ফেসবুকের গল্পঃ এখন পথ প্রদর্শনের মালিক তুমি
লিখেছেন ওসি সাহেব, আগস্ট ৪, ২০১৪ ৯:১০ অপরাহ্ণ

 

বাগদাদ শহরের এক মসজিদের ইমামের স্ত্রী ছিল অত্যন্ত সুন্দরী , রূপসী এবং সুনয়না । স্থানীয় এক মাস্তান যুবক হঠাত্ একদিন ইমাম সাহেবের স্ত্রী কে দেখে তার প্রতি ভীষণ আসক্ত হয়ে পড়ে এবং এরপর রীতিমত তাকে বিরক্ত করতে থাকে একদিন ইমাম সাহেবের বাড়িতে প্রবেশ করে যুবক বলল, হে সুন্দরী মহিলা, আমি ইতিমধ্যে তোমার প্রতি খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছি । তাই আমার কামনা চরিতার্থ করার জন্য প্রস্তাব দিচ্ছি ।

তুমি কি আমার প্রস্তাবে রাজি ? মাস্তান যুবকের প্রস্তাব শুনে মহিলা ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে গেলেন । রাতে ইমাম সাহেব ঘরে ফিরলে তিনি তার কাছে যুবকের কথা বর্ণনা করলেন ।
ইমাম সাহেব বললেন, তুমি রাজি হয়ে যাও তবে একটা শর্তে: শর্তটা হল “যদি যুবক একটানা চল্লিশ দিন প্রথম তাকবীরের সহিত জামাতের সাথে আমার মসজিদে সালাত আদায় করতে পারে তবেই তুমি রাজি হবে” । পরের দিন যুবক এসে মহিলাকে জিজ্ঞেস করল, আমার প্রস্তাবের ব্যাপারে তোমার মত কি ?
মহিলা বললেন একটি শর্ত আছে- যদি তুমি শর্ত পূরণ করতে পার তবে আমি রাজি ।
তখন যুবক বলল কি শর্ত ?
মহিলা বলল শর্তটি হচ্ছে ‘বিরতি না দিয়ে একটানা চল্লিশ দিন প্রথম তাকবীরের সহিত জামাতে সালাত আদায় করতে হবে’ । যুবক বলল এটা তো সহজ শর্ত এর চেয়ে কঠিন শর্ত দিলেও আমি রাজি হতাম । যুবক পরদিন ওযু করে সুন্দর পোশাক পড়ে সালাত আদায় করতে আসলো ।
ইমাম সাহেব সালাতের পর মুনাজাত করে বললেন, ” হে আল্লাহ এক পথহারা যুবকে তোমার দরবারে এনেছি, এখন পথ প্রদর্শনের মালিক তুমি “।
যুবক শর্ত মোতাবেক জামাতের সাথে সালাত আদায় করে যাচ্ছে , ফজরের পর জোহরের জন্য অপেক্ষা করে , জোহরের পর আছর , এরপর মাগরিব ,এরপর এশা । কোন বিরতি নেই । অতঃপর এভাবে যেদিন একটানা চল্লিশ দিন পার হলো সেদিন যুবক ইমাম সাহেব কে জড়িয়ে হু হু করে কেঁদে ওঠলো এবং বলল; আমাকে ক্ষমা করে দিন ।
আমি অন্ধকারে ছিলাম আল্লাহপাক আমাকে আলোর পথ দান করেছেন, আল্লাহ আমাকে হেদায়েত দান করেছেন ।
আমার ভুল হয়ে গেছে আমাকে মাফ করে দিন । তখন ইমাম সাহেব যুবককে সাথে নিয়ে আল্লাহর কাছে হাত তুলে দোয়া করলেন,” হে আমাদের পালনকর্তা, সরল পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে আর কঠিন করে দিও না । এবং তুমি আমাদের করুনা দান কর , তুমিই মহাদাতা অসীম করুনার আধাঁর ।
সূরা আল ইমরানঃ আয়াত ৮” ।
¤ “যথাযথ ভাবে সালাত আদায় কর, নিশ্চয় সালাত অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে । আল্লাহর স্মরনই সর্বশেষ্ঠ । তোমরা যা কর তা আল্লাহ অবগত ।
সূরা আনকাবুত আয়াত ৪৫” ।
হে আল্লাহ আমাদের যথাযথ ভাবে সালাত আদায়ের তওফীক দান করুন (আমীন)।

সূত্রঃ ইন্টারনেট।

পোস্টটি ৩০২ বার পঠিত
 ৪ টি লাইক
৪ টি মন্তব্য
৪ টি মন্তব্য করা হয়েছে
  1. যে নামাজ জীবনের পরিবর্তন আনতে পারে সেটাই তো আসল নামাজ!

  2. জীবনে কত নামাজ পড়লাম কিন্তু এমন পরিবর্তন সত্যি কাম্য।

  3. সেই যুবকটা নামাজে বর্ণিত সূরার ভাষাগুলো বুঝতে পেরেছিলো বিধায়- সে সত্যতা জানতে পেরেছে, কিন্তু আমাদের সমাজের অবস্থা হলো চল্লিশ দিন কি, চল্লিশ বছর ধরে নামাজ পড়ালেও কাজ হবে না, কারণ অর্থ না বুঝে নামাজ পড়লে যা হয় আর কি…

  4. অনুপ্রেরণাদায়ক :)

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.