মাথা ব্যাথা-প্রয়োজন কিছু সতর্কতা
লিখেছেন ShopnoKotha, জুলাই ১, ২০১৫ ৫:৪৪ অপরাহ্ণ

images

মোবাইল ফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ, ডেস্কটপের মতো ডিজিটাল যন্ত্র একটানা ব্যবহার করলে মাথাব্যথা হতে পারে। এ সমস্যার সমাধানে কথা বলেছেন নিউইয়র্কের এক স্নায়ুবিদ।
কখনো কখনো একটানা কম্পিউটার ব্যবহারে মাথার ভেতর দপদপে বা চিনচিনে ব্যথা শুরু হয় পরে আবার তা চলেও যায়। কিন্তু এই সামান্য মাথাব্যথাও অনেক সময় তীব্র যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। একে মাইগ্রেনও বলে। মাইগ্রেনের সমস্যায় যদি কোনো চিকিৎসা নেওয়া না হয় তবে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত মাইগ্রেনের যন্ত্রণা হতে পারে।
কতবার এবং কতক্ষণ মাইগ্রেন স্থায়ী হচ্ছে সে বিবেচনা করেই চিকিৎসা দেন চিকিৎসক। অবশ্য এই মাইগ্রেন বা মাথাব্যথা পুরোপুরি নির্মূল করার চিকিৎসা নেই। কারণ এটি প্যাথো-ফিজিওলজির বিষয়। এটি ঠিক কী কারণে হয় তা পুরোপুরি এখনো বুঝতে পারেননি গবেষকেরা। কিন্তু মাইগ্রেনের লক্ষণ দেখে জীবনযাপনের ক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তন এনেই এর চিকিৎসা করা যায়। এ জন্য অবশ্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ম্যাশেবলে গত জুন মাসটি মাইগ্রেন সচেতনতা দিবস হিসেবে পালন করেছে। এ মাস উপলক্ষে ম্যাশেবলের প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ড. অড্রে হালপার্নের পরামর্শ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রযুক্তির প্রতি আসক্তি এবং প্রযুক্তির ব্যবহারে কীভাবে আমাদের মাথাব্যথা বা মাইগ্রেন হচ্ছে তা নিয়ে কথা বলেছেন এই স্নায়ুবিদ।
ডিজিটাল স্ক্রিনের দিকে চেয়ে থাকা
মোবাইল, ল্যাপটপ বা ডেস্কটপের মতো স্ক্রিনে দীর্ঘক্ষণ এক নাগাড়ে তাকিয়ে থাকলে মাথা ব্যথা দেখা দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে ৬০ শতাংশ মার্কিনিরা দিনে ছয় ঘণ্টা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকেন। ডিজিটাল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকায় চোখের যে প্রদাহ হয় তাতে মাথা ব্যথা হতে পারে। ড. হালপার্নের পরামর্শ হচ্ছে, হিপটোনাইজ করে রাখে যে ডিভাইসগুলো তা থেকে কিছুক্ষণের জন্য বিরতি নিতে হবে। কিংবা এক নাগাড়ে আধা ঘণ্টার বেশি ডিজিটাল স্ক্রিনের দিকে চেয়ে থাকা যাবে না। এ ছাড়া অ্যান্টি-গ্লো স্ক্রিন প্রটেক্টরও কেনা যেতে পারে।
ঘাড়ে টান লাগা
ড. হালপার্ন বলেন, ফোনের দিকে ঘাড় নিচু করে চেয়ে থাকা বা এক নাগাড়ে ডেস্কে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার করায় ঘাড়ে টান লাগতে পারে এবং মাইগ্রেন শুরু হতে পারে। ঘাড়ের এই টান লাগার সঙ্গে মাইগ্রেনের সম্পর্কের বিষয়টি অত্যন্ত জটিল একটি বিষয়। কাজের ক্ষেত্রে যাতে ঝুঁকে বসে কাজ করতে না হয় বা কম্পিউটার স্ক্রিনের সঙ্গে যেন বসা ঠিক হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সঠিক উচ্চতায় বসা, চেয়ারের উচ্চতা ঠিক ও কম্পিউটার স্ক্রিনের উচ্চতা ঠিকঠাক রাখলে ঘাড়ে টান লাগে কম।
মোবাইল যন্ত্রণা
সব কিছুতেই এখন মোবাইল বাগড়া দেবে, বিষয়টি এখন প্রতিনিয়তই ঘটছে। ড. হালপার্ন বলেন, এখন ভারচুয়ালি কাজ বা চাপ সৃষ্টিকারী বিষয় থেকে দূরে থাকা আর সম্ভব নয়।
তাঁর মতে, মানসিকভাবে যদি বিরতি না নেওয়া হয় তবে আমাদের মনের ওপর চাপ বাড়তে তাকে। এর ফলেও মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে। তাঁর পরামর্শ হচ্ছে, যেহেতু রাত আটটার পরেই ফোন বন্ধ করে মানসিক শান্তি খুঁজে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না তাই অন্য কোনো উপায়ে চাপ কমাতে হবে। এ ক্ষেত্রে যোগ ব্যায়াম বা মেডিটেশন কাজে আসতে পারে।
উজ্জ্বল আলো
যদি ঘুমানোর আগে ফোনের দিকে তাকানোর অভ্যাস গড়ে ওঠে তবে ঘুম চক্র নষ্ট হবে। এতে দিনের বেলায় কাজের সময় বেশি ক্লান্ত ও চাপ মনে হবে। রাতে কোনো উজ্জ্বল আলো ঘুম নষ্ট করলে তা থেকে মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ড. হালপার্ন বলেন, আমাদের শরীর ঘুমানোর সময় বিশ্রামে যেতে চায়, উদ্দীপক কোনো উজ্জ্বল আলো চায় না। এর সঙ্গে চোখের প্রদাহের পরিষ্কার কোনো সম্পর্ক আছে। ল্যাপটপ চার্জ হওয়ার সময় যে সামান্য আলো দেখা যায় সেটি কিংবা রাতে টিভি চালিয়ে রেখে ঘুমাতে গেলেও সহজে ঘুম আসতে চাইবে না। স্নায়ুবিদ হালপার্ন মনে করেন, ঘুমানোর ঘরে কোনো ইলেকট্রনিকসের জিনিস থাকা ঠিক নয়। আমাদের পুরো ঘর অন্ধকার করে ঘুমানো উচিত।

সূত্র-প্রথম আলো।

পোস্টটি ৪৮৩ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
০ টি মন্তব্য

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.