ইসরাইলী পণ্য প্রসঙ্গে
লিখেছেন নাসরিন সিমা, আগস্ট ৫, ২০১৪ ৩:০৭ অপরাহ্ণ

– ওমা তুমি ডাভ ইউজ করোনা, এমনকী লাক্সও না? হায় হায় তাহলে কি ইউজ করো?
-মেরিল, মাঝে মাঝে তিব্বত, এই দুইটা না পাওয়া গেলে কেয়া।
-তুমি দেখো তোমার মুখে ইয়া বড় বড় ব্রণ আর মেছতা হবে….
-কবে হবে?
-তা জানিনা তবে খুব শিঘ্রই হবে…………
আমি হাসতে হাসতে বললাম, বয়স হলো ২৫, বিয়েও হয়েছে, নতুন করে দেখতে আসবে ভেবে সুন্দর হওয়া লাগবেনা… হলোই না হয় ব্রণ মেছতা, তোমার সুন্দর ত্বকটাতো দেখি…. ফ্রেশ নিশ্চয়ই! ও একটু লজ্জা পেলো বুঝতে পারলাম।
এই পর্যায়ে বলে রাখছি কথোপকথনের দ্বিতীয় ব্যাক্তিটি খুবই সৌন্দর্য সচেতন, রেগুলার এই প্যাক সেই প্যাক লাগানো অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ওর সাথে কথা শুরু হয়েছিলো আমার ছেলে রাহীকে নিয়ে।

ইসরাইলী পণ্যের ব্যাপারে রাহী একটা উদ্যোগ নিয়েছে, ইসরাইলী পণ্যগুলোর লিষ্ট দেখে রাহী কিটক্যাট, কোকাকোলা, মিরিন্ডা সহ এইসব খাবেনা বলে ঘোষণা দিয়েছে। আমার ছোট্ট রাহী বাবুটা নতুন কোন চিপস বা চকলেট হাতে পেলেই জেনে নেয় এটা ইসরাইলী পণ্য কিনা? হোকনা উদ্যোগটা খুব ছোট…. ছোট ছোট বালুকণা থেকেই তো বিরাট প্রাসাদ হয়, বিন্দু বিন্দু জল দিয়েই তো সাগরও হয়, কথাটা আমার না আমরা সবাই এটা পড়েছি। এই ছোট্ট উদ্যোগে আপনর খুব বড় ক্ষতি হয়ে যাবেনা। লাক্সের জায়গায় মেরল ইউজ করলে ইয়া বড় বড় ব্রণ হয়না, কোন সমস্যায় হয়না। আর লাক্স মাখলেই আপনি লাক্স সুন্দরীদের মতো হয়ে যাবেননা, আপনি যেমন তেমনই সুন্দর! আপনার রান্নাঘর, ওয়াশরুম, বেডরুমে দেশীয় পণ্য ব্যাবহার করুন, একটা তৃপ্তি পাবেনই মনে মনে, আর ঐ বিষাক্ত কিট ইসরাইলের বিরুদ্ধে এক ধরণের প্রতিবাদ জানানোর এই সুযোগ হাতছাড়া কেন করবেন? আমাদের এই যাত্রা কলুষমুক্ত হোক।

পোস্টটি ৪৭৭ বার পঠিত
 ১ টি লাইক
৮ টি মন্তব্য
৮ টি মন্তব্য করা হয়েছে
  1. আপনার কথার সাথে একমত! কিন্তু এটা তো ঠিক অন্যান্য প্রোডাক্টের চেয়ে ওদের প্রোডাক্ট গুলা অনেক মানসম্পন্ন। তাই যদি আমাদের জন্য খুব জরুরী সেই স্থানটা দখল করা। নচেৎ সাধারন মানুষ কয়দিন টাকা দিয়ে এই পাবলিসিটির পক্ষে কাজ করবে!

    • হুম, মানসম্মত বটে, তবে কোন প্রোডাক্টের ক্রেতা যতো বাড়ে, সেটার মানও ততো বাড়ে, আর সেভাবেই বাড়ানো উচিত।

  2. সুন্দর এবং কার্যকর উদ্যোগ।

  3. আজকে টুইটারে দেখলাম,ইসরাঈলের পেপসি শেয়ার ৪২থেকে এখন ৩৯% এ নেমে এসেছে। কে বলে পন্য বয়কটে কাজ হয় না!

    • কাজ তো হবেই, যারা কাজ হয়না বলে তারা আসলে প্রোডাক্টগুলো ইউজ করা ছেড়ে দিতে পারেনা।

  4. দুইটা কথা!
    ১। কার কি লাভ, কি ক্ষতি জানিনা। আমার ভাইয়ের রক্ত রাঙ্গানো পয়সায় আমি আমার কষ্টের আয় যোগ করবো না
    ২। বাজারে মানসম্পন্ন অনেক বিকল্প পণ্য আছে, আমরা দুই একটা নির্দিষ্ট ব্রান্ডে অভ্যস্ত হয়ে যাই, বদলাতে চাই না। আমি কাপড় কাচার সাবান থেকে শুরু করে শ্যম্পু অনেক কিছুতে বেটার বিকল্প পণ্য পেয়েছি

    • একদম সঠিক কথা। মূলত হাটে হাড়ি ভাঙ্গলে যে পরিমান শোরগোল শুরু হয়, তেমনি সবাই একটা জিনিস ইউজ করতে করতে সেটাকে উচ্চ মানে তুলে দেয়। আদৌ সেটার মান থাক বা না থাক। বিকল্প চাইলেই খুঁজে পাওয়া যায় আর না চাইলে যেমন তেমনই।

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.