কফি কি আমাদের জন্য ক্ষতিকর?
লিখেছেন ShopnoKotha, জানুয়ারি ১২, ২০১৬ ৯:১০ অপরাহ্ণ
C84CF6E6-CD0D-44C2-9F19-F8B2E59263DF_mw1024_s_n

আমরা প্রতিনিয়ত চা, কফি, দৈনন্দিন খাবার এমনকি ঔষধের সাথে ক্যাফেইন গ্রহন করছি। কিন্তু এই ক্যাফেইন আসলে কি, খাবারের মাত্রাই বা কতটুকু, এর ভাল এবং খারাপ দিক গুলা কি? আসুন শুনি বিস্তারিত।

ক্যাফেইন আসলে একটি তেঁতো স্বাদ যুক্ত পদার্থ। বিভিন্ন খাবারে ক্যাফেইন পাওয়া যায় যেমন, চা, কফি, ঔষধ, কোমল পানিও যেমন পেপসি ইত্যাদি। ক্যাফেইন খেলে আমরা সাধারণত সজাক অনুভব করি বা আমাদের ক্লান্তি দূর করতে ক্যাফেইন খেয়ে থাকি। উদাহরন সরূপ যেমন আপনি অফিসে কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গ্যাছেন চলে গেলেন এক কাপ চা বা কফি খেতে। খাওয়ার পরে মনে হল আপনার ক্লান্তি দূর হয়ে গ্যাছে। আবার সকালে ঘুম থেকে উঠে বা বিকেল বেলায় এককাপ চা না খেলে আপনার ভালই লাগে না। ঠিক অনেকটা এই কারনে আমরা এত এত চা বা কফি এক কথায় ক্যাফেইন খেয়ে থাকি। কিন্তু এখন কথা হচ্ছে এটি আমাদের জন্য কতখানি নিরাপদ বা খাবারের মাত্রাই বা কতটুকু।

একটি সুস্থ মানুষের জন্য দৈনিক ২-৩ কাপ চা বা কফিতে যে পরিমান ক্যাফেইন থাকে সেটি ক্ষতির পরিমাণের ভেতরে পরে না তবে আপনি যদি দৈনিক ৫ কাপের অধিক পরিমানে চা বা কফি পান করেন তবে সেটি কিন্তু অবশ্যই মাত্রারিক্ত হয়ে যাবে।

e0a695e0a6abe0a6bf

মাত্রারিক্ত বা পরিমাণের থেকে বেশি পরিমানে ক্যাফেইন গ্রহন করলে আপনার কি ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে-

  • যদি বেশি পরিমানে গ্রহন করা হয়ে থাকে তবে এটি আপনাকে দুর্বল এবং অস্থির করে দিবে, আপনার স্বাভাবিক ঘুমের সমস্যার কারন হতে পারে এটি।
  • আপনার স্বাভাবিক হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দিবে এবং আপনাকে ডিহাইড্রেসন দিকে ঠেলে দিবে।
  • এটি আপনাকে তার দিকে ভীষণ ভাবে তার দিকে আকর্ষণ করবে ঠিক যেমন নেশা গ্রস্থদের মত। আপনার যদি দৈনিক ২ কাপ কফি খেলেই চলে সেক্ষেত্রে আপনার ইচ্ছা হবে ৪ কাপ খেতে। এবং পরবর্তীতে আপনি যখন এটি কমানোর চেষ্টা করবেন তখন বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিবে।
  • যারা নিয়মিত ভাবে অধিক হারে ক্যাফেইন গ্রহন করেন তাদের রক্তচাপ বেরে যাবার সম্ভবনা থাকে এবং পরবর্তীতে তাদের স্ট্রোক করার ঝুঁকি দেখা দেয়।
  • আমাদের হাত-পা কাপা রোগের অন্যতম কারন ক্যাফেইন সাথে সাথে এটি আমাদের কিচ্ছু সহ্য ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় যার ফলে আমাদের শরীরে হরমোনের সমস্যা দেখা দেয়।
  • এটি আমাদের শরীরকে স্বাভাবিকের তুলনায় তারুণ্যদীপ্ত করে যার ফলে অনিদ্রা এবং ঘুমের সমস্যা সৃষ্টি করে।
  • নিকোটিনের মতো ক্যাফেইন একটি নেশা বা আসক্তি সৃষ্টিকারী পদার্থ। আপনি যদি নিয়মিত এটি গ্রহন করতে থাকেন আর পরবর্তীতে বাদ দিয়ে দেন তবে, তখন আপনার ভেতরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিবে যেমন, মাথাব্যাথা করা, ক্লান্তিকর ভাব, কাজের প্রতি আগ্রহ কমে জাওয়া ইত্যাদি।
  • আপনি যদি খুব বেশি পরিমান (৩০০ মিলিগ্রাম+) গ্রহন করেন তবে আপনার ভেতরে কিছু পরিবর্তন দেখা দিবে যেমন, আপনাকে খুব উদ্বিগ্ন মনে হবে আর সবকিছুতেই অস্থিরতা কাজ করবে।
  • আপনি যদি বেশি বেশি পরিমানে ক্যাফেইন গ্রহন করেন আর আপনার যদি শ্রবণ শক্তির সমস্যা থাকে তবে সেটি বেড়ে যাবে।
  • যারা বৃদ্ধা বা বয়স্ক মানুষ তারা যদি ক্যাফেইন বেশি পরিমানে গ্রহন করে তবে তাদের হাড় ক্ষয় হওয়া বৃদ্ধি পেতে থাকে।
  • গর্ভাবস্থায় এবং খাবারের পরে এটি গ্রহন করা থেকে বিরত থাকা উচিৎ কারন এটি বিভিন্ন ধরনের খাবারের সাথে বিক্রিয়া করে বদহজম সৃষ্টি করে

ক্যাফেইনের উপকারী দিক-

  • আপনি যদি দৈনিক পরিমান মত ক্যাফেইন গ্রহন করেন তবে আপনার হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।
  • গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে যে কোন জিনিস বা কথা ভুলে যাবার প্রবনতা বৃদ্ধি পায় ক্যাফেইন সেটি কমাতে সাহায্য করে।
  • দৈনিক ক্যাফেইনের মাত্রা কম বা সহনশীল পর্যায়ে থাকে তবে এটি আমাদের সতর্কতা এবং ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।
  • ক্যাফেইন আমাদের হাড়ের বৃদ্ধি এবং ক্যান্সার ও ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।
  • এটি আমাদের দেহে এন্টিঅক্সিডেন্টের উৎস হিসেবে কাজ করে এবং শরীরে জমা ক্ষতিকর পদার্থের সাথে লড়াই করে সেগুলোকে ধ্বংস করে দেয়।
  • চা এবং কফিতে যে পরিমান ক্যাফেইন থাকে তা আমাদের শরীরের ব্যাথা দূরীকরণে কাজ করে সাথে সাথে যাদের মাথা ব্যাথার সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে এটি অনেক উপকারী।
  • যারা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ভাবে চা বা কফি পান করে আসছেন তাদের জন্য ক্যাফেইন অনেক উপকারী। তবে ভুলেগেলে চলবে না যে, সবকিছুর একটি সীমা আছে যেটি কোনভাবেই লঙ্ঘন করা উচিৎ না। 

এবার আসুন জেনে নেই কোন কোন খাবারে কতটুকু পরিমানে ক্যাফেইন পাওয়া যায়-

  • এটি আসলে একটি উপাদান যা বিভিন্ন ধরনের খাবারে উপস্থিত থাকে আবার অনেক উদ্ভিদেও এটি দৃশ্যমান। ক্যাফেইন কখনো সরাসরি খাবার হিসেবে গ্রহন করা উচিৎ না আর আমরা যখন কোন খাবারের মাধ্যমে ক্যাফেইন গ্রহন করি তখন এটি খাবারের সাথে হজম না হয়ে পেশাবের সাথে বের হয়ে যায়। এটি প্রাই ৬০ প্রকারের উদ্ভিদে পাওয়া যায় তারমদ্ধে চা এবং কফি অন্যতম ।
  • এক কাপ কফিতে ১০০ মিলিগ্রাম।
  • চায়ে প্রতি কাপে ১৪ থেকে ৬০ মিলিগ্রাম।
  • চকলেটে ৪৫ মিলিগ্রাম  প্রতি ১.৫ থেকে ২ আউন্সে।
  • সকল প্রকার কোমল পানিও যেমন (কোক, পেপসি, ইত্যাদি) ৪৫ মিলিগ্রাম প্রতি ১২ থেকে ১৬ অউন্সের পানিয়তে।
  • ক্যান্ডি, এনার্জি ড্রিংক, চুইঙ্গাম ইত্যাদি খাবারে।  

দেখা গিয়েছে যে বিভিন্ন কারনে আমরা ক্যাফেইনের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে গ্যাছি। এটি থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। মনে রাখবেন কোনকিছু মাত্রারিক্ত করা কখনোই ঠিক না। ক্যাফেইন যেমন আমাদের অনেক উপকার করে ঠিক তেমনি মাত্রারিক্ত হয়ে গেলে অনেক ক্ষতিও করবে। তাই সুস্থ থাকার জন্য আমাদের উচিৎ নিয়ম মাফিক ভাবে এটি গ্রহন করা।

সূত্র- উইকিপিডিয়া। 

 

পোস্টটি ৪০৯ বার পঠিত
 ১ টি লাইক
১ টি মন্তব্য
একটি মন্তব্য করা হয়েছে
  1. শীতে ধোঁয়া তোলা কফি কার না ভাল লাগে!!

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.