ধারাবাহিক উপন্যাস “নিয়ন্ত্রিত পরিণতি”
লিখেছেন নাসরিন সিমা, এপ্রিল ৬, ২০১৪ ৮:৩৯ অপরাহ্ণ

১৯ – শেষ পর্যন্ত

সাইমন চৌধুরী ভাই আকমল চৌধুরীর কুড়েঘরে মাথা নিচু করে বসে আছেন। সুফিয়া চৌধুরী ভেতরের যন্ত্রণার কথা গুলো শেষবারের মতো বলছেন। সেখানে আকমল চৌধুরী আর তাদের বৃদ্ধ পিতাও বসে আছেন। সুফিয়া চৌধুরী দৃঢ় কন্ঠে, -আমি চলে যাবো বাবা, এভাবে বিধর্মীর সাথে থাকা যায়না, আমার মেয়েটার জীবন আজ বিপন্ন, কী করা উচিত ভেবে পাচ্ছিনা। আপনি পারলে এক কাজ করুন আপনার ছেলেকে ফিরে আসতে বলুন। অর্থ সম্পদ দুনিয়াতে কিছুইনা, যার আছে সে ফুর্তি করে যার নেই সেও চলতে পারে কিন্তু। আমি মেয়েটার মৃত্যুর খবর শোনার জন্য অপেক্ষায় আছি, কারণ এর চেয়ে ভালো কোন চিন্তা আমার মাথায় নেই। গর্জে উঠলেন বৃদ্ধ খাইরুল চৌধুরী, -থামো বৌমা, স্মৃতির কিছুই হবেনা, ওর কিছু হতে পারেনা কোন নরাধম নপুংশক শয়তানের জন্য ঐ নিষ্পাপ মেয়েটার কিছু হতে পারেনা। ঐ অর্থলোভীকে বলে দাও, আমার সম্পদে, আমার পিতৃত্বে, আমার মমতায় ওর বিন্দুমাত্র ভাগ আমি রাখিনি। -আর তুমি কোথায় যাবে বৌমা? তুমি কোথাও যাবেনা গেলে ও যাবে। বড় সন্তান হিসেবে অনেক আদর করে মানুষ বানিয়েছিলাম, শিক্ষাজীবনের পুরোভাগ শেষ করিয়েছি, কিন্তু না সে শিক্ষা ওর কাজে লাগেনি, মানুষ না হয়ে জানোয়ার হয়েছে। অন্যরা গাধা, অর্ধ শিক্ষিত, কিন্তু এদের মন এতোটা নোংরা নয়। সাইমন চৌধুরী রাগে গজগজ করছেন কিন্তু কিছুই বলছেননা, চুপচাপ হজম করছেন কথাগুলো, আকমল চৌধুরী বাবার পাশে এসে, -থাকনা বাবা এভাবে আর বলোনা, ভাইকে চিন্তা করার সুযোগ দাও। সাইমন চৌধুরী কর্কশ কন্ঠে, -দয়া দেখাচ্ছিস না? দয়া……..ভিখারী কোথাকার। খাইরুল চৌধুরী, -আরে তোর সাহস তো কম না যে ভাইকে নিজের বাড়ি থেকে ভিখারী বলে তাড়িয়ে দিয়েছিলি, আজ তারই বাড়িতে বসে থেকে তার সাথেই উঁচু গলায় কথা বলছিস। ২৪ ঘন্টা সময় দিলাম এর মধ্যে নিজেকে বদলাতে পারলে ভালো নয়তো তোর মুখ আমাকে দেখাবিনা। চলে গেলেন খাইরুল চৌধুরী, নিজের বাড়ির দিকে পিছু পিছু সুফিয়া চৌধুরী। বৃদ্ধ একাকী থাকা পছন্দ করেন, ছেলেদের ঘর থেকে পালাক্রমে তিনবেলা খাবার আসে, মেয়েরাও মাঝে মাঝে পাঠায়, পাশে দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। খাইরুল চৌধুরী বড় বৌমাকে লক্ষ্য করে, -বৌমা তুমি ঐ পাশের রুমে থাকবে, আমরা বাবা মেয়ে মিলে বাকী জীবন কী কাটাতে পারবোনা? বিমর্ষ সুফিয়া চৌধুরীর দুচোখ বেয়ে অশ্রু ঝরতে লাগলো, -বাবা তা হয়তো পারবো, কিন্তু আমার মেয়েটার কী হবে বাবা? -মোবাইলে যোগাযোগ করো, এক সপ্তাহ আগেইতো আমরা সবাই কথা বললাম…… -হ্যা বাবা কিন্তু তিনদিন ধরে ওর মোবাইল বন্ধ, ওকে পাওয়া যাচ্ছেনা। আকস্মিক শংকায় কেঁপে উঠলেন বৃদ্ধ, -কী!? -হ্যা, স্মৃতি ঢাকায় কাউকে যেতে নিষেধ করেছে, ও বলেছে ঢাকায় কেউ গেলে তাকেতো আটকাবেই সাথে স্মৃতিকে মেরে ফেলবে বাবা।! -তাহলে? -বাবা নাদিম নামে একটা ছেলের সাথে যোগাযোগ করতে পারলে হয়তো কিছু খবর পাওয়া যাবে, কিন্তু ওর নাম্বারটা আমার কাছে নেই তবে রুবিনাকে ফোন করলে হয়তো পাওয়া যাবে, ফোন করবো বাবা? -হ্যা করো বৌমা, যে ভাবে পারো খোঁজ নাও। রুবিনার সাড়া পেয়ে সুফিয়া চৌধুরী, -কেমন আছো রুবিনা? -আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আন্টি আপনি কেমন আছেন? -এইতো মা…… তুমি কী স্মৃতির কোন খবর জানো? একটু ইতস্তত করে রুবিনা, কারণ ও প্রায় সবটায় জানে, -হ্যা আন্টি, সমস্যা নেই ও ভালো আছে আপনি চিন্তা করবেননা আমি সব খবর জানাবো। -স্মৃতির মোবাইল বন্ধ, তুমি একটু নাদিমের নাম্বারটা আমাকে দিওতো মা। -হ্যা আন্টি নিন, আর আপনি শুধু দোয়া করেন, ওকে ওখান থেকে বের করে আনা হবে ইনশাআল্লাহ। আন্টি নাম্বারটা নিন। মোবাইল রেখে আশ্বস্ত হলেন সুফিয়া চৌধুরী, লাউড স্পিকার থাকায় খাইরুল চৌধুরী সব শুনেছেন। -বৌমা মেয়েটি কে? – আমরা যে বিল্ডিংয়ে ছিলাম ওরা ওখানে থাকে। ২০ সাইমন চৌধুরীর কুড়েঘর। খড়ের চালের কিছু অংশ খসে যাওয়া, যেখানে আলাদা করে বৃষ্টির পানি ছুঁতে বাইরে যেতে হতোনা, যেখানে ঐশ্বর্য ছিলোনা। রং আর আলোর ছড়াছড়ি না থাকলেও অন্ধকার ছিলোনা। আজ সেখানে ফিরে এসেছেন সাইমন চৌধুরী। কিন্তু একা, বড্ড একা কেউ নেই ওনার পাশে, যারা ছিলো তারা খুব দুরে চলে গেছে, চারপাশে অসহায়ের মতো তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছেন, খুব কষ্ট হচ্ছে সাইমন চৌধুরীর। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে চারটি নাম উচ্চারণ করলেন, -সুফিয়া, সবুজ, স্মৃতি, শান্তা…।। হঠাৎ করে শব্দ করে কাঁদতে নিয়ে মুখে ধুলোবালি পড়া নোংরা বালিশ চাপা দিলেন। ও ভাবেই কাঁদলেন অনেকটা সময় ধরে, এরপর মনকে শান্ত করে মনে মনে একটা সিদ্ধান্ত নিলেন, আর স্মৃতির নাম্বারে কল করলেন, কিন্তু ওর নাম্বার বন্ধ পেয়ে ওনার অন্তরে মোচড় দেলো, রাজিবের নাম্বারে ট্রাই করলেন কিন্তু ওটাও বন্ধ। ভাবলেন সাইমন চৌধুরী ডেভিডকে কল দিলে বোকামী হয়ে যাবেনাতো, কিছু ভেবে না পেয়ে নাদিমকে কল করলেন, ওপারের সাড়া পেয়ে, -নাদিম! -জ্বি কে বলছেন? -সাইমন চৌধুরী বলছি, স্মৃতির বাবা। -জ্বি জ্বি বলুন কী ব্যাপার? -আমার মেয়েটাকে কিভাবে ওদের হাত থেকে বাঁচানো যায় পরামর্শ দাও, আমি অসহায়…… -আপনি চিন্তা করবেননা আংকল ও নিরাপদেই আছে,থাকবে। -তবে সব কিছুর জন্য আপনি দায়ীতো, না আমি ঠিক সেভাবে বলতে চাইনি, ওরা আপনাকে হাত করেছে আর তা খুব ভালোভাবেই। তবে চিন্তা করবেননা  স্মৃতি বা অন্য কোন বন্দীর বিন্দুমাত্র ক্ষতি হলে দেশের অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে। আর এটা করবে সাধারণ জনগন। আর আপনি……… -আমার কথা বাদ দাও নাদিম, আমার মেয়েটাকে বাঁচিয়ে তুমি বিয়ে করো বাবা, ও তোমাকে……।। হঠাৎ করে লাইন কেটে গেলো সাইমন চৌধুরীর মোবাইলে লেখা উঠেছে ” নো নেটওয়ার্ক কভারেজ” মোবাইল রেখে দিলেন সাইমন চৌধুরী, ওনার হঠাৎই স্মৃতির বলা কথা মনে পড়লো ” বাবা তোমাকে কতটা নির্লজ্জ মনে হচ্ছে তা যদি টের পেতে তাহলে এই লজ্জায় তোমার মরে যেতে ইচ্ছে করতো।” মনে পড়লো বাবা খাইরুল চৌধুরীর কথা “২৪ ঘন্টার মধ্যে নিজেকে বদলাবী নয়তো তোর মুখ আমাকে দেখাবিনা।” মনে পড়লো সুফিয়া চৌধুরীর কথা “এভাবে বিধর্মীর সাথে থাকা যায়না বাবা”। কথা গুলো এখনও যেন সাইমন চৌধুরীর কানে শেলের মতো বিধছে। সাইমন চৌধুরী কিছুক্ষণ আগে কেরোসিন আর দিয়াশলাই কিনে এনেছিলেন সেটার দিকে তাকালেন একবার, এবার কেরোসিন মাথায় ঢেলে দিলেন, ভিজে গেলেন কিছু কিছু। একটা কাঠি নিয়ে জ্বালিয়ে দিলেন মাথায়। চুল থকে পুরো শরীর ছড়িয়ে পড়লো আগুন, চিৎকার করলেননা সাইমন চৌধুরী শুধু যন্ত্রণায় লাফাতে থাকলেন। একপর্যায়ে তার সমস্ত নড়াচড়া বন্ধ হয়ে গেলো। এরপর আগুন ছড়িয়ে পড়লো পুরো বাড়িটিকে পোড়াতে। বাইরে থেকে একজন বালক আগুন আগুন বলে চিৎকার করতে থাকলো, আশে পাশে অনেক মানুষ জমা হলো সাথে সুফিয়া চৌধুরী খাইরুল চৌধুরী সহ তার ছেলেমেয়েরা। প্রায় অর্ধেকটা পুড়ে গেছে বাড়িটির সবাই মিলে পোড়ানোর চেষ্টা করে নেভাতে সক্ষম হলো। আর সবকিছুর সাথে সাইমন চৌধুরী ছাইয়ের স্তুপ হয়ে গেছেন। আকমল চৌধুরী দেখেছিলেন, সাইমন চৌধুরী তখন রাগ করে এসে এই বাড়িতে ঢুকেছিলেন। হঠাৎই চমকে উঠে, -বাবা ভাইকে এখানে ঢুকতে দেখেছিলাম!       আকস্মিক বেদনার কথা শুনে খাইরুল চৌধুরী যেন বাক হারিয়ে ফেললেন, সুফিয়া চৌধুরী জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেলেন, কিন্তু খাইরুল চৌধুরী কান্নাজড়িত কন্ঠে বললেন, -এ কুল ও তুই হারালি ও কুলও কী শান্তণা নিয়ে বাঁচবো, না পারলি দুনিয়ার প্রাচুর্য নিয়ে বাঁচতে, না পারলি মুসলিম হয়ে আখিরাতের প্রাচুর্যের জন্য কাজ করতে। কী হবে তোর……… আকমল চৌধুরীর স্ত্রী আর বোনরা কাঁদতে কাঁদতে সুফিয়া চৌধুরীকে ধরে উঠিয়ে নিয়ে গেলো বাড়ির দিকে। আর গ্রামের অন্য লোকজন সাইমন চৌধুরীর দেহ সনাক্ত করলো। ২১   সাইমন চৌধুরীর মৃত্যুর চারদিন পেরিয়ে গেছে, নাদিমের কাছে এই খবরটি ছিলো, পরবর্তী খবর জানতে নাদিম কল করলো সুফিয়া চৌধুরীর নাম্বারে, সাড়া পেয়ে, -জ্বি আমি নাদিম বলছিলাম……… আকমল চৌধুরীর স্ত্রী ফোনটা ধরেছিলেন, দিয়ে দিলেন আকমল চৌধুরীকে, উনি হাতে নিয়ে, -হ্যা বলো চিনতে পেরেছি, আমি ওনার দেবর বলছি। -ওনাকে কী দেয়া যাবে? -না উনি…… -আসলে স্মৃতির ব্যাপারে কথা ছিলো, ওর সাথে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে, আমরা একটা রিসক নিতে চাচ্ছি এতে উভয় সম্ভাবনা রয়েছে……… -নাদিম, ভাইয়া মারা যাবার পর ভাবী অজ্ঞান হয়ে যান, সেই জ্ঞান আর ফেরেনি গতকাল উনিও মারা গেছেন। নাদিম কথা বলার মতো ভাষা খুঁজে পেলোনা। কথা বলে গেলেন আকমল চৌধুরী, -বাবা তুমি আমাদের জন্য এতো কিছু কেন করছ জানিনা, আমরা গরীব ভূখা মানুষ, স্মৃতি আমাদের খুব আদরের, ওর ক্ষতি হওয়ার মতো কোন রিসক নিয়োনা।  আমরা ওকে অক্ষত অবস্থায় ফেরত চাই বাবা, বিনিময়ে তুমি যা চাইবে তাই পাবে, আমরা এখানে থেকে কিছুই করতে পারছিনা……… -চাচা প্লিজ অধৈর্য হবেননা, আমরা আন্দোলন করছি করবো, স্মৃতির ব্যাপারে হালকা হালকা তথ্য পাচ্ছি, একজনকে সেট করা আছে, রোজারিও লজের পাশে থেকে সে সব জানার চেষ্টা করছে, ওকে আমরা মিছিল মিটিংয়ে ডাকিনা। -খুব ভালো কথা, আমি বলতে চাচ্ছিলাম কী একবার রাজিবের সাথে আমরা যদি কথা বলতে পারতাম……… -হ্যা চাচা রাজিবের সাথে কথা বলাতেই উভয় সম্ভাবনা রয়েছে। আকমল চৌধুরী কথা শেষ করে বাবা খাইরুল চৌধুরীকে সবটা জানালেন, তিনি দীর্ঘ শ্বাস ফেললেন, বললেন, -আল্লাহর উপর ছেড়ে দাও আকমল, মেয়েটার কোন ক্ষতি আল্লাহ হতে দেবেননা, বাবা মাকে হারিয়ে যে ক্ষতি ওর হয়ে গেলো, এর চেয়ে বড় ক্ষতি থেকে আল্লাহ ই ওকে বাঁচাবেন।      চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার বৈঠক চলছে রোজারীও লজে। স্মৃতি বন্দী আছে রাজিবের ঘরে। বৈঠক বসেছে হলরূমে, তবে উপস্থিতি খুব বেশী নয়, দেশের শীর্ষ জন্মগত খ্রিষ্টানদের নিয়ে চলছে বৈঠক, ডেভিড ডি কষ্টা প্রধান অতিথীর চেয়ারে পাশে রাজিব। ওর পরণে গাঢ়ো নীল কালারের ব্লেজার। হ্যান্ডসাম, প্লেবয় রাজিবের মুখমন্ডলে অসাধারণ ব্যক্তিত্ব শোভা পাচ্ছে। আনুর হাজব্যান্ড রিকো জেফারসন আনুর হাত ধরে প্রবেশ করলো। বৈঠক শুরু হলো, প্রথমত আন্দোলনের কথা দিয়ে শুরু হলো। রাজিব কিছু পয়েন্ট লিখে সবার সামনে তুলে ধরতে বললো ডেভিড ডি কষ্টাকে। ডেভিড ডি কষ্টা সেগুলোই বললেন, -*যা কিছু করতে হবে এক সপ্তাহের মধ্যে। -*মুসলমানদের আন্দোলন থামাতে সরকারের সাথে আঁতাত করতে হবে, যা কিছুটা সম্ভব হয়েছে। -*আন্দোলনের প্রধান নাদিম, ইমরাণ আর আকরামকে হত্যা করতে হবে। -*সাইমন চৌধুরীর মেয়ে সহ সকল বন্দীকে ক্রুশবিদ্ধ করে মেরে ফেলা হবে। -*নিজেরা আটকে গেলে বের হওয়ার পথ না থাকলে, সায়েনাইড রিং চুষে আত্মহত্যা করতে হবে, তবুও মাথা নত করা যাবেনা। থামলেন ডেভিড ডি কষ্টা। রাজিব এবার ঘোসনা করলো উপস্থিত প্রত্যেকের বর্তমান অবস্থান বর্ণনা করার কথা। রিকো জেফারসন নিজের জায়গা থেকেই, -আমি মিশন স্কুল তৈরীর প্লান করেছি এই এলাকাতেই। এভাবে সবাই নিজেদের অবস্থান বর্ণনার পর বৈঠক শেষ হলো। বৈঠক শেষে সবার উদগ্রীব বাসনা স্মৃতিকে ক্রুশে বিদ্ধ করে কীভাবে মারা হবে। রাজিব দ্রুত পায়ে বন্ধ দরোজার দিকে গেলো, দরোজা খুলে যা দেখলো তাতে চিৎকার করে, -এটা কী করে হলো! ওর একথা শুনে সবাই হলরূম থেকে রাজিবের রুমে আসলো, সবারই চোখ ছানাবড়া, স্মৃতি রুমে নেই। ডেভিড ডি কষ্টা গর্জে উঠলেন, -রাজিব এটা কী করে হলো তুমি খেয়াল রাখোনি? ফ্রিডো কোথায়? -ও নেই! -ও মাই গড সব ভেস্তে গেলো এখন উপায়? আনু রিকোর কানে কানে, -আমি অনুমান করছি স্মৃতি একা পালায়নি। মাথায় হাত দিয়ে সোফায় বসে পড়লেন ডেভিড ডি কষ্টা, -চারেদিকে লোক লাগাও, খুঁজে পাওয়া মাত্রই খবর দিতে বলবে, তুমিও বেরিয়ে পড়ো রাজিব, আমি দেখছি ওদিকে অন্য বন্দীদের কী অবস্থা! আর আপনারাও খেয়াল রাখবেন প্লিজ! এখন আসুন। সবাই চলে গেলো। রাজিব গাড়ী নিয়ে বেরোনোর সাথে সাথে রোজারিও লজের দেয়ালের সাথে সেঁটে দাড়ানো আকরাম ফোন করলো নাদিমের নাম্বারে, -হ্যা নাদিম রাজিবের গাড়ী বেরিয়ে গেলো, রাজিবের মুখ দেখতে পাইনি গ্লাস উঠানো ছিলো। অন্যরা যারা বেরিয়ে গেছে তাদেরকে চিন্তিত ও বিমর্ষ মনে হয়েছে, আচ্ছা সম্ভবত ডেভিড ডি কষ্টা আসছেন আমি আড়াল হই। ২২ ফ্রিডো স্মৃতির মাথার কাছে বসে আছে। ওকে এখানে অজ্ঞান করিয়ে আনা হয়েছে, সিঙ্গল এক চৌকিতে শোয়ানো হয়েছে। তবে স্মৃতি খুবই কাহিল নিয়মিত খাবার না খাওয়া, টেনশান সব মিলে খুব দুর্বল স্মৃতি, জ্বরও আছে। ফ্রিডোর মা তাজমা বেগম মাথায় জল পট্টি দিচ্ছেন। ফ্রিডো মৃদূ স্বরে, -ওরা আমার নাম রেখেছিলো ফ্রিডো। -কিভাবে পালাতে পারলে? -একটু পরই জানতে পারবে মা, তবে আমি ছোট বলে আমাকে খ্রিষ্টান বানায়নি, আঠারো বছর হলে ……… -তবুও ভালো তুমি ফিরে এসেছো। -হ্যা তোমার কাছে ফিরতে পেরেছি মা! মাকে জড়িয়ে ধরে ফ্রিডো (ফরহাদ)ওর মা কেঁদে ফেলেন, ফরহাদও অশ্রু ফেলে। ছোট্ট একটা বস্তি ঘর এটা। এখানেই ছেলের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করেছেন তাজমা বেগম। স্বামী ছেলেকে ডেভিড ডি কষ্টার কাছে বিক্রি করে দিয়ে কোথায় যেন হারিয়ে গেছেন। অনেক্ষণ কাঁদলেন তাজমা বেগম। এলাকাটি শিল্পপতিদের তেমন পরিচিত নয়। ঢাকার কদমতলী থানার ভেতরে ছোট্ট এক বসতি স্থাপনা। এখানে গাড়ী থেকে নামিয়ে দিয়ে গেছে কেউ একজন। শুধু ফরহাদ জানে কে সে। মাকেও বলেনি ফ্রিডো বলতে মানা আছে। তবে তাজমা বেগম স্মৃতির এই দুর্বল পরিস্থিতিকে ১০০% সহমর্মিতার সাথে দেখেছেন। কারণ তিনবছর ধরে ছেলেকে ছাড়া কত কষ্টে ছিলেন তা একমাত্র তনিই জানেন। গভীর রাত। জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে স্মৃতির পুরো শরীর, তবে জ্ঞান ফিরেছে। খুব ক্ষীণ কন্ঠ হয়ে গেছে ওর, -পানি, পানি খাব। মা তুমি কোথায় মা! কোন জবাব আসেনা, তাজমা বেগম অনেকদিন পর আজ ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়েছেন গভীর ঘুম। ছেলেও প্রশান্তিতে ঘুমাচ্ছে। আবারো বলে স্মৃতি, -পানি খাবো।পানি পানি। তাজমা বেগম হঠাৎ জেগে গেলেন, পানি খাব শুনে নয় দরোজা ধাক্কানোর শব্দে। ফ্রিডোও জেগে গেলো, ও বুঝতে পেরেছে কে এসেছে। ও দরোজা খুলে দিলো। মৃদু পায়ে ভেতরে ঢুকলো লোকটি, স্মৃতিকে পানি খাইয়ে দিয়ে, -আলহামদুলিল্লাহ হি রব্বিল আলামীন;আর রাহমানির রাহীম;মালিকিয়্যাও মিদ্দীন; ইয়্যাকানা’বুদু ওয়া ইয়্যা কানাসতাঈন, ইহ্ দিনাস সিরাতোয়াল মুস্তাকিম। স্মৃতি মনোযোগ দিয়ে শুনছে কন্ঠটি খুব পরিচিত। চেনার চেষ্টা করছে, চোখ খুলে দেখার চেষ্টা করছে, -কে? -চিনতে পারছনা? -না! – আলো জ্বালাবো? তোমার কষ্ট হবেনা? -না লাইট জ্বালিয়ে দিয়ে ফ্রিডো আর ওর মা বাইরে বের হয়ে গেলো। স্মৃতির সম্পুর্ণ দৃষ্টি স্থীর হলো সেই মুখটিতে, যে মুখমন্ডল প্রথমবার দেখার পর দৃষ্টি ফেরাতে কয়েক সেকেন্ড সময় লেগেছিলো, এতো সেই মুখ। আরো উজ্জ্বল, স্মৃতির মনে হলো জ্বরের ঘোরে ভূল দেখছে। প্রশ্ণ নিয়ে তাকিয়ে আছে স্মৃতি, দেখছে তার চোখ দুটো ছলোছলো করছে, স্মৃতির মাথার কাছে বসে, -আমি স্মৃতি! তুমি ভুল দেখছনা, ভূল শোননি, সত্যি বলছি আমিই! উঠে বসতে চায় স্মৃতি কিন্তু থামিয়ে দেয়, বিস্ময়ের পরিমান এতো বেশী যে মূহুর্তের মধ্যে জ্বর পালিয়ে গেলো, অষ্পস্ট স্বর স্মৃতির, -রাজিব! আবেগে আপ্লুত রাজিব সম্মতি সূচক মাথা নাড়ালো। আর বললো, -“হে ঈসা আমি তোমাকে ফিরিয়ে নেবো, আর যারা অস্বীকার করেছে তাদের থেকে(অর্থাৎ তাদের সঙ্গ এবং তাদের পুতিগন্ধময় পরিবেশে তাদের সঙ্গে থাকা থেকে)। তোমাকে পবিত্র করে দেবো এবং যারা তোমাকে অস্বীকার করেছে তাদের উপর তোমার অনুসারীদের প্রাধান্য দান করবো। তারপর তোমাদের সবাইকে অবশেষে আমার কাছে ফিরে আসতে হবে, সে সময় আমি তোমাদের মধ্যে যেসব মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে সেগুলোর মিমাংসা করে দেবো।” সুরা আল ইমরান আয়াত-৫৫ স্মৃতি অবাক হয়ে শুনছে রাজিব পুরোটার আরবী সহ মুখস্থ বলেছে, রাজিব বলেই চলেছে, -“এই আয়াত ও জ্ঞান গর্ভ আলোচনা আমি তোমাকে শুনাচ্ছি, এজন্য যে, আল্লাহর কাছে ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের মতো। কেননা আল্লাহ তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেন এবং হুকুম দেন হয়ে যাও আর তা হয়ে যায় এ প্রকৃত সত্য তোমার রবের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কাজেই তুমি সন্দেহ কারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়োনা।” আল ইমরান(৫৮-৬০) থামলো রাজিব। ওর দুচোখে অশ্রু ঝরছে, স্মৃতিও কাঁদছে, আনন্দে, -আপনি মুসলমান হয়েছেন? ছোট্ট শিশুটির মতো হ্যা সূচক মাথা নাড়ালো রাজিব। -কবে? -এক সপ্তাহ আগে। -তাই? কিন্তু গত সপ্তাহেওতো আমার সাথে খারাপ ব্যাবহার করলেন? -হ্যা ওটা মামাকে দেখানোর জন্য। -আমাকে এখানে কে দিয়ে গেছে? -আমি, তোমাকে দিয়ে আবার ঐ চুড়ান্ত বৈঠকে গিয়ে আ্যাটেন্ড করেছিলাম। উপস্থিত না থাকলে সন্দেহ করতো। -ফ্রিডোর হাতে মাঝে মাঝে খাবার পাঠাতেন কী আপনি? -হুম! নাদিমের নাম বলতাম তুমি যেন বুঝতে না পারো। -অ! কে কে জানে আপনি মুসলমান হয়েছেন? -শুধু নাদিম। আর কিছু বলেনা স্মৃতি, রাজিবই বলে ওঠে, -ভোর হওয়ার আগেই আমাদের অন্য কোথাও চলে যেতে হবে আপাতত সবার চোখের আড়লে থাকতে হবে। কোথায় যাওয়া যায় বলোতো? -আমাদের গ্রামর বাড়িতে। রাজিব মলিন কন্ঠে, -একটা কথা বলবো? -হ্যা অবশ্যই। -স্মৃতি আমিতো তোমাকে প্রায় প্রতারণা করে বিয়ে করেছি তুমি চাইলে অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারো। মাথা নিচু করলো স্মৃতি, কিছুক্ষন চুপ থেকে, -আমি আপনাকেই বিয়ে করবো! রাজিব আনন্দে উঠে দাড়িয়ে স্মৃতির দিকে এগিয়ে গিয়ে আবার একটু পেছনে আসে, -আমাদের কী নতুন করে বিয়ে করতে হবে? -হ্যা করা দরকার। রাজিব এদিক ওদিক তাকিয়ে ফরহাদকে না দেখে, -ফ্রিডো……ওহ সরি ফরহাদ। স্মৃতি অবাক কন্ঠে, -ওর নাম ফরহাদ!? -হ্যা ওতো ফরহাদ। ফরহাদ এগিয়ে আসে, -চলে যাবেন স্যার? -হ্যা, তবে তোমরা গ্রামের বাড়ী চলে যাও ভোরে একটা গাড়ী আসবে সেটাতে উঠে মাকে নিয়ে যাবে ঠিক আছে? আর এই নাও এখানে কিছু টাকা আছে এগুলো তোমার জন্য। -ঠিক আছে স্যার। তাজমা বেগম আনন্দিত কন্ঠে, -আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। -আসছি আল্লাহ হাফেজ। স্মৃতি ও বিদায় নিলো ওদের কাছে, রাজিব মোবাইল হাতে নিয়ে কল করলো, ওপারের সাড়া পেয়ে, -নাদিম ভালো আছো? -হ্যা আলহামদুলিল্লাহ! নও মুসলিম বন্ধু আমার! কেমন আছো রাজিব? আরস্ মৃতি কী বললো? -ও মুক্তি চায়না। মলিন হয়ে গেল নাদিমের কন্ঠ, -তাই! একটু থেমে আবার আগের মতো স্বাভাবিক কন্ঠে, -তোমাদের বিয়ে পড়ানোর জন্য কাজী, আর আমি সহ চারজন স্বাক্ষী আসছি। তুমি কী স্মৃতিকে ওর মা বাবার কথা বলেছ? -না বলিনি। যাওয়ার পরেতো জানতে পারবেই। -হ্যা । তোমরা কোথায়? -খুব দ্রুত ঢাকা ছাড়ছি, মামা ক্ষেপেছেন, তোমরাও এসো স্মৃতিদের গ্রামের বাড়ী যাবো? -কোথায়? -ফরিদপুর, আমি গাড়ী নিয়ে ওয়েট করছি তোমরা এসো, সবচেয়ে আগে বিয়েটা সারতে চাই। -ও কে। শেষ পর্ব বিয়ে পড়ানো হয়ে গেছে। কথা চলছে বাংলাদেশের অবস্থা নিয়ে, গাড়ীতেই সবাই, স্মৃতি সাধ্যমতো নিজেকে ঢেকে নিয়েছে, যে অবস্থা থেকে উঠে এসেছিলো, তাতে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ চলছিলো। রাজিব ড্রাইভিং সিটে পাশে স্মৃতি পেছনে ওরা তিনজন। আকরাম মৃদু কন্ঠে, -আমরা তো আড়াল হচ্ছি কিন্তু অন্যদের কী হবে, বন্দী আছে যারা…… রাজিব দৃঢ় কন্ঠে, -ওরা নিজেরাই ভয়ে আছে, আর ওদের টার্গেট তোমরা তিনজন, আন্দোলনের স্বার্থেই তোমাদেরকে বাঁচতে হবে, ……… নাদিম কথা বলে উঠলো, -না সেটা না রাজিব, আসলে এখন যে পর্যায় চলছে তাতে বন্দীদেরকে আগে আড়াল করা দরকার ছিলো। রাজিব মুচকী হেসে, -আর কোন বন্দী নেই নাদিম, সবাইকে ছেড়ে দিতে বলেছি, আর এখন আমি ঢাকা ছাড়ছি তার কারণ হলো, যার সাথে প্রতারণা করেছি তাকে তার আত্মীয় স্বজনদের কাছে নিয়ে গিয়ে অক্ষত দেখানোর জন্য। -অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেছে শুধু আমার জন্য, আমার যে কী শাস্তি হবে…… নাদিম শান্তনার সুরে, -মুসলমান হবার পর তোমার পেছনের সমস্ত গুণাহ মাফ হয়ে গেছে, একটু থেমে অন্য যাদেরকে খ্রিষ্টান বানিয়েছো তাদের ব্যাপারে কী করবে? -তাদেরকেও ফিরাবো। স্মৃতি মলিন কন্ঠে, -আমি আপনার সাথে থাকবো। মা জানলে কী যে খুশি হবেন, আমি ভাবতে পারছিনা। রাজিব স্মৃতির মুখের দিকে তাকালো, ওর মুখমন্ডলে আনন্দ শোভা পাচ্ছে, মাকে দেখার জন্য অধীর আগ্রহ। বললো স্মৃতি, -কতদিন বাবা মাকে দেখিনা…… একটু পরে, -রাজিব আপনি কী বাবাকে বুঝিয়ে ফিরাতে পারবেন? বাবা আমাকে খুব ভালোবাসতেন, কিন্তু সেদিন বাবা আমার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করেছিলেন আমিও খারাপ ভাবেই কথা বলেছি, আপনি পারবেনতো? রাজিব কিছু বলার আগেই নাদিম বললো, -আমরা আগে ওখানে যাই, পরিস্থিতি দেখে ব্যবস্থা করা যাবে। গাড়ী থানা শহরে ঢুকলো, স্মৃতি দেখিয়ে দিচ্ছে সবটা। ফজরের নামজের সময় হয়ে গেছে, রাজিব মলিন কন্ঠে, -স্মৃতি আমরা মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে আসি আর তুমি গাড়ীতেই পড়ে নাও, মসজিদ কোন দিকে? স্মৃতি দেখিয়ে দিলে নাদিম সহ ওরা তিনজন নেমে যায়, রাজিব স্মৃতির মোবাইল স্মৃতিকে দিয়ে, -সরি! -ইটস ওকে। রাজিব স্মৃতির ডান হাত নিজের মুঠোর মধ্যে নিয়ে গভীর আবেগে কিছু কথা বললো, -আমি সত্যটাকৈ বুঝেছি শুধুমাত্র তোমার জন্য, আল্লাহ তোমাকেই আমার হেদায়েতের একমাত্র মাধ্যম বানিয়েছেন, তোমার মনে আছে কীনা, তুমি বলেছিলে, “যুক্তিহীন কথা আপনিই মানেন কী করে” তোমাকে খুব ভালোবাসি ঠিকই,  নিজে পরিবর্তন হতে চাইনি তোমাকে পরিবর্তন করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে বললে কুরআন পড়তে, বাইবেলও ভালো করে পড়তে……… আমি সেখানেই পেয়েছি, শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ)। এরপর নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর জীবনী পড়ে দেখলাম, ১২ বছর বয়সে সিরিয়াতে চাচা আবু তালিবের সাথে দেখে শেষ নবী হওয়ার ভবিষ্যৎ বানী করেছিলেন একজন খ্রিষ্টান পাদ্রী। খিদিজা (রাঃ) নবুয়ত প্রাপ্তুর ঘটনা শুনে বলেছিলেন উনি আল্লাহর রাসুল। আর যিশু খৃষ্টের ব্যাপারে নিশ্চত হলাম সুর আল ইমরান আর সুরা মারইয়াম পড়ে। সর্বশেষ যে সুরাটি পড়ে মুসলমান হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সেটা সুরা ইখলাস, যেখানে, বলা আছে,”আল্লাহর কোন সন্তান নেই তিনিও কারো সন্তান নন।” স্মৃতি খুব খুশি হয়েছে। সেও এবার রাজিবের হাতের উপরে নিজের হাত রেখে, সদ্য আগত মনের গভীরের কয়েকটি শব্দ প্রকাশ করলো, -“আমি আপনাকে ভালোবেসে ফেলেছি” রাজিব মাথা ঘুরিয়ে অন্যদিকে তাকালো, -স্মৃতি আমি এখন কী করবো বুঝতে পারছিনা, এতো খুশি ধরে রাখা আমার জন্য কষ্ট মনে হচ্ছে, তুমি জাননা আমার খুব চিৎকার করে আনন্দ প্রকাশ করতে ইচ্ছে করছে, মনে হচ্ছে, এতো সুখের খবর আমার কাছে এর আগে কখনো আসেনি। স্মৃতি ওর কথাগুলো শুনছে, খুব মনোযোগ দিয়ে, তরপর মৃদু স্বরে -নামাজ, পড়বেননা? স্বাভাবিক হয় রাজিব, -হ্যা। আসছি। রাজিব, মুচকী হাসি দিয়ে মসজিদের দিকে গেলো। স্মৃতি কল করলো ওর মায়ের নাম্বারে, রিসিভ হলো কিন্তু মা নয় দাদু, -দাদু কেমন আছো? -কে? স্মৃতি নাকী( স্মৃতি বুঝতে পারলো দাদুর ঘুম জড়ানো কন্ঠ থেকে খুব দ্রুত ঘুম পালিয়ে গেছে। -হ্যা দাদু আমি স্মৃতি, আমি আসছি, মা কোথায়? ইতস্তত করেন খাইরুল চৌধুরী তিনি কিছু বলার আগেই স্মৃতি, -দাদু এখন মাকে কিছু বলোনা আমি এসে সারপ্রাইজ দেবো। রাখছি, আল্লাহ হাফেজ। রেখে দেয় স্মৃতি। স্মৃতির চিরচেনা সেই গ্রাম। গাড়ী ঢুকলো, স্মৃতি মৃদু কন্ঠে, -রাজিব আমি গাড়ী থেকে নেমে হেঁটে যেতে চাই। রাজিবের কন্ঠেও আগ্রহ, -হ্যা হ্যা অবশ্যই চলো, আমিও নামব। নাদিম তোমরা গাড়ী নিয়ে যাও। আর স্মৃতি রাস্তাটা বলে দাও ওদেরকে। পাশাপাশি হাঁটছে রাজিব আর স্মৃতি। অনেক কাছের ওরা, দুজনের বিশ্বাসের ভীত যেন আজ পাহাড়ের মতো অটল। স্মৃতি রাজিবকে এটা সেটা দেখিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু স্মৃতি হঠাৎই থেমে গেলো কবরস্থানে দুটি নতুন কবর দেখে। রাজিব পেছনে তাকিয়ে, -কী হলো কী দেখছো? -দুটো নতুন কবর দেখছি তাও আবার শান্তা আর সবুজ ভাইয়ার কবরের কাছে। কে মারা গেলো? স্মৃতির অস্থির কন্ঠ শুনে রাজিব চমকে উঠলো, স্মৃতিকে বাম হাত দিয়ে নিজের প্রশস্ত বুকে জড়িয়ে নিলো , স্মৃতি অজানা আশংকায় কেঁদেই ফেললো। ওরা ওভাবেই কিছুক্ষণ দাড়ালো। রাজিব দেখতে পাচ্ছে, থালার মতো লাল টকটকে সূর্যটি একটুখানি উপরে উঠেছে, যেন পৃথিবীর সমস্ত লাল এ মূহূর্তে ঐ সূর্যের কাছে। স্রষ্টার নিয়ম মানতে একটু একটু করে আলো ছাড়ছে। রাজিব কখনো সূর্যোদয় দেখেনি, প্রতিটি ভোর ঘুমেই শেষ হয়েছে। রাজিব মনে মনে আল্লাহকে শুকরিয়া জানায়, -ইয়া আল্লাহ তুমি আমাকে পছন্দ করেছো বলেই হয়তো সঠিক পথ দেখিয়েছো। তোমার সৃষ্টি দেখে আমি মুগ্ধ, অনেক ধন্যবাদ তোমায় স্মৃতিকে আমার করে দিয়েছো, ওকে সাথে নিয়ে যেন আজীবন এই ভাবে চলতে পারি। একটু পরে, স্মৃতির লুকিয়ে রাখা মুখমন্ডলকে ডান হাত দিয়ে উঠিয়ে, স্মৃতির চোখে চোখ রেখে, -যাবেনা? সম্মতিসূচক মাথা নাড়িয়ে রাজিবের পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে, -কী জানি কে মারা গেলো, এমন লাগছে কেন আমার……… থেমে যায় স্মৃতি, সামনে দাঁড়িয়ে আছে চাচা ফুফু দাদু সহ অনেকে, কিন্তু এতোগুলো মুখের ভীড়ে মা বাবার দুটো মুখ স্মৃতি খুঁজে পেলোনা………… ( সমাপ্ত) (আগেই পাঠকদের কাছে মাফ চেয়ে নিচ্ছি, আসলে এতো বিশাল কিছু পড়া ধৈর্যের ব্যাপার, যারা তবুও পড়ে, সাথে থেকেছেন তাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আসলে উপন্যাসটা লিখেছি খ্রিষ্টানদের তৎপরতা দেখে, ওদের মানুষকে জোর করে ধর্মচ্যুত করার দু একটা ঘটনা শুনে আমার এমন উপন্যাস লেখার ইচ্ছে হয়েছে)

পোস্টটি ৩১৭ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
০ টি মন্তব্য

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.