কাচা ঝালে ঝালায়িত !
লিখেছেন রাজু আহমেদ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৫ ১০:৩৬ অপরাহ্ণ

ফ্রিজের ফাঁক-ফোকর আঁতিপাতি করে খুঁজলাম । না ! কোথাও কাচা মরিচ তো দূরের কথা একটা মরিচের বোঁটাও পেলাম না । ঝালবিবিকে বললাম, ওগো ! একটা কাচা মরিচ দাও ! পান্তা ভাতের সাথে মাখিয়ে খাব ! সাথে একটা পেঁয়াজও দিয়ো । রান্নাঘর থেকে ঝালবিবিরি যে ঝাঁজ আসলো তাতে শুধু আমি কেন আমার চৌদ্দ পুরুষের পিঁয়াজ ও কাঁচা মরিচ দিয়ে পান্তাভাত ভক্ষণের স্বাদ মিটে গেছে । অগত্যা নুন দিয়েই পান্তাভাত সাবার করে কাজে যাওয়ার মনোস্তাব করলাম ।

 

.

 

.

 

ভাতের সাথে কামড়ে কামড়ে খাওয়ার জন্য অতীতে ঝালবিবির কাছে যখনই কাঁচা মরিচ চাইতাম তখন বিবি অতি যতনে পিঁয়াজ কুটি কুটি করে সামনে এসে আদুরে গলায় বলতো, ওগো ! আজ পেঁয়াজ-কাচা মরিচ দিয়ে খেয়ে নাও । রাগ করো না ! কিছুই রাঁধতে পারিনি । তোমার গ্যাদাটা সারাদিন যা জ্বালায়িছে । শুধু ভাত রাঁধতে পেরেছি তাই ভাগ্য ! তাছাড়া আজ রাক্ষসী কিরণমালাকে বেঁধে রেখে রাজকুমারকে হত্যা করেছে । পর্বটি দেখে  আমি পাক্কা দু’ঘন্টা কেঁদেছি । তুমি তো জানো, আমি কত আবেগী ! রান্না করতে গেলে যদি আবেগের ঠেলায় তরকারীতে নুন, হলুদ-মরিচ বেশি দিয়ে বসতাম তখন তুমি আমার সাথে ঝগড়া করতে না বলো ? তাই রাঁধিনি ! ভালো করছি না ! তাছাড়া তুমি তো জানো না ! পাশের বাসার ভাই দু’বেলায়ই পেঁয়াজ-মরিচ দিয়া খায় । ভাবী সেটা নিয়ে আমার সাথে কত গর্ব করে । আমাকে গর্ব করার মত একটা ব্যবস্থা তুমি করে দিবে না ? তুমি কি একবেলাও খেঁতে পারবা না ।

 

.

 

.

 

ঝালবিবির অতীতেরে এমন স্মৃতি রোমন্থন করতে করতে আজকের আচরণ মিলাতে গিয়ে সামনে পড়ল গতকালের বাঁসি পত্রিকা । সেটার শিরোনাম দেখেই তো আমি বসা থেকে ছিটকে দাঁড়িয়ে গেলাম ! পত্রিকার শিরোনাম, পেঁয়াজের ঝাজে নাকাল দেশবাসী, কাচা মরিচের বাজারে আগুন । দাদাজানের বাপজান ফায়ার সার্ভিসে চাকরি করার সুবাদে আগুনের কথা শুনলেই বংশগতির ধারা এক ধরণের শিহরণ সৃষ্টি করে । বাজারে আগুনের বিস্তারিত খবর পরতে গিয়ে আমিতো পুরাই মফিজ ! যে আগুনের কথা ভেবেছিলাম এতো সে আগুন নয় । দামের আগুন ! পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকা আর কাচা মরিচের কেজি ৪০০ টাকা ! সব পড়তে পারিনি তার আগেই আমার ভেতরের সবকিছু বোধহয় বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল । খুব জানতে ইচ্ছা করছিল, এক কেজি কাচা মরিচে কয়টা কাচা মরিচ হয় । আমার আবার একটা বাতিক আছে । অর্থণীতির সূত্রের বিপরীত চলতে না পারলে আমি সুখ পাইনা । পণ্যের দাম যখন বাড়ে তখন আমার চাহিদাও বেড়ে যায় । ভাবলাম, এখনি বাজারে যাওয়া দরকার । অন্তত এককেজি পেঁয়াজ ও এক কেজি কাচামরিচ কিনে রাখা অতি আবশ্যক । টাকার থলে হাতরিয়ে সর্বসাকুল্যে মাত্র ৩৭ টাক ৫০ পয়সা পেলাম । এখন আবার সেই ঝালবিবির কাছেই যেতে হবে কেননা পুরো মাস গাঁধা খাটনি খেটে যেদিন বেতন পাই সেদিন রাত্রে ৮৯০ টাকা রেখে বাকী সবটাকা ঝালবিবিরি হাতে তুলে দিতে হয় । এর ব্যতিক্রম ঘটলে তুলকালাম কান্ড ঘটে যায় । সাথে আমার বাপ-ভাইকে উদ্ধার করে ফ্রিতে !

 

.

 

.

 

ঝালবিবির কাছে অনেক কাকুতি-মিনতি করে ৫০০ টাকা পেলাম । টাকা দেয়ার সময় ঝাজের সাথে বলে দিয়েছে প্রতিটি মরিচ ও পেঁয়াজ যেন টিপে টিপে দেখে আনি । এত টাকার জিনিস ! কোনটি যদি পঁচা হয় তবে নাকি আমার খবর করে ছাড়বে ! বাজারে যেতে যেতে মনে পড়ে গেল-বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি, ওরে আমার কাঁচা, ওরে সবুজ, আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা ! কবি তো আধমরাদের আঘাত করে বাঁচাতে বলেছিল কিন্তু এখন কাঁচা তো মেরেই ফেলতে চাচ্ছে !!! ব্যাপার কোন দিকে যাচ্ছে তা যেন মিলছিলই না ! ঝালবিবিও কি তবে এ গভীর ষড়যন্ত্রে জড়িত ? মরিচের ঝাল সাথে দামের ঝাল আমাকে হয়ত দু’দন্ড পোড়াবে কিন্তু ঝালবিবি তো সারাজীবন ব্যাপিয়া পুড়িয়েই যাচ্ছে ! ঝালবিবির দামও যদি বাড়ত তবে তাকে বেঁচে দিয়ে হয়ত আরও কিছু কাচা ঝাল কিনে ফ্রিজে রেখে দিতে পারতাম ! দু’টোই তো ঝাল ! একটার বিনিমেয়ে আরেকটা গ্রহন করলে কি অন্যায় করে ফেলতাম ? যখন ইচ্ছা-তখন ফ্রিজ খুলে বের করে গচর-মচর করে চিবিয়ে দাঁতের ঝাল কিছুটা কমিয়ে পেটের ঝাল তো বাড়িয়ে দিতে পারতাম !

 

.

 

.

 

 

 

facebook.com/rajucolumnist/

 

Comments

comments

পোস্টটি ২৬৫ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
৩ টি মন্তব্য