অস্তিত্বের গল্প
লিখেছেন কুয়াশা, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৬ ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
Image result for storY
১…
বাহির বারান্দায় টিমটিমে কুপি জ্বলছে। রাতটা খুব অন্ধকারাচ্ছন্ন। ঘরের মেঝেতে পাটি বিছিয়ে ঝিঁমিয়ে ঝিঁমিয়ে গল্প শুনছে নাতী নাতনীর দল। ডিসেম্বর মাস। শীত জেঁকে বসেছে প্রতিটি শরীরে, লেপ কম্বল জড়িয়ে আছে প্রত্যেকে। স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি সব বন্ধ। গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসা ওরা সবাই ওদের দাদু ভাইকে ঘিরে বসে আছে। মাঝে মাঝে আঙ্গিনায় লাগানো হাসনাহেনার হৃদয় কাড়া সুগন্ধে মাদ্কতা ছড়িয়ে পড়ছে ওদের শরীর ও মনে। লেবু গাছ থেকেও ঝাঁঝাঁলো ঘ্রাণ এসে নাসিকা রন্ধ্রে জেগে থাকবার উৎসাহ যোগাচ্ছে। কেউ কেউ ওখানেই ঘুমে বিভোর, বিশেষ করে স্কুল পড়ুয়া যারা।দাদাভাই গল্প বলে চলেছেন। স্বাধীনতার গল্প! সার্বভৌমত্ব ফিরে পাবার গল্প! আপাতত যারা জেগে আছে দাদা ভাই সহ সবার হাতে চায়ের মগ, লাল আদা চা তাতে। এদের রাত জেগে পড়ার অভ্যাস থাকায় ঘুমকে পাত্তা দিচ্ছেনা। বাড়ির রান্নাসহ টুকিটাকি সব কাজ দেখাশোনা করা মর্জিনা বুয়া ওদেরকে এইমাত্র চা বানিয়ে দিয়ে গেছে, টা হিসেবে কাঁচা মরিচ, পিঁয়াজ, চানাচুর দিয়ে মুড়ি মাখা। এগুলো দিয়ে যাবার সময় পই পই করে বলে গেছে-
“আমার ঘুমে আর দিস্টাব দিবেননা কইলাম হু”!
দাদা ভাই দীর্ঘশ্বাস ফেললেন, বলা শুরু করলেন,
-তখন সবে মাত্র থানা শহরের একটা কলেজে ভর্তি হয়েছি। যাতায়াতে কষ্ট হতো বলে বাবা হোষ্টেলে থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন।পড়াশুনা নিয়ে খুব স্বপ্ন ছিল আমার। ১৯৭১ সাল! উত্তাল সারাদেশ! যুদ্ধ যুদ্ধ রব চারেদিকে! দেশ নিয়ে তখনও কোন ভাবনা মাথায় ঢোকেনি আমার। ভাবতাম যত যা হোক আমাদের এই কলেজের ক্লাস যেন বন্ধ না হয়। তোমরা ভাবছো আমি স্বার্থপরের মতো চিন্তা করেছিলাম সেদিন তাইনা?
জামিল মাথা নাড়ে হ্যা সূচক। চোখে রাজ্যের বিস্ময়, বলল,
-দাদা ভাই এটা তুমি কি করে ভাবতে পেরেছিলে?দেশ বলে কথা! সবাই জামিলের কথায় সায় দিয়ে মাথা নাড়ে।
দাদা ভাই হাসেন! সে হাসিতে একরাশ হতাশা। বললেন,
-হুম সে তো বটেই দেশ বলে কথা! তোমরা এক একজন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠে পড়ছ, জামিল, অহনা, অর্থী তোমরা বলো! নাহিয়ান, আকাশ,হৃদি, মেডিকেলের স্বনামধন্য ষ্টুডেন্ট তোমরা বলো! সত্যিই কী তোমরা দেশকে স্বার্থহীন ভাবে ভালোবাসতে পেরেছো? চারপাশে এতো খুন, ধর্ষণ, রাহাজানি দেখেও কী নিজের ক্যারিয়ার গড়ার কথা এক মুহুর্ত ভূলে গেছ? দেশ নিয়ে গভীর কিছু ভেবেছ?…….
মাথা নিচু করে ওরা। দাদাভাই বুঝতে পারেন, সে প্রসংগ আর বাড়াননা! ওখানে থামিয়ে রাখেন সে কথা।
পুর্বের জের টানার আগে চায়ে চুমুক দেন, বলেন,
-দু একদিনের মধ্যেই কার্ফিউ জারি হয়, স্কুল কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তখন এই গ্রামের যারা ছিলাম, তারা সদলবলে গ্রামে ফিরে আসি। চারেদিকে এক অসহনীয় আতংক! ভয়ে মানুষগুলো কেউ ঘরছাড়া, কেউ ঘরকুনো! চারেদিকে কানা-কানি ফিস-ফিসানি। কিন্তু যখন যুদ্ধের ডাক এলো, তখন শুরু হলো সাহসীকতার উচ্ছাস!
আমি এক টুকটুকে লাল পরীকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম তখন, সে নাইনে পড়ত। ওকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতাম, ওকে মনে মনে বহুবার বউ সাজিয়েছি! এই যে দেশে এতো অরাজক অবস্থা তাও ঐ টুকটুকিই আমার ধ্যান জ্ঞান হয়ে থাকত। একদিন এক ঝোপের আড়াল থেকে দেখছিলাম ওকে, ও সরাসরি আমার সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিল,
-এতো কম সাহস নিয়ে যুদ্ধে নামবে কি করে? সাহস থাকলে সবার সামনে দাঁড়িয়ে দেখে নিও বারবার! আমি পুলকিত হয়েছিলাম ওর কথগুলো শুনে, আমার প্রথম প্রেম সে! এরপর একদিন আমার সামনে আমার বাবাকে গুলি করে মিলিটারী, সেদিন জেদ চাপে বুকের ভেতরে। বাবার রক্তই আমায় অপরাজেয় সাহস যুগিয়েছিলো।ট্রেনিংয়ে নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করেছিলাম। আমার অস্ত্রচালনা দেখে মুগ্ধ হয়ে সমবয়সী সতেরো জনের কমান্ডার বানিয়ে দেয়া হয় আমাকে! জীবনের মোড় ঘুরতে থাকে সব হারানোর দিকে! একে একে মা, ছোট্ট পুচকে, আদুরে বোনটি…………
থেমে যান দাদাভাই, রুদ্ধ হয়ে আসে কন্ঠনালী! ওদের চোখও অজান্তে ভিজে ওঠে! ওরা দাদাভাইকে জড়িয়ে ধরে, শব্দ করে কেঁদে ফেলেন দাদাভাই। পাশের মসজিদ থেকে ঠিক তখনই ফজরের আজান ভেসে আসে। ওরা জানে দাদাভাই প্রতি রাতে ইবাদাত বন্দেগী করতে করতে না ঘুমালেও ফজরের নামাজ পড়ে ঘুমান। নাহিয়ান নিজের অশ্রু মুছে বলল,
-থাক এখন আর না, যদিও এখনই সেই মুহুর্ত এসেছে যা শোনার জন্য আমরা অধীর আগ্রহী। কিন্তু দাদাভাইয়ের সুস্থতার জন্য ঘুমানো প্রয়োজন। চলো উঠি আমরা।
২…
সকাল সাড়ে নয়টা নাগাদ ঘুম থেকে জেগে উঠলো অহনা আর অর্থী। ওরা দুই বোন। ওরা ফ্রেশ হতে হতেই বাকীরা উঠে পড়লো। রান্নাঘর থেকে তখন শীতের পিঠা বানানোর ঘ্রাণ ছুটে আসছে। খেজুরেরে রসের প্রাণ কাড়া ঘ্রাণ ওদের ক্ষুধা বাড়িয়ে দিলো।রান্না ঘরের পাশে কোমল রোদে আরাম কেদারায় বসে রোদ পোহাচ্ছেন ওদের দাদাভাই, পাশেই ওদের মায়েরা, বাবারা, চাচা চাচী বসে আছেন। সামনে পাটি বিছিয়ে বাহারী পিঠা সাজিয়ে রাখছেন মর্জিনা বুয়া। ওরা দাদাভাইয়ের কাছে যার যার মতো বসে পড়ে।দাদাভাই পরিতৃপ্তির হাসি হাসেন, বলেন,
-আমার বাহির আঙ্গিনা আজ ভরপুর।
স্কুল পড়ুয়াদের অবস্থা দেখে মজা নিচ্ছে সবাই। ওরা মুখ গোমড়া করে আছে, কারণ গত রাতে আগেই ঘুমিয়ে পড়েছিল বলে। আকাশ হেসে হেসে বলল,
-এই তোদেরকে আমি পরে সব শুনাবো ঠিক আছে?
ওরা সমস্বরে চিৎকার দিয়ে ওঠে,
-ইয়েএএএএএএএএএএএ, আর হুমড়ি খেয়ে আকাশের শরীরের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
আকাশ পড়ে যেতে নিয়ে নিজেকে সামলায়। ব্যাস্ত হয়ে,
-তোরা কি মেরে ফেলবি আমায়, গল্প শোনা অব্দি বাঁচায় রাখ, আর তাছাড়া পিঠা না খেয়ে মরলে………
থামিয়ে দেন আকাশের মা,
-খালি উল্টা পাল্টা কথা বলিস কেন আকাশ?
এবার সে থেমে যায়, সবাই মিলে পিঠা খেয়ে সকালের নাস্তা সেরে নেয়। এখন ওরা বেরুবে গ্রামটা ঘুরে দেখার জন্য। দাদাভাইকে দুপুরের খাওয়ার পর গল্প শোনাবার জন্য রাজি করিয়ে নেয়।
ঘড়িতে দুটা বাজার সংকেত। কেউ কেউ এসে বসেছে দাদাভাইয়ের কাছে বাকীরা তৃপ্তির ঢেকুর তুলে হাত মুখ মুছতে মুছতে এসে বসলো। অহনা উদ্বেলিত কন্ঠে,
-আজ রান্নাটা ফাটাফাটি হইছে। সারাজীবন মুখে লেগে থাকবে। জামিল ওর হাতের আঙ্গুল দিয়ে অহনার মাথায় টোকা দিয়ে,
-শিখে নে বুঝলি, বরের মন জয় করতে পারবি……… অহনা রেগে যায়, বাকীরা হেসে দেয়। দাদাভাই অহনাকে কাছে টানেন মুচকী হেসে,
-ওকে রাগাচ্ছ কেন জামিল? চুপটি করে বসো সবাই। কোথায় যেন ছেড়েছিলাম?
অর্থী বলল,
-ঐ যে দাদাভাই তোমার ছোট্ট বোনটির কথা……… বাকীরা বলল,
-হ্যা দাদাভাই ওখান থেকেই বলো।
দাদা ভাই বলছেন,
-তখন যুদ্ধ থেকে হয়তো দুমাস তিনমাস পরপর দশমিনিট বা আধাঘন্টার জন্য পরিবারের মানুষগুলোর সাথে দেখা করতে আসতাম। সেদিন এসে শুনলাম আমার বড় দুই ভাইকে ধরে নিয়ে গেছে মিলিটারী। আর আমাকে খুঁজে গেছে। মা তখন নির্বাক প্রায়, ছোটবোনটাকে সারাক্ষণ বুকে জড়িয়ে রাখতেন। পাঁচ বছরের ছোট্ট বোনটি আমার। কী নিষ্পাপ! কত কথা বলত! সারা বাড়ি মাতিয়ে রাখত! সেবার আমাকে ও বলল,
-ছোটদা যুদ্ধ শেষ হলে আমার চুলের জন্য দুটো ব্যান্ট নিয়ে এসো চুল বড় হয়ে গেছে কিন্তু নাপিত আসেনা, চুল দিয়ে চোখ ঢেকে যায়। গলা ধরে আসে দাদাভাইয়ের, ওভাবেই বলতে থাকেন,
-পরের বার ফিরে এসে ওকে পাইনি। পুরো গ্রামে যে গুটি কয়েক মানুষ ছিলো সবাই কেঁদে কেঁদে কবর দেখিয়েছিল, যারা আড়াল থেকে দেখেছিল তারা ওর শহীদ হবার ঘটনা বলেছিল।
“মিলিটারীরা এসে নাকী সেদিন মাকে জবরদস্তি করছিল আমার খোঁজ দিতে। চুল মুঠি করে ধরে টানা হ্যাচড়া করছিল। তখন বোনটা আমার এসে বলেছিল, “ছাড়ো, আমার মাকে মারছ কেন? তোমরা খুব পঁচা খুব, ছাড়ো”। তখন ওর ছোট্ট কচি বুকটায় গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেয় বর্বরগুলো, মা কথা না বলায় মাকেও গুলি করে”!
-আমি সেদিন খুব কেঁদেছিলাম, নিঃস্ব হয়েছিলাম সেদিন সব হারিয়ে। তখন আমার টুকটুকি এসে সবার সামনে আমায় জড়িয়ে ধরেছিল, কানে কানে বলেছিলো,
“দেশ স্বাধীন করে ফিরে এসো, আমি অপেক্ষা করব তোমার জন্য, আর কারো মা বোনকে এভাবে মরতে দিওনা”!
কিন্তু সে অপেক্ষা করতে পারেনি।
ও যখন আমাকে কানে কানে কথাগুলো বলছিলো তখনই মিলিটারী আসার সংবাদ দিলো কে যেন। ও তখন আরো শক্ত করে ধরে আমায় বলল,
“আল্লাহর দোহায় লাগে, আমার যা হয় হোক তুমি ওদের সামনে আসবেনা, তোমার সাথে আরো সতেরোটি প্রাণ জড়িয়ে আছে তুমি লুকাও”!
ও আমাকে খড়ের গাদায় লুকিয়ে রেখেছিল, কিন্তু ওকে সেদিন তুলে নিয়ে যায় মিলিটারীরা…………!

 

৩…
আছরের নামাজ শেষে দাদাভাই ওদের সাথে হাঁতে বেরিয়েছিলেন। মাগরিবের নামাজ পড়ে নাস্তা সেরে নেয় ওরা।পাশের বাড়ির দাদী ওদের জন্য এক হাড়ি খেঁজুরের গুড়ের পায়েস, খেজুরের রসের এক পাতিল হাতে বানানো সেমাই পিঠা, খাটি ঘিয়ে ভাজা লুচি সাথে খাসির মাংসের ঝাল ঝাল তরকারী পাঠিয়েছিলেন। সাস্থ্য সচেতন, ডায়েট কন্ট্রোল করা হৃদিও পেট পুরে খাচ্ছে সবই। নাহিয়ান হাস্যেজ্জল কন্ঠে,
-হৃদি, ওয়েট বেড়ে যাবেনা? অন্যরা মিটমিট করে হাসছে।
হৃদি মুচকী হেসে বলল,
-মজা নিস না? নে নে। ইয়ে এখন খাচ্ছি, কিন্তু ঢাকায় ফিরে কমিয়ে দেব। সিম্পল। দাদাভাই কোথায়?
অর্থী বলল,
-ছবি আনতে গেছেন। ওনার ছোট বোন, মা ভাইদের।
অনেক গুলো এ্যালবাম হাতে নিয়ে ফিরে আসেন দাদাভাই। ওরা ছবিগুলো খুব আগ্রহ নিয়ে দেখে। ওদের অত্যাধুনিক মোবাইল আইফোনে সেগুলো ধারণ করে নেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ে জার্নালিজমে অনার্স করা জামিল গল্পগুলো নোট করে রাখছে। সে বলল,
-দাদাভাই, যুদ্ধের গল্পের বাইরে একটা প্রশ্ন করি?
-হ্যা করো।
-দাদীর সাথে কোথায় দেখা হয়েছে তোমার? আর দাদী কি তোমার সেই টুকটুকি প্রথম প্রেমের কথা জানতো? তার নাম কি ছিলো?
-আমি তোমার প্রশ্ণ মেমোরীতে নোট করে রাখলাম। পরে উত্তর দেব।
-ওকে দাদাভাই। বলো এরপর।
-দেশ স্বাধীন হলো। আমরা আমাদের স্বাধীন সারবভৌমত্ব ফিরে পেলাম। বাড়ি ফিরে এলাম, এই সেই বাড়ি তখন ধ্বংসপ্রায় অবস্থা। গ্রামে পরিচিত দুএকজন ছাড়া সবাই নতুন। সরকার মুক্তযোদ্ধাদের জন্য মাসিক অর্থ প্রদানের উদ্যোগ নিলেন। জেলা শহরে গিয়ে আবার ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হলাম। ভালো রেজাল্ট করেছিলাম। অনার্সে ভর্তি হলাম। একদিন ক্লাস করে ফিরছিলাম রাস্তা দিয়ে এক পাগলী হাঁটছিলো, গাড়ীগুলোর দিকে তার কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। দ্রুত বেগে ছুটে আসা ট্রাকের নিচে পরে যাওয়া থেকে বাঁচালাম তাকে আমি। সেই পাগলীটাই তোমাদের দাদী। সরকারী সহায়তায় চিকিৎসা করিয়েছিলাম, মিলিটারীদের হাতে নির্যাতিতা নারীটিকে পাগল অবস্থায় বিয়ে করি আমি। যদিও সে কিছুই বুঝতনা, যা বলা হতো তাই বলতো, করতো। কেন বিয়ে করেছলাম জানো তোমরা?
সবার বিস্মিত প্রশ্ণবোধক চাহনী। দাদাভাই প্রশান্ত হাসি হাসেন,
-সেইতো আমার লাল টুকটুকে পরিটা। আমার প্রথম প্রেম! ফিরে পেয়েও দু-মাস লেগেছিলো চিনতে। চেনা যাচ্ছিলোনা।চেহারায় অত্যাচারের দাগ, কালো হয়ে গিয়েছিলো খুব। কন্ঠ শুনে একটু একটু পরিষ্কার হতে থাকলো চেহারায় মিল খুঁজে পেলাম। আর আমি পাগল হতে থাকলাম ওর প্রেমে।
ওরা অত্যধিক বিস্মিত ও আনন্দিত হয়ে পাগর মতো দাদীর চেহারার সাথে মিল খুঁজতে থাকলো। কারণ ছবি দেখার সময় টুকটুকে লাল পরীটির সাথে দাদীর তেমন মিল খুঁজে পায়নি। এবার খুঁজে পেয়ে প্রাণোচ্ছল হয়ে উঠলো।দাদাভাই বলে চলেছেন,
-প্রায় তিন বছর লেগেছিলো সুস্থ হতে। সুস্থ হয়ে ও আমাকে চিনতে পেরে বলেছিলো,
-“শফিক দেশ স্বাধীন করে ফিরেছো তুমি তাইনা? আমি জানতাম তুমি পারবে……… ওর কথার উত্তর দিইনি আমি, পাগলের মতো কেঁদেছিলাম, সব হারিয়েও যেন সব ফিরে পেয়েছিলাম, তাই আনন্দে……! হাসেন দাদাভাই। জামিলের দিকে তাকিয়ে,
-নাম পেয়েছো দাদীর!
উচ্ছল কন্ঠ জামিলের,
-আরে পেয়েছি মানে, ঐতিহাসিক এক নাম পেয়েছি দাদাভাই!
খুব ভালো কাটছিলো সময়। একে একে পাঁচটা ছেলেকে পৃথিবীর আলো দেখালাম দুজন মিলে। সেই সুখ স্থায়ী হলো তিরিশ বছর।পনেরো বছর হলো আমার টুকটুকে লাল পরী আবার আমায় ছেড়ে গেলো। কিন্তু ওর স্মৃতি এতো প্রখর যেন সবসময় আমার সাথেই আছে বলে মনে হয়।আবেগে গলা ধরে আসে ওদের।
নাহিয়ান বলে,
-সার্থক প্রেম দাদাভাই। স্যালুট এই অপরাজেয় জুটিকে। ওরা সবাই দাড়িয়ে যায়। সশ্রদ্ধ স্যালুট জানায় একসাথে। বুক ভরে যায় দাদাভাইয়ের। আরো বেশ কিছুক্ষণ গল্প করে রাতের খাবার খেতে যায় দাদাভাইকে সাথে নিয়ে। রাত পেরোলেই ব্যস্ততম নগরীর দিকে যাত্রা করতে হবে ভেবে বিমর্ষ হয়ে যায় ওরা।
পোস্টটি ৪২৩ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
১ টি মন্তব্য

Leave a Reply

1 Comment on "অস্তিত্বের গল্প"

Notify of
Sort by:   newest | oldest | most voted
স্বপ্ন কথা
Member

চমৎকার লিখেছেন… অনেক সুন্দর :-)

wpDiscuz