(রাহীর হাসিমুখটা ধীরে ধীরে কালো হয়ে গেলো)
লিখেছেন নাসরিন সিমা, মার্চ ৭, ২০১৫ ৩:১১ অপরাহ্ণ

 

সময়ের পরিক্রমায় ওকে বাস্তবতাটাকে শোনানোর চেষ্টা করছি, বোঝানোর চেষ্টা করছি। আমার শুধুই মনে হয় আমি যখন থাকবোনা তখন? পৃথিবীর নিষ্ঠুর বাস্তবতা আমাকে সবসময় এই কথাটা স্মরণ করিয়ে দেয় আমি যদি এখন মারা যাই ও এই কঠিন সত্যটাকে কী করে মানতে পারবে? আমি অনেক মানুষকেই বলতে শুনেছি আমার ছেলে বা মেয়ে চিকেন ছাড়া খাবেইনা, একবেলাও না। বড্ড আহলাদীপনা কাজ করে এই সেনটেন্সটাতে! কেন খাবেনা? কারণ আপনি তাতেই সায় দিয়েছেন। তাদেরকে খুব করে বলতে ইচ্ছে করে আপনার সন্তানকে আপনি অবশ্যই খুব যত্ন করে খাওয়াবেন, সর্বোচ্চ যত্ন,যেন আপনার হাতের আলু ভর্তা ভাতটাই তাঁর কাছে অমৃত মনে হয়। কারণ আপনি মানুষ, রোবট নন আপনার শরীর অসুস্থ থাকতে পারে, প্রতিদিন চিকেন রান্না করার এনার্জী আপনি হারিয়ে ফেলতে পারেন। সেসময় ঐ সন্তান আপনার কষ্ট বুঝবেনা, কারণ চিকেন ছাড়া যে সে খায়না, তাকে আপনার ওটাই দিতে হবে। আর আপনি যখন থাকবেননা, তখন সেই চিকেন রান্নার ভার কার হাতে যাবে ভাবতে পারছেন? আর সেই ভার কী আদৌ কেউ নিতে চাইবে? তখন কী করবে আপনার সন্তান?

রাহী শুক্রবার বিকেলে খুব হাসিমুখে বললো
-মামনি আমি পাঁচ তারিখে সামীকে (বন্ধু) আসতে বলেছি।
-কেন বলেছো?
-তুমি ভূলে গেছো আমার জন্মদিন না? ওকে কেক খাওয়াবো!
ওর মুখমন্ডলের উচ্ছলতা আমার মনটাকে বারবার বাধা দিচ্ছিলো কিছু বলতে, হাসিমুখটায় যেন পুরো পৃথিবীর আলো নেমে এসেছিলো!
আমি বললাম,
-কেক কারা কাটে ভূলে গেছো?
-কারা?
-খৃষ্টানরা, এটাতো মুসলিমরা করেনা, তুমি কী মুসলিম না?
আমার দিকে তাকালো ও, মুখটা অন্ধকার হয়ে গেছে,
-সরি মাম্মা! (সরি বলার সময় বা অত্যধিক আহলাদের সময় মাম্মা বলে)
দ্রুত অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে নিলো, বুঝলাম ওর কান্না চলে এসেছে, তখন কাছে নিয়ে আদর করে দিলাম। অন্যদিকে মনোযোগ ঘুরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলাম।

প্রাত্যহিক জীবনে বিভিন্ন আকর্ষণ বাচ্চাদেরকে খুব টানে, আপনি যদি বলেন ওতো বাচ্চা, থাক পরে বুঝাই। এই পরে বুঝানোটা কোনদিনই হবেনা, কারণ আপনার সন্তান আপনার কাছে ছোটটিই থেকে যাবে, হয়তো আপনি চলে যাবেন ওপারে তাকে না বুঝিয়েই, আর তখন সে একটার পর একটা আকর্ষণীয় কাজগুলো করেই যাবে, আর আসল ফলাফলের খাতাটা ভরে যাবে অন্যায় দিয়ে, আপনিও মরে গিয়েও শান্তি পাবেননা ঐ সন্তানের জন্য। কারণ প্রতিটা গুণাহের ভাগ আপনার কবরে যাবে। এই ব্যাপারগুলো আমাদের মাথায় রাখাটা অত্যন্ত জরুরী বলে আমার মনে হয়।

পোস্টটি ৩৫৭ বার পঠিত
 ১ টি লাইক
০ টি মন্তব্য

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.