এই ছবিগুলো দেখে যদি আপনার অন্তর না কাঁদে, তাদের জন্য ব্যথা অনুভব না হয়, তাহলে বুঝবেন আপনার অন্তর মরে গেছে
লিখেছেন প্রশান্ত চিত্ত, জুলাই ১২, ২০১৪ ৫:১৯ অপরাহ্ণ

 

(এই ছবিগুলো দেখে যদি আপনার অন্তর না কাঁদে, তাদের জন্য ব্যথা অনুভব না হয়, তাহলে বুঝবেন আপনার অন্তর মরে গেছে)

“ইয়ারমুক প্রান্তরে ভীষণ যুদ্ধ চলছিল। রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের এটা এক মরণ পণ সংগ্রাম। রোম সাম্রাজ্যের সবচেয়ে নিপুণ সেনাপতি ম্যানোয়েল বা মাহান দুই লক্ষেরও অধিক সৈন্য নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন ৪০ হাজার সৈন্যের এক ক্ষুদ্র মুসলিম বাহিনীর উপর। একদিন নয় দুদিন নয়, ৫ দিন যুদ্ধ চলছে। একদিন যুদ্ধ করতে করতে ইয়ারমুক বিজয়ের সু স্তম্ভ মহাবীর খালিদ ইবন ওয়ালিদের হাত অবিরাম তরবারী চালনায় প্রায় অবশ হয়ে পড়ল।

যুদ্ধের এক পরযায়ে একটি কাহিনী ঘটলো, আবু জাহিম ইবনে হুজাইফা আহত নিহতদের সারিতে তাঁর চাচাতো ভাইকে খুঁজে ফিরছিলেন। তাঁর কাঁধের মশকে পানি। খুঁজতে খুঁজতে তিনি তাঁর ভাইকে পেয়ে গেলেন। সে তখন মুমূর্ষ। যন্ত্রণায় সে কাতরাচ্ছে। ইশারায় সে পানি চাইল। তিনি যখন তাকে পানি দিতে গেলেন ঠিক তখনই পাশেই আহত হিশাম ইবন আবিল আস পানি পানি বলে চিৎকার করে উঠলেন। হুজাইফার ভাই পানি পান না করে পাশের হিশাম ইবন আবিল আসের কাছে তাড়াতাড়ি পানি নিয়ে যেতে বললেন।

হুজাইফা যখন হিশামের কাছে পৌঁছলেন, তখন পাশের আর একজন মুমূর্ষ সাহাবী পানি পান করতে চাইলো। হিশাম ইংগিতে প্রথমে তাকেই পানি দিতে বললেন। হুজাইফা যখন পানি নিয়ে পাশের সাহাবীর কাছে পৌঁছলেন, তখন তাঁর রূহ ইহজগত ছেড়ে চলে গেছে। হুজাইফা ফিরে এলেন হিশামের কাছে। কিন্তু হিশামও ততক্ষণে জান্নাতহবাসী হয়েছেন। হুজাইফা ফিরে গিয়ে তার চাচাতো ভাইকেও আর পেলেন না। ততক্ষণে শাহাদাত বরণ করেছেন তিনিও।

অদ্ভুত এ ত্যাগ, ভ্রাতৃত্ব আর মমত্ববোধ। তাঁরা পরস্পরে মিলে এমন দুর্ভেদ্য প্রাচীর গড়ে তুলতে পেরেছিলেন বলেই সেদিন মাত্র চল্লিশ হাজার সৈন্য ইয়ারমুক প্রান্তরে সমগ্র এশিয়ার সম্মিলিত খৃষ্টান শক্তির বিজয়ের প্রাণান্ত প্রচেষ্টাকে শোচনীয় পরাজয়ের অতল পঙ্কিলে ডুবিয়ে দিতে পেরেছিল।

কিন্তু দেখুন বর্তমানে ইসরায়েলী নাপাক ইতররা ফিলিস্তিনে নিরপরাধ নারী,পুরুশ,শিশু,বৃদ্ধ দের কিভাবে মেরে ফেলসে !, কিন্তু আমরা কিছুই করতে পারছিনা,কারণ আমরা আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে দলে দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছি,আমাদের মধ্যে আর উপরের উক্ত ঘটনার মত ত্যাগ, ভ্রাতৃত্ব আর মমত্ববোধ নেই,আমরা আজ কুফফারদের রচিত বিধান দিয়ে আমাদের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে উদ্ধত, আমরা আজ ফুটবল নামক মুলার পিছনে ছুটছি, but আমরা কুরআন সুন্নাহ এর সফল সমাধানকে avoid করছি, আমরা মুসলিমরা মনে করছি যে কুরআন শুধু চুমু খেয়ে পকেটে রাখার জিনিশ,কুরআন থেকে শিক্ষা নিচ্ছি না

আমরা কি বদলাতে পারিনা? হ্যাঁ পারি,দাওয়াত ও জিহাদ এর মাদ্ধমে আমরা এক হয়ে আবার সেই দুর্ভেদ্য প্রাচীর গড়তে পারি,একই সাথে আমরা use করব অত্তন্ত ভারি অস্ত্র,যা আমরা ইনশাআ আল্লাহ সবাই চালাতে পারবো ,যদি সেই অস্ত্র লক্ষ্যভেদ করে তাহলে amra দুনিয়াতে বিজয়ী ও আখারাতে সফল হবো ইনশাআ আল্লাহ, এই heavy অস্ত্র হল আল্লাহর কাছে দোয়া ,আর সাথে add করুন ধৈর্য।

”হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের মনে ধৈর্য্য সৃষ্টি করে দাও এবং আমাদেরকে দৃঢ়পদ রাখ-আর আমাদের সাহায্য কর সে কাফের জাতির বিরুদ্ধে।” (সুরা বাক্বারাহ ২:২৫০) …

“হে আমাদের প্রতিপালক! যদি আমাদের ভ্রম হয় অথবা ত্রুটি হয় তজ্জন্যে আমাদেরকে ধৃত করবেন না, হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর যেরূপ গুরুভার অর্পণ করেছিলেন, আমাদের উপর তদ্রূপ ভার অর্পণ করবেন না;

হে আমাদের প্রভু, যা আমাদের শক্তির অতীত ঐরূপ ভার বহনে আমাদেরকে বাধ্য করবেন না এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন ও আমাদেরকে মার্জনা করুন এবং আমাদের উপর দয়া করুন; আপনিই আমাদের অভিভাবক। অতএব কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।” [সূরা বাকারা, আয়াত-২৮৬] [আমীন]

Collected: Story of Prophets

পোস্টটি ৪২১ বার পঠিত
 ২ টি লাইক
৩ টি মন্তব্য
৩ টি মন্তব্য করা হয়েছে
  1. নবী-রাসুল আর সাহাবীদের জীবনীতে এত নযরানা থাকতেও বার বার আমরা বিপথগামী হয়ে যাই … :(

  2. আমরা কেন আজও সত্যিকার মুসলিম হতে পারছিনা ?

  3. অমানবিক। ঘুম কেড়ে নেয় :(
    আল্লাহ সাহায্য করুক

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.