“পাকিস্তানী নারীঃ ৬ টি গল্প লজ্জার, লাঞ্চনার আর যুদ্ধ করে টিকে থাকার।”-২
লিখেছেন টুইংকল, নভেম্বর ২৫, ২০১৭ ১২:৪৩ অপরাহ্ণ

Image may contain: 1 person

জারা জামাল এপ্রিল ৯ ২০১২
শেয়ার হয়েছে, টুইটার, লিংকেদিন।

রেহানা,৩৭
পাকিস্তানে অন্যান্য দরিদ্র নারীদের চেয়ে আমার জীবন আলাদা ছিলো না।আমার হাজব্যান্ড আমাকে অসম্মান করতো, আমি কোন রকম চলে যাওয়ার মতো আয় করতাম। সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সংগ্রাম করেছি আমার শেষ আশা পর্যন্ত। আমার একমাত্র আলাদা গল্প হলো এইসব দুর্ঘটনা আমার জীবনের কোন ক্ষতি করতে পারেনি।

আমি আমার বাবা-মা’র সাথে যে বাড়িতে বেড়ে উঠি, সেখানে ছিলাম ১৪ বছর পর্যন্ত, আর যথেষ্ট আর্থিক সাপোর্ট ছিল। আমার বাবা মেডিক্যাল বক্স বানাতেন তখন মা বাড়ির কাজ করতেন। আমরা খুব কম দিয়েই করে টিকে থাকার শিক্ষা পেয়েছি।যখন ১৪, নাসিরের সাথে এঙ্গেজ হয়ে যাই। তার সাথে কাটানো সময়গুলো আমার জীবনে শ্রেষ্ঠ সময়। সে খুব দয়ালু, আর যথেষ্ট ভদ্র।এমনকী আমরা একসাথে অনেক বেশী সময় পার করেছি।, আমার মনে হতো আমি তাকে ভালোবাসি। আমি জানি প্রথম প্রেম কেউ কখনো ভুলতে পারে না।

তারপর এক ভয়ানক রাতে আমার বিয়ে হয়, কিছু যুবক আমাদের বাড়িতে জবরদস্তি করে ঢুকে পড়ে মধ্যরাতে, সময় আনুমানিক ৩ টা। তারা আমার বাবা-মাকে বেধে রাখে আর মারধোর করে। আমি আমার দুই বোনের সাথে অন্য রুমে ঘুমাচ্ছিলাম।আমি আমার বোনদের চেয়ে বড় ছিলাম, তারা আমাকে বাইরে নিয়ে গিয়ে আমার পা বেধে রাখে। আমি জানতাম তারা আমাকে ধর্ষণ করতে চায়। আমি বুঝতে পেরেছিলাম আমি আমার সবকিছু হারাতে চলেছি। আমি একটি ছুরি হাতে নিলাম আর তাদেরকে বললাম, তারা যদি আর কোন উদ্যোগ নেয় আমি নিজেকে হত্যা করব। শেষ পর্যন্ত তারা আমাকে ছেড়ে দেয়।আমি নিরাপদে থাকলাম, কিন্তু সেটার রেশ তখন ছড়িয়েছে চারেদিকে। যখন নাসিরের পরিবার এটা শুনলো, তারা আমাকে “ইউজড” ভেবে নাসিরের অযোগ্য বলে বিবেচনা করলো।

ঘটনাটা ঠিক গত রাতের, ছয়জন ছেলে বাড়ি এসেছিল যা পেয়েছে চুরি করে নিয়ে গেছে। যখন আমার বাবা মা বাধা দিয়েছেন, তখন তারা হুমকী দিয়ে তাদের মেয়েকে সাথে নেয়। আমাদের প্রতিবেশীরা এসবই ভাববে, এটা ভাবা খুব সহজ যে, একজন মেয়ে তার সতিত্ব হারিয়েছে কারণ সেই পরিস্থিতি থেকে ছাড় পাওয়া তার জন্য কঠিন ছিল।

আমি যখন ১৫, তখন বিয়ে করি, ফকিরকে সে অভদ্র একটা লোক। আমার হাত ধরে তার মা বিয়ের পর বলেছিল, এই বাড়িতে রান্না করার মত কেউ নেই। ছেলেকে বিয়ে করিয়েছেন নিজেদের সুবিধার কারনে। আমি ফকিরের ২য় স্ত্রী। ফকির আমাকে বলল, সে ভালবাসে ১ম স্ত্রীকে,তার নাম রুখসানা,আর তার সাথে ফকিরের দু’জন সন্তানও আছে। ফকিরের প্রতি আমার আস্থা ছিল না। সে মাঝেমাঝে কাজে যেত, আর বসে বসে আমার টাকায় জুয়া খেলতো।

আমাদের ভেতরে টাকা নিয়ে সবসময় ঝগড়া হতো। আমি আমার সন্তানদেরকে শিক্ষিত করতে চেয়েছিলাম। আমি শুধুই আমার সন্তানদের জন্য রোজগার করছিলাম।আমি যদি কখনো ফকিরকে টাকা না দিতাম তখন সে আমাকে কাজে যেতে দিতো না আর ধরে মারতো। যত যাই হোক, আমি নিজেই সব ধরণের ভাড়া দিতাম বাড়ি ভাড়া, অন্যান্য ভাড়াগুলোও, ফকিরের হাতে ভাড়ার টাকা দেয়ার মত বিশ্বাস আমি কখনোই করিনি। আমার শেষ বেবিটির জন্ম হল, সে যখন সাত মাসের তখন আমি কাজে যাওয়া শুরু করি। ডাক্তার আমাকে কাজে যেতে নিষেধ করেছিলেন কারণ আমার পাকস্থলিতে ব্যাথা ছিল, আমি জানি ফকিরের ওপর নির্ভর করা যায় না।আমাকে যে ঔষধগুলো দেয়া হয়েছিল, সেগুলোর দাম, ছিল ৩০,০০০ রুপি। আমার সাধ্য ছিলো না নিজের ট্রিটমেন্ট করার।

আমার ওপর অত্যাচার শুরু হয়েছিল বিয়ের দু’মাস পর থেকেই, আর ১৪ বছরেও তা বন্ধ হয়নি। হাত ভাঙ্গা, দাত ভাঙ্গা, মিসক্যারেজ হওয়া নিয়মিত রুটিন ছিল যেন! সে আমাকে কেন মারতো আমি জানি না। হয়তো সে আমাকে কোন প্রাণী ভাবতো যার কোন অধিকার থাকতে নেই অথবা নিজের ব্যর্থতার জন্য আমাকে চামড়ার তৈরী কোন ব্যাগ ভাবতো কি জানি! অবশ্যই সে আমাকে কোন মানুষ ভাবতো না। আমি যেখানে কাজ করতাম, আমি অনুভব করতাম সেখানে আমাকে মানুষ হিসেবেই ধরা হতো, আমি যেটা আমার বাড়িতে পাইনি। আমি রিয়ালাইজ করলাম আমি মানুষ হিসেবে সম্মান পাবার অধিকার রাখি।

চলবে…

 

অনুবাদ-টুইংকল

পোস্টটি ৯০ বার পঠিত
 ৩ টি লাইক
৯ টি মন্তব্য

Leave a Reply

9 Comments on "“পাকিস্তানী নারীঃ ৬ টি গল্প লজ্জার, লাঞ্চনার আর যুদ্ধ করে টিকে থাকার।”-২"

Notify of
Sort by:   newest | oldest | most voted
Aklima Ferdushi
Member

পরের অংশটি পড়ার অপেক্ষায় রইলাম–

আলোকিত প্রদীপ
Member

এই ব্যাপারটা খুব বিরক্তিকর! ‘কোন অবস্থায় কি ঘটতে পারে’ সেই সূত্রে ফেলে মানুষ ‘নির্দিষ্ট ব্যক্তির সাথে কি ঘটেছে’ সে ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছে যায়!

লাল নীল বেগুনী
Member

খুব কষ্ট লাগতেছে! কারো কারো জীবন এত জটিল কেন!

পাঠশালা
Member
পাঠশালা

সকল রেহানার মানুষ হিসেবে বাঁচার পূর্ণাঙ্গ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক।

রৌদ্রের গান
Member

আহারে! কি কষ্ট! আচ্ছা, রেহানা এতকিছুর পরও ফকিরের সাথে সংসার করেছে কেন? মায়া নাকি সামাজিক নিরাপত্তা… নাকি দুইটাই!

wpDiscuz