শত কোটি গল্পের ভীড়ে
লিখেছেন নাসরিন সিমা, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৪ ১:৪২ অপরাহ্ণ

১০
ক্যান্টিনে দুপুরের খাওয়া শেষ করে মনিকা।আজ ডি এম সির ক্যান্টিনের পরিবেশটা বেশ ঘরোয়া। মনটা আনমনে হয়ে যায় মনিকার, ভাজা ধনে উপরে আঙ্গুল রেখে আঁকিবুকি আঁকছে। এ সময় ওর ফোনটা বিকট আওয়াজ তুলে বেজে ওঠে রিসিভ করে সালাম দেয়। ওপাশ থেকে বিনয়ী কন্ঠে,
-আপনি কী মণিকা আন্টি?
-হ্যা কে বলছো? ওপারের কন্ঠটি পরিচিত, মেয়ে কন্ঠ মলিন কন্ঠে,
-আমি নিবেদিতা স্যান্যাল। আনিকা আন্টির সাথে কথা বলতে চেয়েছিলাম, অনেকদিন ওনার সাথে কথা হয়না। আমার মাও মন খারাপ করে আছে।
-ও তাই! তুমি মন খারাপ করোনা আনিকা তোমার সাথে কথা বলবে।
-উনি কোথায়?
-আন্টির এখন একটা সমস্যা আছে, আর আমি মেডিকেলে আছি। আন্টির প্রবলেম সলভ হলেই ও তোমার সাথে দেখা করবে ঠিক আছে?
-আচ্ছা! ওনাকে আমাদের বাসায় আসতে বলে দিও।
-আচ্ছা।
কথা শেষ করেই উঠে দাঁড়ায় মণিকা।

সন্ধার দিকে বাসায় ফিরে আনিকার হাতে একটা ছবি দেখলো। পাশেই আকরামউদ্দিন হাসি মুখে বসে আছেন। মণিকা আনিার পাশে বসে,
-কার ছবি?
আনিকা মুচকী হেসে,
-পছন্দ হয়?
-হুম খুব সুন্দরতো, কথাটা বলেই আকরাম উদ্দিনের মুখের দিকে তাকায়, দুষ্ট কন্ঠে,
-চাচা! কি ব্যাপার আগে বলোনি যে বিয়ে করবে ওনাকে? আনিকা ও দুষ্ট কন্ঠে,
-সে আর বলতে চাচার মুখ দেখে বুঝতে পারিসনি? চাচা আমাদের খুব পছন্দ হয়েছে।
-তোদের পছন্দ হলে আগামী মাসের পনেরো তারিখে বিয়ে করবো।
আনিকা আর মনিকা উচ্ছল কন্ঠে দুজনই এক সংগে,
-ঠিক আছে চাচা!

১১
রাতে আনিকা বালিশে মাথা রাখার সাথে সাথে মনিকা এসে ওর পাশে শোয়, আনিকা চমকে ওঠে,
-তুই এখানে?
-ইচ্ছে হলো তাই। মণিকা শুয়েই ওর মোবাইলের ইমেজ অপশন থেকে ছবিগুলো ধ্যান করে দেখছে, আনিকা ডিষ্টার্ব করলোনা, মনে মনে দোয়া পড়ছে আর ভাবছে
“আচ্ছা মানুষের জন্ম কেন হয়? শুধুই কী মা, বাবা, ভাই বোন আত্মীয় স্বজনের প্রতি ভালোবাসা আর দায়িত্ব পালনের জন্য? ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে নামাজ রোজা হজ্জ যাকাত পালন করে জান্নাতের সুবিশাল পুরস্কার ভোগ করা? আনিা নিজের এহেন চিন্তা হওয়ায় নিজেই অবাক হয়ে যায়। তবু ভাবে রাসুল সঃ তো জীবনে অনেক কষ্ট করেছেন, যদিও তাঁর জীবন সম্পর্কে খুব গভীর জ্ঞান নেই আনিকার। যতটুই জেনেছে তাতে অনেক কষ্ট করেছেন তিনি, তখন বর্তমান সময়ের মতো এতো সুযোগ সুবিধা ছিলোনা, কিন্তু তাতেই এতো কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। অথচ এখন আমরা এভাবে কোন কষ্ট না করেই কী তবে জান্নাতী হতে পারবো? আনিার ভেতরটা ভয়ে তটস্থ হয়ে যায়। এতো যত্ন করে নিজেকে মানুষ সৌন্দর্যমন্ডিত করে, বেঁচে থাকার জন্য, শরীরটাকে ভালো রাখার জন্য মানুষের চেষ্টার অন্ত নেই, েই শরীরই যদি ওপারে গিয়ে অবিরত আগুনে অংগার হে থাকে তবে কী মূল্য আছে এই যত্নের! জাহান্নাম যেন োখের সামনে দেখতে পায় আনিকা, অক্টোপাসের মতো ওর সমস্ত স্বত্তাকে জড়িয়ে ধরতে চায়, দুচোখের কোণ বেয়ে অজান্তেই ঝরে পরে তপ্ত অশ্রু।  এসময় মোবাইল বেজে ওঠে, নাম্বারটি সেইভ করা নেই কিন্তু অচেনা নয়।  মণিকার ঘুম ধরেছে তাই বিরক্ত হয়ে, আড়ষ্ট কন্ঠে,
-আনিকা তাড়াতাড়ি রিসিভ করতে পারিসনা?
আনিকা রিসিভ করে সালাম দেয়,
-আপনি? এ সময় কেন ফোন করেছেন? আবার কোন সমস্যা কী?
ওপার থেকে শান্ত কন্ঠে,
-না কোন সমস্যা নেই, কেমন আছ তুমি?…….
-আপনি আড়াল থেকে আমার উপকার করছেন কেন? কে আপনি? কী নাম আপনার?
-উপকার বলছ? এটাতো আমার দায়িত্ব, যেকোন ভিকটিমকে বাঁচানো আমার দায়িত্ব। আর আমি আমার নামটা এখন বলতে পারবোনা, তবে এস এম এস করে জানিয়ে দেব ইনশাআল্লাহ। কেমন আছ বল্লেনাতো!
-আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?
-আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ হাফেজ।
ওপার থেকে কেটে যায়। আনিকা একধরণের ঘোরের মধ্যে থেকে যায়, তন্দ্রা এসে ভীড় করে আনিকার দুচোখে, এরপর ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে গেলো ওর সমস্ত স্বত্তা।রাতের চাঁদ লুকোচুরি খেলছে মেঘবালিকাদের সাথে। মাঝে মাঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তারাগুলো মিটমিট করে হাসছে যেন। আর শোকর গোজার করছে একচ্ছত্র অধিপতির! কী নিখুঁত নিয়মের গন্ডীতে বন্দী ওরা!

সকালবেলা নিকা কুরআন তেলাওয়াত করলো, কিন্তু বাংলা অর্থ নেই এই কুরআনে। খুব ইচ্ছে ছিলো কী পড়লো তা সম্পর্কে জানার! মন খারাপ নিয়েই উঠে পড়ে মোবাইল হাতে নেয় এস এম এস এেছে লেখা আছে, “আমার নাম এহতেশাম বিল্লাহ। আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই” এটুকুই আনিকা যেন আকাশ থেকে পড়লো, প্রচন্ড রাগ জমা হলো ছেলেটির উপর।

১২
অদৈত বর্মণ লিজার বেডরুমে। মাথা নিচু করে বসে আছে। আজ এ বিল্ডিংয়ে শুধু তিনজন মানুষ আর সবাই যে যার অপারেশনে। চায়না দোতলায়, দুপুরের রান্না করছে। লিজা এসে অদৈতর পাশে বসে, অদৈতর দৃষ্টিতে কামনা। লিজা স্বাভাবিক কন্ঠে,
-তুমিতো খাস জিনাস অদৈত, অন্যদেরকে াজে লাগিয়ে নিজে কেমন লুকিয়ে থাকো। পরিসংখ্যান ঘাটলে হয়তো তোমার চেয়ে সেরা ক্রিমিনাল খুঁজেই পাওয়া যাবেনা। অদৈত লিজার শরীর ঘেঁসে বসে, লিজা হেসে বলে,
-চায়না বুঝি পুরাতন হয়ে গেছে!

চায়না রান্নাঘরের ধুয়া ওড়া চারদেয়ালে থেকে থেকে অতিষ্ট হয়ে গেছে। কাঁদে আর মাংস কসাচ্ছে। বিড়বিড় করে চায়না,
-কী লাভ এসব করে? যার জন্য করি সে তো সিঁদুরের অধিকারটুকুও দিতে চায়না। অথচ সব প্রয়োজন আমাকে দিয়ে পূরণ করে। কলিং বেল বেজে ওঠায় দ্রুত অশ্রু মুছে চুলা কমিয়ে দিয়ে দরজা খুলেই ঈশাণ চক্রবর্তীকে দেখতে পায়,
-ঈশাণ তুমি? তোমার কাজ শেষ? আজ কী কাজ ছিলো?
ঈশাণ মুচকী হেসে,
-দিদি আগে বসতে তো দাও!
-তুমি আমাকে দিদি বললে! এতো বড় সম্মান দিলে আমায়, অন্যরাতো উপহাস করে ঈশাণ! চায়নার কন্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে।
ঈশাণ সোফায় বসে,
-দিদি আজ একটা ছোট মেয়েকে মেরে ফোর করার দায়িত্ব ছিলো, মেয়েটির মায়ের সাথে নাকী অদৈতদার বিরোধ ছিলো।….. এক গ্লাস পানি দাও দিদি।
গ্লাসে পানি ঢালে চায়না,
-মেয়েটির নাম কী নিবেদিতা? মারতে পেরেছো?
-হ্যা নিবেদিতা, মারতে পারিনি, ওরা বাসা চেইঞ্জ করেছে। কিন্তু কিসের বিরোধ দিদি?
-আর কিসের! এ জায়গা, জমি, সম্পত্তি, অস্ত্র, ড্রাগ এসব নিয়েইতো অদৈতর যতো বিরোধ। সবার সাথে ওর বিরোধ। মেয়েটির মা জায়গা দিতে রাজি হয়নি তাই মেয়েকে মেরে প্রতিশোধ।
-মহিলাটিকে তুমি চেন দিদি?
-না অদৈত পরিচয় দিতে চায়না, তুমি বসো ঈশাণ, মাংস মনে হয়ে হয়ে এলো আমি তোমাকে খেতে দিই।
-অদৈত দা এলে একসাথে খাব, কোথায় অদৈত দা?
এ সময় অদৈত ঢুকলো। চলবে………………..

পোস্টটি ৪১৩ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
২ টি মন্তব্য
২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.