আসুন, আইন নিজের হাতেই তুলে নিই!
লিখেছেন নীলজোসনা, এপ্রিল ১৩, ২০১৬ ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ

neeljosna1

বাসার সামনে প্রমাণ সাইজের ট্র্যান্সফর্মার। একদিন হালকা বৃষ্টিতে থেকে থেকে স্পার্ক হচ্ছে আর ধোঁয়া পাক খেয়ে উঠে আবার হারিয়ে যাচ্ছে। উর্ধ্বশ্বাসে ফায়ার বিগ্রেডে ফোন করলাম

ভাই, আমাদের এখানে একটা ট্র্যান্সফর্মারে খুব স্পার্ক হচ্ছে

আপা, আগুন ধরেছে?

না, এখনও ধরেনি।

তাহলে আপা আমাদের এখনও কিছু করার নাই আগুন ধরলে ফোন করবেন!

বলে আমাকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় আর বাকহারা করে রেখে ফোন কেটে দিলেন তিনি।

 সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো এখন থরথর কাঁপছে, ইস্যু আর পালটা ইস্যুতে চাপাঢাকা পড়ে যাচ্ছে প্রকৃত ইস্যু হবার মত অনেক ঘটনা, অথচ উঠে আসছে ফেনার মত অপ্রয়োজনীয় হালকা কিছু ময়লা। এর মধ্যে খুব গরম আর মুখরোচক ইস্যু হল ‘নারীর অবমাননা’। নারী নির্যাতন ধর্ষণরোধে আমাদের শহুরে নাগরিকদের কর্তব্য হল অকাজটা হওয়া বা আমাদের কানে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা। আর এরপর কোমর বেঁধে কীবোর্ডে রাজা উজির মারা, ফায়ার বিগ্রেডের মত যারা একটু হাত পা নড়াতে চান, আর কিছু করতে না পেরে মানব বন্ধন বা ঘেরাও টাইপের কাজ করেন। কিন্তু ফলাফল? বাহান্ন এখন তিপ্পান্নও আর হচ্ছে না, বাহান্নতেই বহাল থাকছে।  

নারীর প্রতি অসম্মানের মূল কারণগুলো ঘাঁটতে গেলে উঠে আসে মাত্র কয়েকটি উপকরণ। যার বেশিরভাগই সামাজিক, কিছু ব্যক্তিগত। আসুন, এবার আইন আমাদের হাতেই তুলে নিই। সামাজিক বা ব্যক্তির, সমস্যা যারই হোক, একক বা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রুখে দিই অকল্যাণকে। আমরা ঘরের ভেতর থেকে শুরু করে বাইরের অত্যাচারঅবমাননালাঞ্ছনাগুলোকে নিয়ে কথা বলবো।

ধাপ :  প্রথম পদক্ষেপেইনা!’

আপনার চারপাশেই মানুষরুপী কিছু পশু থাকেন, যারা একটি বা অনেকগুলো নারীকে অপমান এমনকি লাঞ্ছিত করতে শুধু আড়ালের পরোয়া করেন। কিন্তু ভুল সবারই হয়। মাঝে মাঝে আড়াল ছাড়াই খোলস ছেড়ে এরা বেরিয়ে যায়। আপনি পা বাড়ান, ঘাড় চেপে ধরুন, বুঝিয়ে দিন, এটি সভ্য জগত।  

কি করবেন? আপনার পাশের বাসায়, বিল্ডিং বা পাড়ায় কেউ স্ত্রীকে, কাজের মেয়েকে অত্যাচার করে, আপনি দরোজা বা জানালা  দিয়ে শুনে মাথা নেড়ে ভুলে যাবেন না। ফোন করে তার সাথে ভদ্রভাবে কথা বলুন, জানিয়ে দিন সে অন্যায় করছে। কিছুদিন দেখুন, স্বভাব না বদলে গেলে পাড়ার কয়েকজন মিলে বুঝিয়ে বলুন। নরম কথায় কাজ না হলে হুমকি দিন। এঁটুলির মত লেগে থাকুন। উপলব্ধিতে না হলেও, লোকলজ্জ্বা বা ভয়েও বদলে যেতে পারে পরিস্থিতি। না, পুলিশের ভয় দেখাবেন না, পুলিশে যাবেনও না। মেশিনগানের যুগে কি আর তলোয়ারের ভয় দেখিয়ে হয়?

একই কথা কর্মক্ষেত্র বা বাসে-দোকানে-রাস্তায়ও। শব্দ করুন, সচকিত করুন পাশের নারীটিকেও। আপনার একটি প্রতিবাদে কোন দুর্বৃত্ত হয়ত একটু ভয়ে পিছিয়ে আসবে, অথবা কোন সুযোগসন্ধানী মন হতদ্যোম হয়ে পড়বে। সবচেয়ে বড় কথা, আরও দশটা মেয়ে শিখে যাবে কি করে শব্দ করে অসম্মানের জবাব দিতে হয়।

একটা গান শুনলাম, গানটা করার কয়েকদিন পরেই এই গানের শিল্পী ডোনা গুপ্তকে খুনের চেষ্টা করা হয় ২০১৪ এর এপ্রিল মাসে কলকাতায় ছাত্রপুলিশের বিক্ষোভে সুদীপ্ত গুপ্ত নামের একজন ছাত্রনেতারে পুলিশ নিজের হেফাজতে নেওয়ার পর সেই নেতা মারা যায় ডোনা সেই ছাত্রনেতার মৃত্যুর প্রত্যক্ষদর্শী আর সাক্ষী ডোনা নিজেই পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। শুনতে পারেনঃ https://goo.gl/ahf8aF

 

দুইঃ মানসিক সহায়তা, পরামর্শ

কাকে? নির্যাতিতাকে। তার সাথে কথা বলুন। তার সমস্যার ধরণ জানুন। তার কোন ভুল হচ্ছে, বুঝলে, তাকেও ভুল ধরিয়ে দিন। পরামর্শ দিন, নিয়মিত যোগাযোগ করুন। আর যদি তিনি একতরফা নির্যাতনের শিকার হোন, তাহলেও তার পাশে থাকুন। বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ থাকলে গুরুজনদের ডাকতে বলুন, আর উপায় না থাকলে, মনে করিয়ে দিন, এই সম্পর্ক রক্তের বাঁধনের মত অটুট নয়। আর যদি গৃহকর্মী বা অন্যান্য সম্পর্কের নারী নির্যাতিতা হয়, তাকে কন্ঠ বলিষ্ঠ করে প্রতিবাদ করতে শেখাতে পারেন। পরিস্থিতি বুঝে প্রতিরোধ করতেও শিখান। মনে রাখবেন, আপনার একদিনের নিরবতা, একটি নিরপরাধ নির্যাতিতার মৃত্যূর কারণ হতে পারে।

 

তিনঃ সামাজিক সুরক্ষা

এটা কি জিনিস? সমাজ কোথায় এখন? সমাজ আজকাল আপনার আমার হাতের তেলোর ময়লার মত, প্রতি মুহূর্তে বদলে যাচ্ছে তার ‘মূল্যমান’, প্রতিদিন একটু একটু করে অভিকর্ষের টানে কিংবা উর্ধ্বগামী হয়ে মিলিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তির কল্যাণে আমরা এখন অতি-সামাজিক, দূরের লোকের হাঁচিকাশির খবর নিই, পাশের বাড়ির লাশের খবর জানতে পাই না। আসুন আমাদের এই শক্তিগুলোকে কাজে লাগাই।

আপনার এলাকায়/ স্কুলে/ কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস বা অন্য যে কোন কর্মক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে বুঝানোর চেষ্টা করুন, ‘জেন্ডার পলিসি’ বা জেন্ডারজনিত সমস্যার সমাধানে আলোচনা-প্রশিক্ষণ-সচেতনতা আয়োজন করতে। এ প্রশিক্ষণ আর দশটা কর্মশালা বা প্রফেশনাল ট্রেনিং এর মতই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে পুরুষরা যেমন নিজের আত্নমর্যাদা নিয়ে ভাবতে এবং কথায়-আচরণে-কাজে তার প্রতিফলন ঘটাতে সমর্থ হবেন, সাথে সাথে নারীদের সহকর্মী হিসেবে সম্মান দিতে শিখবেন, একই সাথে নারীরাও শিখবেন, তাঁর নারীত্ব মোটেই একটি পণ্য নয় যে এর অপব্যবহার-অতিব্যবহার তাঁকে মানব থেকে অবমানবের পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, এবং এই নারীত্বের অসম্মানও একটি বিচার ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আপনার এলাকায় রাস্তায় ছেলেপিলে ভিড় করে, প্রাইভেট টুইশন সেরে রাস্তায় মোবাইল ফোন হাতে সময় কাটায়? পাশের যে কোন একটা গ্যারেজে অল্প কিছু বই নিয়ে ওখানে বসে বই পড়া যাবে এমন ব্যবস্থা করে দিতে পারেন, কিংবা রেখে দিতে পারেন কিছু সাইকেল যেগুলো ভাড়ার বিনময়ে চালাতে পাওয়া যাবে, আর না হয় রাখুন ব্যট-বল। আর তাদের ধীরে ধীরে বুঝিয়ে দিন, বড় হয়ে ওঠার আগে নিজেকে তৈরীর সময় এখনই। আপনি পারছেন না, আপনার কাজে যেতে হয়, সোনালী বিকেলগুলো এভাবে কাটানোর সুযোগ নেই আপনার? একটা ছুটির দিনেই না হয় শুরু করুন, আর বাকি দিনগুলোয় করার ভার দিন বয়ষ্ক কোন উদ্যোমী মানুষকে। বা বাচ্চাদের কোচিং থেকে নিতে আসা কোন অভিভাবককে, কিংবা বাচ্চা বড় হয়েছে দেখে চাকুরী ছেড়ে ঘরে সময় দিতে পারা সেই সাহসী মা’টিকে, যিনি কানে না হোক হাতে ধরে নিজের আর পরের ছেলেমেয়েদের ডুবে যাওয়া থেকে ফিরাতে চেষ্টা করতে পারেন। আজকের পড়ালেখা-এ প্লাস-শাড়ি গয়না-বাড়িগাড়ির আড্ডা থেকেই হয়ত পেয়ে যেতে পারেন এমন কাউকে।  

রাস্তায় আসা-যাওয়ার পথে কিংবা পত্রিকায়, প্রিয় টেলিভিশন শো দেখার মাঝে আপনাকে হজম করতে হচ্ছে অরুচিকর বিজ্ঞাপন? পুরুষ কিংবা নারী শরীরের অতি-প্রদর্শনের মাধ্যমে এ বিজ্ঞাপনগুলোয় মানুষের পেলভিক ক্ষুধাকে খুঁচিয়ে জাগিয়ে দেয়া হয়। এতে বিকৃত রুচির মানুষের রসনা তৃপ্তি আসে, কিন্তু ‘সময়ের আগেই দাঁত উঠে হুমড়ি খেয়ে সে দাঁত ভাঙ্গা’র মতই একই সাথে তৈরী হতে থাকে অকালপক্ক প্রজন্ম, যারা হাতের কলম-ব্যটবল ছেড়ে স্মার্টফোনে বিপরীত লিঙ্গের রহস্য উন্মোচনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। যার ভবিষ্যত ফলাফল কখনই সুখকর হতে পারে না। বাচ্চাদের সাথে কি করবেন, ভেবে বের করুন, নিরবে সময়কে বয়ে যেতে দিয়ে পরে তাদের ওপর বাধ্যবাধকতা চাপিয়ে দেবেন না। আর এই বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধেও শক্ত অবস্থান নিন। পত্রিকায় লিখুন, চলার পথে আলোচনা করুন। আজকাল টেলিভিশনে দেখা প্রায় সব পণ্যের উৎপাদনকারীর নিজস্ব ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেইজ বা কাস্টমার কেয়ারের ফোন নম্বর থাকে। সেখানে আপনার আপত্তির কথা জানান। অন্যদেরও এ কাজ করতে বলুন।  

 

আইনী সহায়তাঃ

নির্যাতনের শিকার নারী শিশুদের আইনগত অধিকার রক্ষায় দেশজুড়ে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে তাদের সর্বোত্তম সেবা দিয়ে যাচ্ছে নির্যাতনের শিকার নারী শিশুদের জন্য বেশ কয়েকটি সহায়ক সংস্থা নাম ঠিকানা তুলে ধরা হলো

১। নারী শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টার, বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ (আইনি, আশ্রয়, কাউন্সেলিং), হেল্পলাইন নম্বর১০৯২১, মহিলা শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

২। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি, বাড়ি নং৪৮/, পশ্চিম আগারগাঁও, ঢাকা। মনিকো মিনা টাওয়ার (২য় তলা), শেরেবাংলা নগর, ঢাকা১২০৭। ফোন: ৯১৩৮৪৫৬, ৯১৪৩২৯৩, হটলাইন: ০১৭১১৮০০৪০১।


৩। বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, কলেজ রোড, শাহবাগ ঢাকা১০০০। ফোন: ৯৫৬৮২২৪, হটলাইন: ০১৭১৬০২০৫০২।
 
৪। অ্যাসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশন, (এএসএফ) (অ্যাসিড আক্রমণের শিকার ব্যক্তিদের জন্য), বাড়ি নং১২, সড়ক২২, ব্লককে, বনানী মডেল টাউন, ঢাকা। ফোন: ৯৮৬২৭৭৪, ৯৮৮০১৪২।

৫। অ্যাসিসট্যান্স ফর স্লাম ডুয়েলার্স (এএসডি), হ্যাপি হোম, বাড়ি১৪৩, রোড, মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটি, মোহাম্মদপুর, ঢাকা, ফোন : ০১৭৪০৫৭৩২২০, ০১৭১৬৯২৬০২৯, ০১৭২৩৪৬৬১২৬।
 
৬। মহিলা সহায়তা কর্মসূচি, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, ৩৭/ ইস্কাটন গার্ডেন রোড, ঢাকা। ফোন: ৯৩৫০৩৯১, ৯৩৬১৪৯২।
 
৭। বাংলাদেশ মহিলা শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নারী শিশু  নির্যাতন প্রতিরোধ সেল। হটলাইন: ০১৭৩০৪৪৩০৫৪, (শিশুদের জন্য) ০১৭৩০৪৪৩০৫২ (নারীদের জন্য)

৮। ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (জরুরি বিভাগ সংলগ্ন) ফোন: ৯৬৬৪৬৯৯।
আইন সালিশ কেন্দ্র, /১৭, ব্লকবি, লালমাটিয়া, ঢাকা১২০৭, ফোন: ৮১২৬১৩৪, ৮১২৬০৪৭।
 
৯। আশ্রয়কেন্দ্র, ঢাকা আহছানিয়া মিশন শেল্টার হোম (পাচার এবং পারিবারিক নির্যাতনের শিকার)
বেকুটিয়া বাজার, বেকুটিয়া, যশোর। ফোন: ০১৭২৬৮২৮৭৭৩।

১০। অ্যাকশন অন ডিসএবল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এডিডি), প্রতিবন্ধীদের জন্য সহায়তা, বাড়ি : ৫৬, রোড১১, ব্লকসি, বনানী, ঢাকা। ফোন: ৯৮৬২৫৫৪।

১১। শিশুপল্লী প্লাস, (বাচ্চাসহ মায়ের আশ্রয়কেন্দ্র), বাসা২০, রোড১৭ নিকুঞ্জ, ঢাকা১২২৯। ফোন: ৮৯৫৩৩০৮।
ফ্যামিলি ফর চিলড্রেন, বাড়ি, রোড১০, সেকশন, উত্তরা, ঢাকা। ফোন: ৮৯১৮১৯৭, ৮৯১৮১৯৮।

 

চারঃ ব্যক্তি স্বাধীনতা বনাম সাবধানতা

লক্ষ্য করে দেখবেন, আজকের মিশ্র এবং সদা পরিবর্তনশীল সমাজ ব্যবস্থায় আইন কাজ করে খুবই মোটাদাগে। কাউকে খুন করে না ফেললে অপরাধী হয়না, তার আগে পর্যন্ত আইন আপনাকে ছুঁতে না পারার ব্যবস্থা করা যায় খুব সস্তায় এবং সহজে। এক্ষেত্রে জুতা না পরে রাস্তায় বের হয়ে রাস্তার কাদামাটির বিরুদ্ধে আপত্তি জানানো খুবই হাস্যকর। আপনার ব্যক্তিস্বাধীনতা রয়েছে, কিন্তু সেজন্য অন্য কারো আজকের বা আগামীর নিরাপত্তা, স্বাতন্ত্র্য বা রুচি বা আদর্শ আঘাতপ্রাপ্ত যেন না হয়, সে খেয়াল রাখাই হল মানুষের সভ্যতার লক্ষণ। বাসে-পথে-ঘাটে আপনি যেদিকে ইচ্ছে তাকাতে পারেন, যা ইচ্ছে পরে দেখাতে পারেন আপনার রুচিবোধ অনুযায়ী। কিন্তু আপনার করা অন্যায়টি একসময় গিয়ে সমাজের সবচেয়ে অরক্ষিত দূর্বল জায়গাটিতে আঘাত হানছে কি না, সেটিও আপনিই খেয়াল রাখতে হবে। চাইকি এজন্য আপনাকে বদলে নিতে হতে পারে আপনার ছোঁকছোঁক করতে থাকা হাত-চোখের বদভ্যাস, কিংবা ওয়ারড্রোব কালেকশন।  

পারিবারিক বা সামাজিক সমস্যাগুলো যখন অত্যাচারের দিকে মোড় নেয়, আমরা তখন সহনশীলতা দেখাই। আমরা ভাবি, ‘লোকটা ভালো হয়ে যাবে,’ ‘মহিলারও দোষ আছে,’ বা ‘এই কাজের মেয়েদের জাতই এমন, এদের মারের ওপর না রাখলে বেয়াড়া হয়ে পড়ে।’ আর সে সুযোগে আস্তে আস্তে পরদার আড়ালে তৈরী হতে থাকে আরও একটি খবর, রগরগে রঙ্গিন সংবাদ। যে খবর বেশ কয়েকদিন মাইক্রোফোন বা ক্যমেরা হাতে লোকগুলোকে ব্যস্ত রাখে, কিন্তু আস্তে আস্তে উস্কে দেয় কুশিক্ষিত বা অশিক্ষিত লোকদের সাহসকে।

আসুন, যেখানেই আছি, কথা বলি, শব্দ করি, সময় দিই, প্রতিরোধ করি জোরালোভাবে। না হয়, একদিন সমস্ত সভ্যতার কাছে ‘মৌন মিছিল’ ছাড়া আর কোন ভাষা রেখে যেতে পারবো না।

 

 

পোস্টটি ৬৯১ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
০ টি মন্তব্য

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.