সেই মুখগুলো
লিখেছেন খাইরুম মুনিরা তিথী, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৭ ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ
old

হয়তো কোন একদিন ঘটনাগুলো বিস্তারিত লেখার চেষ্টা করবো। তবে আজ সংক্ষেপে বলছি। হ্যাঁ খুব সংক্ষেপে … . .

১. অনেকটা হন্তদন্ত করেই চেম্বারে ঢুকে পড়লেন ভদ্রমহিলা! সালাম দিয়েই বললেন, আপা আপনার কাছ থেকে বিদায় নিতে এসেছি আমি। বললাম, তা এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন নাকি গাজীপুর ছেড়েই? উত্তর এলো, আপা আমাকে খুব শীঘ্রই বৃদ্ধাশ্রমে চলে হচ্ছে!

২. বিয়ের অনেক বছর তিনি প্রথম মা হতে পেরেছিলেন। সে সময় তার বয়স প্রায় চল্লিশ! তারপর তাদের একমাত্র সন্তান বড় হতে লাগলো… তারপর এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছেলেটা চিটাগাং এক রোড এক্সিডেন্টে মারা গেলো!

৩. লোকটা ব্যথার ট্যাবলেট নিতে এসেছিলেন। যখন ব্যথার কারণ খুঁজতে গেলাম শুরু হলো অঝোরে কান্না! এই লোকের ওয়াইফের এক প্রেমিকের (এমপি) চামচারা তাকে রাতের অন্ধকারে লাঠিপেটা লাথি ঘুসি চড় থাপ্পড় …..

৪. লোকটা পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। মাঝে মাঝেই ছোট খাটো সমস্যা নিয়ে আসতেন। দেশে বিদেশে ইসলামের খেদমত ও গরীবদের মিসকিনের সাহায্য সহযোগিতায় নিয়োজিত ছিলেন আলহামদুলিল্লাহ! হতাশাগ্রস্থ বিপদগামী তরুনদের চমৎকার মেন্টাল সাপোর্ট সাজেশন দিতে পারতেন! আজ তিনি বড় ধরনের মানসিক রোগী। মানসিক ভারসাম্য হারানোর পথে …

৫.সত্যি কথা উনার চেয়ে সুন্দরী মহিলা আমি আমার লাইফে দেখিনি মাশাআল্লাহ! কিন্তু উনি এসেছিলেন আমার কাছে আরও সুন্দর হওয়ার মেডিসিন নিতে! অদ্ভুত না ব্যাপারটা? উনার স্বামীর উনার রুপ গুণে বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিলো না। মেন্টাল ফিজিক্যাল সব ধরনের টর্চার চলতো। শিশু মেয়েটাকে ও সহ্য করতে পারতো না লোকটি। নিজের মায়ের আগুনে পুড়ে যাওয়ার নিউজ শুনেও কোন প্রতিক্রিয়া ছিলো না। তাকে চব্বিশ ঘন্টা মুগ্ধ করে রাখতো কিছু কল গার্ল! গার্ল ফ্রেন্ড! কিছু ম্যারিড সুন্দরী নারী!!

৬. কিশোর ছেলেটি বললো ম্যাডাম আমার মায়ের সমস্যা উনাকে আগে দেখুন ..সাথে মা বলে উঠলেন না না আপা আগে আমার ছেলেটাকে দেখুন। এভাবেই কিছুক্ষণ চলতে থাকলো। ছেলেটির বাবা দ্বিতীয় বিয়ে মহা ফূর্তিতে আছেন। মা ছেলের জীবন চলছে খেয়ে না খেয়ে …নিরন্তর সংগ্রাম …

৭. প্রায় কঙ্কালসার মেয়েটির এই আঠারো বছরের জীবনে কত ভয়ংকর কুৎসিত পরিস্থিতির সম্মুখীন যে হয়েছে … অসুস্থ অসহায় মা বাবা আর ছোট ভাইবোনের দায়িত্ব যে তাকেই নিয়ে হয়ে হয়েছিলো! উঠতে বসতে কুপ্রস্তাব। লালাসার দৃষ্টি। ঝি এর কাজ করতে গিয়ে পালিয়ে আসতে হয়েছে কয়েকবার। সবশেষে গার্মেন্টস কর্মী সে। আর সেখানেও একই যন্ত্রণা! বলেছিলাম ওকে বিয়ে করে ফেলো …অদ্ভুত ভাবে হাসতে লাগলো মেয়েটি। থামছিলোই না। মেয়েটাকে আর যাই হোক কেউ ভুলেও বিয়ে করতে রাজি হতো না…একজন তাকে বলেছিল, তোরে বড়জোর ওইটা যায় ধর্ষণ করা কিন্তু বিয়া নাহ…কেন জানেন? এই নামাযী বোরকা পড়া গার্মেন্টস কর্মীটার কি অপরাধ ছিলো?? সে দেখতে একটু বেশি ই কদাকার (!) ছিলো! . .

এইরকম আরও অনেক অনেক ঘটনার সাক্ষী শ্রোতা দর্শক আমি….. চোখ বন্ধ করলেই ওই মুখগুলো মনে পড়ে যায়। চোখ খুললেও ..

পোস্টটি ২৩৮ বার পঠিত
 ১ টি লাইক
১ টি মন্তব্য
একটি মন্তব্য করা হয়েছে
  1. ভালো হয়েছে,, চালিয়ে যাও..

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.