‘শামা ধার্মিক ছিল, তাকে হত্যা করা হয়েছে’
লিখেছেন ওসি সাহেব, নভেম্বর ১৬, ২০১৪ ৯:০৫ অপরাহ্ণ

রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে শামার মরদেহ। ইনসেটে : শামা (ছবি : জিসান)রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে শামার মরদেহ। ইনসেটে : শামা

‘শামা পর্দা করতো। সে ধার্মিক ছিল।তার শরীরের সামান্যতম অংশও কেউ দেখতে পারেনি। সে হিজাব পরত। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত। নিয়মিত কোরআন পড়ত। সে আত্মহত্যা করতে যাবে কেন? প্রশ্নই ওঠে না। গত বছর তার মা মারা গেছে। কিন্তু এক ফোঁটা চোখের জলও সে ফেলেনি। বরং সে নিজেই তার মায়ের গোসল করিয়েছে। সে অনেক শক্ত ছিল। তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। শামা মারা গেছে নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশকে জানানো হয়েছে। এ লুকোচুরি কেন।’

বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে রাজধানীর সেন্ট্রাল হসপিটালে শামার লাশের পাশে বিলাপ করার সময় এভাবেই তার স্বজনরা বর্ণনা করছিলেন।

পুরো নাম শামারুখ মেহজাবিন কনা। বয়স আনুমানিক ২৬ বছর। সবেমাত্র হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল থেকে ডাক্তারি পাশ করে বেরিয়েছেন। বিসিএস করার কথা রয়েছে। এজন্য তিনি কোচিং করেন শাহবাগের জিনিয়াস কোচিং সেন্টারে। দুবছর আগে বিয়ে হয়েছে আওয়ামী লীগে নেতা যশোর-৫ আসনের প্রাক্তন সংসদ সদস্য খান মোহাম্মদ টিপু সুলতানের ছেলের সঙ্গে। কনার স্বামীর নাম হুমায়ুন সুলতান। অপরূপ সুন্দরী কনাকে বিয়ের আগে যিনি নিজেকে ব্যারিস্টারের পরিচয় দিয়েছিলেন। ধানমণ্ডি ৬ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাসার তিন তলায় বি-ব্লকে ভাড়া থাকেন। স্বামী-স্ত্রী ছাড়াও ওই বাসায় শামার শ্বশুর-শাশুড়িও থাকেন।

শামার মৃত্যুর খবর পেয়ে সাংবাদিকরা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ছুটে যান। হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, কনার নিথর দেহ কাপড়ে ঘেরা একটি টলির মধ্যে রাখা আছে। লাশের ওপর একটি বিছানার চাদর দেওয়া আছে। অনেক অনুরোধ করার পর কনার বান্ধবী ডালিয়া লাশ দেখালেন। এতে দেখা যায়, গলার সামনে দুই পাশে দুটি জমাট বাঁধা রক্তের দাগ। ফাঁসি হলেও এ রকম দাগ হয় না। হাতেও কাটার দাগ রয়েছে। এ ছাড়া ডালিয়া জানান, পিঠেও নাকি রক্তের দাগের মতো রয়েছে। কনা আত্মহত্যা করতে পারে না, ডালিয়াও এ কথা জোর গলায় বলেন সাংবাদিকদের।

হাসপাতালে উপস্থিত কনার খালা তুরানি বেগম জানান, কনা কোনোভাবেই আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত এক বছর আগে কনার মা মারা গেছেন। এবার সেও চলে গেল। এ দুঃখ কী করে সইবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না তুরানি। তিনি এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। যারা হত্যাকারী তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে এসেছেন শামার মামা কাজী ফিরোজ। তিনি জানান, কনা আত্মহত্যা করার মতো মেয়েই না। তাকে টিপু সুলতানের পরিবার হত্যা করেছে। হত্যা না করলে মরার পর কেন পুলিশকে জানানো হলো। তিনি এর সুষ্ঠ বিচার দাবি করেন।

হাসপাতালে ছুটে আসেন একে একে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। রমনা জোনের উপ-কমিশনার আব্দুল বাতেন ও সহকারী কমিশনার রেজাউল ইসলামও বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা বলেন। আর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানোর কথা বলেন।

এ বিষয়ে জানতে ধানমণ্ডি থানায় যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক পিপিএম জানান, পুলিশ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাটি জানতে পেরেছেন। এরপর থানায় গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করা হয়েছে। এ ছাড়া ওই বাসার সুরতহাল রিপোর্টও করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে। ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কনার স্বামী হুমায়ুন সুলতান সাদাফকে আটক করেছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে কনার স্বামী হুমায়ুন সুলতান রাইজিংবিডিকে জানান, পারিবারিকভাবে কিছুদিন ধরে কনার সঙ্গে ঝামেলা চলছিল। গতরাতেও এ নিয়ে ঝগড়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে দুজন একই সঙ্গে একই গাড়িতে অফিস যাওয়ার জন্য রওয়ানা হন বাসা থেকে। শাহবাগে কনাকে নামিয়ে দিয়ে কোর্টে যান তিনি। ওকালতির সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য উকিলের পিছু ঘোরেন। দুপুরে বাসায় এসে কনাকে না ডেকেই খেতে বসেন। এরপর কনাকে ডেকে না পেয়ে বাথরুমের দরজা ভেঙ্গে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। এর বেশি কিছু বলতে পারবেন না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।
হাসপাতালে উপস্থিত কনার বাবা বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘আমার মেয়েকে অনেক দিন ধরেই নির্যাতন করে আসছিল। কিছুদিন থেকে আমাকে ফোন করে বলতেন। মানসিকভাবে খুব বেশি প্রেসারে রাখতেন কনাকে। কনাকে হত্যা করে বাথরুমের ছোট জানালায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

 

http://www.risingbd.com/detailsnews.php?nssl=76646#sthash.TTMfgHF0.dpuf

Comments

comments

পোস্টটি ৪৫৬ বার পঠিত
 ১ টি লাইক
৪ টি মন্তব্য