করুণা
লিখেছেন নাসরিন সিমা, মার্চ ১৭, ২০১৪ ১১:১০ পূর্বাহ্ণ

পর্ব-৮

ডায়েরীর দীর্ঘ সময় ধরে লেখা পাতাগুলো অনেকদিনের পুরনো, নির্জণে অশ্রু ঝড়ানোর কিছু কিছু ছাপ যেন আজও লেগে আছে, ডায়েরীর পাতাগুলোতে। ছোট্ট চারটি হাত সে ডায়েরীর রক্ষণাবেক্ষণ শুরু করেছে। মানুষর জীবন যুদ্ধের খানিকটা অংশ জুড়ে এই ডায়েরী মহামূল্যবান ভূমিকা রেখে আসছে, সেই সাথে একই তালে কলমও। মিতালীর ডায়েরী মৌমিতা, মাঈশার কৌতূহলের বিশাল অংশ জুড়ে। মিতালীকে সাহানা খন্দকার নিজ হাতে খাইয়ে দিয়েছে, ঘুমিয়ে দিয়ে, নিজেও সেখানেই ঘুমাবে বলে দিয়েছে। ওরা পড়াশুনা শেষ করে, খেয়ে নিয়েছে।  ডায়েরী হাতে মৌমিতা, মাঈশা ও চোখ রেখেছে ডায়েরীতে,

২৭শে ফেব্রুয়ারী ২০০০।

বাসায় ঢোকার সাথে সাথে যেন হুলুস্থুল কারবার শুরু হলো, মা আর সাহানাতো আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেই ফেললো, বাবা আমার কপালে চুমু দিয়ে বললেন,

-তোমার পুরস্কার এসেছে, বাংলা একাডেমী থেকে তোমার নামের ক্রেষ্ট!

আমি আনিসর দিকে তাকালাম, ততোক্ষণে মা আর সাহানা আনিসের যত্ন আত্তিতে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে। আমার রুমটাতে ওকে নিয়ে গেছে সাহানা। আনিস আমার হাতে ক্রেস্ট দেখে কোনরকম প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেনি। সেদিনই শশুর বাড়ীতে ফিরতে হয়েছে, কারণ ওর বাবা জানলে নাকী আর কোনদিন বাড়িতে ঢুকতে পারবেনা ও।

২রা মার্চ ২০০০।

আনিস আমার সমস্ত কবিতা, গল্প  পড়ে শেষ করেছে, অফিস থেকে ফিরে ড্রেস চেন্জ করার সময় আমাকে বললো,

-আমাকে তুমি খুব ভালোবাসো তাইনা মোহনা?

আমি সরল হেসে বললাম,

-হ্যা তোমার কী কোন সন্দেহ আছে?

-না নেই, তাহলে আমার একটা কথা রাখতে হবে!

-হ্যা বলো!

-তুমি আর লেখালেখি করবেনা, আমি বা আমার পরিবারর কেউ এসব পছন্দ করেনা!

আমি যেন আকাশ থেকে পরলাম, কিছুতেই চোখের জলকে সামলাতে পারলামনা, আনিস আরো রেগে গিয়ে বললো,

-আমি প্রায়দিনই দেখছি তুমি একটুতেই কেঁদে ফেলো, তোমার লেখাগুোকী আমার থেকেও প্রিয়?

আমি মুখ ঘুরিয়ে অশ্রু মুছে ফেললাম, দৃঢ় কন্ঠে বললাম,

-না… তোমার চেয়ে প্রিয় হতে যাবে কেন! তবে আমার নিজের চেয়েও অনেক বেশী প্রিয়! আমি তোমার এই কথাটা রাখতে পারবোনা!

আনিস আমাকে বললো রাগান্মিত কন্ঠ ওর ,

– তোমার লেখাগুলো কাকে নিয়ে বলোতো?

আমি আশ্চর্যান্মিত হলাম,

-তুমি কী মিন করে চাও!

-বোঝনা? না? ………

আনিস বেরিয়ে যায়।

৩০ মার্চ ২০০০।

অনেকদিন ডায়েরী লেখা হয়না,কি জানি লিখতে বসলে কোন লেখা মাথায় আসেনা। সেদিনের পর থেকে আনিস আমার সাথে ঠিকমতো কথা বলেনা । আমি বুঝতে পারছি আমার ভেতরে নতুন এক স্বত্তার জন্ম হয়েছে! যে জন্য আমি ঠিকমতো খেতে পারছিনা! আনিসকে জানালে ও বললো, মেয়ে হওয়া হইলে ওকে তোমার বাবার বাড়ি রেে আসবে আর ছেলে হলে ভালো, আমাদের বংশে প্রত্যেকের প্রথম সন্তান ছেলে! আমার হাসিমুখ কালো হয়ে যায় ওর পাশ থেকে সরে যাই কিজানি হঠাৎই ওর শরীরের গন্ধে আমার বমি চলে এসেছে! রাত্রি বেলা আমার ঘরে একটা সাপ ঢুকেছিলো……… অনেক বিষাক্ত মনে হয়েছিলো, আমি দৌড়ে রান্নাঘরে শাশুড়ী মায়ের কাছে চলে গিয়েছিলাম, শাশুড়ী মা ধমক দিয়ে বললেন,

-বাড়ির বউদের দৌড়াদৌড়ী ভালো দেখায়না! চলবে…………

পোস্টটি ২৬২ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
১ টি মন্তব্য
একটি মন্তব্য করা হয়েছে
  1. লগইন করার ইচ্ছে ছিলোনা, কিন্তু না করে পারলামনা। সত্যিই এই ধরণের বাস্তবতাগুলো মেনে নেয়া কষ্টের। পরের পর্বের অপেক্ষায়………

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.