শত কোটি গল্পের ভীড়ে
লিখেছেন নাসরিন সিমা, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৪ ১:২৬ অপরাহ্ণ


আনিকা নিজের রুমে শোয়ার বন্দোবস্ত করছে। চোখের আলো ফিরে পেয়ে একয়দিনে বহুবার আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানিয়েছে সে। বালিশে মাথা রাখলো, অমনি মোবাইল বেজে ওঠে। আননোন নাম্বার হওয়ায় রিসিভ করছেনা। কিন্তু বারবার কল দিচ্ছে কোন বিরাম নেই তাই অনিচ্ছা স্বত্তেও রিসিভ করলো, আনিকা কিছু বলার আগেই ওপার থেকে খুব পেরেশানী কন্ঠে,
-আনিকা বলছেন?
-হ্যা আপনি?
-প্লিজ বেশী কিছু জানতে চাইবননা, আমি বলতে পারবোনা। আগামীকাল আপনাকে কিডন্যাপ করার প্লান হয়েছে। আপনি পারলে দ্রুত কোথাও চলে যাবেন। ওপার থেকে লাইন কেটে যায়। আনিকার নড়াচড়া বন্ধ হয়ে গেছে, আতঙ্কে পুরো শরীর পাথরসম হয়ে আছে। সামলে নেয় নিজেকে মণিকার রুমে গিয়ে নক করে। মণিকা ঘুমজড়ানো অবয়বে এগিয়ে আসে, আনিকাকে আতঙ্কিত দেখে মুহুর্তেই ওর ঘুম পালিয়ে যায়,
-কী হয়েছে?
আনিকা মণিকার হাত চেপে ধরে,
– আমার খুব ভয় করছে মণিকা, একজন লোক ফোন করেছিলো, বললো আমাকে নাকী কিডন্যাপ করা হবে।
-মণিকা প্রায় চিৎকার করে,
-কী বলছো কী তুমি?!
-আস্তে ……
মণিকা এবার গলা খাদে নামিয়ে,
-কি বলছো? কে লোকটা? ঘটনা সত্যি হলেতো চাচাকে বলতে হবে।
আনিকার হাত দুটো কাঁপছে, মণিকা বোবা দৃষ্টিতে শান্তণা দেয়ার চেষ্টা করে আসলে মণিকাও ভয় পেয়েছে অত্যধিক, আনিকা কাঁপা কন্ঠে,
-তুই চাচাকে বল মণিকা আমি নাফিজ ভাইয়াকে বলছি………
-কী? ভাইয়া? ওনাকে কেন?
-না মানে ঠিক ভাইয়া না ডঃ নাফিজ। তবে ওনাকে বললে হেল্প পাওয়া যাবে তাই!
-আচ্ছা তাহলে তাই বলো।
আকরাম উদ্দিন ঘটনা শুনেই দ্রুত আনিকার রুমে ঢোকেন, পিছু পিছু মণিকা উদ্বিগ্ন কন্ঠে আকরাম উদ্দিন,
-নাফিজ কি বললো?
-চাচা উনি ফজরের আগে এসে আমাকে নিয়ে যাবেন বলেছেন।
চিন্তিত কন্ঠ আকাম উদ্দিনের,
-নাফিজের সাথে কী যাওয়া ঠিক হবে? ওতো আমাদের কেউ হয়না মা!
-চাচা চিন্তা করোনা উনি আমাদেরকে নিজের বোনের মতো মনে করেন।


বিষন্ন আনিকা খুব চুপচাপ গাড়ীতে নাফিজের পাশের সিটে। ড্রাইভ করছে নাফিজ, আনিকাকে উদ্বিগ্ন দেখে প্রসঙ্গ ঘুরাতে মলিন কন্ঠে,
-আনিকা বাবার ব্যাপারে জানতে ইচ্ছে করেনা?
-হুম করেতো! কিন্তু ইচ্ছেতো সবসময় উপায় হয়ে ধরা দেয়না।
-আনিকা বাবার উদ্যোগেই কিন্তু আমি তোমাদের সাথে পরিচিত হয়েছিলাম, বাবার বন্ধু ইমতিয়াজ আংকেল উনি আমাকে প্রথমে মণিকার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। আর প্রায় দিনই তোমাদের কথা জানতে চান কেমন আছো? কি খাচ্ছ? ঠিকমতো পড়াশুনা করছ কিনা?
আনিকার দৃষটি ভিজে যায়, মন খারাপটা আরো তীব্র হয়, মলিন কন্ঠে,
-ভাইয়া!
নাফিজ চমকে তাকায় আনিকার দিকে, বোনের ডাক বুঝি এমন হয় মুহূর্তেই নিজেকে প্রশ্ণ কে নাফিজ, দরদভরা দৃষ্টি নাফিজের,
-বলো!
-আচ্ছা তোমার মাকে তো  বাবা আে বিয়ে করেছে তাইনা? তাহলে চাচার সাথে তোমাদের পরিচয় নেই কেন? চাচা কী তবে তোমাদের কথা জানেননা?
-এই প্রশ্নটা আমিও পুষে রেখেছি কিন্তু কাউকে করা হয়নি, আসলে এই ব্যাপারে আমি জানিনা।
আনিকার মোবাইল বেজে ওঠে, কাঁপা হাতে রিসিভ করে আনিকা,
-হ্যালো! কে বলছেন?
-আপনি যে গাড়ীতে আছেন সেই গাড়ী এখন কিডন্যাপাররা ফলো করছে, আমি জানতামনা, ওরা গত রাত থেকেই আপনার বাড়ির সামনে পাহারা বসিয়েছিলো। অন্যদিক দিয়ে গাড়ী নিয়ে যেতে বলুন। আচ্ছা আপনি নাফিজকে ফোনটা দিন।
-হ্যা……… কিন্তু…… আচ্ছা দিচ্ছি, ভাইয়া তোমার সাথে কথা বলতে চায়!
নাফিজ গাড়ী সাইড করে মোবাইল হাতে নেয়। শংকিত আনিকা বারবার পেছনে তাকাচ্ছে, ডানে বামে দেখছে। নাফিজ কথা শেষ করেই খুব দ্রুত গাড়ী ঘুরিয়ে খুবই খারাপ একটা রাস্তায় ঢুকিয়ে দেয়। আনিকা সন্দেহের দৃষ্টিতে নাফিজের দিকে তাকায়,
-ঐ ছেলেটাকে তুমি চেন ভাইয়া?
-না পুরো চিনতে পারিনি, তবে গলাটা খুব চেনা চেনা জানোতো!
-কি জানি কীযে হচ্ছে আমার খুবই ভয় করে।
দশ মিনিট পর আবারো বেজে ওঠে আনিকার মোবাইল তবে এবার এস এম এস আার শব্দে, দ্রুত ম্যাসেজ চেক করে আনিকা লেখা আছে, “আপনাদের গাড়ী ওদের দৃষ্টির আড়ালে, প্লিজ দ্রুত পৌঁছতে বলুন”
আনিকা নাফিজকে ম্যাসেজটা দেখায়, দেখে নাফিজ বললো,
-জানিয়ে দাও পৌছে গেছি, বলে গাড়ী ওদের বাড়ির গাড়ী গ্যারেজে ঢুকালো।
আনিকা তাই লিখলো, সংগে সংগে রিপ্লাই আসে ” আলহামদুলিল্লাহ! ”  আল্লাহ আপনাকে নিরাপদে রাখুন”
আনিকা বিস্মিত হয়, অদ্ভুত আচরণ করছে এই যুবকটি, সে কেন এমন করছে? আনিকার মনে প্রশ্ন জাগে, নাফিজ আনিকার দিকে তাকিয়ে মুচকী হেসে,
-এহেম, কী নামতে হবেনা? নাকী কল্পনায় আগন্তুকের ছবি আঁকা শুরু হয়ে গেলো, …………
আনিকা লজ্জায় লাল হয়ে গেলো,
-কী যে বলোনা ভাইয়া! আসে আমি ভাবছি এই লোকটির উদ্দেশ্য কী, অন্য কোন বড় ক্ষতি করার  জন্য এসব করছেনাতো?
নাফিজ মলিন কন্ঠে,
-দুশ্চিন্তা করোনা, এখন বরং নামো চলো উপরে যাই, তবে বাবাকে বুঝতে দিওনা তুমি তাকে বাবা বলে জানো। সিড়ি বেয়ে উঠতেই আনিকা মুখোমুখি হয় ঈমনের, ঈমন হাস্সোজ্জল কন্ঠে,
-এসেছো তাহলে, বাড়িতে বাবাসহ সবাই আনিকাকে দেখবে বলে অপেক্ষায়… নাফিজ তুমি তোমার ভাবীকে একটু দিয়ে এসো ঠিক আছে?
-আচ্ছা ভাইয়া, আনিকা মুচকী হেসে,
-বিয়ে কবে করলেন?
-এইতো এক সপ্তাহ! ঈমন চলে যায়, আনিকা দ্রুত কন্ঠে,
-ঈমন ভাইয়া কী জানে আমাদের কথা?
-না কেউ জানেনা, তুমিও বুঝতে দিওনা প্লিজ!
দীর্ঘশ্বাস ফেলে আনিকা,
-আচ্ছা!
চলবে………………

পোস্টটি ৩৫৭ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
০ টি মন্তব্য

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.