পারিবারিক মানবিকতা ও আমরা-২
লিখেছেন নাসরিন সিমা, আগস্ট ৯, ২০১৬ ২:৩১ অপরাহ্ণ

এবার আসুন ইসলাম কি বলছে……
প্রথম ও দ্বিতীয় ঘটনাটি নির্দেশ করছে সন্তান মানুষ করার পেছনে বাবা মায়ের ভূমিকা। প্রথম ঘটনার মানুষটা যখন দেখবে তার স্ত্রী একের পর এক কাজ করেই যাচ্ছে, করেই যাচ্ছে তখন সে বসে বসে চা পান করতে পারবেনা, সে তখন রাসুল (সঃ) এর দেখানো পথে স্ত্রীকে সাহায্য করবে, সন্তানটিকে জন্মদাতা হয়ে নয়, বাবা হয়ে সামলাবে। এইযে সাংসারিক দায়িত্ব এগুলো আল্লাহ রব্বুল আলামীন নারীর জন্য বাধ্যতামূলক করে দেননি, এমনকী ওয়াজীবও না। এটা পুরুষদের মাথায় থাকা উচিত।
দ্বিতীয় ঘটনার ছেলেটি পুরোই সেইরুপি (জানোয়ার না বললেও মানুষ বলবেন কী?) হবে। যারা হিন্দুদের মতো বউ এনে ভাববে মাকে দাসী এনে দিয়েছি, আমার দায়িত্ব শেষ! একটু দাঁড়ান মাথায় ঢুকিয়ে দিই আপনি এখন শুধুই সামাজিকতার স্টেপে নেই, আপনি ইসলামের স্টেপে ঢুকেছেন আপনার বাবা মার দায়িত্ব আপনারই। আপনার স্ত্রীর না। যেমনটা আপনার শশুর শাশড়ীর প্রতি আপনার দায়িত্ব, তেমনি আপনার বাবা মার প্রতি আপনার স্ত্রীর দায়িত্ব। এর এক কিঞ্চিত পরিমান বেশী দায়িত্ব চাপানোর কোন অধিকার আপনার নেই। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় ঘটনার বাবা মা ছেলেকে আল্লাহর কাছে দায়িত্ব অবহেলার জবাবদিহীর মধ্যে ফেলে দিচ্ছেন কিনা খেয়াল করুন। যেখানে তাকে শেখানো হয়নি, যে কমপক্ষে নিজের কাজটুকু করতে জানতে হয়।

এবার একটা বিশেষ পয়েন্ট না তুলে ধরলে লেখাটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। আল্লাহ রব্বুল আলামীন পুরুষকে নারীর এক ষ্টেপ উপরে মর্যাদা দিয়েছেন। কিন্তু এই মর্যাদার ভুল প্রচলন সমাজে উপরে উল্লেখিত দাসীর মতো খাটিয়ে নেয়া অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু পুরুষের মর্যাদা সাংসারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সন্তানের ভবি্ষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আয়ের খাতগুলো কিভাবে ব্যায় হবে, স্ত্রীর সামগ্রীক প্রয়োজন পূরণ হবে কিভাবে ইত্যাদি।

এখন তৃতীয় ঘটনার কথা বলি আগেই একটা শব্দ দুবার রিপিট করেছি… সেটা হলো “স্ত্রীদেরকে” । ইদানিং কিছু পুরুষ প্রথম স্ত্রীর অল্প দোষেই দ্বিতীয় বিয়ে করার হুমকী দিয়ে থাকেন। এখন কথা হলো দ্বিতীয় বিয়ে আল্লাহ আপনার মর্জি মত করতে পারার অধিকার দেননি, আপনি একজনকেই সময় দিতে পারছেননা সাহায্য করতে পারছেননা আর গুলোকে কি করে পারবেন? এই ব্যাপার গুলো মাথায় রাখা জরুরী।

আসলে আমাদের ইসলামবিহীন সামাজিকতা মস্তিষ্কে এতোটায় গেঁড়ে বসেছে যে আমরা এটাকে ইসলামে ঢুকিয়ে দিতে চাচ্ছি। অথচ এই সামাজিকতাগুলো স্রেফ মানুষের তৈরী কিছু মানুষ যেমন ফরজ বাদ দিয়ে নফল নিয়ে টানাটানি করছে এই সামাজিকতা গুলো ঠিক তেমনি আমাদেরকে আসল ভুলিয়ে দিচ্ছে। এই সামাজিকতা পুরুষকে হিন্দুদের মতো দেবতার আসনে বসিয়ে দিচ্ছে সে খেয়াল আমরা রাখছিনা।

এই সামাজিকতা নারীকে শুধুই পুরুষের যৌনদাসী বলে আঙ্গুল ধরছে চোখে, অথচ কুরআনে যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে “স্বামী স্ত্রী একে অপরের পোশাক স্বরুপ”! আমরা সব ভুলে সেই জাহেলিয়াতকেই আঁকড়ে আছি।

ইসলামবিহীন সামাজিকতা পুরুষকে ক্রমেই প্রভুর পর্যায়ে নিয়ে যায়, এরা শিখেনা পাশেই তার সন্তান বয়ে বেড়ানো নারীটির নির্ঘুম নিঃসংগতায় একটুখানি সংগ দিতে। তারা শিখে এসেছে আগামীকাল অফিস তাই আজ রাত জাগা যাবেনা। যদিও তার পাশের ঐ নারীটি নয়মাস যাবৎ না ঘুমিয়েও সকালে তার পুরুষটির জন্য রান্নাঘরে ঢোকে। দিনের ঘুম আর রাতের ঘুমের মধ্যে অনেকটা পার্থক্য। তিনদিনের ঘুম সম্ভবত এক রাতের ঘুমের সমান। আর সেই নারী যখন সন্তান জন্ম দেয়, তখন সিজারিয়ান ঐ স্ত্রীটিকে হাসপাতালে রেখে বাসায় গিয়ে ঘুমানোর ব্যাপারটা মাথায় ঢুকে থাকে সেই পুরুষের, কারণ কালতো অফিস আছে। যদিও তখন নারীটির শরীর ঘুমে অসাড় হয়ে আসে। ব্যাথাতুর পেট নিয়ে সন্তানটিকে শান্ত রাখতে হবে। ঐ একাই (হয়তো সেখানে মেয়েটির মা বোন থাকবেন), জন্মদাতা থাকবেনওনা বাবা হয়ে ওঠার কোন চেষ্টায় করবেননা।
থামুন বোনেরা যারা এই সমাজের হয়ে একটা কথা বলবেনতো বুড়ো আঙ্গুল আপনাকে আমি দেখাবোই।

আপনি এই কথাগুলো বাদ দেন, পুরুষ মানুষ! একটু শক্ত প্রকৃতিরই হয়, মেয়েদেরকেই মানিয়ে নিতে হয়.. না আল্লাহর রাসুল সঃ সে শিক্ষা দেননি।

আপনি বাদ দেন সারাদিন অফিসে কাজ করে আসে, এই কথা বলা। জ্বি রাসুল সঃ ও বাইরে কাজ করে ফিরতেন।

একটা নাটক দেখেছিলাম আমাদের বিখ্যাত নাট্যকারের, আমি দুঃখিত কিন্তু নাটকটি তুলে না ধরে উপায় নেই। একজন পুরুষ বেশ কয়েকমাসের জন্য দেশের বাইরে যাচ্ছেন।যাবার সময় স্ত্রীকে বলে যান , আমি যতদিন না ফিরি তুমি এই বাড়ির বাইরে এক পাও রাখবেনা। মেয়েদের নাকী তিনটা বাড়ি, বিয়ের আগে বাবার বাড়ি, বিয়ের পর স্বামীর বাড়ি আর তারপরে মৃত্যুর পর আল্লাহর বাড়ী। যেহেতু তার বিয়ে হয়ে গেছে যেহেতু স্বামী তার আদেশ জানিয়ে গেছে, সেহেতু সে তার আগের (বাবার) বাড়িতেও যেতে পারবেনা। যদিও সে নাটকে দেখানো হয়েছে মহিলাটির স্বামী ফেরার আগে মহিলাটির বাবা মারা যান। মা মারা যান মুমুর্ষ মা মৃত্যুর আগে মেয়েটিকে একবার দেখার জন্য খবর পাঠিয়েছিল। কিন্তু তিনি যাননি। কারণ তাঁর স্বামী বলে গেছে। এই পর্যায় অবধি আসলে আমি নিজেকে ঠিক রাখতে পারিনা, কতটা বোধ হারালে আমাদেরই বোনরা এরুপ হওয়ার জন্য নিজেকে তৈরী করার চেষ্টায় মেতে ওঠেন চিন্তা করে খুঁজে পাইনা। আল্লাহ তাহলে পিতামাতার সেবা, তাদের আদেশ নিষেধ মানতে বললেন কেন? ওটা কি শুধু ছেলের বাবা মায়ের জন্য নির্ধারিত?
আসলে কি জানেন আমাদের মাথায় সামাজিক এইসব চিন্তা চেতনা ঘিলুর মতো প্রতিস্থাপন করে দেয়া হয়েছে যে কারণে এই অসুস্থ সামাজিকতাগুলোকে ইসলামের সাথে গুলিয়ে ফেলি।

আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক বিষয়টাকে অনুধাবনের সুযোগ দিন।

পোস্টটি ৮১৮ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
৪ টি মন্তব্য
৪ টি মন্তব্য করা হয়েছে
  1. দ্বিতীয় ঘটনার ছেলেটি পুরোই সেইরুপি (জানোয়ার না বললেও মানুষ বলবেন কী?) হবে। যারা হিন্দুদের মতো বউ এনে ভাববে মাকে দাসী এনে দিয়েছি, আমার দায়িত্ব শেষ! একটু দাঁড়ান মাথায় ঢুকিয়ে দিই আপনি এখন শুধুই সামাজিকতার স্টেপে নেই, আপনি ইসলামের স্টেপে ঢুকেছেন আপনার বাবা মার দায়িত্ব আপনারই। আপনার স্ত্রীর না। যেমনটা আপনার শশুর শাশড়ীর প্রতি আপনার দায়িত্ব, তেমনি আপনার বাবা মার প্রতি আপনার স্ত্রীর দায়িত্ব। এর এক কিঞ্চিত পরিমান বেশী দায়িত্ব চাপানোর কোন অধিকার আপনার নেই। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় ঘটনার বাবা মা ছেলেকে আল্লাহর কাছে দায়িত্ব অবহেলার জবাবদিহীর মধ্যে ফেলে দিচ্ছেন কিনা খেয়াল করুন। যেখানে তাকে শেখানো হয়নি, যে কমপক্ষে নিজের কাজটুকু করতে জানতে হয়।

  2. একতরফা জাজমেন্ট হলোনা?

    • কারো মনে হলে আমার দায় নেই, শুধু সমাজে জোরালো ভাবে প্রচলিত অসম নীতির সমালোচনা করেছি , আর ইসলাম এটাকে কিভাবে দেখে সেটা তুলে ধরেছি।
      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.