কে তুই বল্
লিখেছেন নাসরিন সিমা, মে ১০, ২০১৫ ১১:৫২ অপরাহ্ণ

images
তুই কি জানিস তোর মুখের দিকে তাকালে ভেতরের সব কষ্ট এক নিমিষেই উধাও হয়ে যায়,, কিভাবে পারিস এতকিছু করতে! যে তুই নিজের খাবারটুকু মুখে তুলতে পারিসনা সেই তুই এতোটা পারদর্শী কষ্ট ভূলিয়ে দিতে! তোর এতটুকুনি হাত দুটো দিয়ে যখন আমার মুখমন্ডল স্পর্শ করিস আর কন্ঠে এক অদ্ভুত সুন্দর সুর তুলিস তখন আমিই যেন তোর ছোট্ট মেয়ে হয়ে যাই, আর তুই আমার মা! তুই আদরও করতে জানিস।
একদিন তুই বড় হবি, হাঁটতে শিখবি কথা বলতে শিখবি…… এরপর একদিন খুব বড় হবি। আচ্ছা তুই কি তখনও খুব ভালো ভালো কাজ করে, পরীক্ষার ভালো রেজাল্ট পেয়ে ছুটে এসে জড়িয়ে ধরবি আমায়? বলবি তোর লুকিয়ে রাখা সব কষ্ট, সুখের কথাগুলো?  আমি শুনবো, মনোযোগ দিয়ে, খুব মনোযোগ দিয়ে!
তুই কারো স্ত্রী হবি, আমি কল্পনা করি তোর সেই মানুষটা তোকে পাগলের মতো ভালোবাসবে। তোর প্রতিটি প্রয়োজনে তোর ছায়া হয়ে থাকবে।  তোকে আগলে রাখবে সমস্ত ঝড় ঝাপ্টা থেকে,  সঙ্গ দেবে বন্ধু হয়ে। তোর চোখের দিয়ে তাকিয়ে পড়ে ফেলবে তোর মনের কথা। তোর অশ্রু দেখে কখনো অবমূল্যায়ন করবেনা।
তুই ধীরে ধীরে পরিপূর্ণ নারী হয়ে উঠবি। তুইও একদিন মা হবি তোর কোল আলো করে আসবে কেউ একজন,  হয়তো তোরও কন্যা সন্তান হবে নয়তো পূত্র দুজনকে সমান ভালোবাসিস কেমন? কখনো মেয়েকে বলবিনা “এটা তোমায় পারতেই হবে, সব সহ্য করতেই হবে তুমিতো মেয়ে” এই বাক্যটা খুব কষ্টের জানিসতো! তোকেও যেন এমন কোন কথা শুনতে না হয় আমি তেমনই একটা সমাজ গড়তে চাই।
আমি জানি একদিন শুরু হবে তোর জীবন যুদ্ধ। প্রতিটি পদে পদে হয়তোবা তোর পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে, কারণ এ সমাজ তোর উপযোগী নয় সেদিন হয়তো আমি থাকবো তোর পাশে, হয়তো থাকবোনা! তুই সব বাধা অতিক্রম করবি ইনশাআল্লাহ।
যে সমাজে কণ্যা সন্তান মানেই শুধু ঘর সামলানোর কাজ, রান্নাঘরে নতুন নতুন রেসিপি তৈরীর কারিগর ভেবে ভূল করা হয়, যে সমাজ তোর রুপকেই প্রধাণ সামগ্রী মনে করে, তোর ভেতরের সত্তাকে কোন মূল্য দেয়না, তোর আবেগ অনুভূতিকে বর্জিত কোন আবর্জনা মনে করে আমি সে সমাজ বদলে দিতে চাই। জানিস তুই যখন আমার চোখের দিকে তাকিয়ে নির্ভরতা খুঁজিস তখন আমি এসব ভাবি, তোর চাহনী আমাকে আরো শক্ত হতে সাহায্য করে আমি তখনই জোর পরিকল্পনা করি, তোকে মূল্যায়ন করার যোগ্যতা রাখে এমন একটি উপযোগী সমাজ তোকে উপহার দিতে চাই।
শেষ

Comments

comments

পোস্টটি ৭১৫ বার পঠিত
 ২ টি লাইক
১৪ টি মন্তব্য