আনিকার বিয়ে
লিখেছেন টুইংকল, জুলাই ১৭, ২০১৭ ১২:২৭ অপরাহ্ণ

Related image

মেয়েটির নাম আনিকা। জেলা শহরে মামার বাসায় থেকে ইন্টারমিডিয়েট পড়ছে। মামা মামী আর ছোট্ট মামাতো বোন নিয়ে মামার সংসার। একদিন ওকে কেউ দেখতে আসবে বলে জানাল।

দেখতে আসা ছেলেটির মুখের দিকে তাকিয়েছিল মাত্র একবার। কথার ধরণ আর চেহারার গাম্ভীর্যতায় ওর কোমল হৃদয়টা ভীত হয়ে উঠেছিল। আনিকার খুব প্রিয় কেউ একজন ছিল। যার সাথে কখনোই ওর দীর্ঘ আলাপন হয়নি, ঘন্টার পর ঘন্টা মোবাইল খুঁনসুটিতে সময় কাটেনি। কিন্তু সেই মানুষটির সাথে হাতে হাত রেখে বহুদুর হাঁটতে চেয়েছিল।


মামার কাছে ফিরে আসে। দু-চারদিন পর মামী বললেন, তোমার মামা এ বিয়েতে রাজী নন। আনিকার মনটা খুশিতে উদ্বেলিত হয়ে উঠেছিল। মামী আরও বললেন, আগামী শুক্রবার তোমার নানা মামারা, তোমার আম্মুকে নিয়ে বসবেন। এখানে বিয়ে নিয়ে না আগানোর পরামর্শ দিতে। বসেছিলেন এক শুক্রবার। আনিকার মা, ওর মামাদের আদরের ছোট বোন, সেদিনের আলোচনায় ওর মায়ের জেদের কাছে প্রত্যেকে হেরে যান।

– বিয়ের কথাবার্তা এগিয়ে যাচ্ছে। আর ভেতরে ভেতরে চুপসে যাচ্ছিল আনিকা। এমন হলো ও কারো সাথে কথা বলছেনা, হাসছেনা, মুভিও দেখছেনা। মামী ব্যাপারটা খেয়াল করলেন, কথাও বললেন আনিকার সাথে। জানতে চাইলেন পছন্দের কেউ আছে কীনা। আনিকা জানালো তার নাম রবিন। মামী নামটা শুনে হতবাক হয়ে বললেন, আমিতো শুনেছি এই ছেলে সরাসরি নিজে মুখে তোমার আম্মুর কাছে তোমাকে বিয়ে করার প্রস্তাব রেখেছিল। দেখছি আমি কথা বলে।


মামীর কথায় কোন কাজ হয়নি। আনিকার মা অটল পাহাড়ের মতো গোঁ ধরে আছেন। আর এক সপ্তাহ শুক্রবার বিয়ে। হঠাৎ শোনা গেল ছেলের বাবা এ বিয়েতে রাজী নন। একথা শোনার পর আনিকার মা পিছিয়ে যান। সোমবার দিন তিনি ঘটকের মাধ্যমে না করে দিয়ে বলেন, আমার মেয়ের বাবা নেই, বিয়ের পর শ্বশুরের থেকেও যদি স্নেহ না পায়……….!


সোমবার রাতে ছেলের মায়ের কল আসে আনিকার মায়ের কাছে। ওহহো, ছেলের নামই তো বলা হয়নি। ছেলের নাম মেহেদী। আনিকার চেয়ে দশ বছরের বড়। আনিকার মায়ের চেয়ে ছয় বছরের ছোট। যাইহোক ছেলের মা ফোন করে বলেন, আপা আপনি এভাবে পিছুটান দিবেননা, পরে সব ঠিক হয়ে যাবে। আমার ছেলেটা আপনার মেয়েকে ভালোবেসে ফেলেছে, এখন এই বিয়ে না হলে ও পাগল হয়ে যাবে। আপনি না করবেননা।


বিয়ের আয়োজন চলছে, আনিকা যে মামার বাসায় থাকে তিনি ওর মেঝ মামা। বিয়ের ছোট্ট অনুষ্ঠানটি হবে নানা বাড়ীতে।সবার ছোট মামা বিয়ের দুদিন আগে মেঝ মামার বড়িতে আসেন। কিছু জরুরী জিনিসপত্র কিনতে এসেছেন তিনি। আনিকা তখনও নানাবাড়ী যায়নি, ওর ইয়ার চেন্জ পরীক্ষা চলছে। ছোট মামা এসে আনিকার দিকে তাকিয়ে বললেন, ইচ্ছে করছে সব েঙ্গে দিই। এই েলে তোমার মাকে হয়তো পানি পড়া খাইয়ে দিয়েছে। আনিকা শুধুই শুনলো, কিছুই বললোনা।


বিয়ের আয়োজন চলছে, আনিকা যে মামার বাসায় থাকে তিনি ওর মেঝ মামা। বিয়ের ছোট্ট অনুষ্ঠানটি হবে নানা বাড়ীতে।সবার ছোট মামা বিয়ের দুদিন আগে মেঝ মামার বড়িতে আসেন। কিছু জরুরী জিনিসপত্র কিনতে এসেছেন তিনি। আনিকা তখনও নানাবাড়ী যায়নি, ওর ইয়ার চেন্জ পরীক্ষা চলছে। ছোট মামা এসে আনিকার দিকে তাকিয়ে বললেন, ইচ্ছে করছে সব ভেঙ্গে দিই, আমি একদমই জানতামনা আপার এতো জেদ। এই ছেলে তোমার মাকে হয়তো পানি পড়া খাইয়ে দিয়েছে। আপনিকা শুধুই শুনলো, কিছুই বললোনা।


বিয়ের আগের দিন, বৃহস্পতিবার সকাল। আনিকা নানাবাড়ী যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফ্রেশ হয়ে খাঁটের মাঝখানে মাথা নিচু করে বসে আছে। পুচকে কাজিনটা তখন স্কুলে। মামী নাস্তা রেডী করছেন। মামা এসে খাটের একপাশে বসলেন। কোন কথা নেই মুখে, নিরবতা চলছে দুজনের মধ্যেই। আনিকা ওর ঝাপসা দৃষ্টি মামার দিকে নিয়ে গিয়ে নিজেকে সামলাতে পারলোনা। মামা কাঁদছেন, অঝোরে ঝরছে তাঁর নোনা জল। আনিকা শব্দ করে কেঁদে ওঠে। মামা পাশে এসে মাথায় হাত রাখেন, কিছুই না বলে একটু পর উঠে চলে যান।


বিয়েটা হয়ে যায়। সেদিন সন্ধেবেলা রবিনের ফোন আসে। আনিকা তখন পাগলপ্রায়, রবিন প্রশ্ন করেছিল, ভালো আছোতো? আনিকা সেকথার উত্তর দিতে গিয়ে কন্ঠে শক্তি পাচ্ছিলনা, রুদ্ধ কন্ঠে বলেছিলো আপনি? ওপাশের কন্ঠে কিছু লুকোনোর চেষ্টায় শেষ কথা বলেছিল, ভালো থেকো সবসময়! হঠাৎ ওর ছোট বোন এসে বলল, আপা জানো রবিন ভাইয়া জানতোনা যে তুমি তাকে পছন্দ করো, উনি তোমাকে তুলে নিয়ে যেতে চায়, তুমি যাবে?! 


এর পরের গল্পটা পাল্টে যায় নিমিষেই। আনিকা যেতে চায়নি সেদিন, কারণ সে নিজেও জানেনা। বিয়ের পর প্রথম হানিমুনে মেহেদী ওকে বলেছিল, জানো যেদিন তোমাকে দেখেছি সেদিন থেকেই তোমাকে ভালোবেসেছি। তোমাকে না পেলে হয়তো পাগল হয়ে যেতাম। তুমি ফুল খুব পছন্দ করো তাইনা? আনিকা নির্বিকার উত্তর দিয়েছিল, ফুলতো সবাই পছন্দ করে। মেহেদীর পরবর্তী উত্তর শুনে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল, বলে, ফুল দেখলেই আমার ছিঁড়তে ইচ্ছে করে আর মুঠোতে নিয়ে নষ্ট করে ফেলতে ইচ্ছে করে। মেহেদীর একটু আগে বলা কথা আর পরবর্তী কথার মধ্যে কোন মিল আছে কী-না সেটা খুঁজতে থাকে আনিকা!


দশ বছর পেরিয়ে যায়, আনিকা তখন দু সন্তানের মা। মাঝে মাঝেই ওর শরীরে মুখে জখমের দাগ পড়ে, ওটা আবার ধীরে ধীরে মিশে যায়। আবার দাগ পড়ে আবার মিশে যায়। মাঝে মাঝে মাথা তুলতে কষ্ট হয়। ঐ যে ফুলকে হাতের মুঠোয় পেলে পিষ্ঠ করতে ভালোবাসে যে! ঐ যে শুনলেননা! 
সমাপ্ত।

পোস্টটি ২৪৪ বার পঠিত
 ১ টি লাইক
৩ টি মন্তব্য

Leave a Reply

3 Comments on "আনিকার বিয়ে"

Notify of
avatar
Sort by:   newest | oldest | most voted
Anonymous
Guest

সুন্দর এবং সাবলীল।আরো গল্পের প্রত্যাশায় রইলাম।

লাল নীল বেগুনী
Member

ভয়ঙ্কর! মনে হলো হঠাৎ করে জোরে শোরে একটা ধাক্কা খেলাম।
“বিয়ের আয়োজন চলছে…” এই প্যারাটা দুইবার চলে এসেছে। এডিট করে নিয়েন।

আলোকিত প্রদীপ
Member

এমন গল্প না লিখলে হয় না? মনটাই খারাপ হয়ে গেল!

wpDiscuz