সংসার
লিখেছেন নাসরিন সিমা, জুলাই ১৭, ২০১৭ ১২:৪৫ অপরাহ্ণ

 

 Image result for মা বটের ছায়া

কলেজ থেকে ফিরতে ফিরতেই দুপুর পেরিয়ে যাচ্ছে। বাসায় এক রত্তি কাজ সারা হয়নি। ছেলেমেয়ে দুটোকে ওদের নানীর বাসা থেকে নিয়ে তারপর বাসায় গিয়ে রান্না, গোছানো ইফতারী বানানো। আর এই রোজার মাসে রাস্তায় এতো জ্যাম! দ্রুত পায়ে হাঁটছে শায়লা। রিকশায় ওঠা মানে সময় নষ্ট। রোদ এতো বেশী মনে হচ্ছে মরুভূমি তপ্ততা ছাড়িয়ে যাবে। হাঁটতে গিয়ে থামে, পাশেই ডাসা ডাসা পেয়ারা নিয়ে বিক্রেতা ক্রেতাদের ডাকছে। পেয়ারা ওয়ালার দিকে তাকায় সে। এই রোদে রোজা রেখে বেচারা! 
-কেজী কত?
-৮০ আফা!
-কিছু কম রাখেন!
-আইচ্ছা ১০ টাকা কম দিয়েন! কয় কেজী দিমু?
-দুই কেজী।
টিস্যুতে ঘর্মাক্ত মুখ মোছে শায়লা। জীবনে এক একজন এক এক ভাবে যুদ্ধ করে শুধুই টিকে থাকার জন্য কেউ, কেউ আবার খুব ভালোভাবে টিকে থাকতে। ভাবা শেষ করে টাকা পরিশোধ করে আবার হাঁটা শুরু করে।

বেল বাজিয়ে অপেক্ষা করতে ইচ্ছে করে না। তাও যদি সেটা মায়ের কাছে যাবার জন্য হয়।
-খোল মা
গেইট খুলে সামনে মাকে দাঁড়ানো দেখেই জড়িয়ে ধরে,এতো ক্লান্ত শরীর যেন মূহুর্তেই শান্তি এনে দিল। শায়লা জড়ানো কন্ঠে বলল,
-একটু যদি ঘুমাতে পারতাম মা!
মা মমতায় মাথায় হাত বুলিয়ে দেন,
-একটু ঘুমিয়ে নে পরে যাস!
মাথা তোলে শায়লা। ভেতরে ঢোকে। আজ না হয় ঘুমিয়ে গেলাম। অন্যদিন? তোমার কাছে কি প্রতিদিন ছেলেমেয়ে রেখে যেতে পারব মা? ওদের দাদী ফিরলে তো আসার সুযোগ ও পাবো না।
-তুই ঘুমা এক ঘন্টা ঘুমিয়ে নে। আমি তোকে রাতের,ভোর রাতের খাবার প্যাক করে দেব। ইফতার আইইটেম গুলো ফ্রিজিং করা আছে, নিয়ে গিয়ে শুধু ভেজে নিবি। শায়লা প্রশান্তি এসে ভেতরটা ভরে যায়। মাতো! মা-ই হয় না! এমন করেইতো ফিরি প্রতিদিন। কিন্তু আজকের মত আস্থা তো কেউ দিল না! অশ্রুগুলো বড্ড বেপরোয়া আজকাল শিশুদের মত চলে আসে। কেউ কেউ সেটাকে ন্যাকামী বলে!

পোস্টটি ২৫৪ বার পঠিত
 ১ টি লাইক
১ টি মন্তব্য

Leave a Reply

1 Comment on "সংসার"

Notify of
avatar
Sort by:   newest | oldest | most voted
লাল নীল বেগুনী
Member

মা! এক নিঃস্বার্থ ভালোবাসার নাম… :-)

wpDiscuz