“পাকিস্তানী নারীঃ ৬ টি গল্প লজ্জার, লাঞ্চনার আর যুদ্ধ করে টিকে থাকার।” শেষ
লিখেছেন টুইংকল, জানুয়ারি ৭, ২০১৮ ২:০৪ অপরাহ্ণ

Image may contain: 1 person, closeup

সালমা৩৯

লিখেছেন জারা জামাল

পাকিস্তানে, যদি আপনি গরীব আর অশিক্ষিত হন তাহলে আপনাকে শুধুই জীবন শেষ হয়ে যাওয়ার অপেক্ষা করতে হবে;প্রতিটি দিন আপনার জন্য যুদ্ধ করে অতিবাহিত করার। সে সময় আমি যে বাড়িতে কাজ করতাম, সেখানে অনেক সম্মান পেয়েছি, আর আমার পরিবারের জন্য পেয়েছিলাম যথেষ্ট সাপোর্ট।যতক্ষন কাজ করেছি, আনন্দে করেছি, কিন্তু বাড়ি ফিরতে হত ভয়ে ভয়ে।
প্রতিদিন ফারূকের সাথে ভয়ে ভয়ে কাটতো, প্রতিটি মিনিট যেন অনেক বেশি মনে হতো, আমি প্রতিদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠতাম,আর ফারুকের কাপড়্গুলো ইস্ত্রী করতাম, সকালের নাস্তা রেডি করে দিয়ে কাজে যেতাম।সে সারাদিন বাড়িতেই থাকতো।যদি আমার কখনো ফিরতে একটু দেরী হতো, তার ফলাফল হতো ভয়াবহ।

সে আমাকে অতিরিক্ত মারধোর করতো;কখনো কখনো আমার বাহু ভেংগে দিতো। কখনো কখনো সে আমাকে বাইরে নিয়ে গিয়ে লোকেদের সামনে মারতো।তার ভেতরে কোন দয়া-মায়া ছিলো না, এমনকি যখন আমি গর্ভবতি ছিলাম।তিনবার মিসক্যারেজ হয়ে গেছে যে কারণে।আমার দুটি সন্তান, একজন ছেলে, অন্যজন মেয়ে, ওরা যমজ ছিলো।প্রেগনেন্সির সময়টাতে সে আমাকে আমার বাবা-মার কাছে চলে যেতে বলতো।কখনো মাঝরাতে সন্তানদের সামনে আমার ওপরে চড়াও হতো।আমি যখন শাওয়ার নিতাম তখন শরীরের ভয়াবহ অবস্থা দেখে কাদতাম।

ফারুক আমার সব স্যালারী নিয়ে নিতো আর সেগুলো দিয়ে ড্রাগ নিতো।একদিন সে আমাকে ডিভোর্স দেয় এই কারণ দেখিয়ে যে আমি নাকী অন্য পুরুষের সংগে শুই।একজন ডিভোর্সি মহিলাকে পাকিস্তান সমাজ লজ্জা দেয় প্রতিনিয়ত। আমি সে কারণে আমার এই তিক্ত বিয়েটাকে টেকানোর চেষ্টা করেছিলাম। সে একসময় আমাকে হালালাহ এর মাধ্যমে আবার বিয়ে করতে চায়। হালালাহ এর আইন হলো, একজন নারী যদি আবারো তার সাবেক বরকে বিয়ে করতে চায়, তাহলে তাকে অন্য আরেকজনকে বিয়ে করতে হবে এবং তার সাথে রাত্রিযপন করতে হবে।আমি অন্য একজনকে বিয়ে করি।আমি এটা শুধু আমার সন্তানদের জন্য করতে চেয়েছিলাম। যখন সেই অন্য মানুষকে ডিভোর্সের প্রোসেস শুরু হলো তখন ফারুক আবার বেকে বসলো। সে বললো তুমি আমার স্ত্রী হবার যোগ্য নও। তুমি একজন বেশ্যা।সে এবার আমাকে নতুন ভাবে টর্চার শুরু করলো।

আমি ভাবলাম সে হয়তো চলে যাবে, আর অবশেষে তা হলোও, কিন্তু আমার জীবন তছনছ করে দিল একেবারে। আমার সব জামা-কাপড়, ফার্নিচার, থালা-বাটি, সেলাই মেশিন, সব নিয়ে নেয়।  তবুও মাঝে মাঝে আমার সাথে শোবার চেষ্টা করতো। আমি ফিরিয়ে দিলে আবার আমাকে মেরে চলে যেতো। আমি আমার জীবন নিয়ে শংকায় ছিলাম। আমার মেয়ে সীমাকে সে বলতো, সে আমাকে এসিডে ঝলসে দেবে যদি অন্য কাউকে বিয়ে করি আবারো।

আমার ভবিষ্যতে একটা আশা ছিলো যেটা আমি করবো বলে ভেবেছিলাম, করাচীর বাইরে অন্য কোথাও গিয়ে একটা নতুন জীবন শুরু করবো। আমি কাজে প্রচুর পরিশ্রম শুরু করলাম, ছেলেমেয়েকে শিক্ষিত করার উদ্যোগ নিলাম, আর তাদের জীবনকে অন্য দিকে মোড় দেয়ার চেষ্টা করলাম, যেন আমার মতো কোন সামান্য পরিমান অভিজ্ঞতাও ওদের না হয়।আমাদের সমাজ নারীকে ঘরে দেখতেই পছন্দ করে। আমি আমার বাবার বাড়ি বা হাজব্যান্ডের বাড়ি কোথাও না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমি নতুন করে সবকিছু শুরু করতে চেয়েছিলাম; আমি দেখাতে চাই আমার নতুন জীবন তাদেরকে যারা আমাকে কষ্ট দিয়েছিলো; যদি আমার জন্য নাও হয় আমার সন্তানদের জন্য।

অনুবাদ-টুইংকল

 

পোস্টটি ৪১ বার পঠিত
 ১ টি লাইক
০ টি মন্তব্য

Leave a Reply

Be the First to Comment!

Notify of
wpDiscuz