মানবতার অপমানঃ ধর্ষণ
লিখেছেন অর্ফিয়ুস, মে ১৪, ২০১৭ ১:১২ পূর্বাহ্ণ
Image result for caring men
 
ধর্ষণ নিয়ে কাদের সিদ্দিকীর একটা কথা আমার খুব মনে হয়, যদিও ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বলা। সেটা হল, ‘হাঁটতে হাঁটতে ধর্ষণ করে ফেলা যায় না’। আসলেও কিন্তু কথাটা তাই। ধর্ষণ এমন না যে, লোকটা একমনে রাস্তায় হাঁটছিলো, হঠাৎ দেখলো এক মহিলা খুবই খুবই উত্তেজক পোশাক পরে কাজ করছে বা দাঁড়িয়ে আছে বা তাকে না হয় ডাকছেই, আর সে কাজে নেমে পড়বে। ধর্ষণ একটি যৌগিক ক্রিয়া, অজস্র শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার ফল। আপনি আজকে একদিনে সব মেয়েকে পাক্কা হিজাবী বানিয়ে দেন, তবু ধর্ষণ হবে, গ্যরান্টি। আবার, একদিনে সব পুরুষের চোখ নামানোর ব্যবস্থা করেন, তা ও হবে। কারণ , সমাজে দুষ্টচক্র আছে, থাকবেই। বারসিসার কাহিনী তো জানিই আমরা। কত পরহেযগার একজন ওলী আস্তে আস্তে অন্যায় কাজটা করেই ফেলেছিলেন।
 
তাহলে কি করবো?
 
ধর্ষক তৈরী ও তাদের বিকৃত আচরণ রোধ করতে হবে। কিভাবে? গতকাল প্রেসক্লাবের সামনে র‍্যালী, মানব বন্ধন আর মিছিল দেখলাম। ”ধর্ষকের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও” বলে হাত উঁচু করছে সবাই। কিন্তু কাজটা হচ্ছে রাজমণি সিনেমা হলের পাশ ঘেঁষে। এই সমাজ ধর্ষক তৈরী করে, এই সমাজে তারা বড় হয়, এই সমাজে ধর্ষিতারা নির্যাতিতা আর শখের কলগার্লরা পূনর্বাসিত হয়।
 
আসেন,
-পরিবার, প্রতিবেশী বা চেনাজানা পুরুষদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াই। আগের দিনে গানফাইটাররা নাকি পিস্তলে খাঁজ কেটে রাখতো, কয়জনকে মেরেছে। রাতের আসরে শেরির গ্লাস হাতে সেটা বিশাল অর্জন হলেও কিন্তু সভ্য মানুষের কাছে তারা ঘৃণ্যই ছিলো। পুরুষত্ব হল, নিজের মর্যাদা, নিজের লজ্জ্বাস্থানকে শুধু নিজের মহিলাটির জন্যই সংরক্ষণ করতে পারা। আপনার পরিচিত, ভালোবাসার, কিংবা অর্ধপরিচিত পুরুষদের সেটা শিখাচ্ছেন কি না, ভেবে দেখবেন।
-সিনেমা/নাটক/সিরিয়ালে মেয়েদেরকে নিচু করে দেখানো, বাজে পোশাক পরানোর বিরুদ্ধে কথা বলি, এসবকে বর্জন করি। পর্দার পেছনের প্রত্যেকটি মেয়েকে একাধিক লোককে বিছানায় খুশী করে এই সব ‘উঁচু’ কাজ পেতে হয়। দাঁড়ান, আমি কিন্তু মডেলকন্যাটিকে জাত মেরে গালি দিতে বলছি না। লাভ নাই। এসব পেশার প্রচলনই বন্ধ করার বিরুদ্ধে কথা বলা উচিত।
-বিজ্ঞাপনে নারীকে সুলভ, সহজ করে দেখানোর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রচেষ্টাকে ঘৃণা করি। কথা বলি।
-রাস্তায়, বাসে, বাজারে, গলিতে মেয়েদের দিকে কুনজর দেয়া পুরুষটিকে প্রতিহত করি। কন্ঠ উঁচু করি। এরা নৈতিকভাবে দূর্বল থাকে, এদের ভয় পাবেন না। বোধোদয় না হোক, মারের ভয়ে হলেও যেনো হাত বাড়াতে একশবার ভাবে।
-পেডোফাইল চেনেন? যারা মানসিকভাবে অসুস্থ, বাচ্চাদেরকে দেখলে এদের বিকৃত ইচ্ছা জাগে। যেখানেই দেখবেন, আবার বলি, যে স্থানেই দেখবেন, এমনকি আপনার পরিবারেও হতে পারে, এদেরকে এবং এদের থেকে বাকি সবাইকে সাবধান হতে বলবেন। নাম নিয়েই বলবেন। এদের হাতে ছেলে বা মেয়ে কোন বাচ্চাই নিরাপদ না। মনে রাখবেন, সে আপনার যে-ই হোক, তার কুস্বভাব আপনার কেউ না, আপনার শিশু ছেলে বা মেয়েটিকে দিনের পর দিন যেন ভয়াবহ আতংক আর অবিশ্বাস নিয়ে বড় হতে না হয়, সেজন্যই হয়ত আল্লাহ আপনাকে একে চিনিয়ে দিয়েছেন।
-কাজের লোক, ড্রাইভার, পাশের বাসার আংকেল, হোক একদম ফেরেশতাসম, তাদের হাতে বাচ্চাকে দিবেন না। অন্য কোন প্রাপ্তবয়ষ্ক আত্নীয়ের উপস্থিতি ছাড়া কারো কাছেই বাচ্চাদের লম্বা সময় রাখবেন না।
-যেহেতু, ‘ধর্ষিতা’র কোন পুংলিঙ্গ নাই, নিজের সম্মান নিজের হাতে রাখেন। একলা , এমনকি কোন ইন্টারভিউও দিতে যাবেন না। রুমমেট ক্লাসমেট কয়েকজনকে জানান, পারলে সাথে করে নিয়ে যান। নিয়মিত রাতেই যদি বের হতে হয়, ফোন সাথে রাখবেন, একাধিক মানুষ যেন জানেন, আপনি কখন যাচ্ছেন, ফিরবেন। পার্টিতে গেলে এমনভাবে যাবেন, যেন অনেকেই জানে। রাতকে অসম্মানের সাক্ষী হতে দিবেন না। রাত হবার সম্ভাবনা থাকলে বেশ কয়েকজনকে নিয়ে যান। ভালোবাসা মাথা থেকে আসতে হবে, সে নিজের গতিতেই নিচে নামবে। যেখানেই দেখবেন, ভালোবাসা নিচ থেকে জন্ম নিতে চায়, সেখানে যাবেন না, অন্তত ভালোবাসতেই যদি চান।
 
আপনি যে পরিস্থিতিতেই যান না কেন, মৃত্যূ না হওয়া পর্যন্ত আপনি ‘জীবন’ নামের চমৎকার এক ঐশ্বর্য্যের মালিক। জানবেন, জীবনকে যে কোন মুহূর্তেই আবার শূণ্য থেকে গুণে শুরু করে ফেলা যায়। আপনার অপমান, লজ্জা বাবা মাকে বলেন, পরিবারের কাছে বলেন। আর যদি আপনিই বাবা বা মা হোন, আপনার সন্তান যেন খুনের পরেও রক্তাক্ত হাতে আপনার কাছেই আসে, তার ভালোর জন্য আপনিও সে হাতে শেকল পরাতে পারেন, এমন পরিবেশ আর সুযোগ রাখুন। আগে থেকেই ভাবুন, এমন পরিস্থিতিই যেন তৈরী না হয়। জানেন, কেউ ভালো থাকে না, কেউ রাতে ঘুমাতে পারে না, না ধর্ষিতার পিতামাতা, না ধর্ষকের পিতামাতা!
পোস্টটি ৬২২ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
২ টি মন্তব্য
২ টি মন্তব্য করা হয়েছে
  1. একমত।
    তবে “একলা”!
    বনানীর ধর্ষণ; মেয়েটা বান্ধবীকে নিয়েছিল। একজন হতবাগা বন্ধুও ছিল তার বান্ধবীসহ। আর এক ছেলে বন্ধু(!) পশুদের কাছে এনে দিল।
    স্বামীর, বাবার, ভাইয়ের, মায়ের……. সামনে হারিয়ে গেল মানক কত।
    সংগে কেও না একলা!
    স্থান, কাল, পাত্র চিনতে জানতে হবে।
    লোভ, মায়া সামলে চলতে হবে।

    • মেয়েটা সাবধান হওয়া দরকার ছিলো। কিন্তু খুব সম্ভবত ভালোবাসার মানুষের কাছে নিজেকে সহজলভ্য করতে গিয়ে দলীয় অপমানের শিকার হয়েছে।
      মেয়েদের এই সরল বিশ্বাস, বোকামীই অনেক ধর্ষকের একমাত্র পুঁজি

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.