দায়বদ্ধতা (১০০ তম লেখা)
লিখেছেন নাসরিন সিমা, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৫ ১০:০১ পূর্বাহ্ণ

10942424_778358718865853_3359992727579716669_n

দায় বদ্ধতা এমনই একটি শব্দ যার কাঠিণ্যতা উপলব্দি করলে মানুষ বিশ্রাম নিতে পারতোনা। মানুষ দায়বদ্ধ তার পরিবার, প্রিয়জন, সমাজ, রাষ্ট্র, সবকিছুর কাছে। যখন লক্ষ্য করছেন আপনার প্রিয়জন অন্যায় কিছু করছে তখন নির্দিধায় আপনি দায়বদ্ধ হয়ে যান ঐ অন্যায় দুর করার জন্য। একজন মানুষ নিজ নিজ জায়গা তেকে দায়িত্বশীল। আপনার পরিবারে আপনার সন্তান যখন সাত বছর পেরিয়ে গেলো তখন আপনি খুব সচেতন হয়ে যদি তাকে নামাজের ব্যাপারে তাকিদ দিতেন তবে সে অন্তত দশ বছরে গিয়ে নামাজ ছাড়ার কথা ভাবতে পারতোনা। ফজরে তাকে ঘুম থেকে উঠাতে আপনার কলিজায় আঘাত লাগে কিন্তু মর্ণিং শিফটের স্কুল কখনো মিস করতে দেননি। এই দায়বদ্ধতা কাটাবেন কি করে?

আপনার পরিবারে সঠিকভাবে ইসলাম মেনে চলা হয়না, কিন্তু সে ব্যাপারে মাথা ঘামাননি কখনোই কিন্তু যখনই সাংসারিক প্রয়োজনের জিনিসগুলো সঠিকভাবে পাচ্ছেননা তখন আপনার কন্ঠ রুদ্ধ করে কে? আপনার মা বোন স্ত্রী যথাযথ পর্দা করেনা সে ব্যাপার আপনাকে ভাবায়না, কিন্তু খাবারে তরকারীতে সামাণ্য লবণ বেশী হয়ে গেলে, একই তরকারী দ্বিতীয়বার প্লেটে পরলে চিৎকার চেচামেচিতে ঘর মাথায় তোলেন, তবে ভেবে দেখুন আপনি কতোটা দায়িত্বহীন অবস্থায় চলছেন!

সামাজিক নানা ধরণের কর্মসূচীতে আপনি অংশগ্রহণ করেন যার পরিপ্রেক্ষিতে আপনাকে অংশ নিতে হয় বন্ধুর বিবাহ বার্ষিকীতে, জন্মদিনে কিন্তু একদিনও মুখ ফুটে বলতে পারেননি এসব করা ঠিকনা, ভেবেছেন বললে হয়তোবা আপনাকে ব্যাকডেটেড, আনসোসাল মনে করবে।
এরকম হাজারটা দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যাচ্ছেন আপনি, আত্মসমালোচনা যদি বেশী বেশী না করা হয় তবে এভাবেই জীবনের শেষ পর্যায় চলে আসবে িন্তু তখন আফসোস ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবেনা।

ভাবছি জীবনটাকে কি পরিমান অলসভাবে কাটিয়ে দিলাম, নেই সচেতন দৃষ্টিভংগী, শুধুই অন্যের দোষ ধরাতে ব্যাস্ত থেকেছি, অত্যধিক অভিমানী হয়ে নিজের প্রতি অন্যের কেয়ারিংয়ে খুঁত ধরে গেছি, অন্যের দায়িত্ব নিয়ে সমালোচনা করেছি। রাস্তায় হয়তো কারো কুৎসিত চেহারা দেখে খারাপ মন্তব্য করে হেসেছি। কারো পথচলা, হাঁটা, হাসা নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করেছি। এখন এক কথা বলে পরে ইচ্ছে করেই সে কথাটাকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে অন্যের জন্য জটিল করে তুলেছি। তবে?!
এইসব দায়িত্বহীন মুর্খামীর জবাবদিহীতা কিভাবে দেব আজ সেটাই ভাবছি!
ইয়া রব! ক্ষমা করো সবাইকে!

(বিঃদ্র : উইমেন এক্সপ্রেস ব্লগ! আমার খুব প্রিয় একটা ব্লগ। ১০০ তম লেখা, যদিও খুব বেশী কিছু না তবুও এই ব্লগে লিখছি, লিখেছি সে জন্য একটা ভালো লাগা কাজ করছে! উইমেন এক্সপ্রেস স্বতস্ফুর্তভাবে  এগিয়ে যাও, আমাদেরকেও কাছে রেখ, পাশে রেখ! শুভকামনা উই ব্লগ!)

পোস্টটি ৩৬৩ বার পঠিত
 ১ টি লাইক
৩ টি মন্তব্য
৩ টি মন্তব্য করা হয়েছে
  1. বাহ! আরও একজন সেঞ্চুরিয়ান!!
    নাসরিন সীমার লেখার সবচেয়ে সুন্দর দিক হল, ধৈর্য্য। যে অসীম ধৈর্য্যে আপনি লিখে যাচ্ছেন গল্প, অবাক হয়ে ভাবতে হয়। আর একটা সুন্দর দিক হল, সমাজ সচেতনতা।
    যোগ্যতার যথাযথ ব্যবহার নাসরীন সীমাকে তার লক্ষ্যে পৌঁছে দিক।

  2. আমি কবে সেঞ্চুরী করবওওওওও!!! :-O :(

  3. লেখা পড়ে মনে হলো আমার বৈশিষ্ট্য হুবহু তুলে দিসেন :( । যাই হোক শততম লেখায় আপনাকে অভিনন্দন!

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.