দিনযাপন
লিখেছেন নাসরিন সিমা, মে ১৬, ২০১৬ ৯:০৪ অপরাহ্ণ
images


বাড়িতে গিয়েছিলাম ৪ তারিখে, ছোট বোনকে বিদায় দিয়ে নতুন সদস্যকে আমাদের পরিবারে যোগ করে নিতে। ৮ তারিখ ছিলো বিয়ের দিন। সেদিনই জানলাম বিদায় নেয়ার চেয়ে, বিদায় দেয়াটা অনেক বেশী কষ্টের। খুব ছোট থেকে কাছাকাছি বেড়ে ওঠা মুখগুলো খুব তাড়াতাড়ি বড় হয়ে যায়, মেয়েরা হয়তো আরও তাড়াতাড়ি……
সেদিন বিয়ে পড়ানোর সময় ওকে শব্দ করে কাঁদতে দেখেছি। একই শব্দ তিনবার বলা অথচ, এর ভার অনেকটা বেশী । তবে এমন একটা দারুন পরিবারে বোনকে দিতে পেরে আনন্দিত আমরা। ওদের এপার ওপার যেন খুব আনন্দের হয়।


ছোটবেলায় শুধু না, বড় হয়েও যখন কারেন্ট চলে যেত, আম্মু আমাদেরকে গান গাইতে বলতেন। গলা ছেড়ে চারবোন মিলে গান ধরতাম, সে এক বিশাল আয়োজন। যখন গ্রামে ছিলাম,গ্রাম্য পল্লী বিদ্যুৎ রোজ সন্ধায় দু তিন ঘন্টার জন্য পালিয়ে যেত, আমাদের গানের পর্বও চলত দেড় দু ঘন্টা ধরে, হয়তো একই গান প্রতিদিন। আর এখন আমাদের পরিবারে যুক্ত হওয়া নতুন সদস্য একজন গানের শিল্পী, ভাবছি আমাদের মতো অন্ধকারের শিল্পী সে না, বরং আলোকিত একজন শিল্পী, smile emoticon আলহামদুলিল্লাহ্।


১১ তারিখ, সবাই মিলে আম্মু সহ গ্রামের বাড়িতে গেলাম। সারাদিন প্রায় সেখানে, বাড়িতে গেলে সেখানে ঝুলে থাকা মাকড়সার জালটাও যে কতোটা আপন তা অনুভব করেছিলাম। আব্বুর কবরের পাশে গেলাম, কেমন একটা খুব চেনা হাহাকার সেখানকার বাতাসে, দম বন্ধ হয়ে আসে। প্রায় পুরো গ্রাম ঘুরলাম। চেনা মুখগুলোর হাসিমাখা কথাগুলো, অকৃত্রিম আতিথেয়তা, মুগ্ধ না হয়ে পারিনি। সেদিন চমৎকার এক পারিবারিক বৈঠকেরও আয়োজন করা হয়েছিলো।


এরপর যান্ত্রিক শহরে ফেরার তাড়া। কিন্তু মোটেও কষ্ট হয়নি, একসাথে সবাই একই বাসে। মনে হচ্ছিল এমন করে যদি সবসময় একসাথেই থাকা যেত! কিন্তু তা হয়না, দুরে না থাকলে একসাথে হওয়ার আনন্দ কখনই অনুভূত হয়না।
আম্মু অনেক অসুস্থ, আমাদের চারবোনের একমাত্র ছায়া। আপনারা দোয়া করবেন তার সুস্থতার জন্য। “রব্বির হাম হুমা কামা রব্বা ইয়ানি সগীরা”!

পোস্টটি ৪৯৭ বার পঠিত
 ১ টি লাইক
০ টি মন্তব্য

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.