শত কোটি গল্পের ভীড়ে
লিখেছেন নাসরিন সিমা, অক্টোবর ২, ২০১৪ ৩:৫৩ অপরাহ্ণ


২০
নিবেদিতা কে অন্ধকার রুমে রাখা হয়েছে, অদৈতর ফ্লাটে। ঈশাণের হাতে অনেকগুলো মদের বোতল, অদৈতর ফ্লাটে ঢোকে ঈশান। অদৈতর ফ্লাটে লাল নীল বেগুনী আলো জ্বলছে আর তালে তালে চলছে বিশ্রি নোংরা গান।  ঢুকেই একটা বিশ্রি অবস্থা দেখে ঘৃণায় ওর শরীরে কাটা দিয়ে ওঠে। অদৈত আর লিজা  মদ খেয়ে মাতলামী করছে। ঈশাণ দৃষ্টি নত করে, বোতল গুলো অদৈতকে দেখায়,
-অদৈতদা, এই যে রাখলাম এখানে। ঈশাণ হঠাৎই চমকে ওঠে, পেছন থেকে লিজা ওকে জড়িয়ে ধরেছে, এক ঝটকায় ফেলে দিয়ে দ্রুত সরে যায়। লিজার উন্মাদনাময় আহবান,
-ঈশাণ এই বিল্ডিংয়ের প্রতিটা যুবক আমার জন্য পাগল, শুধু তুমি ছাড়া কেন বলো তো? অদৈত এগিয়ে এসে লিজাকে নিজের দিকে মনোযোগী করিয়ে নেয়, ঈশাণ এই ফাঁকে ঢুকে যায় কিডন্যাপ করে নিয়ে আসা নিবেদিতাকে যে রুমটাতে রাখা হয়েছে সেই রুমে। নিবেদিতা ঈশাণকে দেখেই উচ্ছল কন্ঠে,
-আংকেল তুমি!
ঈশাণ ওর মুখ চেপে ধরে,
– আস্তে কথা বলো নিবেদিতা, আর তুমি ভয় পেওনা, আমি ঠিক এখন তোমাকে নিয়ে যাবো!
-কিভাবে আংকেল ওরাতো ওখানেই আছে দেখতে পাবেনা? ভীত কন্ঠ নিবেদিতার।
-না এখন মাতাল হয়ে আছেতো! তুমি ভেবনা, আমি বের করবই ইনশাআল্লাহ!
-এটা কী শব্দ আংকেল? ঈশাণ নিবেদিতাকে  চুপ করতে বলে।
নিবেদিতাকে বের করতে পারে ঠিকই কিন্তু সিড়িতে মুখোমুখি হয় নিতাইয়ের, নিতাই হতবাক কন্ঠে,
-এটা কী করছ তুমি?
-আমি যেটাই করি আশা করি তুমি বলবেনা নিতাই, প্লিজ! তুমি না আমার বন্ধু! দ্যাখো ছোট্ট একটা মেয়ে, ওর বাবা মা যতো দোষই করুক………….
-তুমি যাও ঈশাণ, মানবিকতা আমারও আছে, কিন্তু তোমার মতো দৃঢ়তা নেই বলেই আমি এই কাজটা করতে পারিনি।

ভোর ছয়টায় ফিরলো ঈশান। নিতাই ফ্লাটের দরোজা খোলা রেখেছিলো। পাশের এক মসজিদ থেকে ফজরের নামাজ পড়ে এসেছে।নিজের রুমে ঢুকলো ঈশাণ, দরোজাটা বন্ধ করে দিয়ে, তালা দিয়ে রাখা ছোট্ট একটা ট্রাঙ্ক বের করে, ওখানে কুরআন হাদীস রাখা আছে, বের করে খুব নীরবে অধ্যয়ন করে। নিতাই দরোজায় টোকা দিলে আবার ওগুলো দ্রুত ট্রাঙ্কে রেখে দরজা খোলে,
-কী হয়েছে?
-ডেভিড লিজাকে খুঁজে পাচ্ছেনা!
-তুমি ডেভিডকে বলে দাও লিজা অদৈতর ফ্লাটে রাত কাটিয়ছে……. নিতাই চোখ বড় বড় করে ঈশাণের দিকে তাকিয়ে থাকে,
-তাই নাকী? তাহলেতো মজার ঘটনা ঘটতে চলেছে, এসো দেখি!
-তুমি যাও আমি আসছি।
ওরা অদৈতর ফ্লাটে ঢোকার আগেই অদৈতর চিৎকার করা কন্ঠ শুনতে পেলো,
-ডেভিড তোমার লিজা কচি খুকি নয়, ও নিজে থেকেই আমার কাছে এসেছে, বিশ্বাস ঘাতকতা করলে ও করেছে, আমি না! আরে আমি চিন্তায় আছি ঐ পিচ্চি একটা মেয়ে পালিয়ে গেছে সেটা নিয়ে আর ….. ডেভিড আমি সাফ সাফ বলে দিচ্ছি, তুমি দল ছাড়তে চাইলে আমার পিস্তলে ছয়টা গুলি মাথায় ভরে নিয়ে তবেই ছাড়তে পারবে!
ঈশাণ আর নিতাই ঢুকে ওদের কার্যকলাপ গুলো দেখছে  ডেভিডের উদ্ধত অবয়ব এবার কাঁচুমাচু হয়ে যায়,
-রাগের মাথায় কী বলেছি! তবে লিজা যেন আর আমার কাছে না আসে দল ছাড়ছিনা। ঠিক এসময় ফ্লাটে ঢোকে এক যুবক, অদৈত তাকে দেখে,
-আরে আব্দুস সামাদ যে, এসো!
উপস্থিত সবাই অবাক হয়ে তাকায়, ঈশাণ বিস্মিত কন্ঠে,
-অদৈতদা হঠাৎ তোমার দলে মুসলমান?
-আরে এতো দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী, বরিশাল থেকে যতো ড্রাগ আর অস্ত্র আসে সবই এর, আর হ্যা ঈশাণ তোমাদের ফ্লাটের দক্ষিণ দিকের রুমটায় আজ থেকে আব্দুস সামাদ থাকবে। আর তোমরা আগামী শুক্রবারের পার্টির আ্যারেঞ্জ শুরু করে দাও!

২১
মণিকাকে রিলিজ দিয়েছে। আনিকা মণিকার পাশে বসে অর্থসহ কুরআন তেলাওয়াত শেষ করলো, মণিকা অবাক কন্ঠে,
-বাংলা অর্থসহ! কোথায় পেয়েছো?
-ঈশাণ দিয়েছে, এহতেশাম বিল্লাহ আছেনা, ওর নামই ঈশাণ!
-ও! হঠাৎই কলিং বেল বেজে ওঠে, রান্নাঘর থেকে মিসেস সানিয়া উঁচু স্বরে,
-আনিকা দ্যাখোতো কে?
-জ্বি চাচী দেখছি, এতো সকাল সকাল কে এসেছে! দরজা খুলেই অবাক কন্ঠে,
-আপনি? নিবেদিতার মাসী না!
চায়না রাণী বর্মন ইতস্তত কন্ঠে,
-হ্যা আনিকা! আসলে এখানেই আমার এক পিসির বাড়ী, কাল এসেছিলাম আজ চলে যাচ্ছি, তোমার সাথে কিছু কথা ছিলো তো! তাই এতো সকাল সকা…….
-এসো দিদি ভেতরে এসো! নিবেদিতা কেমন আছে?
চায়না আনিকার পিছু পিছু ভেতরে ঢোকে,
-এখন ভালোয় আছে! আনিকা ড্রয়িং রুমে না বসিয়ে নিজের রুমে নিয়ে যায়,
-বসো দিদি!
চায়না বসেই লজ্জিত কন্ঠে,
-একটা অপরাধবোধ আমাকে তোমার বাসায় টেনে এনেছে আনিকা! সেদিন যে ক্লোরোফরম মিশিয়ে তোমাকে সেন্সলেস করিয়ে, দলীলটা আমি নিয়েছিলাম! আমি ক্ষমা চাইতে এসেছি, এখন চাইলে তুমি আমায় পুলিশে দিতে পারো, যা ইচ্ছা তাই করতে পারো……..
আনিকা হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছে চায়নার দিকে, নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছেনা যেন, চায়না বলে চলেছে,
-তবে তোমার দলীল আমি ফিরিয়ে আনবোই যে করেই হোক…. আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই আনিকা, প্লিজ! তুমি ক্ষমা না করলে যে নরকেও আমার ঠাঁই হবেনা!
আনিকার মনে একটা আয়াত বেজে উঠলো, কিছুক্ষণ আগেই যেটা পড়েছে সে, সুরা হা মীম আস সাজদার একটা আয়াত- “তার কথার চেয়ে আর কার কথা উত্তম হতে পারে যে মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকে”
এবার কথা বলে আনিকা,
-দিদি তোমার ক্ষমা পাওয়ার একটা পথ আছে, স্বর্গে যেতে চাইলে সেটাই উত্তম পথ, তুমি মুসলমান হয়ে যাও! দ্যাখো মুসলমানদের যে কিতাব রয়েছে, সেটাই একমাত্র কিতাব যা অবিকৃত রয়েছে, অন্য সমস্ত কিতাব বিকৃত হয়ে গেছে দিদি এমনকী গীতা, বেদ সহ সবগুলো!
চায়না বিদ্যুৎ পৃষ্ঠ হওয়ার মতো করে উঠে দাঁড়ায় রোশান্মিত কন্ঠে,
-থামো আনিকা! তুমি এভাবে আমাকে অপমান করতে পারেনা, আমার ধর্মকে অব্দি অপমান করলে!
আনিকা চায়নার দুহাত চেপে ধরে,
-দিদি আমি দুঃখিত, তুমি ক্ষমা পাওয়ার উপায় জানতে চেয়েছো, আমি সে উপায় বলে দিয়েছি মাত্র…..
চায়না আনিকার হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে দ্রুত বের হয়ে যায়,মাথানিচু করে কিছুক্ষণ বসে থাকে আনিকা, ওর মোবাইলটা বেজে ওঠে রিসিভ করে বিমর্ষ কন্ঠে,
-হ্যা বাবা বলো, কেমন আছ?
-ভালো মা মণিকা, ভালো আছে? আমি আজ তোমাদের ওখানে যেতে চাচ্ছিলাম!
-এসোনা বাবা………. সামনে দরজায় মণিকাকে দাড়ানো দেখতে পায়, ওর মুখমন্ডল জুড়ে রাগের কোন বহিঃপ্রকাশ নেই, মলিন সে চেহারা, মণিকা বলে,
-আসবে! আনিকা সম্মতিসূচক মাথা নাড়ে, মণিকা অভিমানী কন্ঠে,
-আসুক! আমার কী! চলবে……………………

পোস্টটি ৫৩৩ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
০ টি মন্তব্য

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.