছিলাম সেই রোডটায় ঘুটঘুটে অন্ধকার না হলে সব স্পষ্ট দেখা যায় না। অনেক কিছুই ভাবছিলাম মানুষএর জীবন প্রণালী নিয়ে, কত বিচিত্র সে চলাচল।কত মানুষ একে অপরের সাথে পরিচিত হয়। কখনো ভেতরের চিন্তা ভাবনার খুব মিল দেখে বিস্মিত হই, ভাবতে থাকি আমার মত গাধার বুদ্ধি নিয়ে চলা মানুষটার সাথেও তাহলে মানুষের চিন্তা মিলে যায়! আমি ভাবছি, বৃষ্টি স্পর্শ করছি আর খুব আয়েশ করে চা পান করছি।

হঠাত একটু দূরে সাত তলা এক বিল্ডিং থেকে ধপ করে কিছু একটা ফেলতে দেখলাম। ঐ যে বললাম স্পষ্ট দেখা যায় না।কিছু অনুমান করার আগেই আবারো… এবার শব্দটা একটু বেশী জোরে হলো পড়ার পর একটা চাপা আর্তচিতকার কানে এলো এবার। ভয়ে হাত পা ঠান্ডা হয়ে এসেছে আমার। বারান্দায় লাগানো গ্লাস দিয়ে ঘরের ভেতরে একবার তাকালাম । এতো ভয় পেয়েছিলাম যে উঠে ঘরে যাব সে শক্তি পাচ্ছি না। তাও কাপা পায়ে ভেতরে এসে অজু করলাম।তাহাজ্জুদ পড়ে আল্লাহর কাছে নিজের করনীয় জানতে চাইলাম। তিনি জানিয়েও দিলেন।আমি সন্তর্পণে বেরিয়ে পড়লাম।ঠিক সেখানটায় গেলাম।গিয়ে যা দেখেছি তাতে আমার মত দুর্বল হার্টের মানুষ অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার কথা কিন্তু না! আল্লাহ আমাকে সাহস দিয়েছেন।এক নবজাতকের ক্ষত বিক্ষত হয়ে যাওয়া নিথর শরীর! আর প্রসব বেদনা সহ্য করে সেই শিশুটিকেই জন্ম দেয়া এক নারী শরীর! মৃত্যু যন্ত্রণা সহ্য করে কিছুক্ষণ আগেই প্রাণ হারিয়েছে।আমার পুরো শরীর ভয়ে কাপছে। এমনকী নিজের হাতপায়ের নিয়ন্ত্রণ টুকুও করতে পারছি না।

কথা বের হচ্ছে না মুখ থেকে। কিন্তু পেছন থেকে কেউ এসে আমার চুলের মুঠি ধরে মুখ চেপে ধরে দাতে দাত পিষে বলল, প্রতিদিন ছেলে মেয়ে স্কুলে যায় না তোমার? কাল তার লাশ ছাড়া কিছুই দেখতে পাবে না। একজন ও যদি ঘটনাটা জানে।আমাকে ছেড়ে দিয়ে চলে গেলো লোকটি। কখনো দেখিনি তাকে। কিন্তু মারা যাওয়া মহিলাটিকে দেখেছি। এক দু মাস হলো এসেছে পাশের বিল্ডিং এ।ডিভোর্সি মহিলা। আমি ফিরে এসেছি সেদিন। কিছু বলিনি কাউকেই আজো বলিনি। লোকটিকে প্রায় ঘুরঘুর করতে দেখি চারপাশে। সেদিন ভোরে পুলিশ এসেছিল কোন প্রমাণাদী না পেয়ে লাশগুলো নিয়ে গিয়ে দাফন করেছে। ঐ লোকটিকে দেখলেই ইদানিং বেশী ভয় করে আমার। ভাবছি বাসাটা চেইঞ্জ করবো।

#এটা_শুধুই_একটা_গল্প
#অহরহ_ঘটে_যাওয়া_এমন_ঘটনার_সাক্ষিরা_অসহায়_
#ভয়েই_মুখ_খোলেনা

পোস্টটি ২১২ বার পঠিত
 ১ টি লাইক
০ টি মন্তব্য

Leave a Reply

Be the First to Comment!

Notify of
avatar
wpDiscuz