অনিশ্চিত গন্তব্যে
লিখেছেন নাসরিন সিমা, জুলাই ৮, ২০১৪ ৩:১৭ অপরাহ্ণ

১…
সূর্যের আলো এখনও একটি রুমে প্রবেশ করেনি। জানালা দরোজা ভেতর থেকে শক্ত করে বন্ধ করে দেয়া। বেলা বারোটা বাজতে চলল। সেদিকে কারও কোন খেয়াল নেই। যে যার কাজে ব্যস্ত। পাশাপাশি কয়েকটি কুড়েঘর, বিভিন্ন ভাসমান এলাকা প্রাকৃতিক দুর্যোগ কবলিত এলাকা থেকে এসে এরা বসতি গড়েছে। এক একটি রুম এক একটি পরিবার। এখানে প্রায় দশটি পরিবার বাস করে।এদের রান্নাঘর একই জায়গায়, মাটির চুলায় রান্না বসিয়েছে চারজন মহিলা, আর বাকীরা তরকারী কাটাকুটিতে ব্যস্ত।একজন মহিলা চুলায় বাঁশের খড়ি ঢুকিয়ে দিয়ে বললো,
-কি গো রাবুর মা ও ঘর এখনও খুলেনা ক্যান?
রাবুর মা বিরক্তি ভরে নাক সিঁটকায় বেগুনের মাথাটা দুরে ছুড়ে দিয়ে,
-হামি ক্যামনে কমু, তোর সই তুই জানিস, মুই ধার ধারিনা……………আরও কিছু বলার আগেই প্রথম মহিলাটি মলিন কন্ঠে,
-এমন কতা কসনা রাবুর মা, আমার রইস রাতে বলিলো ওগোরে অনেক ডাকাডাকি করিয়েও কোন কতা কয়নি। অন্য মহিলাগুলো কিছুই বলছেনা, যেন কাজের চাপ এতোই বেশী ওসব ফালতু বিষয় নিয়ে কথা বলার সময়ই নেই, এমন একটা মনোভাব তাদের। সেই দুজনও চুপ হয়ে যায়, কিন্তু রইসের মায়ের মনটা ছটফট করছে, তার মন চায় ঐ দরোজাটায় গিয়ে একটু ডেকে আসতে। কিন্তু এই মহিলারা একেবারে চুল ছেড়াছেড়ি কান্ড বাধিয়ে বসবে, এরা কারো ঘণিষ্ঠতা পছন্দ করেনা। এরই মধ্যে রইস, বাবু, নাজু, আর মঈন স্কুল থেকে হৈ হল্লাসহ ফিরছে। কিন্তু মঈনের মন খারাপ, ও ওর মামার বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ায় পড়া জানতোনা, পড়া না পারায় স্যার খুব মেরেছে। ওরা চারজনই একই স্কুলে এই সাথে পড়ে। মঈন মন খারাপ রেই ওদের ঘরের দরোজার কাছে গেলো, দরোজা আর এপাশের জানালাটা বন্ধ, আশেপাশে তাকায় মঈন, কিন্তু মাকে দেখতে পায়না, একবার রান্নাঘরের দিকেও তাকালো, না ওখানেও নেই। এবার দরোজায় টোকা দিয়ে,
-ওমা দরজা খোল মা, তুমি কুনটি (কোথায়)? ওমা হামি মঈন, দরজা খোল। কোন সাড়া না পেয়ে ওর কচি মনটা নিঃশব্দে শংকিত হয়ে পড়ে, কেঁদে ফেলে জোরে জোরে দরোজায় হাত দিয়ে শব্দ করতে থাকে। ওর পাশে এসে দাঁড়ায়, লিটন আর রইস, লিটন মলিন কন্ঠে,
-মঈন কান্দস ক্যান? তর মা নাই?
মঈন মাটিতে বসে পড়লো, ওর হাতে ক্লাসফোরের ছয়টি বই, দুচোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছে, আর বইগুলোতে টপটপ করে পড়ছে। তিনদিন আগে মা মেরেছিলো বলে স্কুল থেকেই মামার বাড়িতে চলে গিয়েছিলো সে। মঈনের বাবা বিদেশে পাড়ি জমানোর নাম করে কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। ওর মা সংসারের হাল ধরেছিলো মঈনকে ঘিরেই। লিটন রইস ওখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে থেকে চলে যায়। ওদের মা ওদেরকে দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য ডেকেছে। মঈন দেখলো সবাই যে যার মতো রান্না শেষ করে ঘরে ঢুক দরোজা বন্ধ করে দিলো। মঈন এবার  জোরে কেঁদে ওঠে,
-ওমা হামি তোমার সব কতা শোনমো মা, হামি আর মামার বাড়িত যামোনা…… ওমা দরজা খোল মা। হামার খিদা লাগিছে………ভাত খামো মা………
ওর কান্নার শব্দে পুরো আসমান যেন কাঁপছে, বুকের ভেতরের হাহাকারগুলো ফোঁফানোর শব্দে বেরিয়ে আসছে।

২…
দুপুর গড়িয়ে বিকাল, বিকাল গড়িয়ে সন্ধা, তারপরে রাত। মঈন রাতের বেলা খুব ভয় পায়, ঘুমানোর সময় হাত পা গুটিয়ে মায়ের কোলের কাছে থাকতো, কিন্তু আজ সে একা বড় একা! সবাই যন প্রায় ঘুমিয়ে তখন রইসের মা বেরিয়ে আসে খাবারের প্লেট হাতে। মঈনদের ঘরের পেছনে দাঁড়িয়ে মঈনকে খাওয়ালো, আর মঈন গোগ্রাসে খাবারগুলো খেয়ে নিলো, বললো,
-চাচী মা কুণটি আপনি দেকছিন?
-না মঈন তোর মারে তো দেহিনাই, কী যে অইলো?
-দরজা ভাঙ্গলে হয়না চাচী?
-না! শব্দ অইলে সগলি ওইা আমার লগে ঝগড়া করবো, তুই এইখানে গুমা আমি আছি, গুমা। অনেক্ষণ পর মঈন ঘুমিয়ে পড়ে, রইসের মা ওকে ওদের দরোজার কাছে রেখে চলে যায়, কারণ একটু যদি কেউ টের পায় তো বেঁচে থাকা হারাম করে দেবে।
প্রায় আধাঘন্টা পর, একজন কিশোর মঈনদের ঘরের সামনে আসে, মঈনকে দেখতে পায়নি, ওর পেটের ওপরেই পা ফেলেছে। অমনি মঈন ভয়ে চিৎকার দেয়, ছেলেটি দ্রুত পা সরিয়ে মঈনের পাশে বসে মঈনের মুখে মোবাইলের আলো ফেলে অবাক হয়, বুকে জড়িয়ে নেয়,
-মঈন! তুমি এখানে শুয়ে আছ কেন! নিজের মুখমন্ডলে আলো ফেলে,
-ভয় নেই আমি, আমি তোমার নাহিদ ভাইয়া! মঈনও গভীর আবেগে নাহিদের বুকে মাথা গোঁজে, একটা আশ্রয় যেন পেয়েছে সে, কাঁদতে কাঁদতে বে,
-ভাই হামার মা দরজা খোলেনা,  হামার মা কুনটি ভাই?
এ কান্না মন দিয়ে উপলব্দি করলে সবাই কষ্ট পেতে পারে, কিন্তু মানুষের সে উপলব্দির শক্তিটুকুও নেই, কারণ যে যার মতো ব্যস্ত। এইতো কঠিন বাস্তবতা। নাহিদ বুঝে পারেনা এখন কী করা উচিত, এসেছিলো একটা শোক সংবাদ নিয়ে, কিন্তু এখানে তো  অন্যরকম বিপদ! নাহিদ ঢাকায় থাকে, মঈনের খালাতো ভাই সে। মলিন কন্ঠে বললো,
-মঈন এখনতো খুব অন্ধকার, এখন এখানে কিছু করা ঠিক হবেনা, তুমি বরং চলো মামার বাড়ি, কাল সকালে, একবারে ফজরের নামাজ পড়েই এখানে আসবো, এসে দরোজা ভেঙ্গে দেখবো……
-না না ভাই হামি আজই মামার বাড়িত থ্যাকে (থেকে) আসিছি, মা যদি দরজা খুলে হামাক না পায়?
-না মঈন ভাইয়া আমার কিছু হবেনা খালামনি যদি রাগ করে আমি বলবো মঈনের কোন দোষ নেই আমি ওকে নিয়ে গিয়েছিলাম।
নাহিদ ওর হাত ধরে হাঁটছে, মঈন বললো,
-তুমি মামার বাড়িত কখন আসিছ?
-সন্ধ্যায়, তুমি ওখানে বাড়িতে কখন এসেছো?
-সকালে মামার ওটি(ওখানে) থ্যাকে ইসকুলত, তারপর ইসকুল ছুটি দিলে বাড়িত আসিছি, তুমি কি একলা আসিছ? ভয়  লাগেনা তোমার?
-আমি একা আসিনি মঈন আমার বন্ধু মুহিন এসেছে, আর ভয়? না আমার ভয় করেনা।
-তোমার বন্দু কুনটি?
– এদিকে কাদাতো, ও মটরসাইকেল নিয়ে পাকা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে।
-তুমি এতো রাতে কিসক(কি জন্য) আসিছিন?
-আগে ওখানে চলো দেখতে পাবে।
-না হামি একনই শোনমো (শুনব)।
নাহিদ বললো,
-আমাদের রুবি আপু আছেনা? মারা গেছে……… চমকে ওঠে মঈন,
-হামিতো সকালেই ভালো দেকে (দেখে) আসিছি! কথা বলতে বলতেই মটর সাইকেলের কাছে এসে যায় ওরা, মুহিন মঈনকে মটরসাইকেলে উঠাত সাহায্য করলো, ওরাও উঠে বসে মাঝখানে মঈন পেছনে নাহিদ। মুহিন স্টার্ট দেয়ার আগে হেলমেট পরতে পরতে,
-তোমার খালামনি আসলেননা নাহিদ?
-পরে বলছি তুমি চলো।

৩…
মঈনের নানাবাড়ি মূলত বগুড়া। কিন্তু ওর নানার চাকুরীর কারণে সবাই অনেক বছর আগে থেকেই নারায়ণগঞ্জে থাকে। থানা শহরে বাসা। কিন্তু মঈণের বাবা হতদরিদ্র, ওর বাবা মা প্রণয় সূত্রে ওর নানা, নানী, মামার অমত বিয়ে করেছিলো। ওর বাবা ঐ কুড়েঘরে থাকতো, ওর মাকে বিয়ে করে সেখানেই নিয়ে যায়। শহর থেকে এক দেড় কিলোমিটার দুরে মঈন, রইসদের সেই বসতি। মঈনের নানাবাড়ির কারো সাথেই মঈনের বাবা মায়ের সম্পর্ক ছিলোনা। তবে মঈন মাঝে মাঝে একা একা যাতায়াত করে, সবাই খুব ভালোওবাসে। তবে মঈনের নানা নানী মারা গেছেন কয়েকবছর আগে। নাহিদ মটরসাইকেলেই মঈনকে লক্ষ্য করে,
-খালামনি কী বাইরে গেছে মঈন?
-না ভাই ভিতর থ্যাকে (থেকে) বন্দ। নাহিদের মনে খটকা লাগলো, তাহলে কী রুবি আপুর মতো খালামনিও আত্মহত্যা করলো নাকী? মঈন ঘুমিয়ে পড়ে নাহিদের বুকে। মুহিন খুব দ্রুত চালাচ্ছে, তাই নাহিদ বললো,
-একটু ধীরে চালাও মুহিন মঈন ঘুমিয়েছে।
মুহিন তাই করে, একটু গলা উঁচু করে বললো,
-তোমার আপুর দাফন কখন হবে?
-আজ রাতেই হওয়ার কথা, এই অস্বাভাবিক মৃ্ত্যুগুলোর দাফন দ্রুত করা উচিত।
মঈনদের নানাবাড়ি। সিম্পল দোতলা একটা বিল্ডিং। ভেতরে ঢুকে নাহিদ মঈনকে বিছানায় শুইয়ে দিলো। নাহিদের মা ভরাক্রান্ত কন্ঠে,
-তোমার খালামনি আসলোনা? নাহিদ না সূচক মাথা নাড়িয়ে সংক্ষিপ্ত করে ঘটনাটা বললো, একটু থেমে,
-জানাজা করতে নিয়ে গেছে?
-জানাজা কেউ করাতে চাইছেনা। চুপ হয়ে যায় নাহিদ, মুহিনের দিকে তাকাতে একটু সংকোচবোধ হয় ওর। বন্ধুকে নিয়ে এসেছিলো নানাবাড়ির চারপাশে বেড়ানোর জন্য, কিন্তু আসার দুঘন্টা পরে এই কান্ড!

৪…
রইসের মা আলো সকালের না ফুটতেই বাইরে বের হয় মঈনে দেখার জন্য। কিন্তু মঈনকে না দেখে শংকিত হলো, কিন্তু কাঈকে কিছু বলেনা, মনে মনে চারেদিকে খুঁজতে থাকে। রাবু আর নাজুর মা রান্নাঘরে বসে চেতই পিঠা বানাচ্ছে। লিটন রইস ওরা মঈনকে না দেখে মঈনের নাম ধর একটু জোরে জোরে ডাকলো। লিটনের মা লিটনকে ধমক দিয়ে,
-এতো ডাকার কী অইলো, চুপ থাক।
রাবুর বাবা মঈন, লিটন আর রইসকে নিয়ে মাঝেমাঝে মসজিদে নামাজ পড়তে যেতো।রাবুর বাবা একটা রিকশা গ্যারেজে কাজ করে। রাবুর বাবা লিটনের কাছে এসে,
-কি হলো, মঈন নাই?
-না, লিটন সব ঘটনা বলে রাবুর বাবাকে।  রাবুর বাবা মিন কন্ঠে,
-তাইলে কী দরজা ভাঙ্গা দরকার নাকী! তখনই মটর সাইকেল নিয়ে নাহিদ মুহিন আসে মঈনকে সাথে নিয়ে। রাবুর বাবা ওদের কাছে এগিয়ে গেলে নাহিদ সালাম দেয়, রাবুর বাবা সালাম নিয়ে মঈনকে কোলে নেয়। মুহিন বললো,
-দরোজা ভেঙ্গে ফেলো নাহিদ। নাহিদ সম্মতি সূচক মাথা নাড়ায়,
-হুম এছাড়াতো উপায় দেখিনা। নাহিদ, মুহিন দুজনে মিলে কয়েকটা ধাক্কা দেয়ার পর দরোজা ভেঙ্গে যায়। ভেতরে কেউ নেই ঘরে একটি চৌকি আর তিনটা বালিশ। মঈন দ্রুত কোল থেকে নেমে ঘরে ভেতরে দৌড়ে যায়। মাকে না দেখে আবারও কাঁদে,
-মা ওমা তুমি কুনটি……নাহিদ ওকে কাছে টেনে নিলো, মুহিনকে লক্ষ্য করে,
– ঘরে কেউ নেই অথচ দরোজা বন্ধ কেন? ঘরের পেছনের জানালা টা ভাঙ্গা দেখতে পায় ওরা। নাহিদের জিজ্ঞাসু দৃষ্টি মুহিনের উপরে, মুহিনও ইশারায় বন্ধুকে শান্তণা দেয়। রাবুর বাবা মঈনকে অনেক বুঝিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে যায়,
-মঈন তোমার ভাই খুইজ্জা বাইর করুক, তুমি আমার কাছে থাহো।
নাহিদ দরোজা লাগিয়ে দিলো। হঠাৎই ওরা একধরণের তীব্র গন্ধ অনুভব করলো, আর মুহিন একটা লোহার হাতলের মতো কিছু দেখে,
-নাহিদ এটা কী?
নাহিদ হাতে নেয়,
-খালামনিকে এটা দিয়ে ঐ যে চালের ড্রামটা দেখছো, ওটা খুলতে দেখেছি, ড্রামের ঢাকনাটা খুবই শক্ত সেজন্য।

৫…
ওরা ঐ গন্ধ অনুসরনে সবকিছু তে তন্নতন্ন করে কিছু একটা খুঁজছে, কি পেতে পারে ওদের জানা নেই কিন্তু ওদের বিশ্বাস কিছু একটা আছে। নাহিদ অস্থির কন্ঠে,
-মুহিন কী হলো বলোতো, আমি আর ভাবতে পারছিনা, পুলিশকে খবর দেবো নাকী?
মুহিন ঐ লোহার হাতলটা নিয়ে চালের ড্রামটা খুলতে যায়, আর খুলেই অস্পষ্ট চিৎকার দিয়ে,
-নাহিদ চালের ড্রামের মধ্যে মানুষ! চারেদিকে দুর্গন্ধ ছেয়ে যায়, নাহিদ বিদ্যুতে পৃষ্ট হওয়ার মতো চমকে ড্রামের কাছে যায়, দেখলো চুল ছাড়া সবকিছু পঁচে গেছে, বিশাল লম্বা চুল ছিলো ওর খালামনির, ভরাক্রান্ত কন্ঠে,
-এগুলোতো খালামনির চুল মুহিন! মুহিন ঢাকনাটা আবারো লাগায়, দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরেছে চারেদিকে, সবাই এসেও গেছে, মুহিন বললো,
-এটাতো খুন নাহিদ!
নাহিদ কাঁদে খালামনিটা ওকে খুব আদর করতো, আসার সাথে সাথে ব্যস্ত হয়ে পড়তো, কি খাওয়াবে, কি করবে……
-মুহিন এমন কাজ কে করে পারে? আর আমি মঈনকে কী জবাব দেবো……
মহিন বন্ধুকে শান্তনা দেয়, বলে,
-মঈনের বাবা কী এমনটা করতে পারে?…… মঈন কাঁদতে কাঁদতে ছুটে আসে,
-হামার মা কুনটি? নাহিদ ওর অশ্রু মুছে দেয়,
-কেঁদনা মঈন আমি তোমার ভাইয়া সবসময় তোমার সাথে থাকবো।
মঈনের অসহায় দৃষ্টি ঘরের চারপাশে, নাহিদের এই সহজ বাক্য ওর বুঝতে কষ্ট হয়, বলে,
-হামার মা হামাক ছ্যাড়ে কুনটি গেছে ভাই? মা হামার উপর রাগ করিছে, হামি মামার বাড়িত গেছি তাই, ওমা মা………… ওমা হামি আর যামোনা (যাবোনা) নাহিদ ওর এই আঁকুতি শুনে শব্দ করে কেঁদে ফেলে, আশেপাশের কঠিন ঝগড়াটে মহিলাগুলোর দৃষ্টিও ভিজে যায় অজান্তেই। নাহিদ ধরা গলায় মুহিনকে লক্ষ্য করে,
-তুমি মঈনকে নিয়ে যাও আমি কাজ সেরে আসছি।
মঈনের ফ্যালফ্যালে জিজ্ঞাসু দৃষ্টি নিয়ে মুহিনের হাত ধরে চলছে আর বারবার ঘরটির দিকে তাকাচ্ছে। মা বাবা হারা একটি শিশুর অদূর ভবিষ্যৎ অন্ধকারের পথে পাড়ি জমালো। যে অন্ধকারে নিশ্চিত করে বলা যায়না কোনদিকে কী আছে? মঈনের জীবনটা শুরু হলো এভাবেই নতুন করে, ভালোটাও হতো পারে আবার এই অন্ধকারে হারিয়ে যেতে পারে ওর সমস্ত স্বত্তা।

পোস্টটি ৩৯৯ বার পঠিত
 ২ টি লাইক
২ টি মন্তব্য
২ টি মন্তব্য করা হয়েছে
  1. এইগুলা লিখেন কেন? মা বাবা হারা বাচ্চাদের কষ্ট জানিনা। শুধু নিজের বাচ্চাদের কথা মনে হয়ে চোখ ভিজে আসলো!

    • আসলে এই ধরণের লেখায় কেন যেন চলে আসে। চারপাশেতো কতো বাচ্চা, রাস্তায়, রেললাইনে ওদের অনেকের বাবা মা নেই, ওদের কথা খুব মনে পড়ে। রবির নতুন জামা কেনা নিয়ে ঐ আ্যাডটা দেখে অনেক আগের এই লেখার কথা মনে পড়লো, দিয়ে দিলাম। সমাজে এমন নানা অজ্ঞাত ক্রাইমে গরীব শিশুরা মা বাবা হারা।
      আল্লাহ আমাদের সন্তানদেরকে খুব ভালো রাখুন! আমীন।

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.