“তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা?”
লিখেছেন অর্ফিয়ুস, আগস্ট ১৬, ২০১৪ ১:৩৮ পূর্বাহ্ণ

 

রাস্তার ধারের বিলবোর্ড, লাস্যময়ী এক নারী, শাড়ি পরিহিতা, কাঠের সোফায় গা এলিয়ে শুয়ে আছেন। শরীরভর্তি গয়না। বিজ্ঞাপনটি স্বর্ণকারের না শাড়ির না ফার্ণিচারের সে বুঝে কার সাধ্য? বোঝার প্রয়োজনও নাই সম্ভবত। রাস্তার ছেলেবুড়ো, সিটি কর্পোরেশনের ময়লার গাড়ি ঠেলা সুইপার থেকে শুরু করে প্রাডো গাড়িতে বসা অভিজাত মহিলাটিও এক পলক তাকিয়ে নিচ্ছেন বিলবোর্ডের দিকে। কেউ কেউ পথ ভুলে আইল্যন্ডে দাড়িয়েই পণ্যের নামের সাথে মাথায় গেঁথে নিচ্ছে সে দৃশ্য, মস্তিষ্কের পেছনের দিকে একটি পর্দায় তখন সে দৃশ্যের ব্যবচ্ছেদ শুরু হয়ে গেছে, একনিষ্ঠ দর্শকটির ঝুলে পড়া ঠোঁট আর দাঁড়ানোর ভঙ্গি সে গোপন আদিম ঘটনার সাক্ষী।

আর একটি বিলবোর্ডের গল্প বলি। পাঁচতারা হোটেলের সামনে এমন কায়দায় লাগানো যে, পাশের তিন রাস্তা দিয়ে আসা সব যানবাহন থেকেই দেখা যাবে। উজ্জ্বল রঙ আর লোভনীয় পরিবেশনায় বিলবোর্ডের খাবারগুলোকে মনে হচ্ছে জীবন্ত, এক্ষুণি খাওয়া যাবে।

একটা ঘরে দশ-বারোটি শিশু। কি কারণে একজন আরেকজনের ওপর হেসে গড়িয়ে পড়ছে। রেকর্ড করা ভিডিও কিংবা সরাসরি, যা-ই দেখুন না কেন, সে হাসির ঘনঘটা আপনার ঠোঁটে এসে ছুঁয়ে যাবেই।তাই না?

এখন বলেন দেখি, এই তিনটি দৃশ্য আপনার হৃদয় বা সত্ত্বার তিনটি দিককে উদ্দীপিত করলো কি না! জি, ঠিক ধরেছেন, শারীরবৃত্তীয়ভাবে আপনি এক দেহে ধারণ করেন তিনটি ভিন্ন ভিন্ন পরস্পর স্বাধীন কিন্তু সম্পূরক তিনটি সত্ত্বা। আপনার বুদ্ধিবৃত্তিক (spiritual) সত্ত্বা, শ্রোণীচাক্রিক (pelvic) সত্ত্বা এবং আপনার ভোজনকেন্দ্রিক (abdominal) সত্ত্বা এই তিন মিলেই আপনি। শেষের দুইটিকে একসাথে বলা হয় জৈবিক সত্ত্বা। আপনার প্রতিদিনের প্রয়োজনগুলো এই তিনটি সত্ত্বার জন্যই তৈরী হয়, আপনার প্রতিদিনের কাজগুলো এই তিন সত্ত্বার প্রয়োজনকে ঘিরেই আবর্তিত হয়।

তিনটি সত্ত্বার ধরণ ধারণ কেমন? জৈবিক সত্ত্বা উদ্দীপিত হয় খুব কম সময়ে, এদের প্রয়োজনগুলোও স্বল্পমেয়াদী। যেমন, আপনার ক্ষুধা পেলে আপনি যদি পেটপুরেও খান, কিছুক্ষণ পর আবার খাবারের প্রয়োজনবোধ করবেন। আবার কিছু খেলেই সাথে সাথে এর তাড়না কমে আসবে। সে হিসেবে বুদ্ধিবৃত্তিক সত্বার প্রয়োজনগুলো বেশ জটিল। মজার একটা উদাহরণ দিই। মনে করেন, আপনার প্রিয়জন আপনাকে কোন কারণে কষ্ট দিয়েছে। ঝুম অন্ধকারে একলা বারান্দায় বসে আপনার মনে হতেই পারে, সে আপনার মাথায় এসে হাত রাখুক। আপনার পাশের নিরব অন্ধকারটি দখল করে রাখুক তার ভালোবাসার উষ্ণতায়। কিন্তু যদি সে আসেই? মাথায় হাত রাখা মাত্রই আপনি অভিমানে আরও স্ফীত হয়ে ঠেলে দিলেন তার সে হাত, হয়ত মায়ার, হয়ত ভালোবাসার সেই হাতটি আপনার কষ্টকে গলিয়ে চোখ দিয়ে ঝরিয়ে দিলো তরল রাগ হিসেবে। হতে পারে না এমন?  পারে। বুদ্ধিবৃত্তিক সত্তার প্রয়োজন পূরণ তাই অপেক্ষাকৃত জটিল। কিন্তু সঠিক পরিবেশে এই সত্ত্বা ছাপিয়ে যেতে পারে অন্য সত্ত্বাগুলোর চরম আহ্বানকেও। গভীর ভালোবাসা আর আস্থায় কোন দম্পতি বছরের পর বছর কাটিয়ে দিতে পারেন যৎসামান্য জীবনোপকরণ দিয়ে। যুগের পর যুগ কোন মা সন্তানের পাতে ভালো খাবার তুলে দিয়ে, সবার শেষে নিজে পান্তাভাত খেয়ে সোনালী ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে পারেন। স্রষ্টাকে পাওয়ার জন্য যুগযুগ ধরে নারীসঙ্গ বিবর্জিত হয়ে একলা থাকেন অনেক সাধু। স্বামীর অবর্তমানে সন্তানের দেখাশোনার জন্য পূনর্বিবাহ নামক স্বস্তিকে অস্বীকার করে বিশাল পৃথিবীর পথে একলা পা বাড়ান কোন অষ্টাদশী বিধবা, সত্তরোর্ধ এইরকম কোন মহিলার ফর্সা কপালের ভাঁজ দেখে তাঁর তারুণ্যের সেই মেঘেঢাকা রৌদ্রের কথা মনে পড়েনি কখনও আপনার? আমি দেখেছি, আর নিজেকেই জিজ্ঞেস করেছি, কী সেই শক্তি? কি সেই প্রেরণা? এ ভালোবাসার শেষ কিসে?

বিজ্ঞাপনের কথায় ফিরে যাই। যে বিজ্ঞাপনটি আপনার যে সত্ত্বাকে উজ্জীবিত করবে, আপনি সে সত্ত্বার তাড়নায় বিজ্ঞাপনের পণ্যটিকে মনে রাখবেন। মনে করেন পণ্যটি একটি ল্যপটপ, যা একান্তই আপনার বুদ্ধিবৃত্তিক সত্ত্বার জন্য দরকার।বিজ্ঞাপন নির্মাতা সে ল্যপটপ হাতে একটি তরুণকে বসিয়ে দিলেন একটি রেস্টুরেন্টের টেবিলে, পাশে ধোঁয়া ওঠা পিজা আর কোকের গ্লাসে বিন্দু বিন্দু পানি জমেছে, আর ওপরে ভাসছে বরফ! একটাই উদ্দেশ্য আপনার একাধিক সত্ত্বাকে অনুরণিত করা। এবং সম্ভবত আপনি তাতে স্পন্দিত হবেনও। যদি পিজা আপনার পছন্দের তালিকায় ওপরের দিকের খাবার হয়, অনেক ব্র্যান্ডের ভীড়ে সেই ব্র্যান্ডের ল্যপটপের নামটি অন্তত আপনার মনে থাকবে। অথবা মনে করেন, গাড়ির শোরুমের উদ্বোধন হচ্ছে। প্রতিটি মডেলের গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে স্বল্পবসনা কোন সুন্দরী, সহাস্যে আপনাকে অনুরোধ করছে একবার একটু সিটে বসে গাড়িটির উষ্ণতা চেখে নিতে। গাড়ির পরিবেশকরা আশা করছেন, আপনার শরীরে বোধ করা আরামের সাথে সাথে আপনার পেলভিক সত্ত্বার দেয়া ক্ষণিকের উদ্দীপনাটি আপনাকে সাহায্য করবে সেই ব্র্যান্ডটিকে মনে রাখতে।

সুতরাং, আপনি না জানলেও আপনার ভেতরের সত্ত্বাগুলোকে আপনার সমাজ জানে। সেগুলোর ব্যবহার কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে অপব্যবহার আপনাকে দিয়েই করিয়ে নিচ্ছে মুনাফালোভীদের দল। ‘’know thyself’’ স্লোগানটি এক্ষেত্রে আপনাকে দিতে পারে একটি পথের সন্ধান। জীবনের জন্য আপনিও ঠিক করে নিতে পারেন একটি লক্ষ্য; আপনার কোন সত্ত্বাকে আপনি কতখানি পাত্তা দেবেন, কার আহ্বানে কতক্ষণ সাড়া দেবেন। কোন সত্ত্বাটি আপনার বয়সের সাথে সাথে বদলে যায়, আর কার চাহিদা আপনার আয়ুকে পেরিয়ে যাত্রা করতে পারে মহাকালের দিকে। একটি ‘শাহনামা’ বা একটি ‘বিদ্রোহী’ আপনাকে কালের ঘড়িকে ভেঙ্গে দিতে সাহায্য করতে পারে। আবার, আপনার শারিরীক সৌন্দর্যে মুগ্ধ কোন প্রিয়জন আপনার বার্ধক্যে হয়ে উঠতে পারেন আপনার সবচে বড় সমালোচক।

তো? কি ভাবছেন? কি দিয়ে কাছে টানবেন আপনার প্রিয়জনকে? অমর হতে কোন কাজটিকে বেছে নিবেন?

পোস্টটি ২৮১২ বার পঠিত
 ১ টি লাইক
১৫ টি মন্তব্য
১৫ টি মন্তব্য করা হয়েছে
  1. হ্যাটস অফ অর্ফিয়ুস! আপনার বীণার সুর তো ভারী তীক্ষ্ণ হে! :)

    পেলভিক সত্তাকে উদ্দীপিত করাও যত কম সময়ের ব্যাপার, নিস্তেজ হওয়াটাও তত কম সময়ের ব্যাপার। অথচ এই দিকগুলোকে যুগ যুগ ধরে এমনভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে যেন এইটাই একমাত্র সাহিত্য- শিল্প- কারুকলার মূখ্য বিষয়।

    বিজ্ঞাপনের কথা যা বললেন, কনজিউমারিজমের এই যুগে এইটাই বাস্তব সত্য! কত জঘন্যভাবে এরা ব্যবহার করছে আমাদের এই প্রবৃত্তিকে। খাবারের পাশে নারী- বিলবোর্ডে। আপনার ওই উদাহরণটা আরো অর্থবহ। আলোচ্য টপিকে সীমাবদ্ধ থাকার জন্য কথা আর বাড়াচ্ছি না।

    তারচেয়ে বড় কথা ঘুম আসছে, জৈবিক প্রয়োজন। ওই প্রয়োজন পূরণ নাহলে স্পিরিচুয়াল সত্তা যতই টঙে উঠতে চাক হুড়মুড় করে পড়ে যাবে… :P

    শুভরাত্রি!

    • মনে হচ্ছে বলতে চাওয়া কিন্তু বলতে না পারা কথাগুলোও বুঝে নিয়েছেন। পেলভিক নিয়ে আলাদা করে বলতে চাইনি। কিছু কথা মাথায় আসলেও হাতে কিছুতেই আসে না।
      অনেক ধন্যবাদ।
      ঘুম হয়েছিলো তো?

  2. দারুন একটা লেখা,তারচেয়েও বেশি পারফেক্ট বিষয়বস্তু। বিজ্ঞাপন নামক মুখোশের আড়ালে মানুষ কে বিশেষত নারীকে পণ্যের মতো উপস্থাপনের ঘৃন্য মানুষিকতা গুলো যতোদিন থাকবে,নারী ততোদিন ই অধিকার বঞ্চিত থাকবে। :)

    • জি ঠিক। আজকাল পুরুষেরও কিন্তু শরীর দেখানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে ব্যপার হল, সেটা সাধারণত পেলভিক সত্ত্বাকে না জাগিয়ে ‘এ্যন্টি-এবডোমিনাল’ একশন দিচ্ছে, এই বমনেচ্ছা তাদের জানানোর কোন নিয়ম নাই।

  3. খুবই বাস্তবিক একটা পোস্ট।
    আপনার লেখা টার মত ফিনিক্স এর এই লেখাটাও আমাকে খুব নাড়া দিয়েছিলো তাই শেয়ার না করে পারলাম না-

    “মেয়েমাত্রই মেয়েদের শরীর- কথাটার প্রমাণ ঘুরেফিরে যতবার দেখি, ততবারই ভীষণ রাগ হয়!! সবচেয়ে বেশি রাগ হয় মেয়েদের উপরই!!

    এক ক্লাসমেট ডায়েটিং করছে ফিগার ঠিক রেখে বয়ফ্রেন্ডকে খুশি রাখার জন্য…ঐদিকে তার আন্ডারওয়েট, তারপরেও তার পেট টানটান থাকতে হবে কারণ বয়ফ্রেন্ড ওটাই চায়!!

    পার্লারে দুইবেলা দৌড়ে আরো তিনবেলা সময় নষ্ট করে একেকদিন চুলে একেক কালার করে একজন, চুল পাম করে, স্ট্রেইট করে, সব কনসার্ন বাইরের লুকে, অথচ বলতে গেলে খারাপ শোনায়, তার ব্যবহার আর মুখের ভাষাটার দিকে যদি সে একটুখানি নজর দিতো, আফসোস!!

    এক ছোট বোনকে, এক কলিগকে পাত্র রিজেক্ট করেছে মেয়ে লম্বায় ৫’/৫’১” বলে অথচ ছেলের উচ্চতা ৫’৩”!! মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরা সাবজেক্টে পড়ে কী ভালো রেজাল্ট করে কিচ্ছু যায় আসে না…মাপকাঠি হয় কিনা উচ্চতায়!!

    প্রাচীন গ্রীসের যতগুলো দেবীমূর্তি দেখি, কিংবা আরো অন্যান্য প্রাচীন সভ্যতায় তাদের আঁকিয়েদের আঁকা নারীমূর্তির সবগুলোরই একটা করে ভারী তলপেট আছে…কারণ তাদেরকে কেউ তখনো বলে দেয় নি, তলপেট চিমসে থাকাটাই সৌন্দর্যের, জন্মের পর থেকে তারা দেখে এসেছে নারীরা এমনই, তাদের শরীর মেদবহুল এবং সেটা সৃষ্টির প্রয়োজনেই!!

    এখন মেয়েদের শরীর মার্কেটিং’এর পণ্য…বাজারের সব প্রোডাক্টে, হোক সেটা মেয়েদের কসমেটিক্স সামগ্রী কী খাবার, বাচ্চার ডায়াপার কী ছেলেদের আন্ডারওয়্যার, সবখানেই তারা বলে দিচ্ছে, মেয়েদের বুক-পেট-কোমর-নিতম্বের মাপ কত হতে হবে, কত হলে সেটা ছেলেদের উত্তেজনা জাগাতে সক্ষম হবে!! আর এইসব দেখতে দেখতে মেয়েরা সৌন্দর্যের একটা ফ্রেমে নিজেদেকে বেঁধে ফেলতে চেষ্টা করে কারণ তার পুরুষের কাছে তাকে আবেদনময়ী হতে হবে!! আর এইজন্যেই বোধহয় সম্পর্কগুলো আজকাল এতোটা সস্তা!! বুক-পেটের মাপা সৌন্দর্য আজকাল হাতের কাছেই পাওয়া যায় যে!!

    অথচ কয়টা ছেলে নিজের ভুড়ি বিসর্জন দেয় তার সঙ্গীর কথা ভেবে? টাকমাথার কয়টা ছেলে হেয়ার রিপ্লেসমেন্ট করে? মেয়েদের জন্যে তো ফেয়ারনেস প্রোডাক্ট, লিপ অগমেন্টেশান, সিলিকন ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্টেশান, লাইপোলাইসিস কোন কিছুর অভাব নেই…বাংলাদেশেও মার্কেট বেশ রমরমা!!

    চোখেমুখে হাজারটা ভাঁজ নিয়ে শাহরুখ নিজের মেয়ের বয়সী নায়িকাদের নায়ক বনে যান অথচ কোন মেয়ে নায়িকা আছে যে মুখের ভাঁজ নিয়ে ছেলের বয়সী নায়কদের নায়িকা হয়ে অভিনয় করেই যাচ্ছেন?

    খুব সামান্য আরেকটা উদাহরণ দেই…নাটক-সিনেমার নায়করা ভ্রু প্লাক করে, সেটা এখন মোটামুটি সবাই জানে, কিন্তু কতগুলো সাধারণ ছেলে সুন্দর হতে হবে বলে ভ্রু প্লাক করছে? অন্যদিকে একটা গ্রামের মেয়েও কিন্তু আর কিছু না করুক, ভ্রুটা তুলে একটু ঠিকঠাক সে করবেই আর মুখে একটু হলেও ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি মাখবেই!!

    প্রকৃতি মেয়েদেরকে যে প্রয়োজনের খাতিরে যেভাবে জেনেটিক ডিজাইনিং করে পাঠিয়েছে, সেটাকে গ্রহণ করার মানসিকতা কয়টা মেয়ের মাঝে আছে জানতে ইচ্ছে হয় খুব…স্বীকার করছি, আমিও একসময় খুব চাইতাম তথাকথিত সুন্দর হতে, কারণ আমাকে চারপাশ থেকে বলা হতো, আমি কালো, আমি বেঁটে, আমি মোটা…কিন্তু এই কথাগুলো কারা আমার মাথায় ঢুকিয়েছিলো ভাবলে এখন অবাকই লাগে…তাদের প্রত্যকেই ছিলো ছেলে, আমার পরিবারের আত্মীয় কিংবা আমার বন্ধু!!

    আমার বিয়ের সময় অনেকেই চেয়েছিলো যেন হিজাব না পরি, আমাকে আমার কিছু বান্ধবী খুব বকাঝকা করেছিলো কেন আমি ভ্রু প্লাক করি নি, ফেয়ার পলিশ করাই নি…আমি খুশি, আমাকে এসবের কিছুই করতে হয় নি…মানসিকভাবে আমি আমাকে গ্রহণ করতে পেরেছি!!!

    তবুও কষ্ট হয়, একদিনের জন্যে হলেও নিজের শিক্ষাগত, সামাজিক সত্ত্বা পালটে ফেলতে মেয়েদের কী আপ্রাণ চেষ্টাটাই না করতে হয়!! প্রার্থনা করি, নিজেদের নিয়ে মাথা উঁচু করার ক্ষমতাটুকু যেন আমার স্বগোত্রীয়দের থাকে…শুধু অন্যের মনোরঞ্জনের জন্যে যেন ফিতে দিয়ে নিজের বুক-পেট মাপামাপি করতে না হয়…মেয়েদের মনের মাঝে হীনমন্যতাবোধের জন্ম দেয়া পুরুষতন্ত্রের মুখে চপেটাঘাত করতে যেন মেয়েরাই এগিয়ে আসে নিজেদের বোধ-বুদ্ধি নিয়ে!!”

  4. সুন্দর লেখা।
    ভূমিকা শুধু মেয়েদেরই নয়। তবে অভিমান হয় এই ভেবে যে, নারী স্বাধীনতার নামে মেয়েদের ঘরের বাইরে এনে আকাশ দেখার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছিলো, কুশিক্ষার ধোঁয়ায় আজ সেই আকাশই ঘোলাটে। উচ্চশিক্ষিতা একটি নারীকেও যখন ‘মর্যাদা’ পেতে বা দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শালীনতার সীমা পেরিয়ে সাজ পরতে হয়, প্রকৃত স্বাধীনতাকামীদের মাথা হেঁট হয়ে আসে লজ্জ্বায়…

  5. অসাধারণ!
    দামী লেখা গুলো একবার পড়ে মর্মার্থ অনুধাবনে বরাবরই আমি ব্যর্থ হই। তাই প্রথম-পাঠে মন্তব্য না করেই ক্ষান্তি দিয়েছি। তৃতীয়-পাঠে উপলব্ধি করলাম অনেক বার্তা!! চমৎকার লিখাটার জন্য ধন্যবাদ অর্ফিয়ুস! ভাল থাকবেন।

    ইতি,
    আপনার গুনমুগ্ধ পাঠক

    • তৃতীয়বার পর্যন্ত পাঠের ধৈর্য্য আছে যার, তিনিও অসাধারণ না হয়ে যান না!
      ধন্যবাদ। আপনিও ভালো থাকবেন লোকাল বাস!

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.