মল্লিকা
লিখেছেন নাসরিন সিমা, এপ্রিল ২৬, ২০১৪ ৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ

খুব গল্প করতাম মল্লিকা নামের এক মেয়ের সাথে। এক সাথেই ইন্টারমিডিয়েট পড়তাম, যদিও একই কলেজে না। মামা ওদের বাসায় ভাড়া থাকতেন, আর আমি মামার ওখানে থেকেই ক্লাস করতাম। প্রায় প্রতিদিন বিকেলে খোলা রাস্তায় দুজন হাঁটতাম, কতো গল্প করতাম। গল্পের শেষ নেই যেন! যাকে বলে বকবক আরকী! ও খুব সাজগোজ আর ফিটফাট থাকতে পছন্দ করতো, গোছল করতো প্রায় আধাঘন্টা ধরে, আমাকেও তাকিদ দিতো, বলতো এভাবে সময় নষ্ট করোনা, নিজের যত্ন নাও। কে শোনে কার কথা দুষ্টুমী করে বলতাম আমি ফিটফাট থাকলে তোমার দিকে কেউ তাকাবেনা! খুব হাসতাম দুজনে এইসব বলে। আমার স্বপ্ন ছিলো বর যেন খুব ভালো হয়। আর ওর স্বপ্ন ছিলো, ওর বর অনেক বড় ব্যাবসায়ী হবে, ও সপ্তাহে দুদিন পার্লারে যাবে। আমি ওর এসব কথায় উল্টো বলতাম তুমি কিন্তু মেকী হয়ে যাবা। ও যুক্তি দেখিয়ে বলতো হাজব্যান্ডরা সবসময় বাইরে থেকে ফিরে বউকে সুন্দর দেখতে চায় বিশেষ করে যে হাজব্যান্ডরা নিজেরা সুন্দর হয়, কারণ বাইরে তো অনেক সুন্দরী মেয়েদেরকে দেখে আসে তাইনা? আমি অবাক হয়ে শুনতাম, শুধু ও কেন মুরুব্বীরাও এসব বলতেন। আমি ভাবতাম যাহ আমার বুঝি আর সুন্দর বর পাওয়া হবেনা, মনটা একটু খারাপই হতো। এরপর আমার বিয়ে ঠিক হয়ে যায়, তখন আমার ইয়ার চেন্জ পরীক্ষা হচ্ছিলো, পরীক্ষার মধ্যেই বিয়ে। অবশ্য বরটা খুব একটা সুন্দর না:P তবে খুব ভালো। আজ অব্দি নিজের সৌন্দর্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে বসতে হয়নি, শুকরিয়া জানাই আল্লাহর দরবারে। আমার বিয়ের দুবছর পর মল্লিকার বিয়ে হয়, ও যেমন চেয়েছিলো ঠিক তেমনি। আমি খুশিই হয়েছিলাম ওর ইচ্ছে পূরণ হওয়ায়, মাঝে মাঝে ফোনে অনেক কথা হতো, আজ ওর বর এই করলো সেই করলো, ও কিছুক্ষণ আগে পার্লার থেকে ফিরলো। ওর চুল ছিলো অনেক সুন্দর, অনেক লম্বা, চুল নিয়ে ওর বর কি বললো না বললো। আমি ওকে একদিন বললাম, সবইতো মনের মতোই হলো, এখন একটু আল্লাহর কাজ মন দাও মল্লিকা, আগেতো বলতা আরো পরে। এ ব্যাপারগুলো ও সবসময় এড়িয়ে যেতো। হঠাৎই একদিন বললো, ওর বেবী হচ্ছেনা ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছে, মন খারাপ হয়ে গেলো আমার, বললাম দ্যাখো, আল্লাহ চাইলে সবই পারেন তুমি প্রাণ খুলে তার কাছে চাও। এরপর বেশ কয়েকমাস ওকে ফোনে পাইনি। একদিন মামার ওখানে গিয়ে দেখলাম মল্লিকা, আগের সেই মল্লিকা আর নেই। খুব কথা বলতো, সে এখন পারলে লুকাবে যেন, আমি ওর রুমে ঢুকে ওর কাছে বসলাম, হালকা কথাদিয়ে শুরু করলাম, ভাইয়া কেমন আছে? কবে আসছ এখানে? ও কেঁদেই ফেললো, বললো সিমা তুমি কিছুই জানোনা? শামীমতো আমাকে ডিভোর্স দিয়েছে। আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম, আমারও কান্না চলে এসেছিলো সেদিন, কিছুক্ষণ কথা বলতে পারিনি ও স্বাভাবিক হয়ে বলছিলো অনেক অনেক কথা। কথাগুলোর সারাংশ হলো, শামীমের আগে যার সাথে সম্পর্ক ছিলো তার সাথে নতুন করে দেখা হওয়ায় মল্লিকাকে ওর বাবার বাড়িতে রেখে যায়, কিন্তু নিয়ে যাওয়ার নাম নেই তিনমাস পর ডিভোর্স পেপার পাঠায়, সাথে বাকী থাকা মোহরানার সবটা। পরে ওকে আমি বলেছিলাম দ্যাখো মল্লিকা, বর খুঁজতে বরের ব্যাবসা, ব্যাংক ব্যালেন্স না দেখে মানুষটা ভালো না খারাপ সেটা দেখতে হয়। মল্লিকা তখন আমাে জড়িয়ে ধরে অনেক্ষণ কেঁদেছিলো, ওর সাথে আমিও। দোয়া করি ও যেন পরবর্তীতে অনেক ভালো একন মানুষকে নিজের সাথী হিসেবে পায়। আমীন।

Comments

comments

পোস্টটি ৩৬২ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
২ টি মন্তব্য