কাসাব্লাঙ্কার ভাসমান মসজিদ
লিখেছেন ওসি সাহেব, জুলাই ১, ২০১৪ ৯:৪৭ অপরাহ্ণ

দূর থেকে মনে হবে পানির ওপর ভাসছে মসজিদটি। মুসল্লিরা নামাজ পড়ছেন পানির ওপর। ঢেউয়ের তালে তালে দোল খাচ্ছে মসজিদটি। সাথে মুসুল্লিরাও দুলছেন। এমনই একটি মসজিদ আছে মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায়। নাম দ্বিতীয় হাসান মসজিদ বা গ্র্যান্ড মস্ক হাসান-২।
মরক্কোর বাদশাহ দ্বিতীয় হাসান মসজিদটি তৈরি করেছেন। নির্মাণ করেছেন ফরাসি কোম্পানি বয়গিসের প্রকৌশলীরা। আর নকশা করেছেন ফরাসি স্থপতি মিশেল পিনচিউ।
একে ভাসমান মসজিদ বলার কারণ হচ্ছে- মসজিদটির তিন ভাগের এক ভাগ আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর অবস্থিত। দূরের কোনো জাহাজ থেকে দেখলে মনে হয়, ঢেউয়ের বুকে যেন মসজিদটি দুলছে আর মুসল্লিরা যেন নামাজ পড়ছেন পানির ওপর।

মরক্কোসহ আফ্রিকার সবচেয়ে বড় মসজিদ এটি। মসজিদটির অভ্যন্তরে ২৫ হাজারসহ একসাথে লক্ষাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। নারীদের জন্য রয়েছে আলাদা নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা। বৃষ্টির সময় ছাড়া প্রাকৃতিক আলো ও মুক্ত বাতাস প্রবেশ করতে মসজিদটির ছাদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যায় তিন মিনিট পরপর। ২২ দশমিক ২৪ একর জায়গার ওপর অবস্থিত এ মসজিদের মূল ভবনের সাথেই আছে লাইব্রেরি, কুরআন শিক্ষালয়, ওজুখানা ও কনফারেন্স রুম। আড়াই হাজার পিলারের ওপর স্থাপিত এ মসজিদের ভেতরের পুরোটাই টাইলস বসানো। মসজিদ এলাকার আশপাশ সাজানো হয়েছে ১২৪টি ঝরনা ও ৫০টি ক্রিস্টালের ঝাড়বাতি দিয়ে। শুধু তাই নয়, কোথাও কোথাও এসব মোড়ানো হয়েছে স্বর্ণের পাত দিয়ে। মসজিদটির মেঝে থেকে ছাদের উচ্চতা ৬৫ মিটার। মেহরাবের উচ্চতা দুইতলা ভবনের সমান। আর মিনারের উচ্চতা ২১০ মিটার বা ৬৮৯ ফুট। ৬০ তলা ভবনের সমান এই মিনারের ওপরে রয়েছে লেজার রশ্মি, যা নাবিকদের দেখিয়ে দেয় পবিত্র কাবাশরিফের পথ। ৩০ কিলোমিটার দূর থেকেও স্পষ্ট দেখা যায় এই লেজার রশ্মি। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মিনার এটি।

১০ মিটার বা ৩৩ ফুট উচ্চতার সামুদ্রিক ঢেউ ভেঙে দেয়ার ব্যবস্থা আছে মসজিটিতে। সমুদ্রের কোনো গর্জন শোনা যাবে না মসজিদটির ভেতর থেকে। মসজিদ এলাকার বাগানে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বনভোজনেরও।
বিলাসবহুল এ মসজিদটি নির্মাণে ব্যয় হয় ৮০ কোটি ডলার। নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৮৭ সালে। ২৫ হাজার শ্রমিক ও কারুশিল্পী রাতদিন পরিশ্রম করে সাত বছরে মসজিদটি নির্মাণ করেন। আর উদ্বোধন করা হয় ১৯৯৩ সালে।
সুত্রঃ দৈনিক নয়া দিগন্ত ।

পোস্টটি ৩০৮ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
৬ টি মন্তব্য

Leave a Reply

6 Comments on "কাসাব্লাঙ্কার ভাসমান মসজিদ"

Notify of
avatar
Sort by:   newest | oldest | most voted
প্রশান্ত চিত্ত
Member

৬০ তলা ভবনের সমান এই মিনারের ওপরে রয়েছে লেজার রশ্মি, যা নাবিকদের দেখিয়ে দেয় পবিত্র কাবাশরিফের পথ। ৩০ কিলোমিটার দূর থেকেও স্পষ্ট দেখা যায় এই লেজার রশ্মি। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মিনার এটি। ১০ মিটার বা ৩৩ ফুট উচ্চতার সামুদ্রিক ঢেউ ভেঙে দেয়ার ব্যবস্থা আছে মসজিটিতে।
সত্যি বিস্ময়কর নির্মাণ !!

স্বপ্ন কথা
Member

মিডেলইস্টের মসজিদ গুলো বেশ সুন্দর,এবং নান্দনিক।

শুকনোপাতার রাজ্য
Member

বিলাস বহুল কিছু তৈরী করতে মিডলইস্টদের জুড়ি নেই… মসজিদটা দেখেই কেমন জানি প্রশান্তি লাগে :)

wpDiscuz