আত্মহত্যা
লিখেছেন মুহাম্মাদ কামরুল, আগস্ট ৭, ২০১৭ ৩:২৪ অপরাহ্ণ

কম করে হলেও বছরে ৮ লক্ষ মানুষ নিজের জীবন শেষ করে আত্মহত্যার মাধ্যমে। মানুষ মাত্রই ভুল, আর জগতে যতদিন মানুষ থাকবে ততদিন মানুষে মানুষে সংঘাত হবেই তা ভুল করে হোক বা ইচ্ছাকৃত। কেউ কারো হৃদয় ভাঙবে, কেউ কারো সাথে প্রতারনা করবে, বিশ্বাসের অমর্যাদা হবে, মানুষ মানুষ কতৃক অবহেলার স্বীকার হবে, জীবনের কঠিন কঠিন অনেক সময় মানুষকে একা একাই পার করতে হবে। কঠিন সময়গুলোতে অন্তরে বইতে থাকা রক্তক্ষরন, হৃদয়ে জ্বলতে থাকা অসহনীয় দহন রুদ্ধ করতে মানুষ আত্মহত্যার মত নির্মম পন্থা বেছে নেয়। তাই কিভাবে এই রক্তক্ষরন, এই দহন নিরসন করা যায় তার উপায় সবাইকে ভাবতে হবে।

আমরা বেশিরভাগই একটা ভুল করি, তা হলো আমরা মানুষের কাছ থেকে অনেক বেশি কিছু আশা করে ফেলি, মানুষের মুখাপেক্ষি হই। মানুষ আমাদের ভালোবাসবে, আমাদের চাহিদা মেটাবে, আমাদের শান্তি দেবে এই আশা মনে ধারন করি। অথচ বাস্তবতা হলো মানুষ কখনও আমাদের সব চাহিদা মেটাতে পারবে না, আমাদের আশা পুরাতে পারবে না, আমাদের ভালোবাসার অভাব ঘুচাতে পারবে না। এর কারন হলো দুনিয়ায় কোনো কিছুই পারফেক্ট বা ক্ষুতহীন না; কোনো মানুষই শতভাগ নিখুত না। মানুষের আচার-আচরন পরিবর্তনশীল, আর শয়তান মানুষের আষ্ঠেপৃষ্ঠে লেগে আছে, তাই মানুষ পদে পদে ভুল করে। আমরা কখনও কখনও মানুষকে এমনভাবে ভালোবাসি যে তার ভুল-ত্রটি মেনে নিতে পারি না, অথচ তার ভুল-ত্রুটি হবেই। আমরা যখনই কোনো মানুষের উপর নির্ভর করবো, হোক সে যতই আপন, তখন আমাদের হতাশ হতে হয়, কারন মানুষ সবসময় আমাদের আশানুরুপ আচরন করতে পারে না, কারন মানুষ পারফেক্ট না, আর সবচেয়ে বড় কথা মানুষকে আল্লাহ দূর্বল করে বানিয়েছেন।

একজন জ্ঞানী বলেছিলেন, আল্লাহ আমাদের বিভিন্ন পরীক্ষায় ফেলেন, যাতে আমরা বুঝতে পারি যে আল্লাহ ছাড়া আর কারো উপর নির্ভর করা যায় না। আমাদের আপনজনেরাও আমাদের কষ্ট দেয়, যাকে আপন ভেবে মানুষ সব বিলিয়ে দেয় সেও কখনও কখনও প্রতারনা করে। আসলে এসব ঘটনা আমাদের একটি জিনিসই শিক্ষা দেয় তা হলো অন্য সব কিছু থেকে অমুখাপেক্ষি হয়ে আমরা যেন শুধু রব্বুল আলামিনের মুখাপেক্ষি হই, তার উপরেই নির্ভর করি, তার কাছেই আশা করি, তার ফয়সালার উপরই ভরসা করি। প্রত্যেক মানুষই ভালোবাসা পেতে চায়, কিন্তু তা চাইতে হবে আল্লাহর কাছে, আল্লাহর মাধ্যমে; মানুষ আমাকে ভালোবাসবে এই আশা নিয়ে মানুষের কাছে ভালোবাসার কাঙাল হওয়া যাবে না। আল্লাহর একটি নাম আল-ওয়াদুদ। সকল ভালোবাসার উৎস আল্লাহ। আল্লাহ আমাদের ভালোবাসার স্বাদ দিতে পারেন, প্রতিটি মানুষের অন্তর যে ভালোবাসার অভাব বোধ করে সে অভাব তিনিই মেটাতে পারেন। আর যখন আমরা কোনো মানুষকে ভালোবাসবো খেয়াল রাখবো যেন সে ভালোবাসা আল্লাহর খাতিরেই হয়, অর্থাৎ যাকে ভালোবাসবো তার কাছে থেকে সমপরিমান প্রতিদানের আশা যেন মনে না থাকে, বরং প্রতিদানের আশা করবো আল্লাহর কাছে। ঠিক যেমন করে একজন মা তার সন্তানকে ভালোবাসে কোনো প্রতিদানের আশা ছাড়াই; সন্তানের অবহেলায় কোনো মা আত্মহত্যা করেছে বলে কখনও শুনি নি। প্রিয় নবী মুহাম্মাদ(সাঃ) এর শেখানো একটি দুআ আছে:

“হে আমার আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার ভালোবাসার আকাঙ্খী এবং তাদেরও ভালোবাসার আকাঙ্খী যারা আপনাকে ভালোবাসে এবং এমন কর্মের প্রত্যাশী যা আমাকে আপনার প্রিয়ভাজনে পরিণত করবে। হে আমার আল্লাহ! আপনার ভালোবাসাকে আমার নিজ প্রাণের চেয়েও, আমার নিজ পরিবারবর্গের চেয়েও, এমনিক ঠান্ডা পানির চেয়েও প্রিয়তর করে দিন।” (তিরমিযি) (আমীন)

এই দুআ’য় নবী আমাদের শিখিয়েছেন যেন আমারা কোনো কিছুকেই আল্লাহর চেয়ে বেশি ভালো না বাসি। শেষ করি আল্লামা ইবনে আল কায়্যিম(রহিঃ) এর অপূর্ব একটি উক্তি দিয়ে, তিনি বলেছিলেন, “প্রত্যেক মানুষের অন্তরে একটি শুন্যতা থাকে, একটি দুঃখ থাকে, একটি খালি স্থান থাকে যা দুনিয়ার কোনো কিছু দ্বারা পূরন হয় না; কেবল মাত্র আল্লাহকে জানা, তাকে ভালোবাসা, তার দিকে ফেরার মাধ্যমেই শেই শুন্যতা, সেই দুঃখ, সেই খালি স্থান পূরন হতে পারে।”

Comments

comments

পোস্টটি ১৭৫ বার পঠিত
 ১ টি লাইক
৩ টি মন্তব্য