নির্ভরশীলতা
লিখেছেন নাসরিন সিমা, জানুয়ারি ২৮, ২০১৫ ১:২৩ অপরাহ্ণ

th

 

নির্ভরতা শব্দটি মানুষের জীবনের সাথে খুব ঘনিষ্ঠ ভাবে জড়িত। প্রতিটি মানুষ কারো না কারো উপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে। এই নির্ভরতা বলতে শুধুমাত্র ভরণপোষণই বোঝায়না, অনেক কিছু জড়িয়ে থাকে এর ভিতরে। বিশ্বাস, স্নেহ, ভালোবাসা। মানুষ কখনো কখনো শুধুমাত্র একটা কথার উপর নির্ভর করে বহুদিন খুব ভালো থাকতে পারে। জীবনের এই পথটা চলতে চলতে মাঝে মাঝেই বড্ড নির্ভরশীল হয়ে যাই,
মাঝে মাঝে কিছু কথা না শুনলেই নয় এমন একটা ভাব মনের ভেতরটাকে অস্থির করে তোলে। এটাও এক ধরণের নির্ভরতা, আবার আমি কিছু বলবো কেউ কেউ খুব মনোযোগ দিয়ে শুনবে, এই চিন্তাটাও এক ধরনের নির্ভরতা।

পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশী নির্ভরশীল সদ্য ভুমিষ্ঠ শিশু, বৃদ্ধ, আর অসুস্থ ব্যাক্তিরা। শিশুর নির্ভরশীলতা সবচেয়ে বেশী মায়ের দিকে, তার মা তাকে খাওয়াবে, তাকে কোলে নেবে, ঘুম পাড়াবে, আদর করবে শিশু এমনটায় চায়। আমার তিনমাসের ছোট্ট পুচকো বেবীটাও এখন ঠোঁট উল্টিয়ে কাঁদে, বেশীক্ষণ বিছানায় শুইয়ে রাখলে মনটা খারাপ হয়ে যায় তার। কাছে গিয়ে একটু কথা বললে, হাসলে, আদর করে দিলে এতো সুন্দর করে কিছু শব্দ করে যেগুলো কোন মূল্য দিয়ে কিনতে পাওয়া যায়না। এটা শিশুদের নির্ভরতা। কিন্তু এই মোহময়, ভালোবাসাপূর্ণ নির্ভরতাকেও অনেকে নির্দয়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে! কত শত শিশু খুন হচ্ছে বাবা মায়ের হাতেই তার ইয়ত্বা নেই!

আমরা সবাই এক বাক্য জানি যে মা, বাবা নিঃস্বার্থ ভাবে সন্তানকে ভালোবাসে, মানুষ করে, আসলেই কি তাই? ভেবে দেখবেনতো! আমি মা হয়েছি আমি বুঝি। কোন কোন বাবা মা এই ভেবে সন্তানকে বড় করে যে তার সন্তান বড় হয়ে তাদের দেখাশুনা করবে, আবার কেউ কেউ ভাবে রোজগারের কিছু অংশ আমাকে দেবে, কেউবা ভাবে আমরা বৃদ্ধ হয়ে গেলে যত্ন করবে, আর এসব না ভাবলেও এটলিষ্ট এইটুকু ভাবে যে, আমার কথামতো চলবে, আমার মুখ উজ্জ্বল করবে! এগুলোও নির্ভরতা! বাবা মায়ের নির্ভরতা সন্তানের প্রতি। কিন্তু বাবা মায়ের এই ভারটা নেয়া খুব সহজ নয়, কথাটা শুনতে খুব কাঠখোট্টা শুনালেও এটাই সত্য বাবা মায়ের নির্ভরতাকে খুব বেশী পাত্তা দিতে গেলে আমাদের কষ্টই হয়! কত বাবা মা বাধ্য হয়ে বৃদ্ধাশ্রম বেছে নেন তার ইয়ত্তা নেই।

সরকার প্রধাণের প্রতি নির্ভরশীল সাধারণ জনগন। না খেয়ে থাকা মানুষগুলো একটু কর্মসংস্থান একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই আশা করে, ভালো থাকার আশা করে সরকার প্রধাণের সততা আশা করে। আমার দেশের দিকে তাকাই, দেশের সর্বস্ব আজ বিলিন হওয়ার পথে। চারেদিকে অন্যায়, অশান্তি আর বিদঘুটে অবস্থা! বলাই বাহুল্য যে দেশে যখন শাহবাগী কিটদের উদ্ভব ঘটে তখন নির্ভরতাটা শংকায় পরিণত হয়। শাসক হতে হবে উমরের মতো, যে কিনা মদ খাওয়ার জন্য নিজের ছেলে নিজেই বেত্রাঘাত করে ছিলেন এই ভেবে যে অন্য কেউ কম শক্তি প্রয়োগ করবে, পিঠে আটার বস্তা নিয়ে যাবে ক্ষুধার্তের ঘরে, এতকিছু না-ই পারুক অন্তত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা জরুরী। কিন্তু তাও নেই।

এভাবেই কিছু কিছু নির্ভরতাকে দুর্বলতা মনে করে, সেটাকেই পুঁজি করে ইচ্ছামতো ব্যাবহার করা হয়।সরলতা আর নির্ভরতাকে কখনোই দুর্বলতা ভাববেননা। কেউ সরল আচরণ করলে তার সাথে জটিল আচরণ করবেননা, সাবধান থাকবেন যে একজন সরল সোজা মানুষ জটিল হয়ে গেলে তার সাথে আপনি পেরে উঠবেননা। কেউ আপনার প্রতি নির্ভর করলে তার নির্ভরতার মূল্য দিন নয়তো সে যখন আপনাকে ছাড়ায় চলবে তখন আপনার সহ্য হবেনা, বা আপনি যখন নির্ভর করবেন তখন পাত্তা পাবেননা। আপনি কখনোই ভাববেননা যে আমি কারো উপর নির্ভরশীল নই, আপনি আপনার চারপাশের প্রত্যেকের প্রতি কোন না কোনভাবে নির্ভরশীল। একমাত্র আমাদের মালিক,আমাদের রব কারো প্রতি নির্ভরশীল নন।

পোস্টটি ৪২৩ বার পঠিত
 ১ টি লাইক
৮ টি মন্তব্য
৮ টি মন্তব্য করা হয়েছে
  1. টুকরো চিন্তাগুলো ভালো লেগেছে! ওয়েলকাম ব্যাক আপা! পিচ্চী মানিকটাকে আদর দিয়েন

  2. কিন্তু বাবা মায়ের এই ভারটা নেয়া খুব সহজ নয়, কথাটা শুনতে খুব কাঠখোট্টা শুনালেও এটাই সত্য বাবা মায়ের নির্ভরতাকে খুব বেশী পাত্তা দিতে গেলে আমাদের কষ্টই হয়!
    কঠিন সত্যি কথা বলেছেন!! :(

  3. স্টীকি পোষ্টে স্বাগতম আপু। ভাল লিখেছে। :)

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.