ধারাবাহিক উপন্যাস “নিয়ন্ত্রিত পরিণতি”
লিখেছেন নাসরিন সিমা, এপ্রিল ১, ২০১৪ ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ

নাদিম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে সে খ্রিষ্টান হবে, সেদিন রাজিবের মামার কথা খুব ভালো লেগেছে। উনি বলেছেন, “যিশু খ্রিষ্টানদেরকে অঢেল সম্পদ দান করেন।” নাদিমও পর্যবেক্ষণ করে দেখেছে খ্রিষ্টানদের অনেক ধন সমপদ থাকে, আর মুসলমানদের বেশিরভাগই গরীব ভুখা। পৃথিবীতে যার টাকা নেই তার কোন মূল্য নেই এটাই সত্য, এমন একটা দিন নেই যেদিন টাকার প্রয়োজন ছাড়ায় চলা সম্ভব হয়।
রাজিব নাদিমকে মার্কেটে নিয়ে যাবে বলেছে, কনফারেন্সে উপস্থিতির জন্য, এক লাখের মতো নাকী নাদিমের পাওনা, সত্যিই অবাক হয় নাদিম। রাজিবদের রিলিজিওন প্রিষ্টরা সেন্ট্রালভাবে ঐসব নিয়ন্ত্রণ করছেন। নাদিম পাশের গলিতে গাড়ীর হুইসেল শুনে দ্রুত বের হয়, এতোক্ষণ রেডী হয়ে বসে ছিলো। গাড়ীর কাছে গেলো আর রাজিবের স্বাগত কন্ঠ শুনতে পেলো,
-এসো নাদিম, উঠে এসো।
রাজিবের পাশে আনুকে দেখে ড্রাইভারের পাশের সিটে বসলো নাদিম।
রাজিব মুচকী হেসে,
-নাদিম তোমাকেতো বেশ মানিয়েছে টি শার্টটা।
নাদিমও হাসে,
-থ্যাংকস।
একটু পরে নাদিম,
-পাশের উনি কী তোমার আনু?
-হ্যা নাদিম এই সেই।
আনু লজ্জাজড়িত কন্ঠে,
-রাজিব আপনার কথা খুব বলে, কেমন আছেন আপনি?
-এইতো আছি ভালো, আপনি ভালো আছেন?
-হ্যা আমিও ভালো আছি।

বসুন্ধরা মার্কেটের ভেতরে ঢুকলো ওরা আনু নাদিমের ডানবাহু দুহাতে জড়িয়ে নিলো, নাদিম বিষয়টি খেয়াল করে বিরক্ত হয়,
নাদিমকে লক্ষ্য করে রাজিব,
-কী কিনবে নাদিম?
-অনেক কিছু কিনতে হবে, মায়ের জন্য আগে ভালো কিছু শাড়ী কিনবো, আর একটা টিভি, মা অন্যের বাড়িতে গিয়ে সিরিয়াল দেখে।
অনেক কেনাকাটা করলো ওরা, আনু হঠাৎ রাজিবকে অন্য দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখলো, রাজিবকে ঝাঁকায় আনু,
-রাজিব কী হলো কী দেখছো তুমি?
-ওটা  স্মৃতি না?
আনু তাকায় রাজিবের দৃষ্টি অনুযায়ী,
-হ্যা তাইতো, কন্ঠ উচু করে,
-স্মৃতি, এই, এইযে এদিকে…
স্মৃতি দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসে, ওর বাবা সাইমন চৌধুরী মেয়ের সাথে আসেন।
স্মৃতি মৃদু কন্ঠে,
-আনু তুমি ?
স্মৃতি রাজিব বা নাদিমের দিকে একবারও তাকালোনা, তাকানোর সাহস ওর হয়না।
আনু নাদিমকে পরিচয় করিয়ে দিলো, হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত এগিয়ে দিলো নাদিম, কিন্তু স্মৃতি ইতস্তত করলে সাইমন চৌধুরী,
-ইতস্তত কেন মা? হ্যান্ডশেক করো।
স্মৃতি অবাক হয়ে বাবার দিকে তাকায় তারপরেই কম্পিত হাত এগিয়ে দেয় নাদিমের হাতের দিকে, নাদিম হাত ছেড়ে মুচকী হেসে,
-কেমন আছেন, সেদিন কোচিং সেন্টারে আপনার সাথে কথা হলো তাইনা?
– আলহাদুলিল্লাহ ভালো আছি, হ্যা কোচিংয়ে আমি ছিলাম। আপনি কেমন আছেন?
-ভালো। আমি নাদিম,
ওদিকে সাইমন চৌধুরী রাজিবের সাথে কথা বলছেন, কিছু বিষয় নিয়ে, স্মৃতি বুঝতে পারেনি। নাদিমকে নিজের নামটা বললো।
নাদিম এর হঠাৎ মনে পড়লো সাইমন চৌধুরীকে ও রাজিবদের কনফারেন্সে দেখেছে, উৎসাহিত কন্ঠে,
-উনি আপনার বাবা? সেদিন কনফারেন্সে………
সাইমন চৌধুরী কথা কেড়ে নেন,
-হ্যা হ্যা, ঠিক চিনেছো, তুমি নাদিম না, রাজিবের বন্ধূ?
স্মৃতি অবাক কন্ঠে,
-বাবা তুমি দুজনকেই চেনো? কিভাবে?
-পরে বলছি মা, আমি এবার আসছি রাজিব, সময় নেই।
রাজিবের হাস্সোজ্জ্বল কন্ঠ,
-জি আংকেল, বাই।
স্মৃতি আনুর নির্লজ্জতা খেয়াল করে অনেক আগে থেকে নিজেই লজ্জা পেয়েছে, কারণ সাইমন চৌধুরীর সামনেও রাজিবকে ঠিক সেভাবেই জড়িয়ে ছিলো। আরও একবার পেছনে ফিরে ওর অধপতন অবলোকন করলো।
অজান্তেই সামনে মুখ ফেরানোর ঠিক আগেই নাদিমের সাথে দৃষ্টি বিনিময় হয়ে যাওয়ায় দ্রুত সামনে তাকায় স্মৃতি।
বাবার পাশে গাড়ীতে বসে স্মৃতি মাথা নিচু করলো,
-বাবা তুমি আমাকে হ্যান্ডশেক করতে বললে কেন? এটা তো ঠিক হলোনা বাবা।
-মা তুমি আধুনিকা, একথা বলা কী তোমাকে মানায়? আর কাল থেকে দেখছি মাথা ডেকে বাইরে বের হচ্ছো তোমার কী হলো স্মৃতি? মানুষ তোমাকে ব্যাকডেটেড বলবে মা।
স্মৃতির আশ্চর্য হওয়া সাইমন চৌধুরীর দৃষ্টি এড়ায়না,
-আমি সত্যি বলছি স্মৃতি, দুনিয়াতো দুদিনের এখানে আনন্দ, ফুর্তি করা উচিত, ইচ্ছেমতো ঘোরো, খাও আর যতো পারো ষ্টাইল করো।
-বাবা তুমি একথা বলছো, কিন্তু রুবিনা আপু যে………
রেগে যান সাইমন চৌধুরী,
-ঐ থার্ড ক্লাস মেয়ের সাথে একদম মিশবেনা, কোন কথা শুনবেনা।
বাবাকে রেগে যেতে দেখে চুপ হয়ে যায় স্মৃতি, গাড়ী নিজের গতিতে চলতে থাকে, আর স্মৃতি বাবার বলা কথাগুলো ভাবতে থাকে, খুব আকর্ষণীয় কথাগুলো, কিন্তু বাস্তব সৌন্দর্য যে এর মধ্যে নেই তা স্মৃতি খুব ভালো ভাবে জেনে গেছে। বাবার কর্কশ কন্ঠ শুনে চমকে ওঠে স্মৃতি,
-ড্রাইভার গাড়ী দ্রুত চালাতে পারোনা?
স্মৃতি বাবার এ পরিবর্তন আজই লক্ষ্য করলো ওর বাবা এভাবে অযথা কখনো রাগ করতোনা, কাউকে ভুল করলেও ধমক দিতনা।
মৃদু কন্ঠ স্মৃতির,
-বাবা ডেভিড কে?
-আমার বন্ধু কেন? ও তোমাকে ফোন করেছিলেন তাই বলছো?
-হ্যা বাবা।

বাসায় পৌঁছে শপিং ব্যগ ড্রয়িং রুমের ছোফায় ছুড়ে দিলো স্মৃতি, এরপর ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে মায়ের কাছে গেলো, সন্ধা পেরিয়ে গেছে মায়ের চিন্তত মুখ দেখে অবাক হয়ে,
-মা কী চিন্তা করছো?
-তোমার বাবা আসলোনা?
-না বাবার বিজনেস মিটিং আছে, তুমি জানোনা, বাবা আমাকে গেটে নামিয়ে চলে গছেন।
– অ কী কিনেছো?
-দেখাবো মা?
-না তুমি পড়তে বসো নাস্তা নিয়ে আসছি আর ওগুলো পরে আমি দেখে নেবো।
-আচ্ছা মা ঠিক আছে ।
রুমে ঢোকার আগে ড্রয়িংরুমের বুকসেলফে অর্থসহ কুরআনের দশটি খন্ড দেখে,
-রুবিনা আপু এসেছিলো?
-হ্যা তোমার জন্য কুরআন গিফট করে গেছে, আর প্রতিদিন পড়তে বলেছে।
-হ্যা মা পড়বো, পড়া দরকার, আমার রুমের বুক সেলেফ রাখি মা?
-তাই করো, আমিও তাই ভাবছিলাম।
স্মৃতি নিজের রুমে ঢুকলো।চলবে……

 

পোস্টটি ৩০৮ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
০ টি মন্তব্য

Leave a Reply

Be the First to Comment!

Notify of
avatar
wpDiscuz