শেখ হাসিনাঃ যে ছয়টি পদক্ষেপে বাংলাদেশ আপনাকে আজীবন প্রধানমন্ত্রী মেনে নিবে…
লিখেছেন অর্ফিয়ুস, এপ্রিল ১১, ২০১৪ ১০:১০ অপরাহ্ণ

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

১। Say ‘NO’ to India:
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমি জানি এই পয়েন্টটা পড়েই আপনি পুরো পোস্ট পড়ার আগ্রহ হারাবেন। একটু দাঁড়ান।আপনার উপদেষ্টা নই আমি। আমি আপনার দিকে ধেয়ে আসা অগ্নিকান্ডকে ফুলের বাগান হিসেবে চালিয়ে দিয়ে আমার আখের গুছাতে চাই না। একজন দেদীপ্যমান পুরুষের কন্যাকে বলছি আমি। আমার বলা প্রতিটি কথার ব্যখ্যা আমি দেব। কি করতে হবে জানেন?
ক) প্রথমে সীমান্ত দিয়ে আসতে থাকা সব ধরণের অবৈধ পণ্যের আমদানি বন্ধ করবেন। এজন্য বিজিবিই যথেষ্ঠ। বিজিবির সকল ক্যডারের বেতন বাড়িয়ে দিতে হবে যেন লোভের কাছে কেউ হেরে না যায়। টাকা পাবেন কোথায়? আর সীমান্তবর্তী মানুষই বা কি খেয়ে বাঁচবে? পরে আসছি সে কথায়।
খ) এখন আসি বৈধ পণ্যের কথায়। আমরা কি কি আনি? খাদ্যদ্রব্য, কাপড়, মেশিনারিজ ইত্যাদি। বিভিন্ন ক্যটাগরিতে ভাগ করে এইসব আমদানীকারকদের সাথে আপনি নিজেই বসেন। তাদের কাছ থেকে জানেন দেশে এই পণ্য উৎপাদন করতে কি কি প্রয়োজন। আর সময় বেঁধে দেন। যেমন ৬মাস/এক বছর যে এর মধ্যে দেশেই এসবের উৎপাদন শুরু করতে হবে। এজন্য ব্যঙ্কগুলোকে বাধ্য করেন এদেরকে ঋণ দিতে।
যেসব জিনিসের উৎপাদনে আমদানিকারকরা রাজি হবেন না তাদের জন্য উদ্যোক্তা আহবান করেন। একক বা জয়েন্ট ভেনচারের জন্য বেকারদেরকে ঋণ দেয়ার সুবিধা দেন।
আর যেসবের উৎপাদন একেবারেই সম্ভব না? এগুলার ব্যপারে কি করবেন? উপায় আছে। এসবের ব্যবহার বন্ধের জন্য দেশের মানুষকে উদবুদ্ধ করেন। সময় বেঁধে দেন যার মধ্যে বিকল্প পণ্য ব্যবহারে অভ্যস্ত হতে হবে। দেখবেন আপনার দেশের মানুষের একটা অসাধারণ শক্তি যেটা এতোদিন শুধু বিদেশে গেলেই প্রকাশিত হত এখন দেশেও তার প্রতিফলন হচ্ছে। এই গুণটার নাম হল ‘অভিযোজন’। দেখবেন যে জাতির মানুষ জানালা দিয়ে ময়লা ফেলতে অভ্যস্ত, তারাই বিদেশে গিয়ে একটা চিপসের প্যাকেট ফেলার জন্য বিনের সন্ধানে এক মাইলও হাঁটে। এটা আপনারই জাতি। এদের এই ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে পারবেন আপনি। আপনার পিতা এই গুণটাকেই সম্বল করে ইতিহাস বদলে দিয়েছিলেন।
এই কাজটা যদি করতে পারেন আপনার নির্বাচনী ইশতেহারের সবচে গুরুত্বপূর্ণ শর্তটির ১৫০% পূরণ করা সম্ভব যাতে আপনি বলেছিলেন ঘরে ঘরে কাজ দেবেন, অন্তত একজনকে।

২। ছাত্ররাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করুনঃ
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আজীবন প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেলে আপনার আর ঠ্যঙ্গাড়ে বাহিনীর দরকার নেই। যারা আপনাকে, আপনার দলকে সারা দেশের কাছে লজ্জ্বিত, বিব্রত করেছে তাদের অভিভাবকত্ব অস্বীকার করেই কি আপনার দায় এড়ানো সম্ভব? না, আমি আপনাকে ছাত্ররাজনীতিকে নিষিদ্ধ করে দিতে বলছি না। যুবকদেরকে দেশের স্বার্থে সচেতন হতেই হবে আর এজন্য ছাত্ররাজনীতি অপরিহার্য। শুধু একটা কাজ করেন। সকল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ সৃষ্টি করে ছাত্রদের সমস্যা সমাধানের পথ করে দেন। ছাত্রসংসদ নির্বাচনের কাজ ৬মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেন। তবে হ্যা, সবচে গুরুত্বপূর্ণ যে শর্তটা জুড়ে দেবেন তা হল ছাত্রসংসদের যে কোন পদে যে কেউ যে দল থেকেই আবেদন করুক না কেন তাকে অবশ্যই সকল বিষয়ে সকল ইয়ারে ফার্স্টক্লাসধারী হতে হবে। সুতরাং ফার্স্ট ইয়ারের কেউ দাঁড়াতে পারবে না। এবং দেখবেন, নেতৃত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবেই মেধাবীদের হাতে চলে যাবে। যদি কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ এই শর্তের অবাধ্যচারী হন তাহলে সরকারী অনুদান বন্ধ হয়ে যাবে। হোক সেটা আপনার পরিবারের কারোর কলেজ বা আপনার কোন ভাবশিষ্যর স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়।

৩। ঢাকা, আপনার রাজধানী। এর জন্য কিছু কাজ করেন। না, আমি আপনাকে মাহাথিরের মত পুত্রজায়া বানাতে বলছি না। যানজট আর জলাবদ্ধতা দূর করেন। এজন্য কিছু পদক্ষেপ নেন। দয়া করে আর দৃষ্টিনন্দন ফ্লাইওভার বানাবেন না।
ক) ব্যঙ্ক বীমা প্রতিষ্ঠানের জন্য ১০টা থেকে অফিস শুরুর যে সময় বেঁধে দিয়েছেন এটা প্রশংসনীয়। আরও কিছু কাজ করেন। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের অফিস শুরুর সময় পিছিয়ে ১১টা করে দেন। স্কুল ৭.৩০ টা, সরকারী ৯টা, ব্যাঙ্ক বীমা ১০টা, বেসরকারী ১১টা। ভাবছেন বেসরকারী চাকুরেরা ক্ষেপবে? খোঁজ নিয়ে দেখেন তো কোন বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ৭টার আগে এমপ্লয়ীদের ছেড়ে দেয়? এদের মোটিভেট করেন।
খ) সকাল ৮টা থেকে ১১টা এবং বিকেল ৪টা থেকে ৭টা যে কোন প্রাইভেট যানবাহনে তার ক্যপাসিটির ৮০% এর নিচে যাত্রী নিয়ে চলাচল বন্ধ করেন। আপনার আমলা, মন্ত্রীদের ব্যাপারেও এই আদেশ ঢিল করবেন না। এইখানে একটা ছোট্ট প্রস্তাব দিই। আপা, পারবেন কি ঢাকার রাস্তায় মন্ত্রীদের প্রটোকল ছাড়া চলাফেরা করাতে? উনাদের এবং আপনার গাড়িগুলোর জন্য কত্তগুলা জ্যাম প্রতিদিন লাগে জানেন?
গ) জলাবদ্ধতার জন্য পিপিপি পদ্ধতিতে এগোতে পারেন। এটি হল পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ। আর সরকারী প্রতিষ্ঠানকে জুড়বেন না। সরাসরি ডিসিসির সাথে একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিত কাজ দেন।

৪। সংসদের ৩০০ আসনের প্রত্যেক জনপ্রতিনিধির জন্য বাধ্যতামূলক কিছু প্রজেক্ট দিয়ে দেন। যেগুলোর বাস্তবায়ন না হলে পরের নির্বাচনে তিনি আর প্রতিদ্বন্দিতা করতে পারবেন না।
ক) নিজ নিজ এলাকায় অন্তত একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান করতে হবে। যাতে কারিগরি থেকে শুরু করে মজুর পর্যন্ত স্থানীয় লোক লাগাতে হবে।
খ) শিক্ষিত অশিক্ষিত সকল নারীদের জন্য কুটির শিল্পের সুযোগ করে দিতে আদেশ দেন। এজন্য এই খাতে সংসদ সদস্যদের এলাকা ভেদে ন্যুনতম মূলধন নির্ধারণ করে দেন যা তাঁরা প্রতি বছরে বিনিয়োগ করানোর ব্যবস্থা করবেন, এটা হতে পারে কোন ব্যঙ্ক থেকে বা ওই এলাকার নিবাসি বা প্রবাসী কোন আর্থিক ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাক্তিদের কাছ থেকে আদায় করে দেবেন। এজন্যও পিপিপি সিস্টেমে এগোনো যেতে পারে যে কোন ব্যক্তি প্রাইভেট উদ্যোগে কারখানা স্থাপন করে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে স্থানীয় জনগণকে মালিকানায় অংশ দেবেন।

১নং এবং ৪নং এর মোট প্রফিটের একটা পার্সেন্টেজ রাখেন বিজিবি এবং পুলিশের বেতন বাড়ানোর জন্য। যেটা পার্সেন্টেজ হিসেবে থাকবে। মানে হল প্রফিট যত বেশী হবে বেতন ততই বাড়বে। দেখবেন আপনার চাঁদাবাজ পুলিশ বাহিনী কেমন করে বদলে যায়!

৫। বাংলাদেশে মিডিয়াগুলোকে কেন্দ্রীয়ভাবে একটু পূনর্বিন্যাস করা জরুরী। টিভি এবং রেডিওগুলোকে তাদের পছন্দের ভিত্তিতে ক্যটাগরাইজ করে দেন। কিছু হবে নিউজ চ্যনেল, কিছু হবে মুভি চ্যনেল আর কিছু ডেডিকেটেড হবে শিশু চ্যনেল হিসেবে। তাহলেই কলাকুশলীরা যার যার মেধা অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন। ভোক্তাদেরও পছন্দের গুরুত্ব থাকবে। আর সবচে বড় কথা কোথাও কিছু হলেই এক রাশ সাংবাদিকের চাপে জর্জরিত হবে না ভিক্টিম বা সংশ্লিষ্টরা।

৬। এটা সবচে শেষের পয়েন্ট। আগে আপনাকে একটা উদ্ধৃতি মনে করিয়ে দিই।
‘যদি বাংলাদেশকে একটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র হিসাবে ঘোষণা করা হয় তাহলে ভারতের আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। যেদিন আমার সৈনিকরা বাংলাদেশকে মুক্ত করে সেদিনই আমি এ কথা উপলব্ধি করি। বাংলাদেশীদের কখনোই ভারতের প্রতি তেমন ভালবাসা ছিল না। আমি জানতাম ভারতের প্রতি তাদের ভালবাসা অস্থায়ী। অনুপ্রেরণা লাভের জন্য ভারতের দিকে না তাকিয়ে তারা মক্কা ও পাকিস্তানের দিকে দৃষ্টিপাত করবে। আমাদেরকে সত্যাশ্রয়ী হতে হবে। বাংলাদেশীদের প্রতি আমরা সঠিক আচরণ করিনি। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য আমাদের সব রকমের সাহায্য করা উচিৎ ছিল, কিন্তু আমাদের রাজনীতিবিদরা তা করেননি। তারা বেনিয়ার মতো আচরণ করেছেন।’
ফিল্ড মার্শাল মানেক শ’
(ভারতের সাবেক সেনাবাহিনী প্রধান)
স্টেটম্যান, ২৯ এপ্রিল ১৯৮৮।

এই উক্তিটি করেছেন সেই ব্যক্তি, যিনি ১৯৭১ সালে ভারতের সেনাবাহিনী প্রধান ছিলেন। আপা আমি আপনাকে দলের আদর্শ বদলাতে বলছি না। অন্তত এই দেশে এমন কিছু করবেন না যা মুসলিম চেতনার বিরুদ্ধে যায়। এই ব্যাপারে আমি আর কিছু বলতে চাই না। কারণ আমি জানিঃ জ্ঞানী যারা, বোঝে তারা, শুধু ইশারায়!

পোস্টটি ৪৮৬ বার পঠিত
 ২ টি লাইক
২ টি মন্তব্য
২ টি মন্তব্য করা হয়েছে
  1. এই ছয়টা মানলে বাংলাদেশ আজীবন প্রধানমন্ত্রী মেনে নিবে কিন্তু ভারত এক মিনিটের জন্যও প্রধানমন্ত্রী মানবেনা।
    তাহলে এই ছয়টা মেনে প্রধানমন্ত্রীত্ব হারিয়ে লাভ কি?

  2. বলার আসলে কিছু নাই…এর চেয়ে সত্য কথা আর হওয়ার নয়…সমস্যা হলো কেউ বুঝতে পারলেও কানে নিতে চায় না -_-

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.