কচিকাঁচাগুলো ডাঁটো করে তুলি – ১
লিখেছেন নীলজোসনা, অক্টোবর ৮, ২০১৭ ১:৪৮ অপরাহ্ণ

 

ছোট্ট কিছু ভাবনা এসেছিলো মাথায়। লিখে ফেললাম…

১। আমার কাছে মনে হয় আমাদের দেশে ছেলেমেয়েদের বড় করার সময় তাদের পেট ভরা নিয়ে বাবামা যতটা সচেতন থাকেন, ওদের মনে কি আছে, ওরা কি ভাবছে সেসব নিয়ে ততটা সচেতন থাকেন না।

২। মোটামুটি বারো বছর বয়েসেই বাচ্চাকে মা অথবা বাবা বা বড় ভাইবোনের মুখ থেকে নিজের শারীরিক পরিবর্তন, এমনকি অন্য লিংগের কি হয়, এর পেছনের কারণ, জানানো উচিত। ঠিক পড়ছেন, প্রজনন কি কিভাবে কেন, ভার্জিনিটি সবার জন্য, সব আপনার মুখ থেকে জানা উচিত। বন্ধুবান্ধব, বাসার বুয়া, ঠাট্টাবাজ আত্নীয়দের কাছ থেকে জানার আগেই। ব্যপারগুলা সাবধানে বলা উচিত, হায়া রেখেই। এজন্যই বাবামা বলা দরকার, কারণ উনারাই বাচ্চার সামনে এসবের রোল মডেল। বাবামা যেভাবে বলবেন, আর কেউ সেভাবে বলবে না।

৩। বয়স পনরর কাছাকাছি হলে বিয়েশাদী, পরিবার নিয়ে বাচ্চার সাথে খোলাখুলি সিরিয়াস আলাপ করা প্রয়োজন। দয়া করে এ আলোচনা বন্ধ করবেন না। এবং তার প্রশ্নের নিরপেক্ষ ও সুচিন্তিত জবাব দিন।

৪। জীবনসংগী কি? কেন লাগে? কি দেখে যাচাই করেছিলেন আপনি নিজে? সেটা ঠিক ছিলো? বাচ্চার সাথে বলেন। সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলবেন। কোন আত্নীয়কে ওর চোখে খারাপ করবেন না। প্রয়োজনে নাম গোপন রেখেই বলুন।

৫। প্রেফারেন্স। কি চাই আমরা? কখন কোনটা আগে চাইতে হয়, জানান। কারণ পৃথিবীতে কেউওই ‘সব’ পায় না, পাবেও না। আবার যে সব পায়, সে একেবারে একসাথেই পায় না। তাই নিজের চাওয়া, এবং আসলে উচিত কোনটা, কখন কিসের জন্য চেষ্টা করতে হবে, এইসব নিয়ে কথা বলা উচিত। খুব ভালো হয়, যদি আলোচনার ক্ষেত্র করে দেয়া যায়, যেন বাচ্চারা বা বড়রা নিজেরাই জেনে নিতে আসে। উপদেশের বোঝা চাপিয়ে দেয়ার চেয়ে ক্ষুধা লাগিয়ে খাবার দেয়ানো উত্তম।

৬। সিদ্ধান্ত নিতে শেখানোটা অনেক দরকারি। পরামর্শ নেয়া যায় অনেকের থেকে। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হয়। কিন্তু সিদ্ধান্তটা নিজেই নেয়া, সেটার ওপর অটল থাকা, বদলাতে হলে বুঝেশুঝে বদলানো, যেন কাউকে দোষারোপ করতে না হয়, এইসবই যথাযথ ব্যক্তিত্বের লক্ষণ। এই ব্যপারটা ছেলেমেয়ে উভয়কেই খুব সচেতনভাবে শিখানো এবং চর্চা করানো উচিত।

৭। নিজের শরীরের যত্ন নেয়া, নিজের সহায় সম্পত্তি, সে যত অল্পই হোক না কেন, গুছিয়ে ব্যবহার করতে পারাটা অনেক বড় একটা অভ্যাস। একটা সময়ে এটা যোগ্যতাও হয়ে দাঁড়ায়। এজন্য ব্যাটালিয়ন লাগে না, দিনের অল্প একটুখানি সময়ই যথেষ্ট।

৮। যে কোন মুহূর্তে, দুই বা ততোধিক পক্ষের গোলমালে, কখনওই, কখনওই সব পক্ষের কথা না শুনে, এমনকি কোন মন্তব্যও না করা। সব শুনলেও, সম্ভব হলে, মন্তব্য করার আগে একটু সময় নেয়া।

৯। ডাক্তার বা উকিল ছাড়াও, কখনও কখনও কাউকে সব লুকানো কথা বলে ফেলতে ইচ্ছা করে। ক্ষেত্রবিশেষে এটা খুব ভালো কাজও দেয়।একটাই ব্যপার শুধু। মানুষ চেনার দরকার নাই, অন্তত আমার মাথায় হাত রাখার যোগ্যতা সে মানুষটার আছে নাকি দেখে নেয়া দরকার। কিভাবে? জানিনা। এর কোন সেট রুল নাই।

১০। মানুষ মনের মধ্যে লুকানো কথা বিপরীত লিঙ্গের কাছে বলতে বেশি আগ্রহী হয় কেন? অনেক কারণ আছে। একটাই বলবো। যে মানুষটা বিপরীত লিঙ্গের কাছে কোন কষ্ট পেয়েছেন, সেই একই আয়নায় আবার নিজেকে দেখতে চান। সুতরাং, যারা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন, তাদের বিরক্তি আসলেও বিপরীত লিঙ্গের দেয়া বোঝাগুলো এড়িয়ে না গিয়ে সচেতনভাবে এবং সাধ্যমতো সহায়তা দেয়া প্রয়োজন।

একেবারেই নিজস্ব মতামত। মতামতের জন্য আমি ছাড়া আর কেউ দায়ী না।

পোস্টটি ৩৫৫ বার পঠিত
 ৩ টি লাইক
৬ টি মন্তব্য

Leave a Reply

6 Comments on "কচিকাঁচাগুলো ডাঁটো করে তুলি – ১"

Notify of
Sort by:   newest | oldest | most voted
Aklima Ferdushi
Member

লেখাটি খুব ভালো হয়েছে।

রৌদ্রের গান
Member

প্রতিটা পয়েন্টই খুব গুরুত্বপূর্ণ। লেখককে ধন্যবাদ। :) :-)

লাল নীল বেগুনী
Member

সব পর্ব পড়ে তারপর আসছি…

পি
Member

১০ নং পয়েন্ট বুঝলাম না ঠিক !

wpDiscuz