দেশে কি যুদ্ধ চলছে?
লিখেছেন রাজু আহমেদ, জুলাই ২৯, ২০১৫ ৭:১২ অপরাহ্ণ

====মাগুরার নাজমা এবং তার বুলেটবিদ্ধ হয়ে জন্মগ্রহনকারী ভূমিষ্ট সন্তানের অনুচ্চারিত কথোপকথন=== . -মা! ওমা! তোমার গর্ভে মোর কয়দিন থাহার কথা আছিল ? -স্বাভাবিক নিয়মানুযায়ী তো দশ মাস দশ দিন । তয় তুই অভাগী । মোর গর্ভেও তোরে নিরাপদে রাখতে পারলাম না । এই সমাজের কিছু লোক তা হতে দেয়নি । -সাত মাসের মাথায় অপুষ্ট দুর্বল অবস্থায় মাত্র দুই কেজি ওজন নিয়ে আমাকে পৃথিবীতে আনলে কেন ? আমি কত কষ্ট পাচ্ছি মা তুমি জানো ? তোমার গর্ভে দশ মাস দশদিন থেকে হৃষ্টপুষ্ট হয়ে তারপর পৃথবীতে আগমন করাটাই আমার অধিকার ছিলো । রাষ্ট্র আমার সে অধিকার কেড়ে নিলো কেন ? জানো মা! তোমার পেটে তো অনেক শান্তি ও নিরাপদে বেড়ে উঠছিলাম । কিন্তু হঠাৎ সব ওলট পালট হয়ে গেল । তোমার গর্ভে আমার বয়স যখন মাত্র দু’দিন তখন বুকে খুব ব্যথা অনুভব করতাম । মনে হচ্ছিলো আমার পৃথিবীর মুখ দেখা হবে না । ওমা! মোর বুকে এত ব্যথা করছিলো ক্যান ? -শুনবি ? শোন তবে অমানুষদের কথা । পরম যত্নে ও চরম সাবধনে তিলে তিলে আমার পেটের সুরক্ষিত কক্ষে তোরে বড় করে তুলছিলাম । তোর বাপ এবং মুই তোরে নিয়ে কত রঙেন স্বপ্ন বুকে বাঁধছিলাম । নির্দিষ্ট সময় শেষে তুই পৃথিবীতে আসবি । তোর আগমনে খুশি হয়ে কত কত আনন্দ উৎসব করবো । সে আর পারলাম কই । আমার জীবনের সাথে তোর জীবনটাও হায়েনারা প্রায় কেড়ে নিয়েছিলো । কিছু মানুষ নামের পশু এর জন্য দায়ী । আমাকে মেরে ফেলার জন্য গুলি করেছিলো আমাকে উদ্দেশ্য করে । আমার জীবনের মধ্যে আরও একটা জীবন যে বেড়ে উঠছে সেটা হায়েনাদের কাছে কোন ব্যাপার ছিলো না । ও হায়েনারা গোটা পৃথিবীর সকল মানুষকে নিমেষেই মেরে ফেলতে পারে তাতে ওদের একটু হাত কাঁপবে না, বিবেকবোধ জাগ্রত হবে না । ক্ষমতার দম্ভ ওদেরকে মানুষ থেকে পশুতে পরিণত করেছে । ওদের নিক্ষেপ করা গুলিতে আমার পেটের চামড়া ভেদ করে সে বুলেট তোর বুকও ভেদ করেছিলো । খোদার দয়ায় তুই বাইচ্চা দুনিয়ার মুখ দেখছিস । কিন্তু বাঁচতে পারবি কিনা তা কইতে পারছি না । এখনো তুই শঙ্কামুক্ত নস । খোদার কাছে খালি বুক ভাসাইয়া কইতাছি, মুই মরলেও যেন তুই বাইচ্চা থাহোস । দুনিয়ার মানুষ দেখুক, ওরা কতটা পাষন্ড, কিরূপ নিকৃষ্ট এবং জানোয়ার হতে পারে । -ওমা! এমন নিষ্ঠুর জানোয়ারের মধ্যে মুই বাঁচতে চাই না । যারা তোমার পেটের মধ্যে মোরে নিরাপদে থাকতে দেয়নি তারা উম্মুক্ত যায়গায় মোরে শান্তিতে বাঁচতে দেবে না । মুই যহন বড় হমু তহন ওরা মোরে খুবলে খুবলে খাবে । – গেদু শক্ত হ । তোকে বাঁচতেই হবে । নরপিশাচদের শাস্তি দেখার জন্য তুই বেঁচে থাকবি । -ওমা! হুনছি এই দেশে নাহি নারীগো অনেক সংগ্রাম কইরা বাইচ্চা থাকতে হয় । তার ওপরে আমি আবার বুলেটবিদ্ধ হইয়া দুনিয়ায় আইছি । মুই যহন বড় অমু তহন দুনিয়ার মানুষ অপরাধীর দিকে কটুক্তি আঙুল না তুইল্লা যদি মোরে চিড়িয়াখানার জীবের নাহান দেখতে থাহে ? ওই ! দেখ দেখ ! ওই মাইয়াডার বুকে একটু গর্ত আছে ! হে কতা মুই কেমনে সমু ? -যা অওয়ার অইবে । বুকে বুলেট লইয়া মাইয়া হইয়া জন্মাইছো । ওই বুলেটের আঘাত তোরে যারা দেছে তাদেরকে ওটার প্রতিদান আরও শতগুন শক্তি দিয়া ফিরিয়ে দিতে অইবে । তুই প্রতিশোধ লবি, চরম প্রতিশোধ ! গর্ভে থাকতে তোরে যারা কষ্ট দেছে তাদের কোনদিন ক্ষমা করিস না । এই সমাজের ভাঁওতাবাজ মানুষগুলারে তুই তোর পাশে পাবি না । তাই বইল্লা তুই ভাইঙ্গা পড়িস না । এই সমাজের যারা নেতা হ্যারা মানুষ মরলে হেইরপর হেগো পাশে খাঁড়ায় । হোনো নায়, সিলেটের রাজন নামের ছোট্ট একটা পোলারে পিডাইয়া মাইরা হালানোর পর তাকে সবাই মিলিয়া সহানুভূতি জানাইতেছে । তুইও যদি মইরা মোর পেট দিয়া বের হইতি তইলে অনেকেরেই তুই তোর জন্য মায়া কান্না কাঁদতে দেখতি । তুই তো মরতে মরতে বাঁইচ্চা গেছ ! এহন তোর জন্য, তোকেসহ আমারে যারা মারতে চাইছিলো তাদের শাস্তির দাবীতে কেউ ফেসবুকে ঝড় তুলবে না, মিছিল, মানবন্ধন কিংবা আল্টিমেটাম দিবে না। -ওমা ! তুমি কাইন্দও না । মুই বুঝ্ঝি এ জগতের মানুষ কেমন । আর কিছু না পারি পরাণ ভইরা ঘৃণা তো করতে পারুম ! ঘৃণা করা ছাড়া মোগো নাহান গরীবের আর কি করার আছে? যারা তোমারে গুলি দিছিল তারা নাহি এদেশের ব্যাপক ক্ষমতাবান । আইন-আদালতের চাইতেই তাদের ক্ষমতার হাত নাকি লম্বা । ওমা ! মুই যে হানে আলহাম সেহান থেইক্কা হুইন্নাচ্ছি, ওদের চাইতেও একজন অনেক বড় ক্ষমতাশালী আছে । তার কাছে নালিশ করি । সে নিশ্চয়ই ওদের শাস্তি দিবে । -অয় মা । হেডা ছাড়া মোগো আর কোন দুয়ার নাই । চল !কাইন্দা কাইন্দা তার কাছেই নালিশ করি ।

পোস্টটি ২৫২ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
০ টি মন্তব্য

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.