ছাত্রজীবনের সম্পত্তি ও দ্বন্ধ
লিখেছেন রৌদ্রের গান, অক্টোবর ৪, ২০১৭ ১:৫৪ অপরাহ্ণ
books_3

যুগে যুগে উত্তরাধিকার সম্পত্তি নিয়ে ঝগড়া-মারামারি এমনকি খুনাখুনি হয়ে আসছে। সম্পদ জিনিসটাই এই জন্য আমার কাছে ভয়ংকর মনে হয়। কেউ যদি অনেক পরিশ্রম করে টাকা জমিয়ে বাড়ি করে তখন তার বাড়িতে আমাদের একটু থাকতে দেয়ার দাবীতো  দূরের কথা এটাও বলতে পারি না সামনের খালি জায়গাটাতো তোমার কাজে লাগে না… এখন থেকে আমি এখানেই থাকবো। বড়জোর কোন কারণে আমরা তাকে অনুরোধ করে দেখতে পারি। তারপর সে যেই সিদ্ধান্ত নেয় তা  তার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার।

 

ঠিক তেমনি ছাত্রজীবনে উত্তরাধিকার সম্পত্তি হলো বড় আপু-ভাইদের থেকে পাওয়া হ্যান্ড নোট। সেখানেও অন্যের অধিকার থাকে না! অন্যের সম্পত্তি বা নোট না পাওয়ার কারণে যে জ্বলে-পুড়ে সে নিজেরই ক্ষতি করে। নিজেদের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক নষ্ট করে আর এভাবে নিজেদেরকে মানসিকভাবে অস্থির বা অসুস্থ করে তুলে!

তবে হ্যাঁ! আপনি যখন কারো সাথে গ্রুপ স্টাডি করছেন। তখন শর্ত অনুযায়ী অন্যান্য পার্টনাররা আপনাকে তাদের নোট দিতে বাধ্য থাকবে। ওইটা আমাদের আলোচনার বিষয় না। 

 

কেউ যদি তার নিজের করা বা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া নোট অন্যকে না দেয়। তখন আমরা হাউকাউ করে তার চরিত্র নিয়ে গো যোগ এষণা (পড়ুন গবেষণা) করতে বসি! খুঁজে পাই হিংসা আর স্বার্থপরতায় পূর্ণ একজন মানুষ। আমরা সেই উত্তরাধিকার বা সরাসরি আপু বা ভাইয়ের কাছে প্রয়োজনে তার নোটটা চাইতেই পারি। কিন্তু না দিলে তার সম্পর্কে রসিয়ে রসিয়ে  আজেবাজে কথা ছড়ালে দিন শেষে নিজেরই ক্ষতি।   

একবারও ভাবি না তার সম্পত্তি… তার ইচ্ছা… তার ব্যাপার সে দিবে কী দিবে না! সে যদি দেয় তার উদারতা! সে যদি কারো ভয়ংকর লেভেলের সমস্যার কারণে পড়তে না পারার কারণ আর অসহায়ত্বের কথা বুঝতে না পারে তাহলে এটা তার অমানবিকতা!

 

কেউ কষ্ট করে রাতের পর রাত জেগে নোট করছে আর আমি রাতের পর রাত নাক ডেকে ঘুমিয়ে বা ফেসবুকিং করে তার কাছে নোট দাবী করতে পারি না!

ঠিক তেমনি পরীক্ষা হলে কাউকে জিজ্ঞেস করে কান ঝালাপালা করে দিতেও পারি না। অন্যের ব্রেনে সেইভ করা জিনিস নিজের ব্রেনের বলে চালিয় দিবেন কেন!!  তাহলেতো পরীক্ষার পরে যে রেজাল্ট বের হবে তাও মিথ্যা হয়ে যায়। রেজাল্টটা তাহলে আর আপনার বৈধ অর্জন থাকে না। এটি দুর্নীতি করে অর্জন করা সম্পদ হয়ে যায়।

পরীক্ষা হলে যারা অন্যের খাতা দেখে নকল করেন তাদের কাছে প্রশ্ন- সারা জীবন রেজাল্টে একটি মিথ্যা নিয়ে ঘুরে বেড়াবেন?

যা ঘটে গিয়েছে তা যেহেতু পরিবর্তন করা সম্ভব না। চলুন আমরা প্রতিজ্ঞা করি- আজকে থেকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সৎ থাকবো এবং কোন পরিস্থিতিতেই নৈতিকতা  বিসর্জন দিব না।

Comments

comments

পোস্টটি ৩৩৩ বার পঠিত
 ৪ টি লাইক
৭ টি মন্তব্য