সব বাধা পেরিয়ে ‘আমি সব সময় আত্মবিশ্বাসী
লিখেছেন সংবাদপত্র থেকে, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৭ ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ
Untitled-18-59bd65275a6dc

(দৈনিক সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত সাপ্তাহিক নারী পাতা-“মঞ্চের বাইরে” থেকে সংগ্রহীত তারিখ- ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭)

সব বাধা পেরিয়ে-

‘আমি সব সময় আত্মবিশ্বাসী

 

জোহরা শিউলী

 

 

আমি মনে করি ছবি আঁকার জন্য দক্ষতা প্রধান। এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমার মনের শিল্পবোধ থেকে আমি যা বলতে চাই, চিত্রতলে তারই উপস্থাপন। তাই এ ক্ষেত্রে দক্ষতার বিকল্প নেই। সময়কে ধরে রাখার একটি মাধ্যম চিত্রকলা। ইতিহাসকে শুধু নয়, বরং নিজের সত্তাকে রূপায়িত করার একটি মাধ্যম এটি। ভাবনার ধারাবাহিকতার সঙ্গে সব সময় কাজেরও একটা ধারাবাহিকতা থাকতে হয়।
আমার কাজে তুলনামূলকভাবে নারী বেশি উপস্থাপিত হয়েছে। প্রথাগত পুরুষতান্ত্রিক ধারণাকে অস্বীকার করে পেইন্টিংয়ে প্রাধান্য পায় ‘ফিশিং ওমেন’, যা আমাদের সমাজের পরিপ্রেক্ষিতে নারীদের নতুন রূপের উপস্থাপনা। চিরন্তন বাংলার মেঠোপথের মতোই আমার পেইন্টিংয়ের চরিত্র। এখানে কোনো কিছুই আরোপিত নয়, বরং স্বতঃস্ম্ফূর্তভাবে হয়ে ওঠা।
আমার শৈশবের একটা বড় অংশ কেটেছে চট্টগ্রামের চন্দ্রঘোনার পাহাড়ি প্রকৃতির নৈসর্গিক পরিবেশে, যা হয়তো আমার চেতনাকে প্রকৃতির সঙ্গে আরও নিবিড় ও ঘনিষ্ঠ করেছে। নদীর মানুষ বা নদীপাড়ের জনজীবন ও নিসর্গ আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে প্রতি মুহূর্তে। জীবনের সৌন্দর্য খুঁজেছি জল এবং জললঘ্ন সরলতায়। তাই চিত্রকল্পগুলো শুধুই নদীকেন্দ্রিক রোমান্টিক ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করে না, এ কারণে আমি সর্বদাই মানুষের সঙ্গে নদীর সম্পর্ককে উপজীব্য করি। আমার শিল্পী জীবনের শুরু থেকেই মাছ ধরার জাল ও মাছকে কেন্দ্র করে নানা প্রতীকী ঢঙে ছবি এঁকেছি। জেলে এবং তাদের জীবন আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। এটি আমাদের শিকড়ের এক দৃঢ় বাঁধন। তাই হয়তো আমার স্ট্মৃতিতে এই নদী, গ্রাম, জেলেজীবন ও নিসর্গ বারবার ফিরে এসেছে। আমি প্রকৃতিকে উপলব্ধি করি একান্ত নিজের মতো।
জীবন নিয়ে আমার সহজ ভাবনা। অর্থহীন অস্থিরতা, প্রতিযোগিতা ও জটিলতাকে সযতনে এড়িয়ে চলি। এমনকি পোস্টমর্ডান জটিল শিল্পকে প্রতিনিধিত্ব না করে পরিচিত লোকজ জীবন, নিসর্গ, চেনা পাখি, মাছ, জাল প্রভৃতিকে ক্যানভাসে শৈল্পিক চেতনায় রূপায়িত করার চেষ্টা করি। কাজ করার ক্ষেত্রে আমি নিজের মতামত-ইচ্ছাটাকেই প্রাধান্য দিই বেশি। আমার সঙ্গে যারা পড়তেন কিংবা আমার কোনো অগ্রজ-অনুজ যারা নিজেকে শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন তারা তাদের লক্ষ্যে ঠিকমতো হাঁটতে পারেননি। পারিবারিক কিংবা সামাজিক নানা চাপে তারা তাদের কাজের জায়গা থেকে পিছিয়ে এসেছেন। তবে আমার একটা জিদ কাজ করত সব সময়- আমি শিল্পী হবো। আমাকে আঁকতেই হবে। আঁকার সেই প্রেরণাতেই কোনো কাজে কখনও আমার মনে হয়নি এই কাজটা থেকে আমি সরে আসব। যেই কাজটিতে আমি হাত দিয়েছি, হোক সেটা সন্তান পালনের কাজ, সামাজিক কিংবা আমার কর্মক্ষেত্রের, আমি সব সময ধরেই নিয়েছি, এই কাজটা আমি সুন্দর করে শেষ করব। এটা অর্ধেক করে রেখে দেব। নয়তো কাজটা থেকে সরে আসব; এমন মনোভাব কখনোই পোষণ করতাম না। হয়তো মনের জোর-ই আমাকে কাজ করতে এতটা উৎসাহ দিয়েছে। তাই কর্মের জায়গায় এবং পারিবারিক কোনো বাধাই আমার সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি।
পোস্টটি ৭৫৭ বার পঠিত
 ৩ টি লাইক
৬ টি মন্তব্য

Leave a Reply

6 Comments on "সব বাধা পেরিয়ে ‘আমি সব সময় আত্মবিশ্বাসী"

Notify of
Sort by:   newest | oldest | most voted
রৌদ্রের গান
Member

সফলতার গল্প শুনলে কাজে গতি বেড়ে যায়…

চলতে থাকুক সাফল্যের গল্পগুলো…

লাল নীল বেগুনী
Member

আসলেই। অন্যের আত্মবিশ্বাসের গল্প শুনলে কীভাবে যেন নিজের মাঝেও ওই স্পিরিট চলে আসে।

রৌদ্রের গান
Member

জী। অন্যের জীবনের গল্পগুলোও এক ধরণের অভিজ্ঞতা হিসেবে কাজ করে।

আলোকিত প্রদীপ
Member

ভালো লাগলো।

existe Tratamento para ansiedade
Guest
existe Tratamento para ansiedade

E todo tipo de ansiedade existem terapias adequadas. http://www.sivan.com.mx/Activity-Feed/My-Profile/UserId/71276

sdfjsdf
Guest

Valo bff

wpDiscuz