রহস্য গল্প-শেষ পর্ব
লিখেছেন নাসরিন সিমা, জানুয়ারি ১৭, ২০১৭ ২:২১ অপরাহ্ণ

Image result for ছায়া

আগের পর্বের লিঙ্ক

রহস্য গল্প-পর্ব(১)

ছায়াসংগী


নাহিদ অস্থির পায়চারী করছে। সোহেলী যেন একযুগ হলো ওয়াশরুমে। নিশানকে কোথায় রেখে এসেছে, তাও আবার মধ্যরাতে। সোহেলী ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে নিজের মতো কাজ করে যাচ্ছে ড্রেসিনের সামনে বসে চুল আঁচড়াচ্ছে, নাহিদের দিকে আঁড় চোখে তাকিয়ে,
-খাওয়ার কিছু হবে? না সব শেষ করেছো?
নাহিদ দ্রুত বলল, 
-আরে রাখো তোমার খাবার! নিশান কে কোথায় রেখে এসেছো? ওর মামা বাড়ীতে আছে কী-না, কিছুই বলছোনা যে!
সোহেলীর দু’চোখে অগ্নিকুন্ডের মতো আগুন জ্বলছে যেন, চিৎকার করে বলল,
-নাহিদ তুমি যা বলছো ভেবে বলছো?
-অবশ্যই ভেবে বলছি, আমি একটা বিষয়ে জানতে চাচ্ছি, আর সে ব্যাপারে তোমার কোন ভ্রুক্ষেপ নেই বরং নির্বিকার হয়ে খাবার আছে কিনা জানতে চাইছো!
– আমি খেতে চেয়েছি আর তুমি কথা শুনাচ্ছ, বিয়ের একবছর হতে না হতেই এই অবস্থা? আর বারবার ছেলের কথা বলছো…… কিছু একটা ভেবে, আচ্ছা এইবার বুঝলাম, তোমার নিশ্চয় আগের পক্ষের কোন বউ আছে, যার ছেলের নাম নিশান! ঠিক বলেছি না? আর আমাকে তার সাথে তুমি গুলিয়ে ফেলছো……
নাহিদ থ হয়ে ধপ করে খাটে বসে পড়ে। কেমন অদ্ভুত লাগছে সোহেলীকে।পাঁচ বছর হলো বিয়ে হয়েছে, অথচ বলছে একবছরও হয়নি……! সোহেলী একা একা চিৎকার করছে। নাহিদ ওকে শান্ত করার চেষ্টায় সফল হলো। গ্রীল, নান দুটোই গরম করে ওকে খাইয়ে দিয়ে ঘুমানো অব্দি ওয়েট করলো।

সোহেলী যখন ঘুমাচ্ছে, তখন খানিক্ষণ অপলক তাকিয়ে থাকলো নাহিদ, ভাবলেশহীন অনুভুতি, তবুও যুগ যুগ ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকতে ইচ্ছে হলো ওর। কিন্তু না ছেলের খোঁজ নিতে হবে। ড্রয়িং রুমে এসে সোহেলীর বড় ভাই সামির কে ফোন করলো। অনেকবার মিসড হয়ে যাওয়ার পর রিসিভ হয় ঘুম জড়ানো কন্ঠ,
-হ্যালো
-হ্যা সামির ভাইয়া আমি নাহিদ।
-নাহিদ?! সচল হয়ে ওঠে ওপারের কন্ঠ।
-জ্বি, ভাইয়া সোহেলী ফিরে এসেছে।
-হ্যা ও যখন তোমার গেটে তখন ফোন করেছিলো। কি হয়েছে?
-ভাইয়া সোহেলী অদ্ভুত আচরণ করছে, ও বলছে নিশান নামে কাউকে চেনেনা। নাহিদ কেঁদে ফেলে প্রায়। 
-ও আচ্ছা আচ্ছা এই ব্যাপার! আসলে তোমাকে বলা হয়নি নাহিদ। তুমি ভেংগে পড়োনা ভাই শোন। 
নাহিদ আরো অস্থির হয়ে ওঠে, 
-কি বলা হয়নি?
-সোহেলী যেদিন তোমার সাথে রাগ করে আমাদের এখানে ফিরছিলো, সেদিন রোড এক্সিডেন্ট করেছিলো ও আর নিশান। সোহেলী মাথায় বড় একটা আঘাত পেয়েছিলো। আর…………!
_ বলো ভাইয়া নিশানের কথা বলছোনা কেন?
-আর নিশান সেদিন ……… সেদিন ওখানেই মারা যায়। আমরা ওর দাফন করার মতো কিছুই অবশিষ্ট পাইনি…… সোহেলী স্মৃতি শক্তি হারিয়েছে……… 
নাহিদ চিৎকার দেয়,
-না না এরকম কিছু হতে পারেনা। আমার নিশান ছোট্ট বাবুটা……………হাউমাউ করে কাঁদে নাহিদ।

ওর মোবাইলটায় এলার্ম বাজছে, ফজরের সময় হয়ে এলো। কাঁদতে কাঁদতে ঘুম ভেংগে যায় নাহিদের, চমকে এদিক ওদিক তাকায়…… ও আরাম কেদারা্য হেলান দিয়ে শুয়েছিলো। লাফ দিয়ে উঠে দৌড়ে যায় শোবার ঘরে। না সোহেলী নেই। তার মানে …… নাহিদ বিড়বিড় করে বলল,
– আমি কি সপ্ন দেখেছিলাম! ও মাই গড এটা যেন সপ্নই হয়! খুব দ্রুত মোবাইল হাতে নেয়, সোহেলীর নাম্বারে ডায়াল করে,
ওপারের কন্ঠটা নিশানের, ঘুম জড়ানো,
– হ্যালো!
নাহিদ আবেগে উৎফুল্ল হয়ে,
-নিশান! বাবু আমার, কি করছো?
-আব্বু তুমি আমার ঘুম ভাংগালে কেন?
-সরি সরি আমার বাহাদুর ছেলে, একটা কথা বলো শুধু তুমি আর তোমার মা ভালো আছো?
-হ্যা আব্বু আমরা ভালো আছি, আম্মু অজু করতে গেছে।
-ঠিক আছে, একটা কথা বলি তোমার আম্মুকে বলোনা সারপ্রাইজ দেব, তুমি আর আমি মিলে ঠিক আছে?
– কি আব্বু?
-আজ আমি তোমাদেরকে নিতে আসবো…… 
আনন্দে উদ্বেলিত হয় নিশান, হাস্যোজ্জল কন্ঠে,
– ওকে বাবা ডান!
সমাপ্ত

 
 
 

 

পোস্টটি ৩৫৮ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
১ টি মন্তব্য
একটি মন্তব্য করা হয়েছে
  1. হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম।

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.