করূণা
লিখেছেন নাসরিন সিমা, মার্চ ৯, ২০১৪ ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ

আমার ঘর থেকে একটু দুরে রেললাইন। প্রতিদিন একটু পরপর ঝকঝক শব্দে চারপাশে অস্থির ভাব ছড়িয়ে চলে যায়। আমি দুর থেকে দেখি, দেখে মনে হয় যেন ওটা ট্রেণ নয় সাপের ছদ্মবেশ। আৎকে উঠি, মাথার চারপাশে সাপ যেন কিলবিল করে ভয়ে এতটুকু হয়ে ঘরে ঢুকি, কিন্তু ঘরটাতেতো কেউ নেই আর আমি ছাড়া, যাকে অবলম্বন করে ভয়কে জয় করবো। জানালার চৌকাঠে থুতনি রাখি আর মিলিয়ে যায় আগের সমস্ত স্মৃতি সব কেমন ঝাপসা, আর কুয়াশাচ্ছন্ন। ভাবি, কেউ কী কখনো আমার পাশে ছিলো?  কোন মানুষের মুখ দেখতে পাইনা শুধু সাপ আর সাপ, মানুষ কী করে সাপ হয়ে যায় বুঝিনা।

ঐ যে আবারো ট্রেন যায়, ট্রেনের নিচে কত মহিলাইতো নিজেকে শেষ করে দিলো, আমি দেখেছি, কিন্তু বাধা দেইনি, ওদের মুক্তির পথে বাধা হতে চাইনি বলে। কেউ স্বামীর পরকীয়া মেনে নিতে পারেনি বলে, কেউবা শশুর বাড়ীর অত্যাচার সহ্য করতে পারেনি তাই, এমনকী ছেলে ছেলের বউয়ের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে মায়ের আত্মহত্যা……

আমি এখানে হাসি, অট্টহাসিতে কখনো কখনো মুর্ছা যাই, এখানেই কাঁদি কখনো কখনো, সারা দিনরাত কাঁদি। কেউতো নেই অশ্রু মুছে কান্না বন্ধ করতে বলার! আমিওতো গিয়েছিলাম রেললাইনে, শুয়েছিলাম, ট্রেনের নিচে নিজের মুক্তির পথ খুঁজতে। পারিনি। এ সমাজ আমার মরার অধিকারটুকুও যেন কেড়ে নিয়েছে। ওরা বোঝেনা নারীও মানুষ, খুব সুন্দরী একজন নারীকে ওরা নিজেদের ভোগের সামগ্রী মনে করে,লোভের দৃষ্টি দিয়ে নিজেদের খায়েশ মেটানোর চেষ্টা করে। একথা ওরা বোঝেনা, নারী কোন সামগ্রী নয়, নারীও মানুষ……

(মানসিক বিকারগ্রস্ত নারীর আত্মকথা)

পোস্টটি ৩৫৫ বার পঠিত
 ৩ টি লাইক
৪ টি মন্তব্য
৪ টি মন্তব্য করা হয়েছে
  1. মানুসিক বিকার গ্রস্থ!! :O

  2. “কিছুটা অগোছালো টাইপের।”— লেখকরা একটু অগোছালেই হয়। :-)

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.