অনলাইন জগতে চোখ বাঁচানোর ১০টি পরামর্শ
লিখেছেন প্রশান্ত চিত্ত, এপ্রিল ৯, ২০১৪ ৯:৫০ অপরাহ্ণ

 

কম্পিউটারের সামনে দীর্ঘসময় কাজ করলে চোখের ওপর মারাত্মক চাপ পড়ে। এতে দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি ছাড়াও নানা শারীরিক সমস্যা হতে পারে। এক সমীক্ষায় দেখা যায়, এ ধরনের কাজে নিয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের ৭০ ভাগ কর্মী চোখের সমস্যায় ভোগেন। যার মূল কারণ স্ক্রিনের দিকে সারাক্ষণ তাকিয়ে থাকা।
চোখের এ সমস্যা মোকাবেলার নানা উপায় নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিজনেস ইনসাইডার।
স্ক্রিনের লেখাগুলো বড় করে নিনঃ
আপনার কি স্ক্রিনে ছোট ছোট লেখা পড়ার অভ্যাস? তাহলে আজই এ অভ্যাস পাল্টে ফেলুন। কারণ ছোট ছোট লেখা আপনার চোখের উপর চাপ সৃষ্টি করে। চোখের জন্য কী সাইজের লেখা ক্ষতি করবে না? স্ক্রিনে পড়া প্রত্যেকটি অক্ষরের আকার হতে হবে ৩.৫ মিলিমিটার। এর নিচে হলে তা চোখের উপর চাপ তৈরি করে।
১৫-২০ মিনিট পর পর বিশ্রাম দিন চোখকেঃ
আপনার চোখে বহু মাংসপেশি রয়েছে। এগুলোর কিছু নির্দিষ্ট দিকে ফোকাস করার জন্য কাজে লাগে। অন্য পেশির মতোই এগুলো সবসময় কাজে ব্যস্ত থাকলে গরম হয়ে যায়। একটু বিরতি ও দূরের কিছু পর্যবেক্ষণ করা হলে চোখের এ অবস্থা থেকে কিছুটা বিরতি হয়।
কর্নেল ইউনিভার্সিটি এরগোনোমিক্স প্রফেসর অ্যালান হেজ বলেন, ‘পড়ার সময় আপনার চোখ প্রতি ঘণ্টায় ১০ হাজার নড়াচড়া করে। প্রতি ২০ মিনিট পর পর চোখের বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন।’
তালু দিয়ে চোখ ঢেকে ফেলুনঃ
চোখের ব্যাপারে আপনি যদি সচেতন হন তাহলে হাতের তালু দিয়ে আপনার চোখ ঢেকে ফেলুন এবং চোখগুলোকে বিশ্রাম দিন।
চক্ষু বিশেষজ্ঞ এডওয়ার্ড কন্ড্রোট বলেন, ‘এটা চোখের মেডিটেশনের একটা অংশ।’
তিনি আরো বলেন, ‘বড় নিঃশ্বাস নিয়ে চোখের পেশিগুলোকে বিশ্রাম নিন। কম্পিউটারের লম্বা কাজ করার সময় চোখের উদ্দীপনা ফিরিয়ে আনতে এটি একটি অসাধারণ উপায়।’

 
অনলাইন জগতে চোখ বাঁচানোর ১০টি পরামর্শ

বেশি বেশি চোখের পাতা ফেলুনঃ
স্ক্রিনের সামনে আমরা চোখের পাতা কম ফেলি। ফলে চোখের মনি শুকিয়ে যায়। চোখের এ শুকিয়ে যাওয়া রোধ করার জন্য ও পুষ্টি উপাদান পৌঁছে দেওয়ার জন্য বেশি বেশি করে চোখের পাতা ফেলার অভ্যাস করতে হবে। প্রত্যেক ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড পর পর চোখের পাতা ফেলতে হবে।
চোখের জন্য খান পুষ্টিকর খাবারঃ
শরীরের এনার্জির বড় অংশ ব্যবহার করে চক্ষুগোলক। এ কারণে তাদের প্রয়োজন ভিটামিন এ, সি, ই ও জিংক। যেসব খাবারে এসব উপাদান রয়েছে সেগুলো বেশি করে খেতে হবে। এ ছাড়া ডাক্তারের পরামর্শে ভিটামিন ওষুধও কাজে আসতে পারে।
মনিটর দূরে রাখুনঃ
ব্যবহার করার সময় আপনার মনিটর কিছুটা দূরে রাখুন, যেন চোখ আরাম পায়। আপনি যদি চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে হাত বাড়িয়ে মনিটর স্পর্শ করতে পারেন তাহলে বুঝবেন সঠিক অবস্থানে রয়েছেন।
চোখের যত্নে অ্যাপ ব্যবহার করুনঃ
কম্পিউটারের মনিটর উজ্জ্বল। এটি দিনের উজ্জ্বল আলোয় দেখার জন্য ভালো। কিন্তু সকাল বা সন্ধ্যার অল্প আলোতে এ মনিটর আপনার চোখের ক্ষতি করে। আর এর নীল আলো আপনার চোখের ঘুম কেড়ে নেয়। এ বিষয়টি দূর করে চোখের আরাম দেওয়ার জন্য আছে কয়েকটি অ্যাপ। এ ধরনের একটি অ্যাপ হচ্ছে  f.lux. এটি দিনের বিভিন্ন সময় স্ক্রিনের রং পরিবর্তন করে চোখের আরাম দেয়। যেমন সূর্যাস্তের সময় এটি স্ক্রিনের রং করে তোলে হলুন-কমলা রঙের।
মনিটর নিয়মিত পরিষ্কার রাখুনঃ
মনিটরে জমা ধুলোবালি আপনার দৃষ্টিশক্তিকে ব্যাহত করে। ফলে মনিটরের অক্ষরগুলো পড়তে সমস্যা হয় এবং চোখের উপর চাপ পড়ে। এ কারণে চোখ বাঁচাতে মনিটর পরিষ্কার করা উচিত।
আলোর প্রতিফলন থেকে সাবধানঃ
আপনার মনিটর কি এমন অবস্থানে রয়েছে, যেখানে কোনো জানালা বা লাইটের প্রতিফলন সরাসরি মনিটর থেকে চোখে এসে পড়ে? এ বিষয়টি পরীক্ষা করার জন্য মনিটর অফ করে তারপর দেখুন। প্রয়োজনে মনিটরের কোন পরিবর্তন করুন। প্রতিফলন সরানো সম্ভব না হলে অ্যান্টি-গ্লেয়ার স্ক্রিন ব্যবহার করুন।
নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করুনঃ
আপনার চোখে চশমা দরকার হলে তা যদি ব্যবহার না করেন, তাহলে তা চোখের মারাত্মক ক্ষতি করে। একই ভাবে চশমার পাওয়ার পরিবর্তনের বিষয়েও নিয়মিত দৃষ্টি রাখা দরকার। 

সুত্রঃ কালের কণ্ঠ অনলাইন

পোস্টটি ৩২৪ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
০ টি মন্তব্য

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.