আমাদের কোন বউ ছিলো না!
লিখেছেন নীলজোসনা, মে ১০, ২০১৬ ১:৩০ পূর্বাহ্ণ

‘বউ’ – খুব মিষ্টি একটা শব্দ। বিশেষ করে বিয়ের আগে, ছেলে মেয়ে উভয়েই আয়নায় নিজের পাশে কল্পনা করে এক কাল্পনিক অস্তিত্বকে, যার নাম ‘জীবনসংগী’।
মেয়েদের ক্ষেত্রে এ কল্পনা কাল্পনিকই বটে। আর বিশেষ করে বাঙালি মেয়ের জন্য এটা ক্রেডিট কার্ডের একাউন্ট। মেয়েটি শৈশব থেকে প্রস্তুত হয়, কোন এক নাম না জানা, অচেনা মানুষের জন্য। যে তার ‘রৌদ্র রুদ্র রবি’ হবে, মনের গহীনে লুকানো দুরন্ত ইচ্ছা সত্যি করে দেবে, ছুঁয়ে যাবে না পাওয়ার সবগুলো ঘর। আর সে তার আজন্ম-সঞ্চিত সুধায় ভরে দেবে সেই ‘আকুলে নিদাঘ তিয়াসা’ নিয়ে অপেক্ষা করে থাকা মানুষের হৃদয়।
ছেলেদেরও তাই, তবে কি না এক্ষেত্রে অভাবগুলো বড় বেশী দৃশ্যমান, বস্তুগত। সে কথা থাক(রাস্তাটা বিপদজনক লাগছে, আর না এগোই)।

এবার বাস্তবে আসি। কোথায় কবে একটা ফিল্মের অল্প একটু জায়গা দেখে ভারি ভালো লেগেছিলো। নতুন বিয়ের পর স্বামীপ্রবর টিফিনবক্সে খাবার নিয়ে অফিস যাচ্ছেন, দুই হাতে করে মহামূল্যবান ধনরত্ন নিয়ে যাবার মত করে, আর ভাবগাম্ভীর্য ভুলে লাফ ঝাঁপ দিয়ে ফেলছেন ক্ষণে ক্ষণে। আহা, যেন বিয়ে হওয়া মাত্রই নতুন আসা মেয়েটি জীবনসংগীর সব দায়িত্ব বুঝে নিবেন, আর তিনি হাঁপ ছেড়ে বাঁচবেন। না না, দায়িত্ব পুরুষটিও নেবেন তো। তবে সেক্ষেত্রে ব্যপার আছে দুইটা।এক, শ্রমবিভাগ অত্যন্ত কার্যকরী বিষয়, আর দুই,সে দায়িত্বগুলো সবই বস্তুগত। বাঙালির ছেলেকে আশৈশব ‘পুরুষ’ হিসেবেই বড় করে তোলা হয়। তাকে জানানো হয় সে ‘পেতে’ এসেছে, এবং সেজন্য তাকে ফিচকে কাঁদলে চলবে না, হুংকার দিতে হবে। আশার কথা একটাই এই সব প্রশিক্ষণের মাঝ দিয়েও কিছু পুরুষ ‘মানুষ’ হয়েই বড় হন, যাঁদের সংখ্যাও নিতান্ত কম নয়।

একই আতুড়ঘরে জন্মে, একই কোলে হাত পা ছুঁড়ে একজন বড় হয় সেবা দিতে, আর একজন সে সেবা চাইতে, নির্দ্বিধায়, নিঃসংকোচে। ব্যাপারটা এ পর্যন্ত বেশ মধুর, অন্তত শুনতে তাই লাগে। অনেক সময়ই অনেক স্ত্রী গর্ব করে বলেন, ‘ও তো নিজের কাপড়টা ভাঁজও করে না’। কিংবা স্বামী বড়াই করেন, ‘আপনার ভাবী তো, বাড়ির গোড়া থেকে ধনেপাতাও কেনে না’। শুনলেই ভালোবাসাময় কিছু সম্পর্কের কথা ভাবতে ইচ্ছা করে।

সমস্যা হয় তখন, যখন এ সমাজে বড় হওয়া কোন স্বামী বা স্ত্রী তাঁর চাহিদা, স্বপ্ন কিংবা আশানুরূপ আচরণ পান না। মেয়েরা, শতকরা আশি ভাগ ক্ষেত্রেই মানিয়ে নেন, কারণ শতকরা একশ ভাগ ক্ষেত্রেই মুরুব্বীরা মেয়েটিকেই বলেন, ‘মানিয়ে নে না! সংসার সুখের হয়.. ‘ইত্যাদি।
আর পুরুষ? স্ত্রীর কোন খুঁত, অপারগতা, দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতা কিংবা চুড়ান্তক্ষেত্রে দ্বিচারিতার অভিযোগ শোনা মাত্রই ভাবা হয়, ‘আমাদের ছেলেকে আরেকবার বিয়ে করাবো,এমন কি বয়স হয়েছে?’ শুধু ‘চুল কডা পাহে গ্যাছে বাতাসে!’
‘পুরুষ মানুষ’এর রাগ আছে-চন্ডাল সে রাগ, তাদের ক্ষোভ দুঃখ আছে, কাজের জায়গায় কারো ওপর রাগ আছে, কাজের শেষে ক্ষুধা আছে, হাতে কাউকে পেটানোর নিশপিশ ইচ্ছা আছে, আর ঘরে আছে স্ত্রী, শক এবজরভার। সব ঝাড়া যাবে এখানে এসে, সব। শুধু একটু বুঝে নিতে হবে, তাঁর শক এবজরভারের ব্রান্ডখানা কি, টয়োটা না বিএমডব্লিউর, ব্যাস। এইবার তার কাঁধে ভর দিয়ে একজীবন পার করে দেয়া। সমস্যা হলে? বকে ঝাড় করো বা বদলাও, বাঁধা নেই। আর স্ত্রীটি, একই রকম হাত-মাথা-যোগ্যতা নিয়েও ওই বকাঝকা কিংবা বদলানোর ভয়ে চুপ। কেন? ‘তাঁদের বউ ছিলো না যে?’

আবারও বলি, এই সব ধরণের মানুষের মধ্যেই ব্যতিক্রম আছে। সম্ভবত এজন্যই, এখনও বৃষ্টি হয়, ফুল ফোটে কারও প্রিয়ার খোঁপায় জড়ানো হবে বলে, সত্যিকারের বাবা আর মায়ের কোলে বেড়ে ওঠে একজন দুজন ভবিষ্যতের কাণ্ডারি।

পোস্টটি ১৪৬৪ বার পঠিত
 ২ টি লাইক
৪ টি মন্তব্য
৪ টি মন্তব্য করা হয়েছে
  1. অসাধারণ লেখনী !! ছলনাময়ী কেন নারীকেই বোঝানো হয় ?… তারা কি ছলনা জানেনা!!

    • আপনাকে ধন্যবাদ।
      ছলনা মানে কি? মিথ্যা না বলে সত্যকে ঘুরিয়ে বলাই তো? আমার জানামতে, পুরুষ এই হিসেবে চলে না। নারীকে চলতে হয়, কারণ নারীর বৈচিত্র্যের দাবীই সেটা। আর ছলনাময়ীদের তো পুরুষই পছন্দ করেন, না? হুংকারে, অধিকারে, মত্ততায় নারীকে ছলনা করতে বাধ্যও করেন

  2. আপনার লেখা টি নির্লজ্য এক পেশী, এখানে দোষ শুধু পুরুষের সেটাই বুঝিয়েছেন। নারীরা দুধে ধোয়া তুলশি পাতা।একটা কর্মজীবী পুরুষ সারা দিন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম যে কত সুখের তা আপনাদের মত নারীদের চোখে পড়ে না। আপনারা শুধু আপনাদের প্রয়োজন টিই বুঝেন। এক জন সারা দিন অক্লান্ত পরীশ্রম শেষে যখন একটু বিশ্রামের জন্য বাসায় ফিরে তখন কোন মেয়ে বা ঘরের বউ নিযের বিলাসিতার জন্য কানের কাছে ঘেন ঘেন শুরু করে তখন মনে হয় না সে স্বামীর সুখ শান্তি চায়!! কারন তা চাইলে থাকে একটু বিশ্রাম দিত সময় দিত জানতে চাইত তুমি কি ক্লান্ত, কোন সমস্যা হয়েছে অফিসে? না তা করবে না, সারা দিন বাসায় বসে গল্প গুজব করে সময় কাটে না আর পাসের বাসার কোন ভাবি কি কিনেছে তারও তাই এনে দিতে হবে এসব বায়না না আনতে পারলে ঝগড়া। এসময় এক জন পুরুষের মেজায কেমন থাকে এটা কেবল পুরুষেই বুঝে।

  3. আরেকটু ভাল হতে পারত..

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.