খরচ কমানোর দাওয়াই
লিখেছেন প্রশান্ত চিত্ত, জুন ১৬, ২০১৪ ৬:৩০ অপরাহ্ণ

প্রতি মাসের খরচ যেমন কমিয়ে আনতে পারেন, তেমনি সেই টাকা থেকে কিছুটা আপনার ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করতেও পারেন। রইল কিছু টিপস।

* মাসের শুরুতে বেতন পেয়ে ঋণ থাকলে শোধ করুন। পুরোটা না পারলেও যতটা সম্ভব করুন। ঋণ শোধ না করে সঞ্চয় করতে যাবেন না।

* প্রতিদিনই চেষ্টা করুন কিছু না কিছু টাকা জমাতে। হতে পারে সেটা ১০ থেকে ১০০ টাকা। যা হোক না কেন জমান। এবং সেটার কথা ভুলে যান।

* সন্তানকে সঞ্চয় করতে শেখান। তাকে ব্যাংক কিনে দিন। তাকে টাকা জমাতে সাহায্য করুন।

* কিছু কেনার আগে ভাবুন। বেশির ভাগ সময় অনেকে অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে ঘর বোঝাই করে ফেলে। কিন্তু জিনিস কিনে ফেলার আগে একটু ভেবে নিন। আদৌ আপনার প্রয়োজন আছে কি না।

* শপিংয়ে যাওয়ার আগে তালিকা করুন। কেনার আগে দেখে নিন আপনার কী কী আছে এবং কী কী আসলেই কেনা প্রয়োজন।

* লক্ষ্য ঠিক করুন। ভবিষ্যতে আপনার বিগ বাজেটের কী কী কিনতে হবে সেটার একটা তালিকা করে সময়সীমাও নির্ধারণ করুন। যেমন- পাঁচ বছর পর ফ্ল্যাট, এক বছর পর টিভি আর এক মাস পর ওভেন। এভাবে ঠিক করে কত টাকা করে জমালে এই লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব তা খেয়াল রাখুন এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিন।

* বাজেট করুন এক বছরের। পরিবারের সবাইকে নিয়ে বসুন। সবার মতামত নিন। এতে পরে জটিলতা তৈরি হবে না। চাহিদার পাশাপাশি অবশ্যই সঞ্চয়ের খাত আর সেই সঙ্গে জরুরি প্রয়োজনের জন্য আলাদা একটা বরাদ্দ রাখুন। বছর শেষে ওই টাকাটা বেঁচে গেলে সেটিও জমিয়ে ফেলুন।

* খরচের হিসাব রাখুন। প্রতিদিন কোথায় কত খরচ হলো তার হিসাব লিখে রাখুন। মাস শেষে সেটি নিয়ে বসুন। এবার দেখুন কোন কোন খাতে খরচ বেশি হয়েছে এবং সেগুলো একটু চেষ্টা করলেই কমানো সম্ভব কি না।

* বাইরে খাওয়ার প্রবণতা কমান। প্রতি সপ্তাহে বাইরে খাবার অভ্যাস কমিয়ে মাসে একবারে নিয়ে আসুন। মাস শেষে আপনি নিজেই অবাক হয়ে যাবেন দেখে, কী পরিমাণ টাকা আপনি বাঁচাতে পেরেছেন।

* ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার কমান। ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার কমিয়ে ক্যাশ ব্যবহার করুন। এতে যথেচ্ছ টাকা খরচ করতে পারবেন না। দেখবেন এভাবে আপনার অনেক টাকা বেঁচে গেছে।

* ব্র্যান্ডে জিনিসপত্র কেনার প্রবণতা ত্যাগ করুন। অযথা দাম দিয়ে ব্র্যান্ডের পোশাক সব সময় পরার চেয়ে কিছু ব্র্যান্ডেড পোশাক কিনে রাখুন বিশেষ উপলক্ষ্যে পরার জন্য।

* ব্যাংকে সেভিংস স্কিম খুলে ফেলুন। মাসিক হারে যতটুকুই সম্ভব আপনি কোনো রকম চাপ না নিয়ে জমাতে পারবেন এ রকম হারে। কয়েক বছর পর ভালো অঙ্কের টাকা জমিয়ে ফেলতে পারবেন।

* ভালো কম্পানিতে ইনস্যুরেন্স করে রাখুন। এতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় আপনার অর্থনৈতিক সমস্যা মোকাবিলা করতে পারবেন সহজেই। আর সেই সঙ্গে টাকাটা তো জমলই।

* ছাড়ের সময় পণ্য কিনুন। অলংকার বা অন্যান্য পণ্যের দামে বছরের বিশেষ কিছু সময় ছাড় দেওয়া হয়। চেষ্টা করুন সে সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করে পণ্যটি কেনার। এতে কিছু টাকা বেঁচে যাবে।

* ঘরের পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ অপচয় রোধ করুন। দরকার না হলে ঘরের পানির কল, চুলা ও ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্রের লাইন অফ করে রাখুন। বিল কম আসবে। ইলেকট্রিসিটি না থাকলে মোমের বদলে চার্জার লাইট ব্যবহার করুন।

* প্রথমবারের চেষ্টায় খরচ আশানুরূপ কমাতে না পারলে হাল ছেড়ে দেবেন না। খরচ কমানো খুব কঠিন কিছু নয়। আপনার সদিচ্ছা আর সতর্কতাই যথেষ্ট।

– See more at: http://www.kalerkantho.com/feature/a2z/2014/06/16/96658#sthash.mbFrzIxe.SelmdP4y.dpuf

পোস্টটি ৩৪০ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
০ টি মন্তব্য

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.