গিন্নীপনার টুকুটাকি-১
লিখেছেন শান্তি আপার আসর, জুলাই ১৪, ২০১৫ ১:৫২ পূর্বাহ্ণ

8801679118171 রান্নাঘরের যে জায়গাটায় দাঁড়িয়ে কাটাকাটি করি, তার পাশেই ওভেন। ওভেনে একটা জিনিস হতে দিয়ে অনেকক্ষণ ধরেই কাটকাটির কাজ করেছি। ছেলেকে পরিষ্কার করতে বাথরুমে গিয়েছি। ফিরতে হাত ধুতে বেসিনে দাঁড়িয়ে আয়নায় নিজেকে দেখি ভাবছি, এইটা কে? পেছনে তাকিয়ে খুঁজলাম, না কেউ নাই। হায়রে! মাথার ওপরের টিনের চালের গরম আর ওভেনের উত্তাপ, সব মিলে আধকালো এই আমাকে লালচে আফ্রিকান বানিয়ে ছেড়েছে। আয়নার এই বস্তুটা আমিই!

 

আমার রান্নাঘর, আমার অন্যতম কর্মক্ষেত্র।

দিনের প্রায় আটটা ঘন্টা বাইরে কাটিয়ে বাসায় ফিরলে আমার রান্নাঘরটা আমাকে একদম সাথে সাথেই বিছানায় গা এলিয়ে অফুরন্ত বিশ্রামের লোভ ভুলিয়ে দেয়। এই আট ফুট বাই ষোল ফুটের ঘরটা, তার মাথার ওপরের টিনের চালটা আর সামনের আম-লিচু-পেয়ারার গাছগুলোর গোড়ায় এক চিলতে ফাঁকা জায়গা, আমার উদ্ভট-আজব-দরকারী-অদরকারী সব ধরণের পরীক্ষানিরীক্ষার গবেষণাগার!

 

সাধারণভাবে মধ্যবিত্ত পরিবারে একজন মহিলার ঘরে থাকার সময়টার প্রায় অর্ধেকই ব্যয় হয় এই উত্তপ্ত রসায়ণাগারে। জানেন নিশ্চয়ই রান্নাঘরে যে জৈব রসায়ণের চর্চা চলে? আর এজন্যই এর আরেক নাম, ‘রসুই ঘর’?

 

পরিবারের মানুষগুলো, অথবা পরিবারের বাইরেও যাদের আমি প্রাণ দিয়ে ভালোবাসি, ভালোবাসার সেই মুখগুলোকে একটু খুশী করতেই রান্নাঘরের এই উত্তাপকে হাসিমুখে মেনে নেয়া যায়। আগে, যখন রান্না করতাম না, তখনকার সময়ের হাত বা মুখের সাথে তুলনা করলে থমকে যেতে হয়। মুখের রঙ বদলে যাওয়া, নখের মাঝ বরাবর ক্ষয়ে যাওয়া এইসব তো নিত্যদিনের ব্যয়। বোনাস হিসেবে জুটে হাতের এখানে ওখানে ছ্যাঁকা (এটা বালিকা বয়সে প্রেমের ফল হিসেবে নয়, অসাবধানতা বা অন্যমনষ্কতার ফল), গভীর-অগভীর ক্ষত, যেগুলো মাঝে মাঝে চিরস্থায়ী দাগও রেখে যায়।

 

এই ত্যাগ কেন? কার জন্য? বুঝেশুনে করছি কি?

আমার রান্নাঘর, এখানে আমি অপচয় করি না। আমার ফ্রিজে কারও হক নষ্ট করে কেনা বাজার নেই। আমার কাপ-প্লেট-তশতরীতে খাবার উপচে পড়ে না, নষ্ট হয় না। ঘরে খাওয়া হবে না বুঝলে সে খাবার আমি তৎক্ষণাত উপযুক্ত হাতে পৌঁছে দিই। এখানে আমি অশেষ সময় ব্যয় করি না,  প্রিয়জনকে খুশী করতে স্রষ্টার কাছে ধর্ণা না দিয়ে ইহকালের উত্তাপ দিয়ে পরকালের উত্তাপ কিনে নিই না, জ্ঞানত। আমার ওপরে আল্লাহর দেয়া আমানত হিসেবেই প্রিয়জনদের দায়িত্ব পালন করি, যার অংশ তাদের পেটে স্বাস্থ্যকর-সাধ্যমত সুস্বাদু খাবার দেয়া।

 

চোখ বন্ধ করে শেষ যাত্রা শুরুর দিন পর্যন্ত, এই ছোট্ট ঘরটি আমার ডানকাঁধের সম্মানিত লেখককে ব্যতিব্যস্ত রাখুক, এই কামনাই করি।

পোস্টটি ১৫১৮ বার পঠিত
 ২ টি লাইক
১১ টি মন্তব্য

Leave a Reply

11 Comments on "গিন্নীপনার টুকুটাকি-১"

Notify of
avatar
Sort by:   newest | oldest | most voted
চক সিলেট
Member

উত্তাপে উত্তাপে শান্তি আপা নিজেকে আফ্রিকান ভাবলেও রান্নার হাত কিন্তু বেশ :) ।
রান্না ঘরের উত্তাপে কেটে যাক ক্লান্তি, ঘুচে যাক সকল কষ্ট… :) কদরের রাতের বিশেষ দোয়া প্রার্থী আপা । আগাম ঈদের শুভেচ্ছা রইলো :D ।

লাল নীল বেগুনী
Member

দোয়া রইলো- এই ছোট্ট ঘরটি আপনার ডানকাঁধের সম্মানিত লেখককে ব্যতিব্যস্ত রাখুক। আপনার দোয়ায়ও আমাদের মনে রাখবেন শান্তি আপা…

রাহনুমা সিদ্দিকা
Member

বাহ! সতেজ সাবলীল লেখা! রসুইঘর-গাঁথা ভালো লাগলো। আবেগ ও বিবেককে একসাথে বেঁধেছেন… পথচলা শুভ হোক! :)

শুকনোপাতার রাজ্য
Member

রসুইঘরের সুখ আর দিনান্তের কথা গুলো অনাবিল সুখের খোরাক হয়ে থাক… :) :)

মুসবিহা
Member

basa ta to joss!
http://womenexpress.net/user/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_bye.gif http://womenexpress.net/user/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_good.gif
ami oi swing tay chorte chai http://womenexpress.net/user/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_yahoo.gif http://womenexpress.net/user/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_cool.gif http://womenexpress.net/user/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_heart.gif http://womenexpress.net/user/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_rose.gif http://womenexpress.net/user/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_smile.gif http://womenexpress.net/user/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_whistle3.gif http://womenexpress.net/user/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_yes.gif
http://womenexpress.net/user/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_cry.gif http://womenexpress.net/user/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_sad.gif
http://womenexpress.net/user/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_unsure.gif

wpDiscuz