রমাদান মাস ও আমাদের করনীয়
লিখেছেন নাসরিন সিমা, জুলাই ১২, ২০১৪ ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ

ভুমিকাঃ
রমজান মাস  ত্যাগের মাস। এ মাস আরবি:( رمضان‎ Ramadān, [variations] ফার্সি: رَمَضان Ramazān; উর্দু: رَمْضان Ramzān; তুর্কী: Ramazan ) হল ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুসারে নবম মাস, যে মাসে বিশ্বব্যাপী মুসলিমগণ ইসলামিক উপবাস/উপোস বা খাদ্যাভ্যাস, পানাহার থেকে বিরত থেকে সাওম পালন করে থাকে। রমজান মাস চাঁদের উপর নির্ভর করে শুরু হয়, এরই ধাবাহিকতায়, রমজান মাস শেষও হয় চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে। ফলে রমজানের রোজা কখনো ২৯ দিনের হয় আবার কখনো বা ৩০ দিনে। এ মাসে প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক দের উপর রোজা ফরজ করে দেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সুরা বাকারায় আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেছেনঃ

“হে ঈমানদারগণ তোমাদের উপর রোজা ফরজ করে দেয়া হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী নবীদের অনুসারীদের উপর ফরজ করা হয়েছিলো। এথেকে আশা করা   তোমাদের মধ্যে তাক্বওয়ার গুণাবলী সৃষ্টি হয়ে যাবে” (সুরা বাকারা ১৮৩)।

কিন্তু অসুস্থ, গর্ভবতী, ডায়বেটিক রোগী, ঋতুবর্তী নারীদের ক্ষেত্রে তা শিথিল করা হয়েছে। এ মাসে মুসলিমগণ অধিক ইবাদত করে থাকেন। কারণ অন্য মাসের তুলনায় এ মাসে ইবাদতের সওয়াব বহুগুণে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ মাসের লাইলাতুল কদর নামক রাতে কুরআন নাযিল হয়েছিল, যে রাতকে আল্লাহ তাআলা কুরআনে হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম বলেছেন। এ রাতে ইবাদত করলে হাজার মাসের ইবাদতের থেকেও অধিক সওয়াব পাওয়া যায়। এমাসে শয়তানকে শিকলবন্দী করে রাখা হয়। আর মৃতদের কবরের আযাব মাফ করে দেয়া হয়।

এমাসে তিনটি ধাপ রয়েছেঃ

১। প্রথম দশদিন রহমতের
২। দ্বিতীয় দশদিন মাগফিরাতের
৩। তৃতীয় দশদিন নাজাতের

এই তিন দশকই মানবজাতির জন্য  এক সুসংবাদ বয়ে নিয়ে আসে। এ মাসে যে ব্যক্তি নিজের সমস্ত গুণাহ মাফ করে নিতে পারবে সে আল্লাহর কাছে সদ্য জন্ম নেয়া শিশুটির মতো নিষ্পাপ পরিগণিত হবে। এমাসেরই তৃতীয় দশকের বিজোড় রাত গুলোর কোন একটিতে শবে কদরের রাত রয়েছে। যে রাতটিতে হাজার বছরের সওয়াব অর্জণ করা সম্ভব।

রমাদানে আমাদের করনীয়:

রমজান হলো তাক্বওয়া অর্জণের মাস এ মাসে নিম্নোক্ত কাজগুলো করা জরুরী।

১. আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রহমত লাভের উদ্দেশ্যে সিয়াম সাধনা করা

২. মুখ ও জিহ্বাকে সংযত রাখা

৩. নিয়মিত তারাবীহর নামাজ আদায় করা

৪. কুরআন তিলাওয়াত করা

৫. বেশি করে দান-সদকাহ করা

৬. নিজে ইফতার করার পাশাপাশি রোজাদারদের ইফতার করানো

৭. মিসওয়াক করা

৮. শীঘ্রই ইফতারী করা

৯. ইফতারের পূর্বে ও ইফতারের সময় দোয়া করা

১০. বেশি করে ইসতেগফার ও দোয়া করা

১১. খেজুর অথবা পানি দিয়ে ইফতার করা

১২. সেহরী খেয়ে রোজা রাখা

১৩. এতেকাফ করা

১৪. বেশি বেশি করে নফল নামাজ আদায় করা

১৫. বেশি করে আল্লাহর জিকির  ও তাসবীহ-তাহলীল করা

১৬. রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করা

১৭. রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করা

রমাদানে বর্জনীয়ঃ

রমজান মাসের ফজিলত হাসিল করার জন্য এমন কিছু কাজ রয়েছে যা থেকে বিরত থাকা দরকার, সেগুলো নিম্নে উপস্থাপন করা হলো :

১. মিথ্যা কথা ও অসৎ কাজ করা
রাসূল (সা:) বলেন, যে ব্যক্তি রোযা রেখে মিথ্যা কথা বা বর্জন করে না, আল্লাহর নিকট তার ক্ষুধাও পিপাসার কোন মূল্য নেই(বুখারী শরীফ)

২. জবানের হেফাজত

রোযা অবস্থায় অনর্থক কোন কথা বলা যাবে না। অন্যকে গাল-মন্দ করা যাবে না।অশ্লিল কথা বর্জন করতে হবে রাসুল (সা:) বলেন রোযা হল (জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষার) ঢাল স্বরূপ। সুতরাং যদি কেউ রোযাদার হয় তাহলে তার উচিত অশ্লিল কথা বা নির্লজ্জ কথা না বলা, গুনাহে লিপ্ত না হওয়া। কেউ যদি তোমাকে গালি দেয় তাহলে তাকে বলে দিবে ভাই আমি রোযাদার। সুতরাং রমযান মাসের সম্মানার্থে বিশেষ করে টেলিভিশন বন্ধ রাখা প্রত্যেক মুমিনের জন্য আবশ্যক। (বুখারী মুসলীম)

৩. পুরো শরীরের রোযা রাখা

রোযা অবস্থায় হাত, পা, কানসহ পুরো শরীরও যাতে রোযা রাখে এমন কাজ করতে হবে অর্থাৎ এমন যাতে না হয় যে, রোযা রাখা ও না রাখা দু’টাই বরাবর। প্রত্যেকটা অঙ্গ প্রত্যেঙ্গকে গুনাহ থেকে হেফাজত রাখতে হবে টেলিভিশন দেখা,
গান শোনা, অশ্লিল গল্পের ও উপন্যাসের বই পড়া ইত্যাদি কাজ বর্জন করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাওফীক দান করুন।

রমজান মাসের উপকারীতা:

১. রমজানের রোজা জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাওয়ার ঢাল।

২. জান্নাতে যাওয়ার উৎকৃষ্টতম উপায় এবং রাইয়ান নামক বিশেষ দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ।

৩ গুনাহ মোচনের অন্যতম মাধ্যম।

৪. রোযা কিয়ামতের দিন মুমিন ব্যক্তির জন্য শুপারিশকারী হবে।

৫. রোযার পুরষ্কার আল্লাহ নিজ হাতে প্রদান করবেন।

৬. রোযার মাধ্যমে আচার-আচরণ ও চরিত্র সুন্দর হয়।

৭. রোযা মানুষকে আখেরাত মুখী করে।

৮. সামাজিক সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ব বোধ সৃষ্টি করে

৯. এটি আল্লাহ ও বান্দার মাঝে নিতান্ত গোপন ইবাদত। তাই এর মাধ্যমে আল্লাহ ও বান্দার মাঝে সম্পর্ক দৃঢ়তর হয়।

১০. আল্লাহর ইবাদতের এক অভূতপূর্ব ট্রেনিং।

পরিশেষে বলতে চাই  আল্লাহ তায়ালা সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে সিয়াম পালনের তাওফীক দান করুন। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইবাদত ও সৎকর্মের মাধ্যমে এই রমজানের ফজিলত আমরা পূর্ণভাবে অর্জন করতে পারি। মহান আল্লাহ এই রমজান মাসে আমাদের উপর রহমত, রবকত ও মাগফেরাত প্রদান করুন এবং আমাদের জাহান্নাম থেকে নাজাত প্রদান করুন। আমীন।

পোস্টটি ৪৮৯ বার পঠিত
 ১ টি লাইক
৪ টি মন্তব্য
৪ টি মন্তব্য করা হয়েছে
  1. দরকারী লেখা,ধন্যবাদ :)

  2. পরিপূর্ণ একটা পোস্ট।

  3. তথ্যবহুল পোস্ট! আপনাকে ধন্যবাদ

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.