ওয়েব ডেভেলপমেন্টে সম্ভাবনা:
লিখেছেন ওসি সাহেব, এপ্রিল ১০, ২০১৫ ৪:২৭ অপরাহ্ণ


বিশ্বের দিকে তাকানোর আগে নিজের দেশের দিকে চোখ মেলে তাকান। আপনার চোখে ঠিকই ধরা পড়বে বিভিন্ন কোম্পানির ওয়েবসাইট। এ আধুনিকতার দৌড়ে কেউ এখন পিছিয়ে নেই। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেরই এখন ওয়েবসাইট দেখা যায়। শুধু তাই নয়, ওয়েবসাইটই এখন হয়ে উঠেছে প্রচারণার প্রধান হাতিয়ার। এখন ছোট-বড় সব প্রতিষ্ঠানই নিজেদের ওয়েবসাইট তৈরি করে সারা বিশ্বের কাছে নিজেদের তুলে ধরতে চায়। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে খুব সহজেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে যে কোনো প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবার তথ্য পেঁৗছানো সম্ভব। এ ছাড়া এখানে ফুটিয়ে তোলা যায় কোম্পানির ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনাও। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিং করতে বর্তমানে ওয়েবসাইটের বিকল্প নেই। তাই সবাই তৈরি করছেন ব্যক্তিগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট। আর এ ওয়েবসাইট ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট ও হালনাগাদ করতে প্রয়োজন দক্ষ জনবল। যে কেউ চাইলে প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ নিয়ে এখানে ওয়েবসাইট ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্টে গড়ে তুলতে পারেন উজ্জ্বল এবং স্মার্ট ক্যারিয়ার।

কাজের ধরন :
এ পেশায় রয়েছে অসংখ্য কাজ। আপনি যে কোনো একটি কাজে দক্ষতা অর্জন করে তা দিয়েই চাকরি শুরু করতে পারেন। আপনি যেসব কাজ শিখে চাকরিতে নামতে পারেন সেগুলো হচ্ছে_ ই-কমার্স সাইট ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব টেমপ্লেট ডিজাইন ও কাস্টমাইজেশন, কমার্শিয়াল ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট, পার্সোনাল ও কমার্শিয়াল ব্লগ ডিজাইন, সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ডেভেলপমেন্ট। এ ছাড়া শিখতে পারেন ওয়েবসাইট ও অ্যাপ্লিকেশন ডিজাইন এবং ব্যবস্থাপনা। এসবের যে কোনো একটি দিয়ে আপনি কাজ শুরু করতে পারেন।

পাঠশালা:
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যে কোনো বিষয়েই হোক না কেন আপনি চাইলেই এখানে সফল ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারেন। বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিষ্ঠানে এ ব্যাপারে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। চোখ-কান খোলা রাখলেই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও মিডিয়ায় দেখা পাবেন এসব আইটি প্রশিক্ষণদানকারী প্রতিষ্ঠানের খোঁজ। এদের অনেকেই বিজ্ঞাপন দিয়ে শিক্ষার্থী নেয়। এ ছাড়া অনলাইনেও শিখতে পারেন ওয়েবসাইট তৈরির কলা-কৌশল। ইন্টারনেটে বাংলা অথবা ইংরেজিতে অসংখ্য টিউটোরিয়াল আছে। সেগুলো দেখে প্র্যাকটিস চালিয়ে আপনি হতে পারবেন একজন সফল ওয়েব ডেভেলপার।

যেখান থেকে শুরু:
আপনি এসব কাজ শেখার পর ঘরে বসেই কাজ শুরু করতে পারেন। বাইরে অফিস না নিয়েও আপনি ঘরে বসে কাজ শুরু করতে পারেন। আপনার কাজের ক্ষেত্র কিন্তু বিশ্বব্যাপী। তারপরও দেশের উল্লেখযোগ্য যেসব প্রতিষ্ঠানে আপনি কাজ শুরু করতে পারেন সেগুলো হচ্ছে_ তৈরি পোশাক কারখানায়। তারা নিয়মিত ওয়েব ডিজাইনার নিয়োগ দিয়ে থাকে। কাজ করতে পারেন বিভিন্ন আইসিটি ফার্মে। সেসব প্রতিষ্ঠানে দক্ষ ওয়েব ইঞ্জিনিয়ারদের রয়েছে বেশ কদর। আপনি আইটি ফার্মেও কাজ শুরু করতে পারেন। বিভিন্ন আইটি ফার্মের ওয়েব এক্সপার্ট হিসেবে জয়েন করতে পারেন অনায়াসেই। এ ছাড়াও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ওয়েব এনালিস্ট হিসেবেও ভালো অ্যামাউন্টে কাজ করতে পারেন। ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোম্পানির অ্যাপ্লিকেশন অ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করে ভালো টাকা আয় করতে পারেন। কাজ করতে পারেন তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কোম্পানির কর্মকর্তা হিসেবেও। আর যদি পারেন নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান খুলে বসুন। কাজের অভাব নেই এখানে।

এগিয়ে রাখার গোপন মন্ত্র:
অনেকেই কীভাবে ওডেস্কে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে, কীভাবে কাজ পাওয়া যেতে পারে এসব কৌশল শিখতে তৎপর অথচ কাজ তেমন শেখে না। মার্কেটপ্লেসগুলোতে অ্যাকাউন্ট খোলা ফেসবুকের মতোই সহজ, এরপর কয়েকটি পরীক্ষা দিয়ে প্রোফাইলসমৃদ্ধ করতে পারেন। যে কোনো বিড করার (যেমন ওডেস্কে অঢ়ঢ়ষু ঃড় ঃযরং ঔড়ন) সময় কভার লেটার তথা আবেদনটি একটু আকর্ষণীয় করে লেখা উচিত। ভালো কভার লেটারের নমুনা কিন্তু একটু খুঁজলে সেসব সাইটেই পেয়ে যাবেন। এগুলো খুবই অগুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পানির মতো সহজ। এসব নিয়ে চিন্তা না করে আগে টেকনিক্যালি এক্সপার্ট হোন।
আপনি যে কাজই করতে চান না কেন আগে তাতে দক্ষতা অর্জন করুন, এরপর ফ্রিল্যান্সিংয়ে যান। কিছু জানলেন কিংবা ভাসা ভাসা ধারণা এমন দক্ষতা নিয়ে ওডেস্ক বা যে কোন মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট খোলা হতাশা ছাড়া কিছুই দিতে পারে না। এ ছাড়া ফ্রিল্যান্সিংয়ে আসার আগে ভালো সফটওয়্যার ফার্মে এক-দুই বছর চাকরি করে আসা উচিত। চাকরি না করে আউটসোর্সিংয়ে এলে ওপরে ওঠা জটিলই বটে!

বেতন-ভাতা:
জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস ওডেস্কে প্রায় সব সময়ই ওয়েব ডেভেলপমেন্ট সংশ্লিষ্ট ১২ হাজারের বেশি কাজ থাকে। ই-ল্যান্সে রয়েছে ১৫ হাজারেরও বেশি ওপেন জব, প্রজেক্ট প্রতি যার গড় বাজেট ২ হাজার ৩০০ ডলার, প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ। ঘণ্টাপ্রতি গড় রেট ২৫ ডলার থেকে শুরু করে ১৫০ ডলার। কাজের প্রবৃদ্ধি দেখলেই বোঝা যায় কাজের চাহিদা বাড়ছে নাকি কমছে। তাছাড়া বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররা ওয়েব প্রোগ্রামিং ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট বিভাগে তাদের দক্ষতা দেখিয়ে কাজও পাচ্ছেন বেশ। তাই বুঝতেই পারছেন, এখানে আপনার ক্যারিয়ার কেমন হবে।
তবে এমনিতেই আমাদের ছোটখাটো মার্কেটে ওয়েব ডেভেলপের ক্ষেত্রে আপনার দক্ষতা অনুযায়ী সর্বনিম্ন ২৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা কিংবা তার চেয়েও বেশি বেতনের চাকরি পেতে পারেন। অথবা নিজেই অল্প পুঁজিতে কোনো ফার্ম পরিচালনা করতে পারেন। অন্যদিকে আউটসোর্সিং করার পথও আছে। তাই চাইলে আজই শুরু করতে পারেন।

শুরুর থাকলেও নেই শেষের দেখা:
যে কোনো চাকরির শুরু যেমন আছে তেমনি শেষও আছে; কিন্তু ওয়েব এমন একটি জায়গা যার শুরু থাকলেও শেষ নেই। তাই এখানে সম্ভাবনাও ব্যাপক। তবে কাজ করে আয়ের পরিমাণ নির্ভর করে ওয়েব ডেভেলপারের দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার ওপর। বিলিয়ন ডলারের ওয়েব ডেভেলপমেন্টের বাজারে বাংলাদেশি ওয়েব ডেভেলপারদের সংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম। কারণ একজন প্রফেশনাল ওয়েব ডেভেলপার হতে হলে অবশ্যই এইচটিএমএল, সিএসএস, পিএইচপি, জাভাস্ক্রিপ্ট, জেকোয়ারি, মাইএসকিউএলসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় ভালোভাবে জানতে হবে। তার মানে এ বিষয়গুলোতে দক্ষ হতে পারলেই এ বিশাল সম্ভাবনাময় বাজারে নিজেকে করে তুলতে পারবেন একজন প্রতিষ্ঠিত ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে!

সূত্র: সমকাল

 

Comments

comments

পোস্টটি ৩১৭ বার পঠিত
 ১ টি লাইক
১ টি মন্তব্য