রহস্য গল্প-পর্ব(১)
লিখেছেন নাসরিন সিমা, নভেম্বর ৯, ২০১৬ ৪:১৬ অপরাহ্ণ

Image result for ছায়া

***ছায়াসংগী***


বেশ কদিন হলো মেজাজটা খুব তেতো হয়ে আছে। অফিস থেকে ফিরে রোজ রান্নাঘরে আর ঢুকতে ইচ্ছে করেনা। গেটের লক খুলতে গিয়ে কিছুক্ষণ ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকলো নাহিদ। কিছু একটা ভেবে আবার সিড়ি বেয়ে নিচে নামতে শুরু করলো। রাস্তায় হাটছে, আনমনা গন্তব্যহীন সে, ওর হাটার দিকে তাকিয়ে কেউ কেউ ক্ষণিক আগ্রহবোধ করলেও আবার নিজের ঘরে ফেরার তাগিদে, আগ্রহ চাপা দিয়ে আপনালয়ের দিকে চলতে থাকে। নাহিদ হাঁটতে হাঁটতে একসময় থেমে যায়, চারপাশ কেমন ব্যস্ত! দু একটা রিকশা এসে কোথাও যাবে কিনা জানতে চাইলো, নাহিদ নিরুত্তর। রিকশাওয়ালারা একটু তাকিয়ে থেকে অন্য যাত্রীর দিকে মনোযোগ দেয়।নাহিদ চারপাশে অর্থহীন দৃষ্টিতে  দেখতে থাকে, একসময় ওর মুখমন্ডল অর্থবহ হয়ে ওঠে, ঠোটের কোণে মুচকী হাসি ফুটে ওঠে।

 

পেছনে ঘাড় ঘুরিয়ে জোরে একটা শ্বাস নিয়ে নিজেই বিড়বিড় করে, “যাক বাবা বাঁচা গেলো আজ আর রান্না করতে হবেনা”!
বেয়ারা প্রশ্ণবোধক ভাব নিয়ে তাকিয়ে আছে নাহিদের দিকে। নাহিদ হাসিমুখে,
-দুটো নান আর হাফ গ্রীল, পার্সেল।
-জী স্যার।

 

হঠাত ঠান্ডা হাওয়া এসে ওর মুখমন্ডল ছুয়ে গেলো, এক ধরণের শীতলতা অনুভুত হলো নাহিদের পুরো শরীর জুড়ে। নভেম্বরের মাঝামাঝি, শীত আসার লক্ষণ টের পেলো সে। জনসংখ্যার আধিক্যতায় ঢাকা শহরের অলিগলিতে সহজে যেন শীত আসতে চায়না। নাহিদ বিল পরিশোধ করে বাসার দিকে ফিরলো, বৃষ্টির ফোঁটা ওর শরীরে পড়তেই প্রায় দৌড়ে বাসায় ফিরলো।

 

ফ্রেশ হয়ে সদ্য ধোঁয়া ওঠা চা কেটলি থেকে ফ্লাক্সে ঢেলে নিলো। জানালার পাশের আরাম কেদারায় বসলো নাহিদ। পাশে টি টেবিল নিয়ে খাবার গুলো বাটিতে সাজিয়ে খাওয়া শুরু করলো। ইদানিং নাহিদ নিজের মধ্যে একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করল, সে খুব গুছিয়ে চলছে। আনমনা হয়ে গেলো নাহিদ। বাসাটা প্রতিদিন এতোটা ফাঁকা লাগে তাতে যেন হৃদয় টাও শুকনো মরুভুমির মতো হয়ে যায় আজকাল। সোহেলী বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে আজ থেকে দুমাস আগে, ছেলেটাকেও নিয়ে গেছে।
নাহিদের মনে পড়ে সোহেলী যেদিন রাগারাগি করে চলে যায় সেদিন একটা কথা বলেছিলো,
-আমি ফিরবো সেদিন, যেদিন অবসরে তুমি আমার কথা ভেবে কাঁদবে, তোমার সমস্ত ব্যস্ততা থেকে মুখ ফিরিয়ে শুধুই আমাকে ভাবতে ভাবতে তুমি রাত জাগবে।আমাদের কোন যোগাযোগ হবেনা, তুমি আমাকে ফোন করবেনা। আমিও করবনা। আমি অনুভব করবো তুমি রাত জেগে আমাকে ভাবছো! আর সেদিন আমি ফিরবো!
নাহিদের চোখ দুটো ভিজে ওঠে, বর্ষার ঠান্ডা জলের স্পর্শ লাগে নাহিদের মুখমন্ডলে, চায়ের বিশাল বড় এক মগ ওর হাতে। খুব অস্থির লাগে ভেতরটায়, সোহেলীর হাতের ছোয়া পেতে বড্ড আনচান করে ভেতরটায়।অনলাইন বিনোদন গুলোও বেশ কদিন হলো পানসে হয়ে গেছে যেন, কিছুতেই মন বসছেনা।গত দুরাত জেগেই কাটিয়ে দিয়েছে নাহিদ। বিড়বিড়িয়ে বলল নাহিদ,
“কই তুমিতো ফিরলেনা, তবে কি আমার ব্যস্ততা নিয়ে অভিযোগ বাহানা মাত্র!” তুমি কি অন্য কারো………

 

ভাবতে পারেনা নাহিদ! বুকের বামপাশটায় তীব্র ব্যাথা অনুভব করে।
ওখানেই হেলান দিয়ে সুদুর আকাশে তাকিয়ে থাকে! এতোটা শুন্যতা মানুষ কি করে সহ্য করতে পারে! ওভাবেই কেটে যায় অনেকটা সময়, মধ্যরাত পেরিয়ে গেছে! কলিংবেলের শব্দে চঞ্চল হয়ে ওঠে নাহিদের অবয়ব, দ্রুত পায়ে দরজার দিকে এগোয়,
-কে?
-নাহিদ দ্রুত খোলো ভিজে গেছি পুরোপুরি!
-সোহেলী! ফিরেছো তুমি!দরজা খুলেই চোখের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আরাধ্য মানবীকে, ওখানেই জড়িয়ে ধরে শক্ত করে,
-এসেছো তুমি? সত্যিই কি? ভাবতেই পারছিনা!
সোহেলী কপট রাগ দেখিয়ে,
– তুমিও তো ভিজে গেলে ছাড়ো আমায়।জর এসে যাবেনা আমার?
নাহিদ ব্যস্ত হয়ে ছেড়ে দেয়,
-ঠিকই তো! চেঞ্জ করো, এসো………!
-হুম!
– আশ্চর্যবোধ করে নাহিদ ছেলেকে দেখতে না পেয়ে,
-সোহেলী!আমাদের নিশান কোথায়?
সোহেলী বাথরুমে ঢুকবার আগে ভ্রু কুঁচকিয়ে,
-সে কে?
নাহিদ অস্থির কন্ঠে,
-আমাদের ছেলে?
-ছেলে? সে কই থেকে আসবে? নাহিদ! তুমিও না দু মাসে পুরা পাগল হয়ে গেছো!

 

চলবে……

পোস্টটি ৬০১ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
০ টি মন্তব্য

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.